ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জমির মালিকানা নিশ্চিত করতে রেজিস্ট্রির আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্ব


জমির মালিকানা নিশ্চিত করতে রেজিস্ট্রির আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্ব

জমি ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সামান্য অসাবধানতা অথবা আইনি প্রক্রিয়ার অজ্ঞতার ফলে অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি মামলার জালে জড়িয়ে পড়েন। তাই দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু ধাপ অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক, যা নিজের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা এবং জমির চূড়ান্ত ও নিষ্কণ্টক মালিকানা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।

জমি কেনাবেচার প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের সামনে নানা জটিলতা, প্রতারণা এবং দীর্ঘমেয়াদি আইনি বিরোধের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সঠিক নিয়মে জমি রেজিস্ট্রি না করা, কর পরিশোধে অস্পষ্টতা, আইনি বাধাগুলো সম্পর্কে অজ্ঞতা কিংবা জমি ক্রয়ের পর নামজারিসহ পরবর্তী আবশ্যিক পদক্ষেপগুলো সঠিক সময়ে গ্রহণ না করার কারণে অনেকেই তাদের সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে কেনা সম্পত্তি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যান।

বছরের পর বছর আদালতে ঘুরতে হয় মামলার জটলায়। অথচ কেনাবেচার সময় যদি কিছু সচেতনতা এবং আইনের সাধারণ বিষয়গুলো জানা থাকে, তাহলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি সহজেই এড়ানো সম্ভব। জমি হস্তান্তরের সময় ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষের কিছু সুনির্দিষ্ট আইনি দায়-দায়িত্ব এবং করণীয় রয়েছে, যা সঠিকভাবে পালন করা দুই পক্ষের জন্য জরুরি। রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার জটিলতা এড়াতে এবং জমি ক্রয়ের পর নিজের মালিকানা শতভাগ সুরক্ষিত রাখতে আইনসম্মত বিষয়গুলো জানা থাকা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহ যাকে চান ক্ষমতা দেন, আবার কেড়েও নেন’ - ড. খালিদ হোসেন

এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. পি. এম. সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ প্রামাণিক)।

জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ভ্যাট (VAT) এবং উৎস কর সর্বদা বিক্রেতার আয়ের ওপর ধার্যকৃত কর। ফলে আয়কর আইনের বিধান অনুযায়ী, এই দুই প্রকার কর বিক্রেতার নামেই সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়। তবে জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে অন্যান্য বাকি করসমূহ মূলত জমির ক্রেতা পরিশোধ করবেন।

রেজিস্ট্রি করার পর দলিলে দাগ, খতিয়ান, মৌজা, সীমানা (চৌহদ্দি) বা নামে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধনের ব্যবস্থা রয়েছে। ভুল ধরা পড়ার ৩ বছরের মধ্যে দেওয়ানি আদালতে মামলা করতে হয়। নির্ধারিত ৩ বছর পার হয়ে গেলে মামলাটি তামাদি আইনের দ্বারা বারিত হয়ে যায়। তবে তিন বছর অতিক্রান্ত হলে দেওয়ানি আদালতে ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করা সম্ভব। আদালতের রায়ের কপি সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে পৌঁছালে তিনি ভলিউম সংশোধন করে নেন। এছাড়া পৃথক 'ভ্রম সংশোধন দলিল' সম্পাদন করেও ভুল সংশোধন করা যায়।

অন্যদিকে, কোনো দলিল জাল প্রমাণিত হলে তা জানার ৩ বছরের মধ্যে দেওয়ানি আদালতে উক্ত দলিল বাতিল ও একই সাথে সম্পত্তির দখল প্রাপ্তির মামলা করা সমীচীন।

আরও পড়ুন: বিএনপি দিল্লির মাধ্যমে আ.লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

যদি কোনো দলিলদাতা শারীরিক অক্ষমতার কারণে রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত হতে না পারেন, তাহলে রেজিস্ট্রেশন আইনের ৩৮ ধারা অনুযায়ী কমিশনের জন্য আবেদন করতে পারেন। আবেদনের ভিত্তিতে সাব-রেজিস্ট্রার বা তার প্রতিনিধি দলিলদাতার বাসস্থানে গিয়ে সম্পাদন স্বীকারোক্তি গ্রহণ করেন। এছাড়া রেজিস্ট্রেশন আইনের ৩১ ধারা অনুযায়ী, দলিলদাতা ও গ্রহীতা উভয়ই অফিসে যেতে ব্যর্থ হলে 'ভিজিট ফি' জমা দিয়ে বাড়িতে বসেই দলিল রেজিস্ট্রি করার বিধান রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের নামে জমি কিনতে হলে সরাসরি প্রতিষ্ঠানের বরাবরেই দলিল সম্পাদন করতে হবে, সেখানে ব্যক্তিবিশেষের নাম যুক্ত করা যাবে না। তবে কোনো কোম্পানির পক্ষে তার চেয়ারম্যান বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক দলিল সম্পাদন করতে পারবেন। এছাড়া, সাফ কবলা দলিল তৈরির সময় কোথাও ভুলত্রুটি হলে, দলিলের শেষাংশে নির্দিষ্ট পৃষ্ঠা ও লাইন নম্বর উল্লেখ করে 'কৈফিয়ত' লিখে নিচে দলিল লেখকের স্বাক্ষর প্রদান বাধ্যতামূলক।

আইন অনুযায়ী, নাবালক, শত্রু দেশের নাগরিক, আদালত কর্তৃক দেউলিয়া বা উন্মাদ ঘোষিত ব্যক্তি এবং মদ্যপ অবস্থায় সম্পন্ন করা যেকোনো দলিল বাতিল বলে গণ্য হবে। তাছাড়া আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সম্পাদিত দলিল কিংবা ভয়ভীতি, লোভ ও জোরজবরদস্তি করে রেজিস্ট্রি করা দলিল আইনিভাবে সম্পূর্ণ অবৈধ ও বাতিল।

জমি কেনার পর সর্বপ্রথমে জমি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ ও বাস্তব দখল (যেমন— চাষাবাদ বা অবকাঠামো নির্মাণ) গ্রহণ করতে হবে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে মূল দলিল বা দ্রুততম সময়ে 'সার্টিফায়েড কপি' সংগ্রহ করে অবিলম্বে স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে নামজারি বা মিউটেশনের আবেদন করতে হবে। নামজারি শেষে খতিয়ান, ডিসিআর (DCR) এবং ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা নিজের কাছে সংরক্ষণ করা আবশ্যক। মনে রাখতে হবে, ক্রয়ের পর দখলে যেতে বিলম্ব কিংবা নামজারি না করলে অসাধু বিক্রেতা একই জমি অন্য কারো কাছে পুনঃবিক্রি করার সুযোগ পেতে পারে।

আরও পড়ুন: জামায়াত মানুষকে যে পথ দেখাতে চায়, সেটা দাজ্জালের জান্নাত: রাশেদ খাঁন

জমিজমা সংক্রান্ত আইনি ঝামেলা এড়াতে অসচেতনতার কোনো সুযোগ নেই। সঠিক সময়ে কর প্রদান, দলিল যাচাই, কমিশন ও ভিজিটের সঠিক ব্যবহার এবং জমি হস্তান্তরের পরপরই দখল ও নামজারি সম্পন্ন করাই একজন সচেতন নাগরিকের প্রধান দায়িত্ব। আইনি নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করলে জমি কেনাবেচায় প্রতারণা সম্পূর্ণ রোধ করা সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হুথি মি-সা-ই-ল কেন সউদী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সফল হচ্ছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৫ পি.এম


হুথি মি-সা-ই-ল কেন সউদী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সফল হচ্ছে?

সউদী আরবের গভীরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে হুথিরা, যারা দফায় দফায় ব্যালিস্টিক মিসাইল, ক্রুজ মিসাইল এবং ড্রোন ব্যবহার করছে। ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী আনসারুল্লাহ, যাদের সাধারণত ‘হুথি’ নামে অভিহিত করা হয়, তারা চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে সউদীর বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে একাধিকবার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

গতকাল শনিবার বিমানবন্দরে এক হামলায় ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। এটি গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সউদীতে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা। এই হামলার পর সউদী আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ফ্লাইট অপারেশন স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে এবং সমস্ত ফ্লাইট অন্যত্র ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য তাদের নাগরিকদের জন্য নতুন ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে। হুথিরা এর আগে চলতি সপ্তাহে বিমানবন্দরটিতে আরও দুটি হামলার দায় স্বীকার করেছে এবং গত রবিবার এক সতর্কবার্তায় লোকজনকে সউদী বিমানবন্দরগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

হুথিদের অস্ত্রভাণ্ডার কতখানি উন্নত?

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার জন্য ব্যবহৃত অস্ত্রের প্রকৃতি এখনও পরিষ্কার নয়, তবে ২০১৫ সালে সউদী জোট ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করার পর থেকে হুথিরা সউদীর দিকে শত শত ড্রোন ও মিসাইল নিক্ষেপ করেছে। তাছাড়া, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় সংঘাত শুরুর পর থেকে এই ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি ইসরায়েল এবং ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজেও হামলা চালিয়ে আসছে।

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হুথিরা একই কৌশল ব্যবহার করে আসছে। গত মাসে লোহিত সাগরের উপকূল দখল করার আগে তারা সপ্তাহের পর সপ্তাহ সরকারি বাহিনীর অবস্থানে ড্রোন ও মিসাইলের বৃষ্টি চালিয়েছিল।

এই গোষ্ঠীর সবচেয়ে উন্নত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল ‘ফিলিস্তিন-২’। এটি একটি দ্বি-পর্যায়ের সলিড ফুয়েল মিসাইল, যার আনুমানিক পাল্লা ২,০০০ কিলোমিটার এবং এটি সুপারসনিক ক্ষমতাসম্পন্ন। আরেকটি হলো ‘তুফান’, যা মূলত ইরানের গদর মিসাইলের একটি পরিবর্তিত রূপ। ধারণা করা হয়, এর পাল্লা ১,৩৫১ থেকে ১,৯৫০ কিলোমিটারের মধ্যে।

এই মিসাইলগুলোর পাল্লা এত বেশি যে—যার কিছু কিছু আবার ক্লাস্টার ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম—ইয়েমেন থেকে প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও ভেদ করতে পেরেছে এগুলো। এছাড়াও হুথিদের অস্ত্রভাণ্ডারে বুরকান এবং বদর সিরিজের মতো বেশ কিছু স্বল্পপাল্লার মিসাইল রয়েছে, যেগুলো ইয়েমেন থেকে সউদী আরবের অভ্যন্তরে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে।

কিংস কলেজ ওয়ার স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র ফেলো নাওয়াফ ওবায়েদের মতে, হুথিদের মিসাইল ভাণ্ডার মূলত ইরানি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল, সাথে কিছু চিনা প্রভাবও রয়েছে।

তিনি বলেন, “হুথিরা উল্লেখযোগ্য কোনো দেশীয় প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন করতে পেরেছে তার প্রমাণ খুব কমই রয়েছে। তাদের নিজস্ব সক্ষমতা মূলত নিম্নমানের কিছু মিসাইল এবং ড্রোন তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ।” গত মাসে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী অভিযোগ করেছিল যে, নতুন ধরনের 'লোইটারিং ক্রুজ মিসাইল' তৈরিতে হুথিদের সহায়তা করছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

কেন হিমশিম খাচ্ছে সউদীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা?

সউদী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের বাহিনী গত সপ্তাহে রাজধানী লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক মিসাইলসহ বেশ কিছু প্রজেক্টাইল মাঝআকাশেই ভূপাতিত করেছে। কিন্তু শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে আঘাত হানা প্রজেক্টাইলটিকে তারা আটকাতে ব্যর্থ হয়। নাওয়াফ ওবায়েদ আল-জাজিরাকে জানান, সউদী আরবের বিশাল আয়তন এবং ইয়েমেনের সাথে দীর্ঘ সীমান্ত বিবেচনা করলে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে মাঝে মাঝে এমন ভেদ করার ঘটনা অপ্রত্যাশিত নয়।

তিনি বলেন, “আপনার কাছে যতই বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকুক না কেন, একটি না একটি মিসাইল ঠিকই ফাঁক গলে বেরিয়ে যাবে।” তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রতিটি সফল হামলার বিপরীতে হুথিদের ডজন ডজন প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুসজতাই জানান, সউদী আরবের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য ছিল মূলত ইরান থেকে আসা হুমকি মোকাবিলা করা। তবে হুথিদের আক্রমণ বাড়তে থাকায় সউদীরা এখন তাদের এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি অংশ ইয়েমেনের দিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে।

আরেকটি বড় সমস্যা হলো ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মিত্রদের মতো সউদী আরবও প্যাট্রিয়ট ও থাড যুদ্ধাস্ত্রের সীমিত মজুত নিয়ে লড়াই করছে। ইরানের সাথে যুদ্ধের মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এসব অস্ত্র দ্রুত খরচ করে ফেলেছিল। গত মাসে হুথিদের হামলা থেকে রক্ষা পেতে সউদী আরব বেশ কিছু বন্ধুভাবাপন্ন দেশের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা অন্যান্য সহায়তার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিল।

সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও হুথিদের লড়াই

এদিকে হুথিরাও মারাত্মক কিছু সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। গোষ্ঠীটি জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা এবং বছরের পর বছর ধরে চলা সউদী অবরোধের মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের বিভিন্ন ফ্রন্টেও তাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে। ওবায়েদ বলেন, “সামরিক দিক থেকে সউদী সমর্থিত জোটের অবস্থাই ওপরে রয়েছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও সউদী আরবের অভ্যন্তরে আকস্মিক কিছু হামলা চালিয়ে হুথিরা ঠিকই শিরোনাম দখল করতে সক্ষম হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক এবং জি২০ অর্থনীতির দেশ হিসেবে সউদী আরবের কিছু বৈশ্বিক দায়িত্ব রয়েছে, যার কারণে এই ধরনের হামলাগুলোকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি দৃশ্যমান মনে হয়।”

হুথিদের মিসাইল ভাণ্ডারের সঠিক আকার অজানা, যা একই সাথে স্থলযুদ্ধে মিসাইল ব্যবহার এবং সউদীতে হামলা অব্যাহত রাখার তাদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ওবায়েদ জানান, ইয়েমেনে সউদী বিমান অভিযান হুথিদের মিসাইল ডিপো, ভূগর্ভস্থ স্থাপনা এবং ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রগুলোকে মারাত্মকভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে। ফলে গোষ্ঠীটির সামরিক সক্ষমতার ওপর এটি ‘বিপুল ক্ষতি’ সাধন করছে বলে তিনি যোগ করেন।

বিশ্লেষক পুসজতাই আল-জাজিরাকে বলেন, হুথিদের হাতে সম্ভবত খুব সীমিত সংখ্যক স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল অবশিষ্ট রয়েছে। এর অর্থ দাঁড়ায়, সউদী আরবের মতো জায়গায় একসাথে একাধিক মিসাইল ও ড্রোন ছুড়ে বড় ধরনের 'স্যাচুরেশন অ্যাটাক' বা একযোগে তীব্র আক্রমণ চালানোর সামর্থ্য তাদের নেই।

এর পরিবর্তে তারা হয়তো কম সুরক্ষিত বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে এককভাবে মিসাইল নিক্ষেপের কৌশল বেছে নিতে পারে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো—“এই হামলার মাধ্যমে সর্বোচ্চ কৌশলগত প্রভাব ফেলা এবং বেসামরিক বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বোলারদের দাপটে ডারবান টেস্টের নিয়ন্ত্রণে অস্ট্রেলিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৬ পি.এম


বোলারদের দাপটে ডারবান টেস্টের নিয়ন্ত্রণে অস্ট্রেলিয়া

প্রথম দিনের ব্যাটিংয়ে ধাক্কা খাওয়ার পর, বল হাতে অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ডারবানে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২৮৪ রানে অলআউট করে প্যাট কামিন্সের দল প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড অর্জন করেছে। এরপর, দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫.৪ ওভার ব্যাট করে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৩৩ রান সংগ্রহ করেছে অস্ট্রেলিয়া। উইকেটে নিক ম্যাডিনসন ১৭ এবং ট্রাভিস হেড ১০ রানে অপরাজিত রয়েছেন। সব মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার তুলনায় অস্ট্রেলিয়া ১৩৯ রানে এগিয়ে গেছে।

দিনের শুরুতে ২৭ রানে এক উইকেট নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা। সূর্যের আলোতে ভালো ব্যাটিংয়ের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণের সামনে বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেনি স্বাগতিকরা। ডেভিড বেডিংহ্যাম ও এইডেন মার্করামের ৮৪ রানের জুটি দক্ষিণ আফ্রিকাকে ভালো অবস্থানে নিয়ে গেলেও, এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। মার্করাম ৩৭ রান করে মিচেল স্টার্কের বলে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দেন। এরপর, নাথান লায়নের বলে মাত্র ৩ রান করে অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা ফিরে যান।

অস্ট্রেলিয়ার চার মূল বোলারই অন্তত দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। সবচেয়ে সফল ছিলেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, যিনি ১৫ ওভারে ৫৪ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়েছেন। নিয়মিত ১৪০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতিতে বল করে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন কামিন্স। ওয়ান মুল্ডার ও ট্রিস্টান স্টাবসের জুটি যখন দক্ষিণ আফ্রিকাকে সামলানোর চেষ্টা করছিল, তখনই কামিন্সের বাউন্সারে ভেঙে যায় সেই প্রতিরোধ। ১৪৩ কিলোমিটার গতির একটি বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে মিডউইকেটে ক্যাচ দেন মুল্ডার। এরপর শর্ট বলের কৌশলে স্টাবসকেও ডিপ ফাইন লেগে ক্যাচে পরিণত করেন কামিন্স।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সর্বোচ্চ ৪৯ রান করেন বেডিংহ্যাম। টেস্টে প্রথমবার তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে তিনি বেশ স্বচ্ছন্দ ছিলেন। তবে অর্ধশতক থেকে মাত্র এক রান দূরে থাকতে তার ইনিংস শেষ হয়। শেষ দিকে কেশব মহারাজ ও সিমন হারমার ৫২ রানের জুটি গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে আরও কিছুটা এগিয়ে নেন। পরে মহারাজ স্টার্কের বলে কভারে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। হারমার ও আনরিখ নরকিয়া শেষ উইকেটে আরও ৩৫ রান যোগ করলেও, দক্ষিণ আফ্রিকার ঘাটতি পূরণ করার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না।

অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের দাপটের সঙ্গে ফিল্ডিংয়েও আলো ছড়িয়েছেন স্টিভেন স্মিথ। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে চারটি ক্যাচ নিয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে টেস্টে উইকেটকিপার নন—এমন ফিল্ডারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্যাচের রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন স্মিথ, পেছনে ফেলেছেন ইংল্যান্ডের জো রুটকে। তার নেওয়া ক্যাচগুলোর কয়েকটি ছিল দুর্দান্ত। টেম্বা বাভুমার রিভার্স সুইপে নেওয়া ক্যাচের পর ডেভিড বেডিংহ্যামকে প্রথম স্লিপে ডাইভ দিয়ে অসাধারণভাবে ধরেন তিনি। পরে কাইল ভেরেইনের রিভার্স সুইপের চেষ্টায় এক হাতে অবিশ্বাস্য ক্যাচ নিয়ে দিনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত তৈরি করেন স্মিথ।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া স্বস্তির শুরু পেয়েছে। বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়া নিক ম্যাডিনসন নিজের ওপর থেকে চাপটা সরিয়ে নিয়েছেন প্রথম বলেই বাউন্ডারি মেরে। মার্কো ইয়ানসেনের প্রথম বলেই পুল করে চার মারেন তিনি। একই ওভারে আরও একটি বাউন্ডারি হাঁকানোর পর ওয়ান মুল্ডারের বলে ডিপ স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে ছক্কাও মারেন ম্যাডিনসন। ২০১৬ সালের ২৯ ডিসেম্বরের পর টেস্টে এটিই তার প্রথম রান। ২০১৬ সালের শেষ দিকে তিনটি টেস্ট খেলার পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ফিরেছেন এই ব্যাটার।

দিন শেষে ১৭ রানে অপরাজিত ম্যাডিনসনের সঙ্গে ১০ রানে অপরাজিত হেড। তবে টানা তৃতীয় দিনের মতো আলোস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই খেলা বন্ধ হয়ে যায়। প্রথম দিন ব্যাট হাতে বড় সংগ্রহ তুলতে না পারলেও দুর্দান্ত বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন অস্ট্রেলিয়ার হাতে। প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিডের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও লিড বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে তাদের। তবে ডারবানের আলোস্বল্পতা চতুর্থ ও পঞ্চম দিনেও খেলার সময় কমিয়ে দিলে অস্ট্রেলিয়ার জন্য সেটিই বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধর্ষণের সময় রাবেয়া খাতুনকে হত্যা, সাগরের স্বীকারোক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৬ পি.এম


ধর্ষণের সময় রাবেয়া খাতুনকে হত্যা, সাগরের স্বীকারোক্তি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ধর্ষণের সময় এক নারীকে হত্যা করা হয়েছে, যার নাম রাবেয়া খাতুন। শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করার অভিযোগে সারোয়ার জাহান সাগর নামের এক আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতারকৃত আসামি সারোয়ার জাহান সাগর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল থানার ইসলামপুর এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে।

অন্যদিকে, হত্যাকাণ্ডের শিকার রাবেয়া খাতুন ভোলা সদর উপজেলার চররমেশ এলাকার শামসুদ্দিনের স্ত্রী ছিলেন।

ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, আসামি সাগরের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে জানা যায়, রাবেয়া খাতুন উপজেলার নাওড়া এলাকার চা দোকানি রানার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তিনি পার্শ্ববর্তী জলসিঁড়ি প্রজেক্টের শ্রমিকদের রান্নার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ৪ অক্টোবর রাতে রান্নার কাজ শেষ করে নাওড়ায় ভাড়া বাসায় ফিরছিলেন। ১২ নম্বর সেক্টরের ১০৭ নম্বর সড়কের পাশে পৌঁছালে সাগর তার বুকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর ধর্ষণের চেষ্টা চালানোর সময় রাবেয়া চিৎকার করলে সাগর তার নাক ও মুখ চেপে ধরে। এতে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরবর্তীতে তাকে ধর্ষণ করা হয় এবং একপর্যায়ে শ্বাসরোধে রাবেয়া খাতুনের মৃত্যু ঘটে।

পরের দিন, ৫ অক্টোবর দুপুরে স্থানীয়রা রাবেয়া খাতুনের লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এই ঘটনায় রাবেয়া খাতুনের ছেলে মোহাম্মদ শাহিন বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ওসি আরও জানান, মামলার পর রূপগঞ্জ থানা পুলিশ জলসিঁড়ি প্রজেক্ট এলাকা থেকে সারোয়ার জাহান সাগরকে গ্রেফতার করে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠায়। আদালতে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় আসামি সাগর নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেরোবিতে সিজেএম অ্যালামনাইদের উদ্যোগে ক্যারিয়ার আড্ডা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বেরোবি প্রতিনিধি

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪০ পি.এম


বেরোবিতে সিজেএম অ্যালামনাইদের উদ্যোগে ক্যারিয়ার আড্ডা অনুষ্ঠিত

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতি, দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত সম্ভাবনা সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরে সিজেএম অ্যালামনাইদের নিয়ে ‘ক্যারিয়ার আড্ডা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের গ্যালারি রুমে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ও সিজেএম জিনিয়াস অ্যালামনাই কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মাসুদুর রহমান। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন রংপুর বিভাগীয় অ্যালামনাইয়ের আহ্বায়ক মো. তুহিন রানা।

ক্যারিয়ার আড্ডায় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, সরকারি-বেসরকারি চাকরির প্রস্তুতি, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল হওয়ার কৌশল, যোগাযোগদক্ষতা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষাজীবন থেকেই নিজেকে দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে মাসুদুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শুধু একাডেমিক পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। শিক্ষার্থীদের নিজেদের লক্ষ্য নির্ধারণের পাশাপাশি সেই লক্ষ্য অর্জনে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যেতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে টিকে থাকতে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের পাশাপাশি যোগাযোগদক্ষতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও সমসাময়িক বিষয়ে ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সফলতার জন্য ধারাবাহিক প্রচেষ্টা, ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস প্রয়োজন। একজন শিক্ষার্থী যত আগে নিজের আগ্রহ ও সক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন হবে, ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতি নেওয়া তার জন্য তত সহজ হবে।’

আলোচনা পর্বে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা ও চাকরির প্রস্তুতিসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের আগ্রহ, ভবিষ্যৎ লক্ষ্য এবং কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন।

সেমিনারে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী আশিক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে আমাদের অনেকের মধ্যেই নানা প্রশ্ন ও দ্বিধা থাকে। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাছ থেকে সরাসরি পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। আজকের আলোচনা আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির বিষয়ে নতুনভাবে ভাবতে সহায়তা করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্যারিয়ার গঠনের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন, কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে এবং সময়ের সঠিক ব্যবহার কীভাবে করা যায়—এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত এমন আয়োজন হলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন।’

অনুষ্ঠান পরিচালনাকালে রংপুর বিভাগীয় অ্যালামনাইয়ের আহ্বায়ক মো. তুহিন রানা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তবমুখী জ্ঞান ও ক্যারিয়ার সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। অভিজ্ঞ অ্যালামনাইদের সঙ্গে বর্তমান শিক্ষার্থীদের সংযোগ তৈরি করাই আমাদের এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত হোক। আগামী দিনেও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্যারিয়ার গঠনে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা রয়েছে।’

ক্যারিয়ারবিষয়ক আলোচনা ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আয়োজনটি সম্পন্ন হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%