ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চীনের রপ্তানি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এআই পণ্যের চাহিদার প্রভাব


চীনের রপ্তানি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এআই পণ্যের চাহিদার প্রভাব

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চাহিদা বৃদ্ধির ফলে চীনের রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উন্নতি লাভ করেছে। সেপ্টেম্বর মাসের শেষ পর্যন্ত তিন মাসের মধ্যে প্রবৃদ্ধি তিন বছরের সর্বনিম্ন অবস্থান থেকে পুনরুদ্ধার করেছে চীনের অর্থনীতি।

বিবিসি জানাচ্ছে, চীনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে দেশটির অর্থনীতি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগের ত্রৈমাসিকে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রথম ত্রৈমাসিকে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ শতাংশ।

তৃতীয় ত্রৈমাসিকের এই প্রবৃদ্ধি চীনের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার সর্বনিম্ন সীমায় অবস্থান করছে। চলতি বছরের জন্য দেশটির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারলে অর্থনীতির সমস্যাগুলো মোকাবিলায় নীতিনির্ধারকদের কিছুটা সুযোগ থাকবে।

আরও পড়ুন: ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫৩ সেনা নিহত

রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে দেশের অভ্যন্তরে মানুষের খরচ কমানোর প্রভাব কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। তবে বৈশ্বিক বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনা এবং এআই খাতে বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা চীনের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। সোমবার চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, নানা চাপের মধ্যেও দেশটির অর্থনীতি স্থিতিশীলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে এবং কাঠামোতেও উন্নতি দেখা গেছে।

রপ্তানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত গত বছরের রেকর্ড ১ লাখ ২০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বাণিজ্য উদ্বৃত্ত হলো বিদেশে পণ্য ও সেবা বিক্রি করে যে আয় হয়, তা বিদেশ থেকে পণ্য ও সেবা কেনার ব্যয়ের চেয়ে বেশি হলে যে অর্থ উদ্বৃত্ত হয়।

তবে চীনের আবাসন খাতে সংকট এখনো কাটেনি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে এ খাতে বিনিয়োগ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশের বেশি কমেছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের গবেষক শিয়ানা ইউয়ে বলেন, বিনিয়োগ ও দেশের অভ্যন্তরে মানুষের খরচ দুর্বল থাকলেও উৎপাদন খাত এবং উচ্চপ্রযুক্তির পণ্য রপ্তানি চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়তা করেছে।

চীনে দীর্ঘদিন ধরে আবাসন খাতে মন্দা চলছে। বছরের পর বছর প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বাড়ি নির্মাণ এবং বেসরকারি আবাসন কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের কারণে এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির অর্থনীতি এখনো এ পরিস্থিতি থেকে পুনরুদ্ধার করতে পারেনি।

আরও পড়ুন: সরকারি চাকরিজীবীদের ভাতা নির্ধারণ হবে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে

শিয়ানা ইউয়ে আরও বলেন, আবাসন খাতের এই সংকট শিগগিরই শেষ হবে, এমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তিনি উল্লেখ করেন, বাণিজ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে চীনের ক্রেতাদের আস্থা কমেছে। ফলে তারা কেনাকাটায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

সাম্প্রতিককালে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে প্রযুক্তি খাত। এআইয়ের তথ্যকেন্দ্র তৈরিতে ব্যবহৃত কম্পিউটার চিপ ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের চাহিদা বিশ্বজুড়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে চীনের রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে মানুষের খরচ কমানোর প্রভাবও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে।

চীনে আবাসন খাতের দীর্ঘস্থায়ী সংকট, মজুরি বৃদ্ধির ধীরগতি এবং তরুণদের মধ্যে উচ্চ বেকারত্বের কারণে মানুষের কেনাকাটা ও ব্যয় কমেছে। এই পরিস্থিতিতে দেশটির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো রপ্তানির ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

অর্থনীতি চাঙা করতে গত সেপ্টেম্বরে বেশ কিছু সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বেইজিং। এর মধ্যে কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সুদের হার কমানো এবং বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়ার মতো পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামো বদলাচ্ছে: বিশ্লেষক

তবে চীনের বিপুল পরিমাণ কম দামের পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর উৎপাদকেরা চাপে পড়েছেন। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা অর্থনীতিগুলোর বিরোধিতার মুখে পড়ছে বেইজিং।

এদিকে এআই অবকাঠামো তৈরিতে কয়েক শ কোটি ডলার বিনিয়োগ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এসব প্রকল্পে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যে বিপুল মুনাফার আশা দেখাচ্ছে, তা বাস্তবে অর্জন করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাংবাদিক কামাল হোসেনের পিতার মৃত্যুতে প্রতিমন্ত্রী টুকুর শোক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৬ পি.এম


সাংবাদিক কামাল হোসেনের পিতার মৃত্যুতে প্রতিমন্ত্রী টুকুর শোক

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং আরটিভির জেলা প্রতিনিধি কামাল হোসেনের বাবা মো. আব্দুল মান্নান মিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

আব্দুল মান্নান মিয়া রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার এনায়েতবাড়ী গ্রামে নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন এবং মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৬৫ বছর।

মরহুম মো. আব্দুল মান্নান মিয়া ঘাটাইল উপজেলার এনায়েতবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলে এবং এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। উল্লেখ্য, তার স্ত্রী খালেদা বেগম প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে মারা যান।

এক শোকবার্তায় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

প্রতিমন্ত্রী মহান আল্লাহর কাছে মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য শক্তি ও ধৈর্য দানের প্রার্থনা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রিয়ালের জয় overshadowed, গুলারের লাল কার্ড নিয়ে বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৬ পি.এম


রিয়ালের জয় overshadowed, গুলারের লাল কার্ড নিয়ে বিতর্ক

রিয়াল মাদ্রিদের সেভিয়ার বিরুদ্ধে জয়ী ম্যাচে আর্দা গুলারের লাল কার্ড বিতর্ক কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এই তুর্কি তারকার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের ফরোয়ার্ড পেককে কনুই দিয়ে আঘাত করার। তবে সেভিয়ার খেলোয়াড়রা ভিএআর হস্তক্ষেপ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ম্যাচের ২২তম মিনিটে ঘটে বিতর্কিত ঘটনাটি। রিয়াল মাদ্রিদের একটি পাল্টা আক্রমণ থামাতে গিয়ে গুলারের হাতের আঘাতে মাটিতে পড়ে যান সেভিয়ার ফরোয়ার্ড পেক। সঙ্গে সঙ্গে সেভিয়ার খেলোয়াড়রা রেফারির কাছে অভিযোগ জানান। তাদের দাবি ছিল, হিংসাত্মক আচরণের জন্য গুলারকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো উচিত ছিল।

ঘটনাটি ভিএআরে পর্যালোচনা করা হলেও মাঠের রেফারি বুস্কেতস ফেরেকে রিপ্লে দেখার জন্য মনিটরে যেতে নির্দেশ দেননি। আঘাতের সুনির্দিষ্ট স্থান ও বলপ্রয়োগের মাত্রা স্পষ্ট না হওয়ায় রেফারি গুলারের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেননি। বরং প্রতিবাদ করায় হলুদ কার্ড দেখতে হয় সেভিয়ার হাইসেন ও ফেলিক্স কোরিয়াকে।

ম্যাচের প্রথমার্ধের বিরতিতে সেভিয়ার ডিফেন্ডার কিকে সালাস এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সতীর্থ পেকের বক্তব্যের ওপর আস্থা রেখে তিনি বলেন, গুলারের ওই আঘাত লাল কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ। যদিও তিনি তখনো ঘটনার পরিষ্কার রিপ্লে দেখেননি।

সালাসের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলারের গোলের আগপর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সেভিয়ার হাতেই ছিল। তবে পেককে কনুই দিয়ে আঘাত করার ঘটনাটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারত। এ সময় ভিএআরের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই গোল করে রিয়ালকে এগিয়ে দেন গুলার। দিয়ামান্দের বাড়িয়ে দেওয়া নিখুঁত পাস থেকে চমৎকার ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান এই তরুণ তারকা। ফলে সেভিয়ার ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়।

এরপর ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। রিয়াল মাদ্রিদ জয় পেলেও সেভিয়ার শিবিরে অসন্তোষ থেকেই যায়। তাদের মতে, গুলারকে লাল কার্ড দেখানো হলে ম্যাচের গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারত।

সব মিলিয়ে রিয়ালের জয় ছাপিয়ে রেফারির সিদ্ধান্ত ও ভিএআরের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিতর্কিত ওই ঘটনায় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েই ফুটবল মহলে চলছে আলোচনা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উত্তর প্রদেশে নির্বাচনের আগে মুসলিম বিদ্বেষ ও সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৭ পি.এম


উত্তর প্রদেশে নির্বাচনের আগে মুসলিম বিদ্বেষ ও সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে

ভারতের উত্তর প্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, গ্রেপ্তার ও উচ্ছেদের একটি উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে নতুন একটি প্রতিবেদনে। সাউথ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইন প্রকাশিত ‘ইলেকশন ওয়াচ উত্তর প্রদেশ ২০২৭’-এর প্রথম সংস্করণে ২০২৬ সালের ১ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই মাসের ঘটনাবলি নথিভুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দুই মাসে ধর্মীয় বিদ্বেষ থেকে সংঘটিত হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে—এমন হামলায় অন্তত চারজন মুসলিম নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২০ বছর বয়সী এক যুবক রয়েছেন, যাকে তার এক আত্মীয়ের বোরকা পরা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি মারধর করে হত্যা করেন। অন্য এক ঘটনায় ‘লাভ জিহাদ’ ষড়যন্ত্রতত্ত্বের উল্লেখ করে এক স্কুলশিক্ষককে গুলি করে হত্যা করেন এক ব্যক্তি।

এই চারটি হত্যাকাণ্ডের পর ২০২৬ সালে উত্তর প্রদেশে সন্দেহভাজন ধর্মীয় বিদ্বেষজনিত হত্যার ঘটনায় নিহত মুসলিমের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে নয়জনে। ২০২৫ সালের পুরো বছরে এ ধরনের ঘটনায় সাতজন মুসলিম নিহত হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ৫ আগস্ট শামলিতে পুলিশের গুলিতে এক মুসলিম ব্যক্তি নিহত হন।

গ্রেপ্তারের আগে পুলিশের গুলিবর্ষণের ঘটনা, যা সাধারণত ‘হাফ এনকাউন্টার’ নামে পরিচিত, তাও প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, উত্তর প্রদেশের ৭৫টি জেলার মধ্যে ২৭টিতে এ ধরনের ঘটনায় অন্তত ৭০ জন মুসলিম গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫২ জনের বিরুদ্ধে গরু জবাই বা গবাদিপশু চুরির অভিযোগ ছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দুই মাসে অন্তত ১৫২ জন মুসলিমকে নির্বিচারে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সাতজন নারী রয়েছেন। এছাড়া অনলাইনে মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করায় কয়েকজনকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনাও নথিভুক্ত করা হয়েছে।

একই সময়ে অন্তত আরো ১৬ জন মুসলিম হামলার শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরও রয়েছে, যে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে অস্বীকার করায় হামলার শিকার হয়।

প্রতিবেদনে নথিভুক্ত ১৪টি হামলার ঘটনার কোনোটি‌তেই হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। বরং দুটি ঘটনায় পুলিশ উল্টো ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রতিবেদনটি। এতে ওই দুই মাসে অন্তত ২১টি বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি বক্তব্যের জন্য মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে দায়ী করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজেপির এই নেতা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ‘বাবরের অনুসারী’ হিসেবে অভিহিত করেন। অন্যদিকে, রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী বলেন, মাদ্রাসায় শিক্ষিত ব্যক্তিদের মানসিকতা সন্ত্রাসবাদীদের মতো হয়ে যায়। রাজ্যের এক মন্ত্রী ঘোষণা করেন, ‘আমাদের মুসলিম শব্দের প্রয়োজন নেই।’

এসব বক্তব্যের পর কোনো পদাধিকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সেপ্টেম্বরে একটি আদালত ২০১৩ সালের মুজাফফরনগর সহিংসতার আগে দেওয়া বক্তব্যের ঘটনায় বিজেপি নেতা ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের অনুমতি দেন। ওই সহিংসতায় ৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন, যাদের অধিকাংশই ছিলেন মুসলিম।

মুসলিমদের বাড়িঘর ও ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, অন্তত নয়টি ঘটনায় মুসলিমদের ৩৪টি বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে।

এছাড়া উত্তর প্রদেশ সরকার রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ডিগ্রি প্রদানের ক্ষমতা প্রত্যাহার করেছে। এর ফলে প্রায় ৩৭ হাজার মুসলিম শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিরোধী নেতাদের গৃহবন্দি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা

প্রতিবেদনে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের চলাফেরা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে। অন্তত ১০টি জেলার ১২টি ঘটনায় বিরোধী নেতাদের গৃহবন্দি রাখা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

পুলিশি হেফাজতে মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করা, উচ্ছেদ অভিযানের মুখে পড়া মানুষের কাছে যাওয়া কিংবা মুখ্যমন্ত্রীর সফর চলাকালে প্রতিবাদে অংশ নেওয়া ঠেকাতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই তিনবার আটক হন।

নির্বাচন ঘিরে সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে উদ্বেগ

ভারতের সর্বাধিক জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশে দেশটির মুসলিম জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশেরও বেশি মানুষের বসবাস। সাউথ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইন জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার প্রাক্কালে সংখ্যালঘুদের অধিকার লঙ্ঘন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগের প্রমাণভিত্তিক নথি তৈরি করাই তাদের মাসিক প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য অধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে আগাম সতর্কতা ও কার্যকর পদক্ষেপের ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব হবে বলে সংগঠনটি মনে করে।

সূত্র: মাকতুব মিডিয়া

আরএ

সূত্র: মাকতুব মিডিয়া

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সর্বজনীন পেনশনে সুখবর, গ্রাহকেরা লাভবান হবেন ১১.৬৮% থেকে ১১.৭২% মুনাফায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৮ পি.এম


সর্বজনীন পেনশনে সুখবর, গ্রাহকেরা লাভবান হবেন ১১.৬৮% থেকে ১১.৭২% মুনাফায়

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিমের গ্রাহকদের বিনিয়োগ মুনাফা বণ্টনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই অর্থবছরে বিনিয়োগের বিপরীতে সর্বনিম্ন ১১.৬৮ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১১.৭২ শতাংশ মুনাফা অর্জিত হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় বিনিয়োগ করা অর্থের বিপরীতে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে মোট ২৮ কোটি ৯৬ লাখ ৫৫ হাজার ৪৮ টাকা ৮০ পয়সা মুনাফা অর্জিত হয়েছে। কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ সভায় এই মুনাফা গ্রাহকদের মধ্যে বণ্টনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী, প্রত্যেক গ্রাহকের জমার পরিমাণ এবং জমার সময়কালের ভিত্তিতে অর্জিত মুনাফা তাদের নিজ নিজ পেনশন হিসাবে (করপাস হিসাবে) যোগ করার সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, "সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করা এবং গ্রাহকদের জমাকৃত অর্থের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও যৌক্তিক মুনাফা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ নিষ্ঠা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছে। মুনাফা বণ্টনের ফলে এ স্কিমের গ্রাহকেরা সরাসরি উপকৃত হবেন এবং কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।"

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের পেনশন হিসাবে অর্জিত মুনাফার হিসাব যোগ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%