প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ টেকসই শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় নারীর কার্যকর নেতৃত্ব এবং অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ‘উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি (ডব্লিউপিএস) ফোকাল পয়েন্ট বিষয়কম নেটওয়ার্ক’-এর বার্ষিক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ আহ্বান জানান।
আজ বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। মন্ত্রণালয় জানায়, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের পার্শ্বসূচি হিসেবে ফিলিপাইন, ইতালি এবং ‘ইউএন উইমেন’-এর যৌথ উদ্যোগে এই আন্তর্জাতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক ঐতিহাসিক ‘রেজল্যুশন-১৩২৫’ গ্রহণের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এর নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক জবাবদিহি জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিশ্বনেতারা।
বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উল্লেখ করেন, ২০০০ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে রেজল্যুশন-১৩২৫ গ্রহণে এবং সর্বসম্মত সমর্থনে বাংলাদেশ অত্যন্ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। তিনি বর্তমান সরকারের সুদৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন নারীর অর্থবহ ও প্রভাব বিস্তারকারী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নীতি-নির্ধারণী প্রক্রিয়ায়।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বক্তব্যে প্রধান কয়েকটি বিষয়ের ওপর বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা ও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের সংকট নিরসন এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের মূলধারায় ‘ডব্লিউপিএস (WPS)’ এজেন্ডাকে সম্পৃক্ত করা, এবং নারীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত যেকোনো সহিংসতা ও অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ।
তিনি জানান, বাংলাদেশে ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ বিষয়ক দ্বিতীয় জাতীয় কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্তকরণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
নারীদের বিরুদ্ধে সাইবার স্পেসে ডিজিটাল হয়রানি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে বাংলাদেশের উদ্যোগে চালুকৃত ‘ঢাকা ডায়ালগ’-এর বিষয়টি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে এসংক্রান্ত আসন্ন ‘গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস’-এ যোগ দিতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে আমন্ত্রণ জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
উক্ত বার্ষিক বৈঠকে বিভিন্ন সদস্য দেশের মন্ত্রী, কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় নারী নেতৃত্বকে আরো ত্বরান্বিত করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন