বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৩৪ এম
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভাল্বের (পিওআরভি/পিওএসভি) ১৬ এমপিএ উচ্চচাপের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার সকালে শেষ হওয়া এই পরীক্ষা ইউনিটটির কমিশনিং প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, জানায় নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)।
এনপিসিবিএল জানায়, মঙ্গলবার রাতে পরীক্ষা শুরু হয়। মেইন কন্ট্রোল রুম (এমসিআর) এবং ইমার্জেন্সি কন্ট্রোল রুম (ইসিআর) থেকে পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়। এই সময় প্রকৌশলীরা কন্ট্রোল ভাল্বগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করেন। পরে সংশ্লিষ্ট মেইন সেফটি ভাল্বের (এমএসভি) কার্যকারিতা ও প্রতিক্রিয়াও পরীক্ষা করা হয়।
পরীক্ষার সময় ভাল্বের খোলা ও বন্ধ হওয়ার কার্যকারিতা, প্রতিক্রিয়া, অ্যালার্ম এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্যারামিটার পর্যবেক্ষণ করা হয়। অনুমোদিত পদ্ধতি ও নিরাপত্তা শর্ত মেনেই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানায় এনপিসিবিএল।
কর্মকর্তারা জানান, চুল্লির প্রাইমারি সার্কিটে নিরাপদ চাপ বজায় রাখতে পিওআরভি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কমিশনিংয়ের প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এনপিসিবিএল জানায়, পরবর্তী ধাপে প্রায় ১৮ এমপিএ চাপে পরীক্ষা চালানো হবে। প্রতিটি ধাপ যাচাই করে পরবর্তী কার্যক্রমে এগোবে কমিশনিং দল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্ট বৃহস্পতিবার ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার মাধ্যমে আগামী মাসের জাতীয় নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম শুরু হলো। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মধ্য-ডান জোট এবং লেবার পার্টির নেতৃত্বাধীন বামপন্থী জোটের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।
রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী ৭ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচন উপলক্ষে ২৩ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্টের শেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী প্রচারে রাজনৈতিক দলগুলো জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনীতি এবং সরকারি সেবা নিয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ১নিউজ-ভেরিয়ান জনমত জরিপে দেখা গেছে, লেবার পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন করতে সক্ষম হতে পারে। জরিপে এই জোট ৬৫টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল, অ্যাক্ট ও নিউজিল্যান্ড ফার্স্টের জোট ৫৯টি আসন পেতে পারে।
নিউজিল্যান্ডে জার্মানির মতো মিশ্র সদস্য আনুপাতিক নির্বাচনব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। প্রায় ৩০ বছর আগে এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে জোট সরকার গঠন একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ছোট দলগুলোও সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টে সাধারণত ১২০টি আসন থাকে। তবে কোনো দল জাতীয় ভোটের অনুপাতে পাওয়ার চেয়ে বেশি নির্বাচনী আসনে জয়ী হলে পার্লামেন্টে অতিরিক্ত আসন যোগ হতে পারে।
জনমত জরিপগুলো নির্দেশ করছে, প্রায় এক দশক আগে গঠিত মধ্যপন্থী অপরচুনিটি পার্টি এবারের নির্বাচনে সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিদেশে থাকা নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের ভোট দেওয়া শুরু হবে ২১ অক্টোবর। আর আগাম ভোট শুরু হবে ২৬ অক্টোবর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পরিচালক সৃজিত মুখার্জির প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাচকাট প্রোডাকশনস’ অর্ণব রায়ের লেখা ‘শাঁখচুন্নি’ গল্পের স্বত্ব কিনে নিয়েছে। ‘শাঁখচুন্নি’ কিভাবে পর্দায় ভয়, মনস্তত্ত্ব এবং বাংলার আবহকে একত্রিত করবে, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে।
পরিচালক খুব শিগগিরই এই সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারটি ছবি অথবা সিরিজ আকারে পর্দায় আনতে চান। এটি তার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা, থমকে যাওয়া পুরোনো পরিকল্পনা এবং একটি পছন্দের গল্প— সব মিলিয়ে টালিউডের জনপ্রিয় পরিচালক সৃজিত মুখার্জি ও অর্ণবের নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে।
কিছু গল্প এমন হয় যা শুধু ভালো লাগে না, বরং মাথার ভেতর থেকে বেরোতেও চায় না। অর্ণব রায়ের ‘শাঁখচুন্নি’ ঠিক তেমনই একটি গল্প, অন্তত সৃজিত মুখার্জির জন্য।
২০২৪ সালে পরিচালক গল্পটি পড়েছিলেন। এরপর দুই বছর কেটে গেছে। এই সময়ের মধ্যে তিনি গল্পটি নিয়ে অনেকের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং তাদের আগ্রহও পেয়েছেন। কিন্তু তখন গল্পের স্বত্ব অন্য একটি সংস্থার কাছে ছিল। মেয়াদ ফুরোতেই নির্মাতা আর দেরি করেননি। তিনি নিজের প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাচকাট প্রোডাকশন’-এর মাধ্যমে ‘শাঁখচুন্নি’র স্বত্ব কিনে নিয়েছেন। এই তথ্য নিজেই জানিয়েছেন পরিচালক সৃজিত মুখার্জি।
অর্ণবের লেখার সঙ্গে সৃজিতের এই সম্পর্ক নতুন নয়; এর আগে ‘মহাভারত মার্ডার্স’ নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। নানা কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। পরে অর্ণবের ‘যাত্রিক’ নিয়েও কাজ করার ইচ্ছা ছিল পরিচালকের। কিন্তু কোনোটাই শেষ পর্যন্ত পর্দায় আসেনি। তবে এবার সেই অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। ‘শাঁখচুন্নি’ নিয়ে পরিচালকের বেশ স্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও গল্পটি ছবি হবে না কি সিরিজ— তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
লেখকও এই কাজ নিয়ে উচ্ছ্বসিত। অর্ণব রায় বলেন, সৃজিতের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা তারও বহুদিনের। ‘মহাভারত মার্ডার্স’-এর সময় কাজটি শেষ না হওয়ায় তার মধ্যে আক্ষেপ ছিল।
এবার ‘শাঁখচুন্নি’ সেই সুযোগ এনে দিয়েছে। বিশেষ করে গল্পের মধ্যে বাংলার নিজস্ব ছোঁয়াটাই অর্ণবের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, সেই আবহ এবং গল্পকে পর্দায় তুলে ধরার জন্য সৃজিতের চেয়ে উপযুক্ত পরিচালক আর কেউ হতে পারেন না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফেনী যাচ্ছেন তারেক রহমান, যা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তার প্রথম সফর। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী, যারা তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত, জানিয়েছেন যে, সকাল ৮টার পর থেকেই দলীয় নেতাকর্মীরা মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে সোনারগাঁয়ের মেঘনা টোলপ্লাজার বিভিন্ন পয়েন্টে জড়ো হতে শুরু করেছেন। তাদের মূল লক্ষ্য প্রিয় নেতাকে একঝলক দেখা।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী প্রথমে পরশুরাম যাবেন। সেখানে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধন করবেন। এসময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করবেন।
পরে, প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীতে বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া ফুলগাজী জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিকেলে ফুলগাজী পাইলট হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণের পাশাপাশি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, মন্দিরের পুরোহিতসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে বন্দিদের সংখ্যা ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় চারগুণ বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বন্দিদের রাখা হচ্ছে কারাগারের মালামাল রাখার স্থানসহ ঘরগুলোর বাইরের বারান্দায়। এই পরিস্থিতি সমস্যার সমাধান করতে পারছে না।
ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে ৩৮২ জন বন্দি রাখার সক্ষমতা রয়েছে, কিন্তু বর্তমানে সেখানে প্রায় সাড়ে ১২০০ বন্দি অবস্থান করছেন। ফলে নির্ধারিত ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় ৮৫০ জন বেশি বন্দি সেখানে রয়েছেন। কারাগারে জায়গার সংকটের কারণে বন্দিদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
এদিকে, জেলার ৬টি উপজেলার মাদক মামলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে ছামারি পাওয়ার কারণে ৩, ৬ ও ১২ মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার আপিল ও জামিন না হওয়ার কারণে বন্দিদের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এছাড়া, বিশেষ অভিযানে জেলার ৬টি উপজেলায় নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের ফলে জেলা কারাগারে বন্দিদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।
অতিরিক্ত বন্দির কারণে আবাসন, খাবার, চিকিৎসা, স্যানিটেশন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন কারারক্ষীরাও।
আবাসিক কক্ষগুলোতে অতিরিক্ত বন্দি থাকার কারণে পর্যাপ্ত জায়গা, ঘুমানোর ব্যবস্থা ও ব্যক্তিগত পরিসর সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এছাড়া, টয়লেট, গোসল, পানি সরবরাহ ও অন্যান্য স্যানিটেশন ব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে।
বন্দিদের পাশাপাশি কারা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও বাড়তি চাপের মুখে রয়েছেন। নির্ধারিত জনবলের তুলনায় বন্দির সংখ্যা বেশি হওয়ায় নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করতে তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
কারাগারে বন্দির চাপ বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা এবং বিচারাধীন বন্দির সংখ্যা বেশি থাকাকে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করছেন। বিশেষ করে বিচারাধীন বন্দিদের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হলে কারাগারের ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
এদিকে, অতিরিক্ত বন্দির কারণে কারাগারের চিকিৎসা ব্যবস্থাতেও বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিপুলসংখ্যক বন্দির স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, অসুস্থদের চিকিৎসা দেওয়া এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে কারা কর্তৃপক্ষকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. হাবিবুর রহমান ও জেলার স্বপন কুমার ঘোষ জানান, কারাগারের ধারণক্ষমতা ৩৮২ জন। বর্তমানে বন্দির সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১২০০। ধারণক্ষমতার তুলনায় বন্দি বেশি থাকায় ব্যবস্থাপনায় চাপ রয়েছে। তবে কারা কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী বন্দিদের খাবার, চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, বন্দির সংখ্যা বেশি হলেও কারাগারের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কারাগারে অতিরিক্ত বন্দির চাপ কমাতে অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানো এবং বিচারাধীন মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
একই সঙ্গে বন্দিদের মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে কারা ব্যবস্থাপনার সার্বিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিচ্ছেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ