বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৫৪ পি.এম
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মল্লিক মিলন মাহমুদ তন্ময় এবং সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আরমানের সই করা পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব কমিটির অনুমোদন সম্পর্কে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সলিমপুর, সাহাপুর, লক্ষীকুন্ডা, পাকশী, সাঁড়া, দাশুড়িয়া ও মুলাডুলি ইউনিয়নে আগামী এক বছরের জন্য এসব কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সলিমপুর ইউনিয়নে ১২ সদস্যের কমিটি গঠনের জন্য রতন আলীকে সভাপতি এবং শাকিল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। পাকশী ইউনিয়নে তাসনিমুল হাসান অনিককে সভাপতি ও জান মোহাম্মদকে সাধারণ সম্পাদক করে ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। দাশুড়িয়ায় আহাদ আলীকে সভাপতি এবং হৃদয় ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সাঁড়া ইউনিয়নে চার সদস্যের কমিটি গঠনের জন্য তৌহিদুর রহমান রিয়নকে সভাপতি এবং রাসেল আলীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। মুলাডুলিতে আল-আমিন ইসলামকে সভাপতি ও আশরাফুল ইসলাম শাকিলকে সাধারণ সম্পাদক করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। লক্ষীকুন্ডায় মিজানুর রহমান আলিফকে সভাপতি এবং ওমর ফারুক কমলকে সাধারণ সম্পাদক করে আট সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাহাপুরে রাফি হোসেন জিতুকে সভাপতি এবং হুমায়ুন কবির হিমেলকে সাধারণ সম্পাদক করে ছয় সদস্যের কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটির পদপ্রাপ্ত নেতাদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। সংগঠনকে গতিশীল ও সুসংগঠিত করার জন্য আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে উপজেলা নেতাদের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মল্লিক মিলন মাহমুদ তন্ময়ের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর বাগমারায় নির্যাতিত, দুস্থ মহিলা ও শিশু কল্যাণ তহবিল থেকে অসহায় মানুষের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বাগমারা আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুল বারী সরদারের কার্যালয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ১০ জন অসহায় মানুষের হাতে এসব চেক বিতরণের উদ্বোধন করেন।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্যাতিত, দুস্থ মহিলা ও শিশু কল্যাণ তহবিল থেকে বাগমারা উপজেলার নির্বাচিত ব্যক্তিদের অনুকূলে অনুদান হিসেবে বরাদ্দকৃত অর্থের চেক বিতরণ করা হয়।
চেক বিতরণের সময় সংসদ সদস্য ডা. আব্দুল বারী সরদার অসহায় মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সরকারি এ সহায়তা অসহায় ও দুস্থ মানুষের প্রয়োজন মেটাতে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে।
বাগমারা উপজেলার নির্বাচিত ব্যক্তিদের অনুকূলে অনুদান বাবদ ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে ৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ইনামুল হক (৪০) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রহনপুর পৌরসভার ধুলাউড়ি গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। ইনামুল হক ওই গ্রামের মৃত আয়নাল হকের পুত্র।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গোমস্তাপুর থানার পুলিশের একটি টিম ধুলাউড়ি গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ইনামুল হককে আটক করে তার বিরুদ্ধে তল্লাশি চালানো হয়। পরে তার কাছ থেকে ৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ইনামুল হকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি জানান, তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর সাপাহারে স্কুল শিক্ষার্থীদের সচেতন করার উদ্দেশ্যে মাদক ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে একটি সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাপাহার থানা ও পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের যৌথ আয়োজনে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন নওগাঁর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহীন রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাপাহার সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অরুপ সরকার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী (বেনু), সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার জাহান চৌধুরী (লাবু) এবং পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজেদুল আলম। সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব, মাদকের বিস্তার রোধ এবং সাইবার অপরাধের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। শিক্ষার্থীদের মাদক ও অনলাইনভিত্তিক অপরাধ থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনা শহরে ব্যাপক নাশকতা ঘটানোর উদ্দেশ্যে ভারতে পালানোর পরিকল্পনা ছিল, এবং তাদের কাছে পাসপোর্টও ছিল। আটক নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বড় ধরনের নাশকতার জন্য হাতবোমা ও দেশীয় অস্ত্রসহ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিল। ভোরের দিকে শহরের অলিগলিতে তারা জড়ো হতে শুরু করে। তাদের নেতা আব্দুল ওহাবের উপস্থিতি হলেই নাশকতার কার্যক্রম শুরু হতো। তবে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের তৎপরতায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। সদর থানা পুলিশ, ডিবি, সিআরটি সহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের যৌথ অভিযানে নাশকতার প্রস্তুতিকালেই তাদের আটক করা হয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ৬টার দিকে পাবনা শহরের প্রধান সড়ক আব্দুল হামিদ রোডের ইন্দিরা মোড়ের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের নাশকতার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
আটকৃতদের মধ্যে রয়েছেন- পাবনার সুজানগর পৌর এলাকার মথুরাপুরের মৃত জাহেদ আলী শেখের ছেলে সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহাব (৬২), তার সহযোগী সুজানগরের মাস্টার পাড়ার আব্দুর রশিদ শেখের ছেলে মো. রাব্বি (২৩), মথুরাপুর এলাকার ইকবাল মিয়ার ছেলে মিথুন মিয়া (৩০), নাজির প্রামাণিকের ছেলে মো. হৃদয় (২০), এনামুল হকের ছেলে ফয়সাল (১৮)।
একই এলাকার সাদেক সরদারের ছেলে আরাফাত হোসেন শুভ (১৮), সুবাহান প্রামাণিকের ছেলে শিমুল প্রামাণিক (১৬), মাহাতাব প্রামাণিকের ছেলে মিজান প্রামাণিক (১৮), ওসমান খাঁর ছেলে আলহাজ্ব খাঁ (২৪), দুর্গাপুর এলাকার আব্দুল আলীম শেখের ছেলে নাজমুল হাসান (১৮), আব্দুল মান্নানের ছেলে মতিউর রহমান (৩২), নারায়ণপুর এলাকার নবীর উদ্দিন শেখের ছেলে রঞ্জু শেখ (১৭), সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের নতুন গোয়ালবাড়িয়া এলাকার খলিল প্রামাণিকের ছেলে সাবিক (১৯) এবং সাগর প্রামাণিকের ছেলে নাজমুল হোসেন (১৯)।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তারা মাইক্রোবাসে করে পাবনা শহরে এসেছিল বড় ধরনের নাশকতার উদ্দেশ্যে। নাশকতা করার পর সঙ্গে সঙ্গেই ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। তবে আমাদের কাছে আগে থেকেই তাদের পরিকল্পনার গোপন তথ্য ছিল। ফলে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বয়ে তাদের আটক করা সম্ভব হয়েছে। উল্লেখ্য, ৫ আগস্টে এটি আব্দুল ওহাবের বিরুদ্ধে তৃতীয়বারের মতো আটক হওয়ার ঘটনা। এর আগে ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মথুরাপুর এলাকা থেকে আব্দুল ওহাবকে আটক করা হয়েছিল। পরে পুলিশ ভ্যানে তোলার সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়, যার ফলে আটজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। তিনদিন পর ৫ ফেব্রুয়ারি আবারও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
জামিনে বের হয়ে এসে সুজানগর এলাকায় আবারো আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করেন আব্দুল ওহাব এবং তার সমর্থকরা। চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল দিবাগত রাতব্যাপী উপজেলার মথুরাপুরে অভিযান চালিয়ে আব্দুল ওহাবসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ২১ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছিল। কয়েক সপ্তাহ পর তারা জামিনে মুক্তি পান। একটি সূত্র জানিয়েছে, আগের কর্মকাণ্ডে ভারতে পালিয়ে যাওয়া ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে ছিল আব্দুল ওহাব। সর্বশেষ, আজকে বড় ধরনের নাশকতা ঘটিয়ে ভারতে পালিয়ে গিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা ছিল এবং পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদ পাওয়ার আশা করেছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ