০৫:০৯ পি.এম
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ছাত্র হল-২ এ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা হল ফি পরিশোধের প্রক্রিয়াকে সহজতর করবে। শিক্ষার্থীরা এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে মাসিক ও আনুষঙ্গিক ফি পরিশোধ করতে পারবেন। প্রশাসন দুর্গাপূজার ছুটির পর হলের ডাইনিং ব্যবস্থাপনাকেও অটোমেশনের আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আলাল হোসেনের নির্দেশনায় পোর্টাল উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হলটির সহকারী প্রভোস্ট প্রভাষক মো. জুনায়েদ হোসেন ও প্রভাষক রেদওয়ানুল হক। বিভিন্ন বিভাগের আবাসিক শিক্ষার্থীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। একজন শিক্ষার্থীর মাসিক হল ফি পরিশোধের মাধ্যমে নতুন ব্যবস্থাটির কার্যকারিতা সফলভাবে পরীক্ষা করা হয় এবং তা ব্যবহারের জন্য সচল করা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা ‘রুয়েট স্টুডেন্ট পোর্টাল’ (https://www.students.ruet.ac.bd) এ প্রবেশ করে হল ফি পরিশোধের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। এই সিস্টেমের মাধ্যমে হল ফি প্রদানের প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে অনলাইন ভিত্তিক সেবা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, মিলবে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা
হলটির প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আলাল হোসেন সার্বিক ব্যবস্থার বিষয়ে বলেন, "রুয়েট প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম ডিজিটালাইজড করছে। মেল হল-২ তে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে হল ফি পরিশোধ করতে পারবে।" তিনি আরও জানান, পূজার ছুটির পর ডাইনিং পরিচালনাকে অটোমেশনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো ব্যবস্থা চালু হলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের কক্ষ থেকেই হলের বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। পাইলটিং এ কিছু ত্রুটি দেখা দিলেও দ্রুতই তা সমাধান করা হবে।
ডাইনিং ব্যবস্থাপনা অটোমেশনের আওতায় আসলে খাবারের টোকেন সংগ্রহ ও খাবার গ্রহণের সময় টোকেন প্রদর্শন—দুই প্রক্রিয়াই সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। এতে ডাইনিং পরিচালনা ও হিসাব সংরক্ষণ আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং ম্যানুয়াল পদ্ধতির ওপর নির্ভরতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ৩১ আগস্ট রুয়েটে ‘ইন্টিগ্রেটেড হল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার’ উদ্বোধন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক সফটওয়্যারটির উদ্বোধন করেন। এই সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় হলের ফি প্রদান, বকেয়া ব্যবস্থাপনা, ডাইনিং, সম্পদ ব্যবস্থাপনা, কর্মচারীদের বেতন, সিট বরাদ্দ, অভিযোগ ও নোটিশসহ বিভিন্ন কার্যক্রম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সফটওয়্যারটির উন্নয়ন ও বাস্তবায়নে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে একটি দল কাজ করছে। ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের সহকারী পরিচালক সহকারী অধ্যাপক আবু ইসমাঈল সিদ্দিকী সাইফের নেতৃত্বে দলটি এ কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। পূর্বে আরও কয়েকটি হলে এ ব্যবস্থার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। এবার ছাত্র হল-২ এ ডিজিটাল পেমেন্ট চালুর মাধ্যমে উদ্যোগটির পরিধি আরও বিস্তৃত হলো।
আরও পড়ুন: ঢাবির অমর একুশে হলে ১০ শিক্ষার্থী পেলেন প্রভোস্ট অ্যাওয়ার্ড
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে বাকি আবাসিক হলগুলোতেও সমন্বিত হল ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি হলের অন্যান্য সেবাও দ্রুত অটোমেশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে আবাসিক হলগুলোর প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সেবার মান বাড়বে বলে আশা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন