ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

'জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর' উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী


জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাস এবং শহীদ ও আহতদের স্মৃতি সংরক্ষণ করতে উদঘাটিত হলো 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর'। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে জাইমা রহমানসহ আরও অনেকে।

প্রথম দিনে উদ্বোধনের পর, জাদুঘরটি শুধু শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ৬ আগস্টের পর সাধারণ দর্শনার্থীরা জাদুঘরে প্রবেশ করতে পারবেন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোর প্রতি উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

এর আগে মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জানান, জাদুঘরে প্রবেশের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের টিকিট মূল্য হবে ৫০ টাকা আর শিশুদের ২৫ টাকা। দর্শকরা অনলাইনে টিকিট কিনে জাদুঘরে প্রবেশ করতে পারবেন।

শেখ হাসিনার প্রায় দেড় দশকের আবাসস্থল ছিল গণভবন। গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি বিজড়িত সেই গণভবনেই গড়ে তোলা হলো জাদুঘর।

নানা প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে অবশেষে উন্মুক্ত হলো জুলাই স্মৃতি জাদুঘর।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠক, বাংলাদেশে কার্যালয় খোলার অনুরোধ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাইয়ের চেতনায় রাষ্ট্র ও সমাজের স্থায়ী কাঠামো তৈরি করতে হবে : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩৬ এম


জুলাইয়ের চেতনায় রাষ্ট্র ও সমাজের স্থায়ী কাঠামো তৈরি করতে হবে : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

বারবার রক্তক্ষয়ী আন্দোলন ও সংঘাতের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় রাষ্ট্র ও সমাজের একটি স্থায়ী কাঠামো তৈরির জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কাউন্সিল ভবনে বুয়েট শিক্ষক সমিতির আয়োজনে ‘মহান জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’ উপলক্ষে স্মরণ-আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা ঘোষণা করেন।

জহির উদ্দিন স্বপন উল্লেখ করেন, বারবার সংঘাত ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যাওয়া আত্মসন্তুষ্টির বিষয় নয়, বরং এটি এক নির্মম বাধ্যবাধকতা। জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে এ সংঘাতময় পরিবেশ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। এজন্য রাষ্ট্র ও সমাজের কাঠামোতে একটি জনমতের পাটাতন বা কাঠামো নির্মাণ করতে হবে, যার নিচে আর কেউ যেন নামতে সক্ষম না হয়।

তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশবিরোধী যুদ্ধ, পাকিস্তান আমল, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তীকালে সামরিক শাসন ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন— আমাদের ইতিহাস কৃত্তিম রূপান্তর ও বিদায়ের ইতিহাস। আমরা আজও একটি স্থায়ী এবং স্থিতিশীল রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি, যা মানুষের মেধা, যোগ্যতা এবং বিকাশের নিশ্চয়তা দিতে পারে।

তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশে এ পর্যন্ত মোট ১৩টি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষটি ছিল সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। তবুও বর্তমান দৃষ্টিতে আমরা এখনও বলতে পারছি না যে আমাদের সংসদীয় ব্যবস্থা বা বিচার বিভাগ একটি কাঙ্ক্ষিত এবং স্থায়ী কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। যদি আমরা এই রক্তদানের বিনিময়ে জবাবদিহিমূলক এবং সুদৃঢ় প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি নির্মাণে সক্ষম না হই, তবে আমাদের সার্বিক ব্যবস্থার ডিএনএ-তে মৌলিক ত্রুটি রয়ে গেছে বলেই চিন্তা করতে হবে।

তিনি আরো যোগ করেন, রাষ্ট্র ও সমাজের বিদ্যমান ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থার কারণে বহুগুণী এবং মেধাবী ব্যক্তিদের দেশের সঠিক কাজে লাগাতে পারিনি। এই ত্রুটি দূর করে নতুন প্রজন্মের জন্য বৈষম্যহীন এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়াই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা শুধু শ্রেণিকক্ষের শিক্ষক নয়, তরুণ প্রজন্মের পথপ্রদর্শকও। পাঠ্যক্রমের বাইরে নৈতিক শিক্ষা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়া আপনারা বড় সামাজিক দায়িত্ব।

বুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহম্মদ আনিসুজ্জামান তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের সাবেক উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী, পুরকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল জলিলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ।

আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি স্মরণ করেন এবং শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনা ধারন করে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সূত্র: বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মরক্কোর ফুটবলারের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন নোরা ফাতেহি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩৭ এম


মরক্কোর ফুটবলারের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন নোরা ফাতেহি

বলিউডের পরিচিত অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী নোরা ফাতেহি অবশেষে মরক্কোর তারকা গোলকিপার ইয়াসিন বোনোর সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন উল্লেখ করে বক্তব্য দিয়েছেন। বেশ অনেক মাস ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু নোরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, বোনো তার কাছে কেবল একজন ‘খুব ভালো বন্ধু’ হিসেবে আছেন।

সম্প্রতি ‘দ্য ক্রিস ফেইড শো’তে অতিথি হয়ে হাজির হয়ে নোরা ফাতেহির কাছে যখন বোনোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি হাসিমুখে উত্তর দেন, হ্যাঁ, ও আমার বন্ধু। একই সঙ্গে তিনি বলার সুযোগ পেয়ে বোনোর প্রশংসাও করেন। তিনি জানান, সে অসাধারণ একজন ব্যক্তি এবং বিশ্বের সেরা গোলকিপারদের মধ্যে একজন। এছাড়া, নোরা আরো জোর দিয়ে বলেন, তাদের সম্পর্ক বন্ধুত্বের মাঝেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

নোরা যখন সাক্ষাৎকারে বোনোর প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করেন, তখন তাকে কিছুটা লাজুক ভাবে হাসতে দেখা যায়। এ সময় অনুষ্ঠানের এক সহ-সঞ্চালক মন্তব্য করেন, নোরা ও বোনো একসঙ্গে সত্যিই দারুণ মানাবে। মন্তব্যটি শুনে নোরা কিছুটা বিব্রত হলেও তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ধরেই বোনোকে চেনেন। তিনি আরো বলেন, কয়েক মাস আগে তাদের মধ্যে আবার একবার যোগাযোগ শুরু হয়েছে।

মরক্কোর কাসাব্লাংকায় তাদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ার খবরের পর থেকেই প্রেমের গুঞ্জন প্রকাশ পায়। তবে এ বিষয়ে এতদিন নোরা কিংবা বোনো কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করেননি। বর্তমানে ইয়াসিন বোনো সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল হিলাল এবং মরক্কো জাতীয় দলের গোলকিপার হিসেবে খেলেন। তিনি পেনাল্টি ঠেকানোর দক্ষতায় বিশ্ব ফুটবলে ব্যাপক প্রশংসিত।

এদিকে, সম্প্রতি মরক্কোর গণমাধ্যমে বোনোর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। স্ত্রী ইমানে খাল্লাদের সঙ্গে তার দূরত্ব ও বিচ্ছেদের খবর প্রকাশিত হয়েছে, তবে এ বিষয়ে বোনো বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। ২০১৬ সালে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই দম্পতির একমাত্র পুত্রসন্তান ইশাক রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
যান্ত্রিক ত্রুটি

সিলেট থেকে ২২ ঘণ্টা পর জেদ্দা গেল বিমানের ফ্লাইট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪০ এম


সিলেট থেকে ২২ ঘণ্টা পর জেদ্দা গেল বিমানের ফ্লাইট

যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে ২২ ঘণ্টা পর সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের জেদ্দার উদ্দেশে একটি ফ্লাইট বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ছেড়ে গেছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে বোয়িং ৭৭৭ মডেলের (ফ্লাইট বিজি-২৩৫) বিমানটি সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।

সেখান থেকে আরো যাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি জেদ্দার পথে যাত্রা করে।

এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ।

এর আগে, সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে সিলেট থেকে জেদ্দার উদ্দেশে উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিয়ে রানওয়েতে যায় ফ্লাইটটি। তবে রানওয়েতে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ায় পাইলট বিমানটি ট্যাক্সিওয়েতে ফিরিয়ে আনেন।

এরপর থেকে ওসমানী বিমানবন্দরেই ত্রুটিযুক্ত বিমানটির মেরামতের কাজ চলছিল। সিলেট ও ঢাকা থেকে আসা প্রকৌশলীদের যৌথ প্রচেষ্টায় দীর্ঘ সময় পর বিমানটি চলাচলের উপযোগী হয়।

এদিকে, দীর্ঘ ২২ ঘণ্টা বিমানবন্দরে আটকে থাকায় ফ্লাইটের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। যাত্রীদের বড় একটি অংশই ছিলেন ওমরাহযাত্রী।

সোমবার রাতে আটকে পড়া যাত্রীদের নগরীর বিভিন্ন হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়।

ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ জানিয়েছেন, যান্ত্রিক ত্রুটি পুরোপুরি নিরসন হওয়ার পর মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে বিমানটি নিরাপদে ঢাকা হয়ে জেদ্দার উদ্দেশে সিলেট ত্যাগ করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শহীদের আত্মত্যাগে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪৩ এম


শহীদের আত্মত্যাগে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক বিজয়। এ আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে এবং বাংলাদেশে আর কখনো স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের উত্থান হতে দেওয়া যাবে না।

বুধবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য ৫ আগস্ট আনন্দের দিন, বিজয়ের দিন, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, এই দিনে দেশের বীর ছাত্র-জনতা এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। রাহুমুক্ত হয় বাংলাদেশ। বীর ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত এই দিনটিকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে জাতীয়ভাবে উদযাপন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদের পতন এবং দেশে জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা তথা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপিসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং ভিন্নমতের মানুষকে সীমাহীন নির্যাতন-নিপীড়ন সইতে হয়েছিল। অসংখ্য মানুষ গুম, খুন, অপহরণ, হামলা, মামলা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে আপোষহীন দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকেও মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর জালিমের কারাগারে কাটাতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠ স্তব্ধ করতে স্বৈরাচারের নির্দেশে দেশে গড়ে তোলা হয়েছিল শত শত গোপন বন্দিশালা- ‘আয়নাঘর’। ‘আয়নাঘরের’ অন্ধকার প্রকোষ্ঠে এক সীমাহীন অনিশ্চয়তায় মাসের পর মাস, বছরের পর বছর অগণিত মানুষকে আটকে রাখা হয়েছিল। অনেককে চিরতরে গুম করে ফেলা হয়েছে। বিএনপির সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী ও কমিশনার চৌধুরী আলমসহ এমন অনেক নেতাকর্মীর আজও সন্ধান মেলেনি।

সরকার প্রধান বলেন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ দেশের সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করে ফেলে ছিল। সংবিধান উপেক্ষা করে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল; নির্বাচনকে পরিণত করা হয়েছিল প্রহসনে। দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়ে দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট আর টাকা পাচারকেই স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে পরিণত করে ফেলা হয়েছিল। দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ব্যক্তিতন্ত্র। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, বীর ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, রিকশাচালক, মুটে-মজুর, পোশাক শ্রমিক, হোটেল-রেস্তোরাকর্মী, পরিবহন শ্রমিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, গৃহবধূ, নারী ও শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। গণঅভ্যুত্ধান দমনে মরিয়া ফ্যাসিস্ট সরকার রাজপথে গণতন্ত্রকামী জনগণের বুকে গুলি করে পাখির মতো মানুষ হত্যা করেছে। এমনকি জনগণের ওপর হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়েছিল। স্বৈরাচারের বেপরোয়া গুলি থেকে মায়ের কোলে থাকা শিশু পর্যন্ত রেহাই পায়নি।

তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারের বন্দুকের সামনে রংপুরের সাহসী প্রাণ শহীদ আবু সাঈদের চিতানো বুক, চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিম আকরাম কিংবা ঢাকার শহীদ মুগ্ধসহ আমাদের অসংখ্য সাহসী সন্তান হয়ে উঠেছিলেন গণতন্ত্রকামী মানুষের সাহসী প্রেরণা। শুধুমাত্র জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হাজারো মানুষ শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ। শত শত মানুষ হাত-পা ও শরীরের অঙ্গ হারিয়ে চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন; অনেকই আজীবনের জন্য দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।

তিনি বলেন, হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। গণতন্ত্রকামী জনগণের সম্মিলিত আন্দোলনে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট গণভবন ছেড়ে পালিয়েছে। জাতীয় সংসদ ছেড়ে কথিত সংসদ সদস্যরা পালিয়েছে। আদালত ছেড়ে প্রধান বিচারপতি পালিয়েছে। বায়তুল মোকাররম ছেড়ে প্রধান খতিব পালিয়েছে। মন্ত্রিসভা ছেড়ে মন্ত্রীরা পালিয়েছে। ফ্যাসিবাদের দোসররা আত্মগোপনে চলে গেছে। ৫ আগস্ট বাংলাদেশে যা ঘটেছে, তা শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের ইতিহাসেও এক নজিরবিহীন ঘটনা।

সরকার প্রধান বলেন, ১৯৭১ থেকে আজ পর্যন্ত দেশের স্বাধীনতা অর্জন ও রক্ষা, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতিটি বাঁকে লাখো মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন। আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে সব শহীদকে স্মরণ করছি। দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা, অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য শহীদরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে আমাদের ঋণী করে গেছেন। প্রতিটি শহীদ পরিবারের কাছে বাংলাদেশ ঋণী। এখন শহীদদের প্রতি আমাদের ঋণ পরিশোধের পালা।

তারেক রহমান বলেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক, স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমে শহীদদের প্রতি আমাদের ঋণ পরিশোধের আন্তরিক প্রচেষ্টাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

তিনি আরও বলেন, হাজারো শহীদের রক্তে স্নাত রাজপথে অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে। রক্তে অর্জিত এই জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের মধ্যে নানা ইস্যুতে ভিন্নমত থাকবে, এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু ভিন্ন চিন্তা, ভিন্নমত যাতে শত্রুতায় পর্যবসিত না হয়, সে ব্যাপারে গণতন্ত্রের পক্ষের প্রতিটি রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠী, আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আর কখনোই স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদ কায়েম হবে না, কখনোই দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে দেওয়া হবে না। এইসব মৌলিক প্রশ্নে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় ঐক্য অটুট আছে এবং থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

সবশেষে বাণীতে তিনি বলেন, ১৯৭১ সাল ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। ১৯৭১ সালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বাংলাদেশ কখনও ভোলেনি, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদেরও বাংলাদেশ কখনও ভুলবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%