ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দুর্গাপূজায় প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর ঐতিহাসিক হবে: ভূমিমন্ত্রী


দুর্গাপূজায় প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর ঐতিহাসিক হবে: ভূমিমন্ত্রী

রাজশাহী, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ : ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু মন্তব্য করেছেন যে, আগামীকাল দুর্গাপূজা চলাকালীন রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরটি ঐতিহাসিক হতে যাচ্ছে।

আজ সোমবার দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা আয়োজনের প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এই কথা বলেন।

ভূমিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর রাজশাহীবাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য আনন্দের মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে, কারণ তিনি পূজার সময় রাজশাহীতে আসছেন। এটি নিঃসন্দেহে প্রধানমন্ত্রীর একটি ঐতিহাসিক সফর হতে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ফের অশান্ত ভারতের মণিপুর, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে নিহতদের লাশ রেখে বিক্ষোভ

তিনি আরও বলেন, এর আগে কোনো রাষ্ট্রপ্রধান বা প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাইরে কোথাও পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে যাননি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই একমাত্র প্রধানমন্ত্রী যিনি পূজার সময় রাজশাহীতে আসছেন। এরপর তাঁর রংপুর ও চট্টগ্রামে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই মাদরাসা মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ভাষণ দিয়েছেন। তারেক রহমানও এখানে ভাষণ দিয়েছেন, তবে তখন তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না। সেক্ষেত্রে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি রাজশাহীতে তাঁর প্রথম সফর।

মন্ত্রী আরও জানান, রাজশাহীতে সমাবেশ সবসময় বিপুল সমারোহে অনুষ্ঠিত হয়, এবারেরও তার ব্যতিক্রম হবে না। ইতোমধ্যেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এক নজর দেখার জন্য রাজশাহীর মানুষ অপেক্ষা করছে।

প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে রাজশাহীবাসী প্রস্তুত জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁর আগমন উপলক্ষে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। রাজশাহী বিএনপি তাঁকে স্বাগত জানাতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছে। আশা করছি, সুস্থ ও সফলভাবে এই জনসভা শেষ হবে। এজন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি।

আরও পড়ুন: ফ্রান্সের পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে, মেয়রদের হাতে কারফিউ জারির ক্ষমতা

উল্লেখ্য, রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান দুটি অংশে অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে তিনি রাজশাহী ধর্মসভায় পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করবেন এবং মাদরাসা মাঠে জনসভা ও ইক্ষু চাষিদের প্রণোদনা দেবেন।

এর আগে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির জনসভা স্থল পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপত্তায় কোনো ত্রুটি থাকবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইউনিফর্মের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান নূরুল ইসলাম মনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৭ পি.এম


কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান নূরুল ইসলাম মনি

বরগুনা, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ : কিশোরীদের প্রজননস্বাস্থ্য সুরক্ষা, শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিশ্চিতকরণ এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

আজ সোমবার বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘প্রজননক্ষমতা ও কিশোরী স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ আহ্বান জানান।

চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার পাশাপাশি মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ ও উপবৃত্তি প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেয়েরা যেন শিক্ষার মাধ্যমে নেতৃত্ব দিতে পারে, সে জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কিশোরীদের সুস্থ বিকাশ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে পরিবার ও সমাজকে সচেতন করতে হবে।

এ সময় তিনি পাথরঘাটায় মাদক, চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ‘স্ট্রেংথেনিং পার্লামেন্টস ক্যাপাসিটি ইন ইন্টিগ্রেশন অভ পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইস্যুজ (এসপিসিপিডি)’ প্রকল্প, ইউএনএফপিএ এবং পাথরঘাটা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের বিএন্ডআইটি অনুবিভাগের মহাপরিচালক আ ন ম খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বরগুনা জেলার পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস, সংসদ সচিবালয়ের যুগ্মসচিব মো. আল মামুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনের ইনার মঙ্গোলিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিশাল কম্পিউটিং কেন্দ্র গড়ে উঠছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৭ পি.এম


চীনের ইনার মঙ্গোলিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিশাল কম্পিউটিং কেন্দ্র গড়ে উঠছে

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ : চীনের রাজধানী বেইজিং থেকে গাড়িতে প্রায় চার ঘণ্টা উত্তর-পশ্চিমে এগিয়ে মহাপ্রাচীর পেরিয়ে পৌঁছানো যায় ইনার মঙ্গোলিয়ার তৃণভূমিতে। এই অঞ্চলে, যা চীনের দ্রুত বিকাশমান উপকূলীয় শহরগুলো থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন, বর্তমানে বিশাল ডেটা সেন্টার গড়ে উঠছে। একসময় চীনের ‘আলুর রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত শহরটিতে আকাশ ছুঁতে চাওয়া নির্মাণক্রেনের সারি এবং বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আগমন অর্থনৈতিক রূপান্তরের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

শহরটির নাম উলানচাব। চীনের ইনার মঙ্গোলিয়া স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের এই শহরটি বিশ্বজুড়ে কম্পিউটিং সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নতুন সম্ভাবনাময় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। উলানচাবের পরিবর্তনের অন্যতম উদাহরণ হলো, দুই বছরেরও কম সময়ে ইনার মঙ্গোলিয়ার কম্পিউটিং সক্ষমতা প্রায় চার গুণ বেড়ে গেছে। ২০২৬ সালের আগস্টে এ সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৩ হাজার পেটাফ্লপসে। এই সময়ের মধ্যে অঞ্চলজুড়ে গড়ে উঠেছে বড় বড় ডেটা সেন্টার।

বিভিন্ন কারণে এই রূপান্তর সম্ভব হয়েছে। এখানে আবহাওয়া বছরের প্রায় ১০ মাস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সার্ভার র্যাক স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা রাখার সুযোগ দেয়। বিস্তীর্ণ বায়ুপ্রবাহপ্রবণ তৃণভূমিতে বিপুল পরিমাণ বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। ফলে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের দাম প্রায় ০.৩৫ ইউয়ান বা ৫.২ মার্কিন সেন্ট পর্যন্ত নেমে এসেছে। বেইজিংয়ের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে তথ্য আদান-প্রদানে বিলম্ব পাঁচ মিলিসেকেন্ডেরও কম, যা নির্বিঘ্নে এআই মডেল প্রশিক্ষণ ও তাৎক্ষণিক ফলাফল তৈরিতে সহায়তা করে।

তবে ইনার মঙ্গোলিয়া শুধু ‘ডেটা সেন্টারের জমির মালিক’ হয়ে থাকতে চায় না। অঞ্চলটি অর্থনৈতিক মূল্যশৃঙ্খলের আরও উঁচুতে উঠতে চাইছে। পরিবেশবান্ধব কম্পিউটিংয়ের পাশাপাশি টোকেন লেনদেন এবং এআইভিত্তিক বিভিন্ন প্রয়োগের কেন্দ্র হিসেবেও নিজেদের গড়ে তুলতে চেষ্টা করছে।

তৃণভূমিতে প্রযুক্তি নগরীর উত্থান

উলানচাব চাহার হাই-টেক উন্নয়ন অঞ্চলে শহরটির নতুন উত্থানের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘অ্যাপল বুলেভার্ড’, ‘আলিবাবা বুলেভার্ড’ ও ‘হুয়াওয়ে বুলেভার্ড’। এখানে কার্যক্রম শুরু করা তিনটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নামে সড়কগুলোর নামকরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বাইটড্যান্স, কুয়াইশৌ ও ভিনেট গ্রুপের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও এখানে কার্যক্রম শুরু করেছে।

চীনের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা যানবাহনে সড়কগুলো সরগরম। শ্রমিকদের কথাবার্তায় দেশের নানা অঞ্চলের আঞ্চলিক টান শোনা যায়। দুপুরের দিকে নির্মাণস্থলগুলোর আশপাশে খাবারের দোকান বসে; সেখানে বিক্রি হয় প্যাকেটজাত খাবার, ফল ও পানীয়।

উন্নয়ন অঞ্চলের প্রশাসনিক কমিটির উপপরিচালক লিউ জুনপিং বলেন, ‘শুধু এ হাই-টেক অঞ্চলেই বর্তমানে কম্পিউটিং সক্ষমতাসংক্রান্ত ২২টি প্রকল্প নির্মাণাধীন। এসব প্রকল্পে প্রায় ৩০ হাজার নির্মাণশ্রমিক কাজ করছেন।’

ভিনেট গ্রুপের উলানচাব কার্যালয়ের একজন নির্বাহী ঝৌ ইগুয়াং বলেন, ‘২০২২ সালে যখন আমি এখানে জায়গা দেখতে এসেছিলাম, তখন এলাকাটি ছিল প্রায় জনমানবহীন। মাঝেমধ্যে বালুঝড়ও বয়ে যেত।’

ভিনেট গ্রুপ উলানচাবে প্রায় ১ হাজার ১০০ মু বা প্রায় ৭৩ হেক্টর জমিতে একটি কম্পিউটিং ক্লাস্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে। এর প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে ২০২৪ সালের অক্টোবরে।

এ পরিবর্তন শুধু উলানচাবেই সীমাবদ্ধ নয়। ইনার মঙ্গোলিয়া সামগ্রিকভাবে কম্পিউটিং সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আঞ্চলিক রাজধানী হোহহটও এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছে।

২০২৬ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত চীনের শীর্ষ ৩০টি বেসরকারি কম্পিউটিং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ২০টি ইনার মঙ্গোলিয়ায় কার্যক্রম শুরু করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত বিনিয়োগের পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন ইউয়ান বা প্রায় ২ হাজার ৯৭৫ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। এ ছাড়া চীনের শীর্ষ ১০টি কম্পিউটিং সেবা প্রদানকারীর মধ্যে নয়টি প্রতিষ্ঠানও এখানে কার্যক্রম স্থাপন করেছে।

পরিবেশবান্ধব কম্পিউটিংয়ের পথে

বিপুল বিনিয়োগের সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি হচ্ছে। কম্পিউটিং স্থাপনা চালাতে প্রচুর বিদ্যুৎ প্রয়োজন। একই সঙ্গে সার্ভার র্যাক অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া ঠেকাতে বিপুল পরিমাণ পানিও লাগে। চীনের পরিবেশবান্ধব জ্বালানি রূপান্তরে অগ্রগামী ইনার মঙ্গোলিয়া এ কারণে পরিবেশবান্ধব কম্পিউটিংয়ের পথ অনুসরণ করছে।

শুধু উলানচাব শহরেই ২০২৫ সালে কম্পিউটিং শিল্পে ৪৩০ কোটি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়েছে। ২০২৬ সালে এ পরিমাণ বেড়ে ৯০০ কোটি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী দুই থেকে তিন বছরে আরও অনেক কম্পিউটিং কেন্দ্র চালু হলে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়বে।

বিশ্বজুড়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন শুধু ‘বিদ্যুৎ কেনা’ থেকে এগিয়ে ‘বিদ্যুতের জন্য প্রতিযোগিতা’ এবং এমনকি ‘নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের’ দিকেও ঝুঁকছে। অন্যদিকে, চীন তার বিশ্বমানের বিদ্যুৎ গ্রিড, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জ্বালানি সংরক্ষণশিল্পকে কাজে লাগিয়ে কম্পিউটিং সক্ষমতা ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সমন্বিত ব্যবস্থার বিকাশ ঘটাচ্ছে। এ ব্যবস্থাকে বলা হচ্ছে ‘কম্পিউটিং-বিদ্যুৎ সমন্বয়’।

উলানচাব চাহার হাই-টেক উন্নয়ন অঞ্চলে একটি শূন্য-কার্বন শিল্পপার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। এ পার্কে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা একটি সমন্বিত ইউনিট হিসেবে পরিচালিত হবে। সরকার সম্মিলিতভাবে বায়ু ও সৌরবিদ্যুতের অবকাঠামো গড়ে তুলবে এবং সেখান থেকে পার্কের পৃথক কম্পিউটিং কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।

উলানচাব পৌর উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশনের উপপরিচালক চেন ঝিগাং বলেন, শিল্পপার্কের আশপাশে প্রায় ১০ গিগাওয়াট বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এ সক্ষমতা কাজে লাগানো গেলে বছরে ৩০০০ কোটি কিলোওয়াট-ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যতে চাহিদা বৃদ্ধির বড় অংশ পূরণ করতে পারবে।

শূন্য-কার্বন শিল্পপার্কের নির্মাণ শেষ হলে এর মোট বিদ্যুতের ৮০ শতাংশের বেশি সরাসরি নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসবে। হোহহটের হোরিঙ্গার নিউ এরিয়ায় চালু থাকা কম্পিউটিং কেন্দ্রগুলোও বর্তমানে তাদের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ৮৫ শতাংশ সবুজ জ্বালানি থেকে মেটাচ্ছে।

পানি এ খাতের আরেকটি সম্ভাব্য সীমাবদ্ধতা। তবে পানিসাশ্রয়ী শীতলীকরণ প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার এ চাপ কমাতে সহায়তা করছে। এসব প্রযুক্তির মধ্যে রয়েছে পানি ছাড়াই কাজ করতে সক্ষম ফ্লুরিন-পাম্প এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবস্থা এবং বদ্ধ শীতলীকরণ টাওয়ার।

উদাহরণ হিসেবে ভিনেট গ্রুপের উলানচাব ক্লাউড কম্পিউটিং কেন্দ্রের কথা বলা যায়। এখানে বছরের প্রায় ১০ মাস বাইরে থেকে আসা ঠান্ডা বাতাস সরাসরি শীতলীকরণের কাজে ব্যবহার করা হয়। শুধু গ্রীষ্মের সবচেয়ে গরম দিনগুলোতে স্প্রে ব্যবস্থা চালু করা হয়।

ভিনেট গ্রুপের উলানচাব কার্যালয়ের কারিগরি পরিচালক লি ই বলেন, ‘কম্পিউটিং কেন্দ্রে শীতলীকরণের কাজে ব্যবহৃত সব পানিই পুনর্ব্যবহৃত পানি। এতে স্থানীয় প্রাকৃতিক পানিসম্পদ বা ভূগর্ভস্থ পানির ওপর কোনো প্রভাব পড়ে না।’

উলানচাবের পানি সম্পদ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক বিধিমালার আওতায় ডেটা সেন্টারগুলোকে শীতলীকরণের কাজে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। ২০২৫ সালে শহরটির বড় ডেটা কোম্পানিগুলো ১৫ লাখ ৪০ হাজার ঘনমিটার পানি ব্যবহার করেছে, যা শহরের মোট পানিব্যবহারের মাত্র ০.৩৩ শতাংশ। এদিকে, শহরটিতে বছরে প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ টন পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানি উৎপাদিত হয়।

‘সার্ভার কক্ষের মালিক’ থেকে টোকেন অর্থনীতির কেন্দ্রে

কম্পিউটিং সক্ষমতা গড়ে তোলা এক বিষয়, আর তা কাজে লাগিয়ে উচ্চমূল্যের এআই অর্থনীতি গড়ে তোলা আরেক বিষয়। উলানচাবের বিগ ডেটা প্রশাসনের উপপরিচালক লিউ হুয়ানসুও সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা যদি শুধু সস্তা বিদ্যুৎ ও কম জমির দামের ওপর নির্ভর করি, তাহলে শেষ পর্যন্ত ‘সার্ভার কক্ষের মালিক’ হয়েই থেকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।’

এ উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কম্পিউটিং অর্থনীতির উচ্চমূল্যের অংশ-- চিপ, অ্যালগরিদম ও এআই মডেল-- এখনো অনেকাংশে ইনার মঙ্গোলিয়ার নাগালের বাইরে।

উলানচাবের অর্থনৈতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শহরটির কম্পিউটিং শিল্প ৬৮৩ কোটি ৫০ লাখ ইউয়ান আয় করেছে এবং ৩৬ কোটি ৮০ লাখ ইউয়ান কর রাজস্ব দিয়েছে। প্রতি ১০০ মু বা প্রায় ৬.৭ হেক্টর জমিতে একটি কম্পিউটিং কেন্দ্র গড়ে উঠলে আনুমানিক ১০০টি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।

তবে অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল প্রাথমিক বিনিয়োগ এবং গড়ে তোলা বিশাল কম্পিউটিং সক্ষমতার তুলনায় এ আয় ও কর্মসংস্থানের সুফল এখনো সীমিত।

এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইনার মঙ্গোলিয়া অর্থনৈতিক মূল্যশৃঙ্খলের আরও উঁচুতে উঠতে চাইছে। ‘সার্ভার কক্ষের মালিক’ থেকে ‘টোকেনের রাজধানী’ হয়ে ওঠার পাশাপাশি নিজস্ব এআই প্রয়োগের একটি কার্যকর পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে অঞ্চলটি।

গত ৩০ মে ইনার মঙ্গোলিয়ার টোকেন ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম কার্যক্রম শুরু করে। চীনের প্রথম পরিবেশবান্ধব কম্পিউটিংভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ এআই প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত এ উদ্যোগটি হোহহটের হোরিঙ্গার নিউ এরিয়ায় চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে উত্তর চীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ টোকেন লেনদেনকেন্দ্র হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়েছে হোহহট।

হোরিঙ্গার নিউ এরিয়ার প্রশাসনিক কমিটির উপপরিচালক গুও জুইং বলেন, লক্ষ্য হচ্ছে কাঁচা কম্পিউটিং সক্ষমতাকে এমন একটি বাণিজ্যযোগ্য পণ্যে রূপান্তর করা, যা পরিমাপ করা যাবে, এর মূল্য নির্ধারণ করা যাবে এবং শেষ পর্যন্ত উচ্চমূল্যের এআই সেবায় রূপ দেওয়া যাবে।

তিনি এ পরিবর্তনকে ‘বিদ্যুৎ বিক্রি’ থেকে ‘টোকেন বিক্রির’ দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেন। কারণ, এআইয়ের প্রতিটি কথোপকথন বা মডেলের মাধ্যমে তথ্য বিশ্লেষণ করে ফলাফল তৈরির প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন ও ব্যবহৃত টোকেনের সংখ্যা দিয়ে কম্পিউটিংয়ের ব্যবহার পরিমাপ করা সম্ভব।

উলানচাবেরও এ বিষয়ে নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে শহরটি ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত তিন বছরের একটি কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করে। এতে ‘টোকেনের রাজধানী’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে টোকেন উৎপাদন, লেনদেন ও প্রয়োগকে কেন্দ্র করে নতুন অর্থনৈতিক শৃঙ্খল তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে বিভিন্ন খাতে

এআই প্রয়োগের ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হচ্ছে। হোহহট দুগ্ধশিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জীবপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ১০০টি এআই প্রয়োগের ক্ষেত্র তৈরি করেছে। স্মার্ট পশুচারণভূমিতে গবাদিপশুর মুখমণ্ডল শনাক্ত করার একটি ডেটাবেজ ইতোমধ্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

অল্প সময়ে কম্পিউটিং অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ইনার মঙ্গোলিয়া। তবে এখন এ অবকাঠামোকে উচ্চমূল্যের প্রযুক্তিপণ্য, সেবা ও কর্মসংস্থানে রূপান্তর করাই অঞ্চলটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে পারলে চীনের অর্থনৈতিক মানচিত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যেতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের পর ইসরাইলের প্রতি মার্কিন বৈরী মনোভাবের শঙ্কা : নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৮ পি.এম


ট্রাম্পের পর ইসরাইলের প্রতি মার্কিন বৈরী মনোভাবের শঙ্কা : নেতানিয়াহু

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ইসরাইলের ভবিষ্যৎ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী মনোভাবের সম্মুখীন হতে পারে। তিনি মনে করেন, এর ফলে ইসরাইলের সামরিক সহায়তা এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক হুমকির মুখে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ভারতসহ লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে নতুন জোট গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন নেতানিয়াহু।

নেতানিয়াহু এসব মন্তব্য করেন ইসরাইলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের কয়েক দিন আগে এক অনুষ্ঠানে। তার বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচনের প্রতি সমর্থন জানান।

নেতানিয়াহু বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় এমন কোনো প্রেসিডেন্ট আসতে পারেন, যিনি ইসরাইলের প্রতি অত্যন্ত বৈরী মনোভাব পোষণ করবেন। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক কিভাবে পরিচালনা করা হবে এবং কী ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন, সে বিষয়ে ভাবনা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির অবশিষ্ট দুই বছর এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে হবে। পাশাপাশি নিজেদের আন্তর্জাতিক মিত্রের পরিসরও বৃদ্ধি করতে হবে।

নেতানিয়াহুর ভাষ্যমতে, এ অঞ্চলের বাইরেও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলার কাজ চলছে। ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি। এছাড়া, লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক পরিবর্তনও ইসরাইলের জন্য নতুন মিত্র তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। ব্রাজিলের রাজনীতিতে শিগগির বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক জোটের পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি এমন সক্ষমতা তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে অন্যান্য দেশগুলোর কাছে ইসরাইল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বিশ্বজুড়ে ইসরাইলের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন এবং দেশটির কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহু আগেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এনেছেন। গত মে মাসে তিনি ভারতকে একটি ‘বৃহৎ শক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশটির সঙ্গে ইসরাইলের ‘অনন্য সম্পর্ক’ রয়েছে বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে ভারতে ইসরাইলের প্রতি ব্যাপক সমর্থন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইসরাইলের কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরাইলবিরোধী মনোভাব বৃদ্ধির পেছনে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ভূমিকা রয়েছে। বারাক ওবামা ও জো বাইডেনের মতো ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে তার সম্পর্ক প্রায়ই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বিশ্লেষকেরা জানান, নেতানিয়াহু এসব মতবিরোধকে নিজের সমর্থকদের কাছে ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধেও দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট, এনডিটিভি

এমএমআর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যে কারণে বদলে যাচ্ছে ওয়ানডে ক্রিকেটের চিত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৭ পি.এম


যে কারণে বদলে যাচ্ছে ওয়ানডে ক্রিকেটের চিত্র

ইংল্যান্ডের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার কাছে পরাজিত হয়েছে ইংল্যান্ড। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।

তিনি মন্তব্য করেন, “এখন খেলাটা কিছুটা ভিন্ন। বল বড় ভূমিকা রাখছে।”

ম্যাককালাম যে পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেছেন, সেটি হলো রিভার্স সুইং- পুরোনো বলের বাতাসে প্রচলিত সুইংয়ের বিপরীত দিকে বাঁক নেওয়ার কৌশল।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটের খেলার শর্তে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অধিনায়ক ৩৪ ওভার শেষে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, দুটি সাদা বলের মধ্যে কোনটি দিয়ে ইনিংসের বাকি অংশ শেষ করা হবে।

এ পরিবর্তনের ফলে নির্বাচিত বলটি পুরোনো ও রুক্ষ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, যা রিভার্স সুইংয়ের পুনর্জাগরণ ঘটাচ্ছে। এই পরিবর্তন ইতোমধ্যে ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। পরবর্তী বিশ্বকাপের আর এক বছরেরও কম সময় বাকি থাকায় ভবিষ্যৎ ক্রিকেটের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

কী পরিবর্তন হয়েছে?

গত জুলাইয়ে লর্ডসে ভারতের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে স্যাম কারান শেষের দিকে চার উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডকে জয়ী করেছিলেন। ইনিংসের শুরুতে যতটা সুইং পেয়েছিলেন, শেষ স্পেলে পুরোনো সাদা বলে তার দ্বিগুণেরও বেশি সুইং পেয়েছেন তিনি।

এক বছর আগে কার্ডিফে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডেতে শেষের দিকে সাকিব মাহমুদ ইনিংসের শুরুর তুলনায় অর্ধেকেরও কম সুইং পেয়েছিলেন।

এগুলো ভিন্ন দিন, ভিন্ন খেলোয়াড় ও ভিন্ন পরিস্থিতির দুটি উদাহরণ। তবে বিশ্বজুড়ে একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

শেষ ১৬ ওভারে একটি বল ব্যবহারের নিয়মটি বোলারদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। পরিসংখ্যান বলছে, পরিবর্তনটি প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে।

নতুন নিয়ম চালুর পর শেষ ১০ ওভারে পেসারদের করা ফুল লেংথের বলের অর্ধেকের ক্ষেত্রেই এক ডিগ্রির বেশি সুইং পাওয়া যাচ্ছে। নিয়ম পরিবর্তনের আগের ১৮ মাসে এই হার ছিল ৩৫ শতাংশ।

এ পরিবর্তনের প্রভাব রান দেওয়ার হারেও পড়েছে। নিয়ম পরিবর্তনের আগে শেষ পাঁচ ওভারে পেসারদের ইকোনমি রেট ছিল ওভারপ্রতি ৮.৪০ রান। বর্তমানে তা কমে হয়েছে ৭.৯৫। হ্রাসের পরিমাণ খুব বেশি না হলেও তা গুরুত্বপূর্ণ।

পেসারদের বোলিং গড়ও প্রতি উইকেটে ১৯.২ রান থেকে কমে ১৮.৩ হয়েছে।

মূল কথা হচ্ছে ইনিংসের শেষ দিকে আগের মতো সহজে বড় শট খেলা যাচ্ছে না।

সবচেয়ে বেশী লাভবান ইংল্যান্ড

রিভার্স সুইং কার্যকর হলে পেসাররা সাধারণত বল আরও ফুল লেংথে করেন এবং ইনসুইংয়ের ব্যবহার বাড়ান। বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

গত মাসে হেডিংলির ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই কৌশল বিশেষভাবে কার্যকরভাবে কাজে লাগায় শ্রীলঙ্কা। তাদের বোলারদের করা ৬৯ শতাংশ ডেলিভারি ছিল স্টাম্প থেকে ছয় মিটার দূরত্বের মধ্যে বা তার চেয়ে ফুল লেংথে। এর ফলে ১৬ রানের জয় নিশ্চিত করতে পেরেছিল তারা।

তবে পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিয়ম পরিবর্তন থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে ইংল্যান্ড। এ বছর ওয়ানডে ক্রিকেটে দলটি উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। তাই নিয়ম পরিবর্তন না হলেও তাদের পরিসংখ্যান ভালো হতে পারত- এ বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

২০২৫ সালের জুলাইয়ের পর ইনিংসের শেষ দিকে ইংল্যান্ডের বোলিং গড় ৩৬.৭৬ থেকে কমে ২০.৯১ হয়েছে। একই সময়ে ইকোনমি রেট ৯.৭৮ থেকে নেমে এসেছে ৭.৫৩-এ।

অন্যদিকে, তাদের ব্যাটিং রান রেট কমেনি; বরং ওভারপ্রতি ৮.০৭ থেকে বেড়ে হয়েছে ৯.১৬।

লিডসে হারের পর ম্যাককালাম খেলোয়াড়দের পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তা করতে বলেন। নতুন নিয়ম তাদের নিজস্ব পরিকল্পনায় কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা বিবেচনা করার পরামর্শ দেন তিনি। এতে কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিতও পাওয়া যায়।

এর তিন দিন পর দ্য ওভালে শ্রীলঙ্কার পছন্দের বল নির্বাচনের আগের ১০ ওভারে ১০৪ রানে ২ উইকেট থেকে ২১৪ রানে ২ উইকেটে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড।

বিশ্বের অন্য দলগুলোর অবস্থা কী?

নিয়ম পরিবর্তনের পর শেষ ওভারগুলোতে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের রান তোলার গতি কমেছে।

এই সময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ দিকের রান রেট ওভারপ্রতি ২.৩৯ রান কমেছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বোলারদের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার আলজারি জোসেফ ও দক্ষিণ আফ্রিকার লুঙ্গি এনগিডি শেষ দিকে সুইং পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় উন্নতি করেছেন।

জোসেফের গড় সুইং ৮৪ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে তার বোলিং গড় ২৪.১ থেকে কমে ১৭.৪ হয়েছে।

একইভাবে, এনগিডির সুইং ৬৩.৩ শতাংশ বাড়ার পর তার বোলিং গড় কমে ১৩ হয়েছে। তার ইকোনমি রেটও ৯.৩৪ থেকে নেমে এসেছে ৬-এ।

সুইং পাওয়ার ক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে নিউজিল্যান্ডের ন্যাথান স্মিথ, পাকিস্তানের নাসিম শাহ এবং বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমানেরও। তবে তাঁদের ক্ষেত্রে এর ফলাফল এক রকম হয়নি।

এই ত্রিদেশীয় সিরিজে পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি শেষ ওভারগুলোতে সুইং আদায়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলার। নিয়ম পরিবর্তনের পর তাঁর গড় সুইং ১.৩ ডিগ্রি। তবে পরিবর্তনের আগেও তিনি ভালো সুইং পেতেন, তখন তাঁর গড় ছিল ১.২ ডিগ্রি।

ইংল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে শেষ দিকে সবচেয়ে বেশি সুইং পাচ্ছেন জোফরা আর্চার। তাঁর গড় সুইং ০.৯৭ ডিগ্রি, যা আগের তুলনায় ৩৭ শতাংশ বেশি।

বিশ্বকাপে কী প্রভাব পড়তে পারে

বিশ্বের সব জায়গায় এখনো ওয়ানডে ক্রিকেটে রিভার্স সুইংয়ের প্রভাব সমানভাবে পড়েনি।

এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে ইংল্যান্ডে। সেখানে ইনিংসের শেষ দিকে বলের সুইং ৬৩ শতাংশ বেড়েছে।

বাংলাদেশে এই বৃদ্ধি ৩৩ শতাংশ। আগামী দুই সপ্তাহে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচগুলোতেও আগের তুলনায় শেষ দিকে বলের মুভমেন্ট উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে।

তবে ইংল্যান্ডের পরবর্তী সফর অস্ট্রেলিয়ায় এই বৃদ্ধি তুলনামূলক কম। আগামী বছরের বিশ্বকাপের বেশিরভাগ ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, সেখানেও সুইং বৃদ্ধির প্রভাব কম।

নিয়ম পরিবর্তনের পর দক্ষিণ আফ্রিকায় মাত্র তিনটি ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাই আগামী শরতে সেখানে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা এখনই অনুমান করা কঠিন।

নতুন নিয়মের প্রভাব সেখানে খুব বেশি না পড়লেও ইনিংসের শেষ দিকে বলের গতিপথের দিক থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ানডে ম্যাচগুলো আগে থেকেই বিশ্বের তুলনামূলক এগিয়ে থাকা ম্যাচগুলোর মধ্যে রয়েছে।

একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে দলগুলো ওভারপ্রতি ৭.৩৫ রান করে তুলেছে, যা তুলনামূলকভাবে বেশি। সেখানে রিভার্স সুইং হঠাৎ বেড়ে গেলে দলগুলোকে আগের তুলনায় ইনিংসের শুরুতেই বেশি রান তুলতে হতে পারে।

সূত্র: বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%