০৯:২২ পি.এম
ঢাকা, ১৯ আগস্ট, ২০২৬ : সাভারের আশুলিয়ার বাসাইদ এলাকায় তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে জড়িত এক আসামিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেফতার করা যুবকের নাম আল-আমিন। তার বাড়ি খুলনার তেরখাদা উপজেলার নয়াবারাসাত গ্রামে। গ্রেফতারকালে তার কাছ থেকে নিহতের মোবাইল ফোন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার রাজধানীর উত্তরাস্থ পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার এম.এন. মোর্শেদ এসব তথ্য জানান। গত রোববার আশুলিয়া থানাধীন বাসাইদ মাছু সিটির সামনে একটি টিনশেড কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে বাড়ির মালিক বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা ভেঙে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। এরপর মামলাটি পিবিআইয়ের ঢাকা জেলা গ্রহণ করে ক্রাইমসিন টিম ও প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত মো. কামরুল খান (৫৪) খুলনার তেরখাদা উপজেলার নয়াবারাসাত এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় নিহতের মামাতো ভাই মো. জামিল শেখ বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এম. এন. মোর্শেদ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আল-আমিনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে পিবিআই খুলনা এবং তেরখাদা থানা পুলিশের সহযোগিতায় সোমবার দুপুরে খুলনার তেরখাদা উপজেলার নয়াবারাসাত গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনাস্থলের বাথরুমের প্যানের ভেতর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়। আল-আমিন ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। পুলিশ সুপার আরও বলেন, নিহত কামরুল ও আল-আমিন আগে থেকেই পরিচিত ছিলেন। কাজের সন্ধানে তারা খুলনা থেকে ঢাকার আশুলিয়ায় এসে একই কক্ষে ভাড়া নেন। টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৪ আগস্ট শুক্রবার রাতে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আল-আমিন ছুরি দিয়ে কামরুলের গলায় আঘাত করেন এবং গামছা দিয়ে গলা বেঁধে রাখেন। এতে ঘটনাস্থলেই কামরুলের মৃত্যু ঘটে। হত্যার পর আল-আমিন ছুরিটি বাথরুমে ফেলে কক্ষে তালা দিয়ে খুলনায় নিজের বাড়িতে চলে যান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন