১২:২৫ পি.এম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চাহিদা বৃদ্ধির ফলে চীনের রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উন্নতি লাভ করেছে। সেপ্টেম্বর মাসের শেষ পর্যন্ত তিন মাসের মধ্যে প্রবৃদ্ধি তিন বছরের সর্বনিম্ন অবস্থান থেকে পুনরুদ্ধার করেছে চীনের অর্থনীতি।
বিবিসি জানাচ্ছে, চীনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে দেশটির অর্থনীতি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগের ত্রৈমাসিকে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রথম ত্রৈমাসিকে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ শতাংশ।
তৃতীয় ত্রৈমাসিকের এই প্রবৃদ্ধি চীনের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার সর্বনিম্ন সীমায় অবস্থান করছে। চলতি বছরের জন্য দেশটির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারলে অর্থনীতির সমস্যাগুলো মোকাবিলায় নীতিনির্ধারকদের কিছুটা সুযোগ থাকবে।
আরও পড়ুন: ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫৩ সেনা নিহত
রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে দেশের অভ্যন্তরে মানুষের খরচ কমানোর প্রভাব কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। তবে বৈশ্বিক বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনা এবং এআই খাতে বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা চীনের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। সোমবার চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, নানা চাপের মধ্যেও দেশটির অর্থনীতি স্থিতিশীলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে এবং কাঠামোতেও উন্নতি দেখা গেছে।
রপ্তানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত গত বছরের রেকর্ড ১ লাখ ২০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বাণিজ্য উদ্বৃত্ত হলো বিদেশে পণ্য ও সেবা বিক্রি করে যে আয় হয়, তা বিদেশ থেকে পণ্য ও সেবা কেনার ব্যয়ের চেয়ে বেশি হলে যে অর্থ উদ্বৃত্ত হয়।
তবে চীনের আবাসন খাতে সংকট এখনো কাটেনি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে এ খাতে বিনিয়োগ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশের বেশি কমেছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের গবেষক শিয়ানা ইউয়ে বলেন, বিনিয়োগ ও দেশের অভ্যন্তরে মানুষের খরচ দুর্বল থাকলেও উৎপাদন খাত এবং উচ্চপ্রযুক্তির পণ্য রপ্তানি চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়তা করেছে।
চীনে দীর্ঘদিন ধরে আবাসন খাতে মন্দা চলছে। বছরের পর বছর প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বাড়ি নির্মাণ এবং বেসরকারি আবাসন কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের কারণে এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির অর্থনীতি এখনো এ পরিস্থিতি থেকে পুনরুদ্ধার করতে পারেনি।
আরও পড়ুন: সরকারি চাকরিজীবীদের ভাতা নির্ধারণ হবে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে
শিয়ানা ইউয়ে আরও বলেন, আবাসন খাতের এই সংকট শিগগিরই শেষ হবে, এমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তিনি উল্লেখ করেন, বাণিজ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে চীনের ক্রেতাদের আস্থা কমেছে। ফলে তারা কেনাকাটায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
সাম্প্রতিককালে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে প্রযুক্তি খাত। এআইয়ের তথ্যকেন্দ্র তৈরিতে ব্যবহৃত কম্পিউটার চিপ ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের চাহিদা বিশ্বজুড়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে চীনের রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে মানুষের খরচ কমানোর প্রভাবও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে।
চীনে আবাসন খাতের দীর্ঘস্থায়ী সংকট, মজুরি বৃদ্ধির ধীরগতি এবং তরুণদের মধ্যে উচ্চ বেকারত্বের কারণে মানুষের কেনাকাটা ও ব্যয় কমেছে। এই পরিস্থিতিতে দেশটির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো রপ্তানির ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
অর্থনীতি চাঙা করতে গত সেপ্টেম্বরে বেশ কিছু সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বেইজিং। এর মধ্যে কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সুদের হার কমানো এবং বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়ার মতো পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামো বদলাচ্ছে: বিশ্লেষক
তবে চীনের বিপুল পরিমাণ কম দামের পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর উৎপাদকেরা চাপে পড়েছেন। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা অর্থনীতিগুলোর বিরোধিতার মুখে পড়ছে বেইজিং।
এদিকে এআই অবকাঠামো তৈরিতে কয়েক শ কোটি ডলার বিনিয়োগ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এসব প্রকল্পে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যে বিপুল মুনাফার আশা দেখাচ্ছে, তা বাস্তবে অর্জন করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন