০৬:০২ এম
মৃত্যু চিরসত্য, এবং এর মাধ্যমে সকলকে পরকালের অনন্ত জীবনে প্রবেশ করতে হবে। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনের ‘পরীক্ষায়’ উত্তীর্ণ হওয়া ব্যক্তিরাই পরকালে সফলতা অর্জন করতে পারবেন। তাদের ঠিকানা হবে চিরশান্তির জান্নাত। অপরদিকে, যারা সফলতা অর্জন করতে পারবেন না, তাদের জন্য রয়েছে চিরশাস্তির জাহান্নাম।
পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘প্রতিটি প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর অবশ্যই কিয়ামতের দিনে তাদের প্রতিদান পরিপূর্ণভাবে দেয়া হবে। সুতরাং যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সে-ই সফলতা পাবে। আর দুনিয়ার জীবন শুধু ধোঁকার সামগ্রী।’ (সুরা ইমরান, আয়াত : ১৮৫)
পরকালে সফলতা অর্জনের জন্য মহান আল্লাহর হুকুম পালন করা যেমন জরুরি, তেমনি রাসুল (সা.) এর আদর্শ ও নির্দেশনা অনুসরণ করাও অত্যাবশ্যক। বিভিন্ন সময়ে বর্ণিত হাদিসে নবীজি (সা.) উম্মতকে নানা বিষয়ে আদেশ ও নিষেধের কথা জানিয়েছেন, এবং মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জনের পথ বাতলে দিয়েছেন। এক হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে ছোট্ট দুই গুনাহের কারণে ভয়ংকর আযাবের কথা এসেছে, যা প্রস্রাব-পায়খানার পর পবিত্রতা অর্জন এবং কুৎসা রটনার সঙ্গে সম্পর্কিত।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহ যাকে চান ক্ষমতা দেন, আবার কেড়েও নেন’ - ড. খালিদ হোসেন
ইসলামে শরীরে নাপাকি লাগলে তা থেকে পবিত্রতা অর্জনের জন্য অজু ও গোসলের নির্দেশ রয়েছে। এমনকি ইস্তেঞ্জা (প্রস্রাব-পায়খানা) সেরে অজু করার কথাও অনেক হাদিসে এসেছে। তবে অনেকেই প্রস্রাব-পায়খানার সময় সতর্কতা অবলম্বন করেন না।
অনেকে যেখানে-সেখানে প্রস্রাব করতে দেখা যায়। কেউ কেউ অজান্তেই অনেক গুনাহের কাজ করে থাকেন। যেমন—স্থির পানিতে কখনো প্রস্রাব করা উচিত নয়। রাসুল (সা.) স্থির পানিতে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন। জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) স্থির পানিতে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৫৪৮)
এছাড়া প্রস্রাব-পায়খানার সময় ডান হাতের ব্যবহারেও নিষেধ রয়েছে। আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, "তোমাদের কেউ যখন প্রস্রাব করে তখন সে যেন কখনো ডান হাত দিয়ে তার পুরুষাঙ্গ না স্পর্শ করে, ডান হাত দিয়ে ইস্তেঞ্জা না করে এবং পান করার সময় যেন পাত্রের মধ্যে নিঃশ্বাস না ফেলে।" (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৫৬)
অন্যদিকে, প্রস্রাব-পায়খানার সময় অসতর্ক থাকার জন্য ভয়াবহ শাস্তির কথাও রয়েছে। ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ আছে, রাসুল (সা.) একবার মদিনা বা মক্কার কোনো এক বাগানের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। ওই সময় তিনি দুই ব্যক্তির আওয়াজ শুনলেন, যারা কবরে আজাব ভোগ করছিল। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, "এদের দু’জনকে আজাব দেয়া হচ্ছে, অথচ কোনো বড় গুনাহের জন্য এদের আজাব দেয়া হচ্ছে না।" এরপর নবীজি বললেন, "হ্যাঁ, এদের একজন তার প্রস্রাবের নাপাকি থেকে সতর্কতা অবলম্বন করত না। আর একজন চোগলখোরি (কুৎসা বা ফ্যাসিবাদ সৃষ্টিকারী) করত।"
আরও পড়ুন: নববী শিক্ষার মাধ্যমে সুশৃঙ্খল পৃথিবী গড়ার গুরুত্ব
পরে রাসুল (সা.) একটি খেজুরের ডাল আনালেন এবং তা ভেঙে দু’খণ্ড করে প্রত্যেকের কবরের ওপর একখণ্ড রাখলেন। সাহাবীরা জানতে চাইলেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ! (সা.) এরূপ কেন করলেন?" জবাবে রাসুল (সা.) বললেন, "হয়তো তাদের আজাব কিছুটা লাঘব করা হবে, যত দিন পর্যন্ত এ দুটি (খেজুরের ডাল) না শুকায়।" (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২১৬, সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৫৭০)
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন