০৪:২৩ পি.এম
মো. সোহাগ মিয়া এবং রহমতউল্লাহ মনির সৌদি আরবে গিয়ে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরা দুজন প্রায় ৯ মাস আগে সৌদি আরবে গেছেন এবং ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। প্রতারণার বিষয়ে তাদের অভিযোগ রয়েছে।
সোহাগ মিয়ার বাড়ি নওপাড়া গ্রামে এবং রহমতউল্লাহ মনিরের বাড়ি দক্ষিণ সাটিহারী গ্রামে। সৌদি আরব যাওয়ার পর আকামা এবং কাজের আশ্বাস দিয়ে তাদের সেখানে নেওয়া হলেও এখনো কিছুই দেওয়া হয়নি। এর ফলে তারা বিদেশে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠের প্রতিবেদকের সাথে কথা বলে নিজেদের দুর্ভোগের কথা জানায় সোহাগ ও রহমতউল্লাহ। তারা জানান, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বটতলা কুল্লাপাড়া গ্রামের আশরাফুল ইসলাম সৌদি আরবে থাকেন এবং ৯ মাস আগে তার মাধ্যমে সৌদি আরবে যান তারা।
আরও পড়ুন: ত্যাগীদের মধ্য থেকে একজনকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি মোঃ ফারুক আলীর
ভুক্তভোগীদের মতে, আশরাফুল সৌদি আরবে তার বাবা বিল্লাল হোসেনের মাধ্যমে মানবসম্পদ পাঠানোর কাজ করেন। ৯ মাস আগে, সোহাগ ও মনিরসহ অন্যান্যদের সে দেশের জন্য নিয়ে যাওয়ার জন্য বিল্লাল হোসনের কাছে প্রতি জন চার লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা করেন তারা। আশা ছিল, সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর তাদের কাজে লাগানো হবে এবং আকামা দেওয়া হবে। সোহাগের জন্য গাড়ি ধোয়ার কাজ এবং মনিরের জন্য ফুড ডেলিভারির কাজের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু সৌদি আরবে যাওয়ার পর দুই মাস পার হয়ে গেলেও আশরাফুল তাদের কোন কাজ দেননি। পরবর্তীতে তারা নিজেদের উদ্যোগে কার্পেট ধোয়ার কাজ সংগ্রহ করেন। তবে ৯ মাসেও আকামা না পাওয়ার কারণে তারা গোপনে সেখানে বসবাস ও কাজ করছেন। তারা উল্লেখ করেন যে, মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করার পরও প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
সোহাগ মিয়া বলেন, ‘আকামা না থাকায় আমরা ভালো কাজ পাই না এবং কাজের সঠিক মূল্য পাই না। পুলিশ ভয়ের কারণে আমরা ঘর থেকে বের হতে পারি না। বাজার করতে যেতে পারি না এবং অসুস্থ হলে ডাক্তারের কাছে যেতে পারি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী আকামা না থাকলে পুলিশ গ্রেপ্তার করে এক মাসের জেল দেয় এবং এক মাস জেলে থাকার পর তাদের দেশে পাঠিয়ে দেয়।’
রহমতউল্লাহ মনির জানান, ‘আমাকে নিয়ে যাওয়ার দুই মাস পর আশরাফুল একটি কাজ দিয়েছিল। কিন্তু আকামা না থাকার কারণে সে তার খালাতো ভাইয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে টাকা পরিশোধ করে। আমার প্রথম মাসের কাজের জন্য কমপক্ষে এক লাখ টাকা ছিল, কিন্তু সেই অ্যাকাউন্ট থেকে আমাকে কম টাকাই দেওয়া হয়।’
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে টাঙ্গুয়ার হাওরে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত
ভুক্তভোগী সোহাগ ও মনিরের দাবি, তারা সৌদি আরবে যাওয়ার আগে সব টাকা বিল্লালের কাছে দিয়েছিলেন এবং টাকা বাকি থাকার অভিযোগ সঠিক নয়। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার স্থানীয়রা এই বিষয়টির সালিসের আয়োজন করেছিলেন, কিন্তু আশরাফুলের বাবা বিল্লাল হোসেন সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
এ বিষয়ে সৌদি আরবে থাকা আশরাফুলের সাথে যোগাযোগ করা চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে তার বাবা বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আশরাফুল যাদের সৌদি আরবে নিয়েছে, তাদের কিছু টাকা বাকি আছে। এজন্য আকামা দেওয়া হয়নি। টাকা পাওয়ার পর তাদের আকামা দেওয়া হবে।’
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম জানান, ‘এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন: ফেনীতে যুবদলের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা নিলেন ১০০-এরও বেশি নারী-পুরুষ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন