নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
০৮:৫১ পি.এম
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে পূর্বশত্রুতার জের ধরে বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে ভাঙচুর, স্বামী-স্ত্রীকে মারধর, স্বর্ণের চেইন ছিনতাই ও এক নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নাগেশ্বরী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মো. বেলাল হোসেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নেওয়াশী ইউনিয়নের পূর্ব সুখাতী গিয়ারপাড় গ্রামের বাসিন্দা বেলাল হোসেনের সঙ্গে প্রতিবেশীদের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশের মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসা হলেও অভিযুক্তরা ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৯ অক্টোবর ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে মো. হাসান, মো. নূর ওরফে মোকাদ্দেস, মো. মোতালেবসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বেলাল হোসেনের বসতবাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা বাড়ির টিনের বেড়া ভাঙচুর করেন এবং বেলাল ও তাঁর স্ত্রী লাবনী বেগমকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রতিবাদ করায় লাবনী বেগমকে টেনেহিঁচড়ে পাশের একটি বাড়ির আঙিনায় নিয়ে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। স্ত্রীকে রক্ষা করতে গেলে বেলাল হোসেনকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে লাবনী বেগমের মাথার বাম পাশে গুরুতর জখম হয়। এ ছাড়া তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে।
এ সময় লাবনী বেগমের গলা থেকে ৮ আনা ওজনের, আনুমানিক ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
পরে স্থানীয় সিরাজুল ইসলাম, দারোগ আলী ও ফরহাদ কমান্ডারসহ কয়েকজন এগিয়ে এসে আহত দম্পতিকে উদ্ধার করেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় অভিযুক্তরা তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান।
পরে স্বজন ও স্থানীয়দের সহায়তায় আহত দুজনকে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, লাবনী বেগম বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যও জানা যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের নান্দাইলে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর বিরুদ্ধে বসতভিটার জমি জোরপূর্বক দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। নিজেদের জমি ও বসতবাড়ি দখলমুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের বসতভিটা দখল করে রাস্তা নির্মাণ করায় পরিবার নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। এ ঘটনায় আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুষ্ঠু বিচার ও হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ১১ নম্বর খারুয়া ইউনিয়নের হালিজুড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. সন মিয়া। তার অভিযোগ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর বিরুদ্ধে তাদের বসতভিটার জমি জোরপূর্বক দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। শুধু জমিই নয়, তাদের বসতবাড়িও দখল করা হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা জমি ও বসতবাড়ি নিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে। নিজেদের অধিকার ফিরে পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।
এদিকে ভুক্তভোগী মো. সন মিয়ার দেওয়া লিখিত আবেদনপত্রে দেখা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধে তিনি আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন। আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ময়মনসিংহের সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। পরবর্তী সময়ে আদালতের রায় ও ডিক্রির পর কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন তিনি।
আবেদনপত্রে আরও উল্লেখ রয়েছে, আদালতের আদেশে বিবাদীদের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি আদালতের আদেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে প্রশাসনের কাছে।
এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের জমি ও বসতভিটা ফিরে পাওয়ার দাবিতে মানববন্ধনে অংশ নেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী। মানববন্ধন থেকে তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন এবং দখল হওয়া জমি ও বসতবাড়ি ফিরে পাওয়ার দাবি জানান।
একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, তারা কোনো বিশেষ সুবিধা চান না, চান নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি ও বসতভিটায় শান্তিতে বসবাসের অধিকার। এখন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এবং অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের রহনপুর বিওপির একটি বিশেষ টহল দল অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন ৩২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে।
গত ৩০ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখ আনুমানিক রাত ২০:৪০ ঘটিকায় ১৬/সি কোম্পানি রহনপুর বিওপির জেসিও-১০৬৫৪ নায়েব সুবেদার মো. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। নিজস্ব এসআইপি (SIP) সদস্য ও সিভিল সোর্সের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত মেইন পিলার ২০৯ থেকে আনুমানিক ১১ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এবং রহনপুর কোম্পানি সদর থেকে প্রায় ৫০০ গজ দক্ষিণ দিকে রহনপুর রেলওয়ে স্টেশনের দক্ষিণ পাশে রেললাইনের ওপর এ অভিযান চালানো হয় (জিআর নম্বর- ৩০৫৪৫৮, ম্যাপসিট নম্বর- ৭৮ডি/৫)।
অভিযানে কোনো আসামি আটক না হলেও তল্লাশি চালিয়ে ৩২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। যার প্রতি পিসের আনুমানিক মূল্য ৩০০ টাকা ধরে মোট সিজার মূল্য ৯,৬০০ (নয় হাজার ছয় শত) টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে বিওপি সূত্রে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কনস্টেবলের স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক জড়ানোর অভিযোগে সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মিজানুর রহমানকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন কনস্টেবলের স্ত্রীর সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে কাজী মিজানুর রহমানের পরিচয় ঘটে। এরপর ওই নারীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলার আদালতের পর্যবেক্ষণেও তাদের স্বেচ্ছায় শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি উঠে এসেছে, যা বিভাগীয় নথির সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে।
একজন পুলিশ কর্মকর্তার এই ধরনের কর্মকাণ্ড বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে বিভাগীয় তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ এবং রাষ্ট্রপতির ২৫ অক্টোবরের অনুমোদনের পর এই আদেশ জারি করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাগুরায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর দুই শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সদর উপজেলার কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নের আমুড়িয়া ও নতুনগ্রাম এলাকায় পৃথক সময়ে এ ঘটনা ঘটে।
মৃতদের মধ্যে রয়েছেন আমুড়িয়া গ্রামের মাঠপাড়া এলাকার শফিকুল বিশ্বাসের ছেলে বাপ্পি হোসাইন (১৯) এবং নতুনগ্রামের মৃত অনিল শিকদারের মেয়ে অনন্যা শিকদার (২০)।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, বাপ্পি হোসাইন মাগুরার শালিখা উপজেলার বুনাগাঁতি ডিগ্রি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১২টার পর তিনি নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেন।
অন্যদিকে, অনন্যা শিকদার কুল্লিয়া-কুচিয়ামোড়া সৈয়দ আতর আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনিও এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন। একই দিনে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে নিজ ঘরে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করলেও স্থানীয় এক পল্লিচিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ জানান, পৃথক দুটি অপমৃত্যুর ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ