প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ইসরাইলের ভবিষ্যৎ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী মনোভাবের সম্মুখীন হতে পারে। তিনি মনে করেন, এর ফলে ইসরাইলের সামরিক সহায়তা এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক হুমকির মুখে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ভারতসহ লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে নতুন জোট গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন নেতানিয়াহু।
নেতানিয়াহু এসব মন্তব্য করেন ইসরাইলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের কয়েক দিন আগে এক অনুষ্ঠানে। তার বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচনের প্রতি সমর্থন জানান।
নেতানিয়াহু বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় এমন কোনো প্রেসিডেন্ট আসতে পারেন, যিনি ইসরাইলের প্রতি অত্যন্ত বৈরী মনোভাব পোষণ করবেন। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক কিভাবে পরিচালনা করা হবে এবং কী ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন, সে বিষয়ে ভাবনা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির অবশিষ্ট দুই বছর এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে হবে। পাশাপাশি নিজেদের আন্তর্জাতিক মিত্রের পরিসরও বৃদ্ধি করতে হবে।
নেতানিয়াহুর ভাষ্যমতে, এ অঞ্চলের বাইরেও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলার কাজ চলছে। ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি। এছাড়া, লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক পরিবর্তনও ইসরাইলের জন্য নতুন মিত্র তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। ব্রাজিলের রাজনীতিতে শিগগির বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক জোটের পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি এমন সক্ষমতা তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে অন্যান্য দেশগুলোর কাছে ইসরাইল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বিশ্বজুড়ে ইসরাইলের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন এবং দেশটির কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহু আগেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এনেছেন। গত মে মাসে তিনি ভারতকে একটি ‘বৃহৎ শক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশটির সঙ্গে ইসরাইলের ‘অনন্য সম্পর্ক’ রয়েছে বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে ভারতে ইসরাইলের প্রতি ব্যাপক সমর্থন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইসরাইলের কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরাইলবিরোধী মনোভাব বৃদ্ধির পেছনে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ভূমিকা রয়েছে। বারাক ওবামা ও জো বাইডেনের মতো ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে তার সম্পর্ক প্রায়ই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বিশ্লেষকেরা জানান, নেতানিয়াহু এসব মতবিরোধকে নিজের সমর্থকদের কাছে ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধেও দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট, এনডিটিভি
এমএমআর
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন