ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশের আলজেরিয়াকে জ্বালানি ও সার খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান


বাংলাদেশের আলজেরিয়াকে জ্বালানি ও সার খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান

বাংলাদেশ আলজেরিয়াকে জ্বালানি ও সার খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সাথে, দেশটিতে বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির পরিমাণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলওয়াহাব সাইদানির সাথে সাক্ষাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ বিষয়ে গুরুত্ব দেন। সাক্ষাৎকালে তাঁরা দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, দীর্ঘকালীন বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃপ্রতিম সহযোগিতার সম্পর্ক পুনর্ব্যক্ত করেন।

শামা ওবায়েদ আলজেরিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য আহ্বান জানান, যা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। তিনি খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সার খাতে আলজেরিয়ার সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

আরও পড়ুন: পুলিশের ১১ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে

এছাড়া, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় উভয় দেশের একযোগে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি আলজেরিয়ায় জীবাণুবিয়োজ্য ও পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের জন্য রাষ্ট্রদূতকে উৎসাহিত করেন।

বৈঠকের সময় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ওষুধশিল্প, কৃষি, খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলওয়াহাব সাইদানি দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার করেন। তিনি জ্বালানি, ওষুধশিল্প, জাহাজ নির্মাণ, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি সহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উভয় দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সরকারি সফর বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন: দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ হিমশিম খাচ্ছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে বৈঠক

বিনিয়োগ, খাল খনন ও ব্লু ইকোনমি নিয়ে আলোচনা মাহদী আমিনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৬ এম


বিনিয়োগ, খাল খনন ও ব্লু ইকোনমি নিয়ে আলোচনা মাহদী আমিনের

নেদারল্যান্ডস সরকারের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক ভাইস মিনিস্টার এইচই স্টিভেন কোলেট প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

এই বৈঠকটি সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিনিয়োগ, খাল খনন ও ব্লু ইকোনমি নিয়ে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে দীর্ঘদিন পর জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ এবং দেশের সার্বিক সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। নেদারল্যান্ডসের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ পুনরায় গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসায় আন্তরিক শুভকামনা জানানো হয়।

দু দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং বাংলাদেশে ডাচ বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈঠকে উল্লেখ করা হয়, নেদারল্যান্ডসের বহু প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বাংলাদেশে সফলভাবে কাজ করছে এবং তাদের জন্য আরও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ ও প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। কৃষি, টেক্সটাইল, মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন, আধুনিক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা, সামগ্রিক অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ নিয়ে আলাপ হয়। এ সময় বলা হয়, নেদারল্যান্ডস নিয়মিত বাংলাদেশ থেকে সুস্বাদু আম আমদানি করে এবং বাংলাদেশে স্থানীয় পর্যায়ে নেদারল্যান্ডসের উন্নত জাতের আলু বীজ সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ব্লু ইকোনমি ও জাহাজ নির্মাণ শিল্পে যৌথ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার সুযোগ এবং ডাচ প্রতিষ্ঠানগুলোর কারখানায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে উভয় পক্ষ আলোচনা করেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন রূপকল্প, জনকল্যাণমুখী নীতি ও বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। নদী ও খাল সংস্কারের অংশ হিসেবে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনর্খনন প্রকল্প, তিস্তা ব্যারেজ এবং পদ্মা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নেদারল্যান্ডসের আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ দক্ষতার পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতের রূপান্তরে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, শিল্প ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সমন্বয়, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার এবং আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক উভয় খাতের শ্রমিকদের দক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে আলোচনা হয়। সরকারের বহুভাষিক শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় তৃতীয় ভাষা হিসেবে ডাচ ভাষা অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগসহ সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

পরিবেশ সুরক্ষা ও জ্বালানি রূপান্তরের ক্ষেত্রে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ, পরিবেশবান্ধব শিল্প কারখানা স্থাপন এবং আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর জাতীয় মহাপরিকল্পনার কথা জানানো হয়। প্রান্তিক মানুষের সামাজিক সুরক্ষায় গৃহীত জনকল্যাণমুখী নীতি, নারীদের ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের সুরক্ষা নিশ্চিতে কৃষক কার্ড চালুর যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো ডাচ প্রতিনিধিদলকে অবহিত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও তুলে ধরেন, বর্তমান সরকার দেশে পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। সংসদ পরিচালনা, বিরোধী দলের জন্য অবাধ মত প্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা ও কার্যকর স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা, বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রক্রিয়ার দ্রুত অগ্রগতি এবং জবাবদিহিতা বাড়াতে বিভিন্ন সংসদীয় কমিটি গঠনের বিষয়গুলোও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচিত হয়।

বৈঠকে নেদারল্যান্ডসের প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত এইচই জোরিস ভ্যান বোমেল এবং দেশটির টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক রাষ্ট্রদূত এইচই ওয়াম্পি লিবন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীর

কাশ্মীরে নিখোঁজ স্বজনের অপেক্ষা, মৃত্যুর খবর পেয়ে হাহাকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৬ এম


কাশ্মীরে নিখোঁজ স্বজনের অপেক্ষা, মৃত্যুর খবর পেয়ে হাহাকার

পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে স্থানীয় নির্বাচন ও রাজনৈতিক আন্দোলন সংক্রান্ত সহিংসতায় গত জুন থেকে অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত অন্তত ৯০ জনের মৃত্যু ঘটেছে।

স্বজনরা তাদের মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বেআইনি আটক, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

যুক্তরাজ্য-নিবন্ধিত মানবাধিকার সংগঠন জম্মু কাশ্মীর হিউম্যান রাইটস অবজারভেটরি (জেকেএইচআরও) ৪৭ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদনে ৫ জুন থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত নিহত ৯০ জনের নাম ও ঘটনার বিবরণ উপস্থাপন করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট এই বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদ্যুতের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে প্রথমে বিক্ষোভ শুরু হলেও পরে এটি অঞ্চলের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলনের এক পর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি আটক ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ ওঠে।

নিখোঁজের পর মিলল মৃত্যুর খবর

প্রতিবেদনে ২৬ বছর বয়সী ফাহাদ বারকাতের মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, ৭ জুন রাতে রাওয়ালাকোটের একটি সামরিক হাসপাতালে রক্ত দিতে গিয়েছিলেন তিনি। রাত ১১টা ৩১ মিনিটে বোনকে শেষ বার্তা পাঠানোর পর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।

ফাহাদের বোনের বক্তব্য, হাসপাতালের ফটকে প্রবেশের সময় রাত ১টার কিছু আগে তার গলায় গুলি লাগে। তবে মানবাধিকার সংগঠনটি নিশ্চিত করতে পারেনি কে তাকে হত্যা করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফাহাদের পরিবার দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বাস করেছিল যে, তিনি পুলিশের হেফাজতে আছেন। পরে সংবাদমাধ্যম ডন নিহত বেসামরিক ব্যক্তিদের তালিকায় তার নাম প্রকাশ করে।

জেকেএইচআরওর অভিযোগ, ফাহাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের আগে তাকে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করে একটি বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছিল।

সংগঠনটি এ ঘটনার স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের পাশাপাশি হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ, রক্তদাতাদের নথি, ময়নাতদন্ত ও দাফনের রেকর্ড প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।

নির্বাচন বয়কট ঘিরে সংঘাত

আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) স্থানীয় নির্বাচন বয়কটের আহ্বান জানিয়েছিল। ২৭ জুলাই থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত কয়েক ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনটির দাবি, বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পারছে না।

আঞ্চলিক আইনসভার ৪৫ আসনের মধ্যে ভারত-শাসিত কাশ্মীর থেকে পাকিস্তানের অন্য এলাকায় বসবাসরত শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিলের দাবি জানায় জেএএসি।

পাকিস্তান সরকার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, আসনগুলো সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত এবং কাশ্মীরের বিতর্কিত মর্যাদা নিয়ে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত।

পরে কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জেএএসিকে নিষিদ্ধ করা হয় এবং সংগঠনটির কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিরাপত্তা অভিযানও শুরু হয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯ জুন পর্যন্ত বিক্ষোভে বেসামরিক মানুষ ও পুলিশসহ অন্তত ২৪ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আটক হন। পরে জেএএসি ৫ জুন থেকে ১০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর দাবি করে। তবে কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সশস্ত্র ব্যক্তিরাও সহিংসতায় জড়িত ছিলেন। জেএএসি ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ দাবি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।

নিখোঁজ ও বেআইনি আটকের অভিযোগ

জেকেএইচআরওর প্রতিবেদনে শওকত নওয়াজ মীরের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ৩০ জুন ধিরকোট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু গ্রেপ্তারের কারণ, আইনি ভিত্তি কিংবা তাকে কোথায় রাখা হয়েছে, তা জানানো হয়নি।

তিন মাস পেরিয়ে গেলেও শওকতের সন্ধান না পেয়ে তার বোন ইয়ামিন মীর জুলাইয়ে আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্টে আবেদন করেন। তিনি তাকে আদালতে হাজির করার এবং তার অবস্থান জানাতে বলেন।

পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ ও সরকারি দপ্তরে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়নি বলেও আবেদনে দাবি করা হয়।

আরেক ঘটনায়, ৫ সেপ্টেম্বর চিত্রা টোপি গ্রামে নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা গুলিতে এক হামলাকারী নিহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানায়। পরে তার পরিচয় জাবির মুমতাজ হিসেবে জানা যায়। পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

মরদেহ নিতে হলে তাকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করে একটি বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছিল। পরিবার রাজি না হওয়ায় কর্তৃপক্ষ নিজেরাই দাফন সম্পন্ন করে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২৯ বছর বয়সী নাকাশ জারদাদ রাওয়ালাকোটে নিজের মহিষের খামারে থাকার সময় সংঘর্ষের মধ্যে ছোড়া গুলিতে নিহত হন বলে জানিয়েছে জেকেএইচআরও। তার পরিবারের প্রশ্ন, বিক্ষোভে অংশ না নেওয়া একজন মানুষ নিজের জমিতে থেকেও কীভাবে প্রাণঘাতী গুলির শিকার হলেন।

তদন্তের দাবি

অঞ্চলটিতে তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট বন্ধের পাশাপাশি বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা দেয়। ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫ জুন মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়। ৩১ আগস্ট থেকে ধাপে ধাপে ইন্টারনেট চালু হলেও রাওয়ালাকোট ও সুদনোতি এলাকায় নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল।

জেকেএইচআরওর পরিচালক আজর আহমেদ বলেন, কোনো পরিবারকে যেন স্বজনের মরদেহ খুঁজতে না হয় অথবা আটক, দাফন ও মৃত্যুর বিষয়ে গুজবের ওপর নির্ভর করতে না হয়। তার মতে, হেফাজত, চিকিৎসা, মর্গ ও দাফনের নথি প্রকাশ করা হলে অনেক ঘটনার জট খুলতে পারে। কর্তৃপক্ষের নীরবতা মানুষের দুর্ভোগ বাড়ায় এবং জনআস্থা ক্ষুণ্ন করে।

সংগঠনটি বলেছে, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সব মৃত্যুর পেছনে একই ব্যক্তি, পরিস্থিতি বা আইনি কারণ ছিল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। প্রতিটি ঘটনার আলাদা তদন্ত প্রয়োজন। জুন থেকে সংঘটিত সম্ভাব্য বেআইনি মৃত্যু ও গুরুতর আহত হওয়ার সব ঘটনার দ্রুত, স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে তারা।

নিহতদের পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের সরকার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চিকিৎসার জন্য চীনে নজরুল ইসলাম খান, প্রবাসী বিএনপি নেতাদের খোঁজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৭ এম


চিকিৎসার জন্য চীনে নজরুল ইসলাম খান, প্রবাসী বিএনপি নেতাদের খোঁজ

বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, প্রবীণ রাজনীতিবিদ নজরুল ইসলাম খান বর্তমানে চিকিৎসার জন্য চীনের গুয়াংঝু শহরে অবস্থান করছেন।

সোমবার, তিনি সেখানকার সান ইয়াত-সেন ইউনিভার্সিটি হসপিটালে ভর্তি হন। তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে চীন বিএনপির নেতৃবৃন্দের একটি প্রতিনিধি দল তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এবং তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে।

প্রতিনিধি দলে চীন বিএনপির নেতা সাখাওয়াত হোসেন কানন, আশরাফুল ইসলাম ওয়ালী এবং শেখ মাহবুবুর রশীদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তাঁরা তাঁর চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

এদিকে, চীন বিএনপির নেতৃবৃন্দের সম্মানে গুয়াংঝুর রাঁধুনি রেস্টুরেন্টে একটি নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে আপ্যায়ন করা হয় এবং তাঁদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

প্রবীণ রাজনীতিবিদ নজরুল ইসলাম খানের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকলের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলা যেন তাঁকে দ্রুত আরোগ্য দান করেন এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে আবারও সবার মাঝে ফিরে আসার তৌফিক দান করেন—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী ও সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মদনে মাদক সেবনকালে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ ৪ জন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৭ এম


মদনে মাদক সেবনকালে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ ৪ জন আটক

নেত্রকোণার মদনে মাদক সেবনের সময় মদন পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ৯টার দিকে মদন পৌরসভার সওদাগরপাড়া বালুর মাঠ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।

মদন থানার সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ওই এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ইয়াবা ও গাঁজা সেবনরত অবস্থায় চারজনকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় আরও চার-পাঁচজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

আটককৃতদের মধ্যে মদন উপজেলার কুলিয়াটি পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে আব্দুল বারী আকন্দ হিরা (২৯) রয়েছেন, যিনি মদন পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক।

অন্য তিনজন আটক ব্যক্তির মধ্যে রয়েছেন—মদন দক্ষিণপাড়া গ্রামের শান্তু মিয়ার ছেলে হুমায়ুন কবির (৩২), কাইকুরিয়া গ্রামের মৃত গনি মিয়ার ছেলে মো. মানিক (৩০) এবং আটপাড়া উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের দেবাদ্দর গ্রামের আ. জলিলের ছেলে তারেক (২৪)।

মদন পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী আকন্দ হিরার আটকের বিষয়টি জেলা ছাত্রদলের সভাপতিকে জানানো হয়েছে। জেলা কমিটি অভিযোগের তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ বিষয়ে মদন থানার ওসি সালাউদ্দিন করিম বলেন, মাদক সেবনরত অবস্থায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%