বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৫৬ পি.এম
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রেক্ষাপটে মধ্য ইউরোপের চারটি দেশ নিয়ে গঠিত ভিসেগ্রাদ গ্রুপের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। এই সহযোগিতা রাজনৈতিক, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা এবং দুই দেশের জনগণের যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত হবে।
ভিসেগ্রাদ গ্রুপ বা ভি৪-এর সদস্য দেশগুলো হলো পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র। এনডিটিভি সূত্রে জানা যায়, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে প্রথমবারের মতো ভারত ও ভি৪ দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকটি নতুন ‘ভি৪+ইন্ডিয়া’ কাঠামোয় অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর জয়শঙ্কর এটিকে ‘নতুন ঐতিহাসিক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ করার পাশাপাশি প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, যোগাযোগ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
আরো পড়ুন
জয়শঙ্কর জানান, ভারত ও ভি৪ দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা প্রতিবছর বৈঠক করবেন। এ বিষয়ে পাঁচ দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবছর একটি ব্যবসায়িক ফোরাম আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারত ও চার ইউরোপীয় দেশের মধ্যে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে বলে বৈঠকে আলোচনা করা হয়েছে। জয়শঙ্কর বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক যখন আরো গভীর হচ্ছে, তখন ভিসেগ্রাদ গ্রুপের সঙ্গেও বিশেষ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর অংশ হিসেবে নিয়মিত রাজনৈতিক যোগাযোগ ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জয়শঙ্কর বলেন, ভি৪-এর চার দেশের সঙ্গেই ভারতের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক রয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করা এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাকে সমর্থনের বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে।
বৈঠকে পোল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদেক সিকোরস্কি, হাঙ্গেরির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা অরবান, স্লোভাকিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুরাই ব্লানার এবং চেক প্রজাতন্ত্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেত্র মাচিনকা অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবি। স্লোভাকিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুরাই ব্লানার বলেন, ভিসেগ্রাদ গ্রুপের চার দেশই ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকে সমর্থন করে। তিনি ভারতকে বৈশ্বিক দক্ষিণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ এবং ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উদীয়মান শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্য হিসেবে থাকা উচিত। ভারত দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ চেয়ে আসছে। একই সঙ্গে পরিষদের কাঠামো সংস্কার করে এর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছে নয়াদিল্লি।
আরো পড়ুন
বর্তমানে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। এ পাঁচ দেশের ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। এর বাইরে ১০টি অস্থায়ী সদস্য দেশ দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হয়। ভি৪ দেশগুলোর সমর্থন ভারতের দীর্ঘদিনের দাবির পক্ষে আরো একটি আঞ্চলিক জোটের অবস্থানকে সামনে এনেছে। তবে শুধু এই সমর্থনের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো পরিবর্তন হচ্ছে না। পরিষদের সদস্যসংখ্যা বা স্থায়ী সদস্যপদ বাড়াতে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আরো আলোচনা এবং জাতিসংঘ সনদে পরিবর্তন প্রয়োজন। ভারত ও ভি৪ দেশগুলোর মধ্যে শুধু দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়নি। বৈঠকে বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাও উঠে এসেছে।
এর মধ্যে ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ছিল। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় বহুপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়ে মতবিনিময় করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। উল্লেখ্য যে, ভিসেগ্রাদ গ্রুপ মধ্য ইউরোপের চার দেশ—পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের একটি আঞ্চলিক জোট। ১৯৯১ সালে হাঙ্গেরির ভিসেগ্রাদ শহরে চার দেশের নেতাদের বৈঠকের পর এই জোটের যাত্রা শুরু হয়। ওই সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর দেশগুলো সোভিয়েত প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আফগানিস্তান পাকিস্তানে ড্রোন পাঠানোর দাবি সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেছে। সংবাদমাধ্যম তোলোনিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আফগান সামরিক বাহিনী এখনও পর্যন্ত কোনো ড্রোন হামলা চালায়নি। তারা জানিয়েছে, পাকিস্তানের বিমান হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার সময় এবং পদ্ধতি তারা নিজেদের মতো করে নির্ধারণ করবে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কোহাত ও তোরখাম সীমান্তের নিকটে আফগানিস্তান থেকে আসা ৮টি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করার দাবি করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। তারা দাবি করেছে, সাম্প্রতিক হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এবং নিজেদের সীমান্ত সুরক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আব্দুল নাসির শফিক মন্তব্য করেছেন, “পাকিস্তান দীর্ঘকাল ধরে অন্যদের ইশারায় আফগানিস্তানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার চেষ্টা করে আসছে। নিজেদের অর্থনৈতিক ও আর্থিক চাহিদা পূরণের জন্য তারা অন্য কোনো দেশের এজেন্ট হিসেবে এই মিশন গ্রহণ করতে পারে।”
এদিকে, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এমন বর্বর হামলার পর জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরব ভূমিকা নিয়ে বিশ্লেষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষক মইন গুল সামকানি বলেছেন, “পাক্তিকা ও কুনারে হামলা চালিয়ে পাকিস্তান আবারও ক্ষমা অমার্জনীয় অপরাধ করেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের উচিত এ বিষয়ে পাকিস্তানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।”
গত সোমবার ভোর ৩টার দিকে পাকিস্তানি বাহিনী কুনার ও পাক্তিকা প্রদেশে আকস্মিক বিমান হামলা চালায়। এই হামলায় ৩ জন নিহত এবং ৪ জন আহত হন। আফগানিস্তান ইতিমধ্যে এই ঘটনার উপযুক্ত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলায় বক্তব্য রাখবেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা) তিনি ভাষণ দেবেন।
ড. মাহদী আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী একটা নতুন ইতিহাস সৃষ্টির মাধ্যমে বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মা বেগম খালেদা জিয়ার পর জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন। তিনি দেশের আবেগ অনুভূতি এবং আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে বাংলায় এ ভাষণ দেবেন।’
এদিন সরকারপ্রধান, এবারের অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবেলা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্যও দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন। নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ টেকসই শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় নারীর কার্যকর নেতৃত্ব এবং অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ‘উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি (ডব্লিউপিএস) ফোকাল পয়েন্ট বিষয়কম নেটওয়ার্ক’-এর বার্ষিক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ আহ্বান জানান।
আজ বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। মন্ত্রণালয় জানায়, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের পার্শ্বসূচি হিসেবে ফিলিপাইন, ইতালি এবং ‘ইউএন উইমেন’-এর যৌথ উদ্যোগে এই আন্তর্জাতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক ঐতিহাসিক ‘রেজল্যুশন-১৩২৫’ গ্রহণের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এর নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক জবাবদিহি জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিশ্বনেতারা।
বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উল্লেখ করেন, ২০০০ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে রেজল্যুশন-১৩২৫ গ্রহণে এবং সর্বসম্মত সমর্থনে বাংলাদেশ অত্যন্ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। তিনি বর্তমান সরকারের সুদৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন নারীর অর্থবহ ও প্রভাব বিস্তারকারী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নীতি-নির্ধারণী প্রক্রিয়ায়।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বক্তব্যে প্রধান কয়েকটি বিষয়ের ওপর বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা ও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের সংকট নিরসন এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের মূলধারায় ‘ডব্লিউপিএস (WPS)’ এজেন্ডাকে সম্পৃক্ত করা, এবং নারীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত যেকোনো সহিংসতা ও অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ।
তিনি জানান, বাংলাদেশে ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ বিষয়ক দ্বিতীয় জাতীয় কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্তকরণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
নারীদের বিরুদ্ধে সাইবার স্পেসে ডিজিটাল হয়রানি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে বাংলাদেশের উদ্যোগে চালুকৃত ‘ঢাকা ডায়ালগ’-এর বিষয়টি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে এসংক্রান্ত আসন্ন ‘গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস’-এ যোগ দিতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে আমন্ত্রণ জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
উক্ত বার্ষিক বৈঠকে বিভিন্ন সদস্য দেশের মন্ত্রী, কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় নারী নেতৃত্বকে আরো ত্বরান্বিত করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে ভারত পাকিস্তানের সমালোচনা করেছে। বুধবার, ভারতের কূটনীতিক ক্ষিতিজ ত্যাগী পাকিস্তানের বক্তব্যের জবাবে বলেন, ‘অন্য দেশের ভূখণ্ড দখল করা বা সন্ত্রাস ছড়ানোর পরিবর্তে পাকিস্তানের উচিত দেশের উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়া।’ এনডিটিভির প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্ষিতিজ ত্যাগী আরও বলেন, ‘পাকিস্তানের বর্তমান নীতি দেশটির অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে কোনো সহায়তা করবে না। দেশের জনগণের স্বার্থে পাকিস্তানের উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।’ ভারতীয় এই কূটনীতিক আরও উল্লেখ করেন, ‘অন্য দেশের ভূখণ্ড নিয়ে আগ্রহ দেখানো বা সন্ত্রাস রপ্তানির পরিবর্তে পাকিস্তানের উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়া দরকার।’
তিনি দাবি করেন, এসব কর্মকাণ্ড বা জাতিসংঘের পরিষদে এ ধরনের বক্তব্য পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে কোনো ভূমিকা রাখবে না। ত্যাগী অভিযোগ করেন, পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাকিস্তান ব্যর্থ হয়েছে। জুন মাসে ওই অঞ্চলে বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
বিক্ষোভের সময় আন্দোলনকারীরা খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধসহ জরুরি পণ্য সরবরাহে বাধা দেওয়ার জন্য পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। এ সময় অঞ্চলটির বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা ও জনজীবনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জুনের বিক্ষোভে অন্তত ২০ জন বেসামরিক নাগরিক ও চারজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।
ত্যাগী বলেন, ‘গত শুক্রবার এই পরিষদকে জানানো হয়েছিল যে, পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে জুন থেকে বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এ ছাড়া ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহে বাধা দেওয়া হয়েছে। এসব তথ্য তুলে ধরার পর পাকিস্তান এ বিষয়ে ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ উত্থাপন করে। এই পরিষদের পর্যালোচনার সব বস্তুনিষ্ঠ মানদণ্ড যদি কোনো একটি দেশের প্রতিনিধিদল পূরণ করে থাকে, তাহলে সেটি পাকিস্তান।’
জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে ভারত পুনরায় বলেছে, এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। একই সঙ্গে পাকিস্তানকে তার নিয়ন্ত্রণে থাকা কাশ্মীরের এলাকা খালি করার আহ্বান জানিয়েছে ভারত।
ত্যাগী কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বাস্তুচ্যুতির বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সীমান্তের ওপারে ‘সন্ত্রাসীদে’র প্রশিক্ষণ দেওয়া, অস্ত্র সরবরাহ করা এবং তাদের ভারতে পাঠানোর অভিযোগ করেন।
ত্যাগী বলেন, ‘ওই একই সন্ত্রাসীরা পরে ধর্ম-নির্বিশেষে কাশ্মীরিদের হত্যা করেছে। নিহতদের মধ্যে অনেক মুসলিমও ছিলেন। যেই রাষ্ট্র তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে, সেই রাষ্ট্রই এখন এই পরিষদকে তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছে। এই বিষয়টির পরিহাস পরিষদের নজর এড়াবে না।’ এদিকে বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের পাঠানো একটি চিঠির তীব্র সমালোচনা করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে সাম্প্রতিক একটি সালিসি আদালতের রায় সম্পর্কে পাকিস্তান চিঠিতে তথ্য বিকৃত করেছে।’ স্থায়ী সালিসি আদালত নিয়ে পাকিস্তানের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি বলেন, ‘নিজেদের স্বার্থে তথ্য বিকৃত করা ও মিথ্যা প্রচার করা পাকিস্তানের অভ্যাস।’
জয়সওয়াল আরও বলেন, ‘প্রথমত, পাকিস্তানি মন্ত্রী যেভাবে বিষয়টি তুলে ধরতে চাইছেন, তথাকথিত এই রায়টি স্থায়ী সালিসি আদালতের কোনো রায় নয়। এটি একটি অবৈধভাবে গঠিত আদালতের সিদ্ধান্ত। ভারত বিষয়টিকে বাস্তবতা বিকৃত করার জন্য পাকিস্তানের আরেকটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে। এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট এবং দেশটি একাধিকবার তা জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ