ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বানারীপাড়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত


বানারীপাড়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত

বানারীপাড়ায় উপজেলা ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্দ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামীলীগের দেশকে পরিকল্পিত ভাবে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষ্যে বানারীপাড়া ডাকবাংলো মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি পৌরশহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফেরিঘাট গিয়ে শেষ হয়।

বিক্ষোভ মিছিলে প্রধান অতিথি ছিলেন বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জনাব মো: রিয়াজ আহমেদ মৃধা। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বানারীপাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মো: সাইদুল ইসলাম, সদস্য সচিব মো: তোফায়েল আহমেদ,যুগ্ন আহবায়ক রাজু লস্কর, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন আহবায়ক আব্দল্লাহ আল নোমান রাজু, রফিকুল ইসলাম, মাহমুদ হোসেন,স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ইলিয়াস কাঞ্চন,মো::সাঈদ, সৈকত সরদার,জিয়া রাঢ়ী, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।বিক্ষোভ মিছিল শেষে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মো: সাইদুল ইসলামের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষ হয়।

আরও পড়ুন: ডাকাতিয়ায় সেতু না থাকায় স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদকসেবনে বাধা দেওয়ায় ইউপি মেম্বার লাঞ্ছিত, চাচাতো ভাইকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, আহত ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নড়াইল প্রতিনিধি

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩৭ এম


মাদকসেবনে বাধা দেওয়ায় ইউপি মেম্বার লাঞ্ছিত, চাচাতো ভাইকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, আহত ১

মাদকসেবনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পেড়লী ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামে কৃষক মানসুর মোল্যাকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মানসুর কদমতলা গ্রামের হাবি মোল্যার ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক কদমতলা গ্রামের লিপটন মোল্যার ছেলে হাসিব মোল্যা (২০) পলাতক রয়েছে।  

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানান, মাদকসেবনে বাধা দেওয়ায় গত শুক্রবার নড়াইলের পেড়লী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার (সদস্য) কাসেদ মোল্যার সঙ্গে তার বংশীয় হাসিব মোল্যার বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত হাসিব ইউপি মেম্বার কাসেদ মোল্যাকে কিল-ঘুষি মারেন।  

এরপর শনিবার রাত ১০টার দিকে হাসিব কদততলা ত্রি-মোহনার মোড়ের দোকানে যায়। এ সময় ভুক্তভোগী মেম্বার কাসেদের চাচাতো ভাই মানসুর ও নূর ইসলাম অভিযুক্ত হাসিবের কাছে জানতে চান-কেন কাসেদের গায়ে হাত তোলা হয়েছে। এ সময় হঠাৎ করেই ধারালো অস্ত্র বের করে হাসিব ভুক্তভোগী মানসুর ও নূর ইসলামকে কোপাতে শুরু করে। এর মধ্যে গুরুতর আহত মানসুরকে খুলনায় নেওয়ার পথে জামরিলডাঙ্গা ফুটবল মাঠের কাছে গেলে মারা যান তিনি। আহত নূর ইসলামকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউপি মেম্বার কাসেদ মোল্যা বলেন, হাসিব দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত।  তাকে মাদকসেবন করতে নিষেধ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে লাঞ্ছিত করে।  এরপর ধারালো ছুরিকাঘাতে মানসুর ও নূর ইসলামকে কুপিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটিয়েছে।  নিহত মানসুরের মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। এ ঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে। পূর্ববিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছি। #

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নড়াইলে স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা ইসলাম হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নড়াইল প্রতিনিধি

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪৯ এম


নড়াইলে স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা ইসলাম হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল


নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার শালনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকদলের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ইসলাম শেখকে (৫২) পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন হয়েছে। এছাড়া বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর আয়োজনে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রঘুনাথপুর-তালতলা বাজারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে এলাকার শত শত নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় বক্তব্য দেন-শালনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক কাজী উজ্জ্বল, রঘুনাথপুর আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ এটিএম বায়েজিদ বরকতী, নিহত স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা ইসলাম শেখের স্ত্রী জাহানারা বেগম, লোহাগড়া উপজেলা যুবদলের সদস্য শহিদুল ইসলাম, শালনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি কাজী সুরুজসহ অনেকে।

বক্তারা বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে লাহুড়িয়া বাজার থেকে বাড়িতে ফেরার পথে প্রতিপক্ষ ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি টিপু সুলতান এবং শালনগর ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে তার লোকজন ওৎপেতে থেকে রঘুনাথপুর কবরস্থান এলাকায় ইসলাম শেখকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে।

ঘটনার দুইদিন পর গত ১২ সেপ্টেম্বর নিহতের স্ত্রী জাহানারা বেগম বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। হত্যাকান্ডের ১৭দিন পরও টিপু সুলতান ও কামরুজ্জামানসহ মামলার মূল আসামিরা গ্রেফতার হয়নি। বরং তারা পালিয়ে থেকে পাল্টা মামলার হুমকি দিচ্ছে। বক্তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার দাবি করেন।

এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লোহাগড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, ইসলাম শেখ হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া ১৫ জন আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। #

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে ঝটিকা তৎপরতা: গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি নাকি সমন্বয়ের সংকট?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল:

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫৩ এম


বরিশালে ঝটিকা তৎপরতা: গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি নাকি সমন্বয়ের সংকট?

বরিশাল নগরীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও আকস্মিক রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে গোয়েন্দা নজরদারি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর পারস্পরিক সমন্বয় নিয়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাচ্ছে—এমন অভিযোগ করেছেন মাঠপর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা। তাদের প্রশ্ন, কর্মসূচি সংঘটিত হওয়ার আগেই যদি সংশ্লিষ্টদের গতিবিধি শনাক্ত করা না যায়, তাহলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হচ্ছে?

তবে গোয়েন্দা তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বিভিন্ন উৎস থেকে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে নগরীতে চেকপোস্ট, টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তাদের দাবি, ঝটিকা মিছিলের ধরনই এমন যে অল্পসংখ্যক ব্যক্তি খুব অল্প সময়ে জড়ো হয়ে কর্মসূচি শেষ করে চলে যাওয়ায় প্রতিটি ঘটনার তথ্য আগেভাগে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এই দুই বক্তব্যের মাঝেই সামনে এসেছে একটি মৌলিক প্রশ্ন-বরিশালে নিষিদ্ধ দলের আকস্মিক তৎপরতা ঠেকাতে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও মাঠপর্যায়ে তা পৌঁছানোর ব্যবস্থাটি আসলে কতটা কার্যকর?


সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বরিশালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতা দৃশ্যমান হতে শুরু করে। শুরুতে ভোরের দিকে ছোট পরিসরে ঝটিকা মিছিল হলেও পরে বিভিন্ন দিবস ও রাজনৈতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিছিল-বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।

এর মধ্যে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বরিশাল নগরীর প্রধান সড়কে মিছিলের ঘটনাও ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

প্রথমদিকে এসব কর্মসূচি মূলত মিছিল ও স্লোগানকেন্দ্রিক থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিস্ফোরণের ঘটনাও সামনে এসেছে। ফলে বিষয়টি এখন শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে।


গত ৬ আগস্ট আবু রায়হান মোহাম্মদ সালেহ বিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ১২ আগস্ট বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে ককটেলসদৃশ একটি বস্তুর বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাটি আদালতের প্রধান ফটকের কাছাকাছি এলাকায় ঘটে এবং এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত শুরু করে।

এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর নগরীর কাশিপুর এলাকায় বিভাগীয় কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়সংলগ্ন ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ঝটিকা মিছিলের পর ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মিছিলটি ওই এলাকায় এসে স্লোগান দেয় এবং এরপর বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত সরে যান। পুলিশ ঘটনাস্থলের আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যালয়ের কাছাকাছি এলাকায় এমন ঘটনা ঘটায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—এ ধরনের একটি মিছিল কীভাবে ওই এলাকায় পৌঁছাল এবং বিস্ফোরণের আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি কোনো সতর্কতামূলক তথ্য পেয়েছিল?


পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বিএমপির কয়েকজন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত তথ্য পাওয়া গেলেও কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের ঝটিকা কর্মসূচি সম্পর্কে অনেক সময় নির্ভরযোগ্য আগাম তথ্য পাওয়া যায় না।

তাদের ভাষ্য, কর্মসূচি সম্পর্কে আগে থেকে তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, প্রবেশপথে নজরদারি বৃদ্ধি, চেকপোস্ট বসানো কিংবা সম্ভাব্য জমায়েতের আগেই তা প্রতিহত করার সুযোগ থাকত।

এক কর্মকর্তা বলেন, কোনো ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, আলামত সংগ্রহ, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে হয়। এতে মাঠপর্যায়ের পুলিশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

তার মতে, ঘটনার পর অভিযান চালানোর পাশাপাশি আগাম তথ্য সংগ্রহ ও দ্রুত মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা শক্তিশালী হলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আরও বাড়ত।


গোয়েন্দা তথ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের আকস্মিক তৎপরতার ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সব সময় যথাসময়ে পৌঁছায় কি না, সেটি পর্যালোচনার বিষয়।

অর্থাৎ প্রশ্নটি শুধু তথ্য আছে কি নেই—সেখানেই সীমাবদ্ধ নয়। কোনো তথ্য পাওয়া গেলে সেটি কত দ্রুত যাচাই করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট ইউনিটে পাঠানো হচ্ছে কি না এবং মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার মতো সময় পাওয়া যাচ্ছে কি না-এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।


তবে গোয়েন্দা তথ্য একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না-এমন অভিযোগ মানতে নারাজ বিএমপি কমিশনার আবু রায়হান মোহাম্মদ সালেহ।

তার বক্তব্য, গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যায় বলেই নগরীতে নিয়মিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। চেকপোস্ট বৃদ্ধি, টহল জোরদার এবং নজরদারি বাড়ানোর কারণে নগরীর ভেতরে বড় ধরনের তৎপরতার সুযোগ কমেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে বাইরের উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে লোক এনে স্বল্প সময়ের জন্য ঝটিকা কর্মসূচি চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অংশগ্রহণকারী কম হওয়ায় এবং কর্মসূচি দ্রুত শেষ হওয়ায় দু-একটি ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব নাও হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সব ঘটনা যে গোয়েন্দা নজরদারির বাইরে থাকে তা নয়; বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তথ্যের ভিত্তিতে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


বিএমপি কমিশনারের দাবি, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে এখন পর্যন্ত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন তৎপরতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৭০ থেকে ৭২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে গ্রেপ্তারের এই সংখ্যা ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে পৃথক মামলার নথি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিচয় এবং অভিযোগের ধরন বিশ্লেষণ করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পরিধি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার চিত্র পাওয়া সম্ভব হবে।


বরিশালের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তাই একটি বৃহত্তর প্রশ্ন সামনে এনেছে-আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতিক্রিয়াশীল ব্যবস্থা কতটা কার্যকর এবং প্রতিরোধমূলক গোয়েন্দা ব্যবস্থা কতটা সক্রিয়?

একটি ঝটিকা মিছিল কয়েক মিনিটের মধ্যে সংগঠিত হয়ে শেষ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু সেই মিছিলের প্রস্তুতি, অংশগ্রহণকারীদের যোগাযোগ, সম্ভাব্য জমায়েতের স্থান এবং চলাচলের পথ সম্পর্কে আগাম তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব কি না-সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

একই সঙ্গে কোনো সংস্থার কাছে তথ্য থাকলে তা অন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে কত দ্রুত পৌঁছায়, তথ্য যাচাইয়ের পর মাঠপর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায় কি না এবং ঘটনার পর দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোন স্তরের দায়িত্ব বিবেচনায় নেওয়া হয়-এসব প্রশ্নেরও উত্তর প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে তাই শুধু ‘গোয়েন্দা ব্যর্থতা’ বা ‘পুলিশের সাফল্য’-এই দুই মেরুতে বিষয়টিকে দেখার সুযোগ নেই। প্রকৃত চিত্র জানতে প্রয়োজন ঘটনার আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কী তথ্য ছিল, কখন ছিল, কোন ইউনিটে ছিল এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল-এসব বিষয় যাচাই করা।

২৩ সেপ্টেম্বরের বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে। সেই ফুটেজ, ঘটনাস্থলের আলামত, মিছিলকারীদের গতিপথ এবং পরবর্তী গ্রেপ্তার ও মামলার নথি বিশ্লেষণ করলে আগাম নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে আরও নির্ভরযোগ্য ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

তালাশ বিডির অবস্থান: এই প্রতিবেদনে গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি ও সমন্বয়ের অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্যের পাশাপাশি বিএমপি কমিশনারের বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে যে প্রশ্নগুলো সামনে এসেছে, সেগুলো অনুসন্ধানের বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগকে প্রমাণিত দাবি হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট ঘটনার নথি, সিসিটিভি ফুটেজ, মামলা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‎বিশ্বম্ভরপুরের চালবন পয়েন্টে ভ্যানগাড়িতে ডাকাতির চেষ্টা: গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎শাহানুর আলম,​বিশ্বম্ভরপুর প্রতিনিধি:

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫৭ এম


‎বিশ্বম্ভরপুরের চালবন পয়েন্টে ভ্যানগাড়িতে ডাকাতির চেষ্টা: গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের চালবন পয়েন্টে ভ্যানগাড়িতে ডাকাতির চেষ্টার অভিযোগে লেবু মিয়া (৩২) নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে ক্ষুব্ধ জনতা। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। আটকের পর উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে সে গুরুতর আহত হয়।
‎স্থানীয় জনতার দাবি, লেবু মিয়া এক ভ্যানচালকের গলায় ছুরি ধরে টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনতাইয়ের চেষ্টা করছিল। এ সময় তার সঙ্গে আরও ৩-৪ জন সহযোগী ছিল বলে সে জনতার কাছে স্বীকার করেছে। তবে বাকিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও জনতা লেবু মিয়াকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। আটক লেবু মিয়া সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের সাহানুর মিয়ার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সে মাদক ও ইয়াবা কারবারের সঙ্গেও জড়িত।
‎ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত যুবককে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। ঘটনার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ও ভাইরাল হয়।
‎বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আহমদ আলী জানান, পুলিশ আহত অবস্থায় যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের বিষয়ে জানতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%