মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৫২ পি.এম
নরসিংদী, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের স্বাস্থ্য সেবায় আমূল পরিবর্তন আসবে।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নরসিংদীর মনোহরদীতে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে জেলা থেকে জেলা দৌঁড়াচ্ছি। প্রতিটি জেলায় একাধিক হাসপাতাল পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিদর্শনের ফলে স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নত হচ্ছে।"
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে মনোনয়ন দেওয়ার কথা জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "সামনে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও জেলা পরিষদের নির্বাচন। সকল পর্যায়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে এলাকাগুলোতে কার কি অবস্থা সেই ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছে। আমরাও রিপোর্ট পাঠাবো, তারপর তিনি ফাইনাল সিদ্ধান্ত নেবেন।"
তিনি আরও বলেন, "প্রধানমন্ত্রী যাকে ফাইনাল করবেন, তার পিছনে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। অনেকে মিছিল মিটিং করেছেন, নির্যাতিত হয়েছেন কিন্তু নির্বাচনে যিনি বিজয়ী হতে পারবে না, তাকে আমরা মনোনয়ন দেব না। মনোনয়ন দেওয়া হবে জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে, মানুষ যাকে ভোট দিবে আর ত্যাগীদের বিভিন্ন ভাবে মূল্যায়ন করা হবে।"
মনোহরদী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনিরের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বেলাবো উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহসান হাবিব বিপ্লব, মনোহরদী পৌরসভা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল হান্নান মিয়া, উপজেলা বিএনপির সদস্য গোলাম মোস্তফা, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি জাকির হোসেন আকন্দ বাবুল, সাধারণ সম্পাদক মো. তোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মাসুদুর রহমান সোহাগ, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মনিরুজ্জামান ছোটন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি র্যালি বের হয়। র্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সুইচগেইট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
পরে, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অব্যবস্থাপনা, রোগীদের ভোগান্তি এবং চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার কারণে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের ‘বেয়াদব’, ‘ধান্দাবাজ’, ‘ভন্ড’ ও ‘ছোটলোক’ বলার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার ফলে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে গালিগালাজ সংবলিত লেখাটি তার নিজ এলাকা শ্বশুয়া চরের একটি ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করা হয়, যা স্থানীয় সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের নজরে আসে।
জানা গেছে, সম্প্রতি দৈনিক যুগান্তরের ভূঞাপুর প্রতিনিধি আসাদুল ইসলাম বাবুল তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি পোস্ট করেন। পোস্টটিতে তিনি বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও সার্বিক উন্নয়নে নজর না দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সভা-সেমিনারে ব্যস্ত থাকছেন বলে সমালোচনা করেন।
সাংবাদিকের গঠনমূলক সমালোচনার তথ্য-উপাত্ত দিয়ে জবাব না দিয়ে, ডা. লুৎফর রহমান আজাদ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন। প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে অশালীন ও অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করেন।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, হাসপাতালের অনিয়ম ও দুর্ভোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলা গণমাধ্যমের নৈতিক দায়িত্ব। এ বিষয়ে কোনো আপত্তি থাকলে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে তার জবাব দেওয়া যেত। কিন্তু একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন অশালীন ভাষা ও ব্যক্তিগত আক্রমণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা উক্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সভা ডেকেছেন। ভুক্তভোগী সাংবাদিক আসাদুল ইসলাম বাবুল অভিযুক্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তার অবিলম্বে প্রত্যাহার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
সচেতন মহলের মতে, সরকারি জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের ত্রুটি বিচ্যুতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে একজন দায়িত্বশীল পদে থেকে অশালীন আচরণ সরকারি কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্বকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
সাংবাদিকদের গালিগালাজের বিষয়টি স্বীকার করে ডা. লুৎফর রহমান আজাদ জানান, এই ধরনের মন্তব্যের জন্য তিনি বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত নন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা সিভিল সার্জন ড. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জুর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা পুরো বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছেন এবং একই সঙ্গে হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেতাকর্মীদের নেতৃত্বের বিকাশ, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা জোরদার এবং মাদক ও র্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রশাসনিক ভবনে শাখা ছাত্রদলের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ৪১১ নম্বর কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সিন্ডিকেট সভায় ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত ১০০তম (জরুরি) সিন্ডিকেট সভায়ও এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গ, সহযোগী বা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।
এ ছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৪৩(ঘ) ধারায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘন করলে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
কর্মশালায় শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আবুল বাশারের সঞ্চালনায় এবং আহ্বায়ক মুস্তাফিজুর রহমান শুভর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্দেশনা ও পরামর্শক দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. জুলহাস উদ্দীন। এ সময় লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কুবির ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক মাহিন উদ্দিন, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট মো. হারুনসহ শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে মাদক ও র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় বলে জানা যায়।
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন,হ্যাঁ, প্রসাশনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিলাম। আমার মৌখিক ভাবে সবার থেকে অনুমতি নিয়েছিলাম। আর আমরা প্রোগ্রাম করবো সেটা তো সবাই জানে।
মাদক ও র্যাগিং মুক্ত ক্যাম্পস গড়ার লক্ষে আমাদের এই প্রোগ্রাম ছিল। ক্যাম্পাসে রাজনীতি আইনে কি আছে না নাই, ঐটা আমরা লক্ষ্য করি না। আমাদের কথা হচ্ছে সচেতন শিক্ষার্থী যারা তারা সবাই রাজনীতি করতে পারবে। আমরা কাউকে জোড় করে রাজনীতি করাতে চাই না।
ইন্টেরিমের আমলে রাজনীতি নিষিদ্ধ যে হয়েছিল যেটা প্রত্যাহারের দাবি আমরা তখন জানিয়েছিলাম। আমরা একটা সচেতনতা মূলক কর্মশালা করেছি, এটা আমরা না শুধু সকলের করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, অনুমতির বিষয়ে ক্লিয়ার ম্যাসেজ, আমরা ইন্টেরিমের আমলে যে প্রশাসনেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছি, ঐ প্রশাসনের একটা নিয়ম তো আমরা মানবো না। বর্তমান ভিসি স্যারের সাথেও মৌখিক ভাবে কথা বলেছি এবং আমরা দ্রুত স্মারক লিপি দেবো যাতে সকলের জন্য রাজনীতি উন্মুক্ত করে দেন। সকলের জন্য একটি সহবস্থানের ক্যাম্পাস উপহার দিতে পারেন তিনি।
রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক দলের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিন উদ্দিন বলেন, এটা একটি একাডেমিক প্রোগ্রাম ছিলো। মাদক ও র্যাগিং বিরোধী আলোচনা হয়েছে। তাই সেখানে গিয়েছি। আমি সেখানে কোনো রাজনৈতিক প্রোগ্রাম দেখিনি।
রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক দলের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, আমারা দেখেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম চলতেছে। এগুলো খাতা-কলমে নিষিদ্ধ, প্র্যাক্টিক্যালি চলতেছে। আগে ছাত্রলীগ করতো এখন ছাত্রদল-শিবির করে। আর এই প্রোগ্রামে মাদক ও র্যাগিং বিরোধী আলোচনা হয়েছে। তাই আমরাও বলেছি কোনো সংগঠন এমন উদ্যোগ নিলে আমরা তাদের পাশে থাকবো।
এবিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম বলেন, আমি এই প্রোগ্রাম বিষয়ে কিছু জানিনা। তবে শুনেছি এডমিন বিল্ডিংয়ে কোনো ভাইয়ের নামে স্লোগান দিচ্ছে। এডমিন বিল্ডিংয়ের রুম বরাদ্দের জন্য অনুমতি দিতে পারেন রেজিস্ট্রার। উনি এবিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।
এ বিষয়ে কথা বলতে চাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বিষয়টি এড়িয়ে যান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বেকারত্ব দূরীকরণ ও শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে টাঙ্গাইলে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী জব ফেয়ারে তাৎক্ষণিকভাবে ৪৪৬ জনের চাকরি হয়েছে। পাশাপাশি বাছাই করা আরও ১ হাজার ৫৮১ জনের চাকরি আগামী এক মাসের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে। ফলে মেলার মাধ্যমে মোট ২ হাজার ২৭ জন চাকরিপ্রার্থীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জনসেবা চত্বরে দিনব্যাপী ‘জব ফেয়ার-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এসময় জব ফেয়ারে চাকরি পাওয়া কয়েকজন তরুণ-তরুণীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপত্র তুলে দেন তিনি।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এ জব ফেয়ারে জেলার শীর্ষস্থানীয় এনজিও, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোট ৫১টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে অনলাইন ও অফলাইনে সিভি সংগ্রহের পাশাপাশি মেলায় সরাসরি সাক্ষাৎকার নিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জব ফেয়ারে অনলাইন ও অফলাইনে সর্বমোট ১১ হাজার ৪২৭ জন চাকরিপ্রার্থী নিবন্ধন করেন। এর মধ্যে তাৎক্ষণিক সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ৪৪৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাছাই করা আরও ১ হাজার ৫৮১ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া আগামী এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। সব মিলিয়ে এ জব ফেয়ারের মাধ্যমে ২ হাজার ২৭ জনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘এটা প্রাথমিকভাবে আয়োজন করা হয়েছিল। বেশ সাড়া ফেলেছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এটি আরও বড় পরিসরে কীভাবে করা যায়, সেই ব্যবস্থা করা হবে ইনশাআল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচনের আগেও বলেছি, টাঙ্গাইলের একজন শিক্ষিত যুবকও যাতে বেকার না থাকে, আমি সেই অনুযায়ী কাজ করব।’
জব ফেয়ারের উদ্যোগকে প্রশংসনীয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। একজন শিক্ষিত ও দক্ষ মানুষ যাতে বেকার না থাকে এবং শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করার পর প্রত্যেকে যাতে কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার সুযোগ পায়, সে পরিবেশ ও ক্ষেত্র তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য।
চাকরি না পাওয়া প্রার্থীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘আজকে যাদের চাকরি হলো না, তাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। তাদের সিভি জমা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের জব ফেয়ার সারাদেশে আয়োজন করা হলে চাকরিপ্রার্থীদের কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ছুটতে হবে না। একই জায়গায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে। এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ায় জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, চাকরি করতে আগ্রহী অনেক শিক্ষিত মানুষ বিভিন্ন সময়ে তার কাছে কর্মসংস্থানের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করলে তিনি জব ফেয়ার আয়োজনের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখান। পরবর্তীতে তার পরামর্শ ও সহযোগিতায় এ জব ফেয়ারের আয়োজন করা হয়।
তিনি বলেন, জব ফেয়ারের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের চাহিদা অনুযায়ী যোগ্য প্রার্থী বাছাই করতে পেরেছে। এতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কর্মসংস্থান নিয়ে নতুন উৎসাহ সৃষ্টি হবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জব ফেয়ার আয়োজন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। এই উপলক্ষে ধনবাড়ী উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা, কেক কাটার অনুষ্ঠান, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ এম আজিজুর রহমান।
এতে উপস্থিত ছিলেন ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জনাব এনামুল হক ভিপি, ধনবাড়ী পৌর বিএনপির সভাপতি এস এম এ ছোবহান, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম স্বপন, ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাফেজ খাইরুল ইসলাম মুন্সি, ধোপাখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কামাল হোসেন তালুকদার মিন্টু, ধনবাড়ী পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি মো. কছর আলীসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বিএনপির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস এবং দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করেন। তারা দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। পরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা হয়। অনুষ্ঠানে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মাহফিলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। একই সঙ্গে বিএনপির প্রয়াত নেতাকর্মীদের রুহের মাগফিরাত এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত নেতাকর্মীরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ