ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
সিএমজেএফ ও সিএফএ সোসাইটির সেমিনার

ব্যাংকিং খাতের সংকট মোকাবিলায় সুশাসন ও আইনি সংস্কার প্রয়োজন


ব্যাংকিং খাতের সংকট মোকাবিলায় সুশাসন ও আইনি সংস্কার প্রয়োজন

দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে সংকটের মধ্যে রয়েছে। মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকট এবং খেলাপি ঋণ (এনপিএল) প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই সমস্যাগুলোর সমাধানে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আইনি সংস্কার অপরিহার্য বলে মনে করা হচ্ছে।

শনিবার রাজধানীর আলরাজী কমপ্লেক্সে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস’ ফোরাম (সিএমজেএফ) এবং সিএফএ সোসাইটি বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এ বিষয়ে আলোচনা করেন।

সিএমজেএফের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারের মূল বিষয় ছিল ব্যাংকিং খাতের আর্থিক অবস্থা মূল্যায়ন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান।

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল প্রকল্প ডিসেম্বরে চালুর পথে, ২২ জেলার যান চলাচল উন্নত হবে

সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন সিএমজেএফের সভাপতি মো. মনির হোসেন। মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজের গবেষণা প্রধান সাকিব চৌধুরী এবং সোনালী ব্যাংকের সিএফও ইকবাল হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিএফএ সোসাইটি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মাহতাব উর রহমান (ওসমানী)।

বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন নর্থ স্টার ইনভেস্টমেন্টসের চেয়ারম্যান মিনহাজ জিয়া। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিএসজেএফের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব রাসেল।

এ সময় বক্তারা দেশের ব্যাংক খাত সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা তুলে ধরেন।

সৈয়দ মাহবুবুর রহমান মন্তব্য করেন, কেবল সুদের হার বা সরকারি সিকিউরিটিজে আমানত রেখে ব্যাংকের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, গত কয়েক বছরে বৈদেশিক মুদ্রা এবং সরকারি সিকিউরিটিজ থেকে ব্যাংকগুলো মুনাফা অর্জন করেছে। তবে ব্যাংকের মূল কাজ অর্থাৎ ঋণ বিতরণ থেকে আয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রকৃত সুদ আয় (নেট ইন্টারেস্ট ইনকাম) কমে যাওয়ায় এটি পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্য উদ্বেগজনক।

আরও পড়ুন: স্বর্ণের দামে ফের পতন, বাজারে বাড়ছে চাপ

তিনি আরও জানান, ২০০৮ সালে দেশের ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণ ছিল প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা, যা বর্তমানে ৬ লাখ কোটি টাকার বেশি হয়ে গেছে। কাগজে-কলমে খেলাপি ঋণ ১৫ শতাংশ দেখানোর চেষ্টা করা হলেও নীতিসহায়তায় থাকা ঋণ যোগ করলে এটি ৩২ শতাংশের বেশি হয়ে যায়।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড ‘আইএফআরএস-৯’ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলে ব্যাংকগুলোর প্রভিশনিং বাধ্যবাধকতা অনেক বেড়ে যাবে।

এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ব্যাংকের প্রায় ৭৫ শতাংশ খরচই অনিয়ন্ত্রণযোগ্য। এর মধ্যে রয়েছে—ভাড়া, চাকরিজীবীদের বেতন এবং বিমা ইত্যাদি। তিনি উল্লেখ করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে দীর্ঘমেয়াদে দক্ষতা বৃদ্ধি সম্ভব। তবে হঠাৎ করে পরিচালন ব্যয় কমানো সম্ভব নয়।

এছাড়া ব্যাংক একীভূতকরণ (মার্জার) বিষয়ে তিনি বলেন, একটি ভালো ব্যাংকের সঙ্গে অন্য ব্যাংকের প্রযুক্তির সমন্বয়ের জন্য মার্জার হতে পারে। কিন্তু একাধিক দুর্বল ব্যাংককে একত্রিত করলে কোনো সুফল পাওয়া যাবে না।

আরও পড়ুন: বিশ্বে তেল পরিবহনের ভাড়া ১৭ ডলার বেড়ে ২০ ডলারে পৌঁছেছে

মাহতাব উর রহমান (ওসমানী) বলেন, সহজ ভাষায় ব্যাংকিং খাতের আর্থিক অবস্থা ও ক্যাপিটাল এডিকোয়েসি সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট করা জরুরি। তিনি বলেন, ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি বা আর্থিক সচেতনতা বাড়ানো গেলে সাধারণ বিনিয়োগকারী ও আমানতকারীরা গুজবে কান না দিয়ে সঠিক তথ্য জানতে পারবেন।

মূলপ্রবন্ধে দেশের ব্যাংক খাত নিয়ে কিছু ভুল ধারণার ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়। প্রথমত বিনিয়োগ আয় বনাম ঋণ বিতরণের মাধ্যমে আয়। প্রচলিত ধারণা হলো ব্যাংকগুলো ঋণ না দিয়ে শুধু সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ থেকে বেশি আয় করছে। তবে বাস্তবে বিনিয়োগ আয় হিসাব করা হয় মোট হিসাবে, আর ঋণের আয় হিসাব করা হয় আমানতের সুদ বাদ দিয়ে নিট হিসাবে।

নর্থ স্টার ইনভেস্টমেন্টসের চেয়ারম্যান মিনহাজ জিয়া বলেন, দেশে মোট সঞ্চয়ের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই ব্যাংক খাতে জমা থাকে। পুঁজিবাজার বা অন্য খাতের অবদান সেখানে খুবই সামান্য। ফলে ব্যাংকিং খাত ভেঙে পড়লে দেশের পুরো অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়বে।

আরও পড়ুন: মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির নিচে, সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতি ৮.৩৪%

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অল্পের জন্য রক্ষা পেল চীন-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ, ভুল গোয়েন্দা তথ্যের কারণে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:২৪ পি.এম


অল্পের জন্য রক্ষা পেল চীন-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ, ভুল গোয়েন্দা তথ্যের কারণে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) তৈরি একটি ভুল গোয়েন্দা খবরের ভিত্তিতে মার্কিন সেনাবাহিনী চীনের একটি জাহাজে হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে একটি বড় যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

চলতি বছরের বসন্তকালে ইরান যুদ্ধ চলাকালীন মার্কিন সামরিক বাহিনীতে একটি ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়ে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চীনের একটি জাহাজে পারমাণবিক অস্ত্রের বিভিন্ন সরঞ্জাম রয়েছে। এই খবর পাওয়ার পর মার্কিন বাহিনী দ্রুত জাহাজটি আটকানোর জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। সামরিক বিমান আকাশে উড়ানো হয় এবং সেনাসদস্যরা জাহাজটিতে ওঠার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে যান।

কিন্তু ঠিক অপারেশন শুরু হওয়ার আগে কর্মকর্তারা গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি বিস্তারিতভাবে যাচাই করেন। তখনই জানা যায় যে, প্রতিবেদনটি কোনো মানুষের তৈরি নয়, বরং একটি এআই চ্যাটবট দ্বারা তৈরি হয়েছিল এবং এটি সম্পূর্ণ ভুল তথ্য দিয়ে জাহাজটিকে ভুলভাবে চিহ্নিত করেছিল।

একজন কর্মকর্তা জানান, "খবরটি পুরোপুরি ভুয়া ছিল এবং এর কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ লেগে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।"

বর্তমানে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ এআই ব্যবহারের জন্য নতুন কৌশলও গ্রহণ করেছেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিচ্ছেন যে, যুদ্ধক্ষেত্রের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল পরিবেশে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারে এখনও পুরোপুরি পরীক্ষা করা হয়নি, যা বিপজ্জনক হতে পারে। তরুণ কর্মকর্তারা অনেক সময় অন্ধভাবে এআই-এর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন, ফলে ভবিষ্যতে এমন মারাত্মক ভুল এড়াতে বড় ধরনের সতর্কতা প্রয়োজন।

সূত্র: সিএনএন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপি জনগণের সাথে বেইমানি করেছে: জামায়াত আমির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:২৪ পি.এম


বিএনপি জনগণের সাথে বেইমানি করেছে: জামায়াত আমির

১১ দলীয় ঐক্যের ৭ দফা দাবির সমর্থনে ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশ্যে লংমার্চের অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, বিএনপি যদি আজকের আট দফা দাবি মেনে না নেয়, তাহলে এই আন্দোলন এক দফায় পরিণত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, "চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বিএনপি জনগণের সাথে বেইমানি করেছে। জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করছে।"

তিনি আরও বলেন, সারাদেশে দখলদারি, চাঁদাবাজি, লুটপাট ও সন্ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। জুলাই মাসে দাবি ছিল দেশের সংস্কার, গণহত্যার বিচার এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন। কিন্তু বিএনপি জুলাই চেতনা পদদলিত করে একচেটিয়া দলীয় করণ করেছে। তিনি সতর্ক করেন যে, "ফ্যাসিবাদের পথেই হাটছে। যা চলতে দেয়া যায় না। জনগণের গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আপনাদের বাধ্য করা হবে।"

গতকাল শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল গোল চত্ত্বর এলাকায় প্রচণ্ড তাপদাহ উপেক্ষা করে লংমার্চের জনসভায় হাজারো মানুষের ঢল নামে। সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা শাহিনুর আলম-এর সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্ণেল অলি আহমেদ বীর বিক্রম, এনসিপির আহবায়ক ও সংসদে বিরোধী দলের চীপ হুইপ নাহিদ ইসলাম, খেলাফত মজলিসের চেয়ারম্যান আল্লামা মামুনুল হক, এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, ঢাকা দক্ষিণ জামায়াতের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বিরোধী দলের হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার, জামায়াতের নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবারপার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মূখ্য সচিব সারজিস আলম সহ জাতীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে লংমার্চ শুরু করে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান পথসভা করতে করতে দুপুর দুইটায় সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলের জনসভায় পৌঁছান। মঞ্চে উঠেই তিনি জনতার উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে বলেন, "কাঠফাটা রোদের মধ্যে আপনাদের দাঁড়িয়ে থাকাই প্রমাণ করে আট দফা দাবি আদায়ে আপনারা প্রস্তুত আছেন। এটা দেখে আমাদের আস্থা বেড়ে গেলো। আট দফা দাবি না মানলে এক দফার জন্য আপনারা প্রস্তুত হোন। দেখা হবে রাজপথে ইনশাআল্লাহ।" গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ৭ দফা দাবিতে ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর এই কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের দাবির প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

জামায়াত নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম মন্তব্য করেন, "জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান দেখানো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান শর্ত। জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব রয়েছে।" বিএনপি সেই দায়িত্ব পালন করছে না বলে অভিযোগ করেন অলি আহমেদ বীর বিক্রম।

এনসিপি আহবায়ক ও সংসদে বিরোধী দলের চীপ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা ৭০ ভাগ মানুষ গণভোটের রায় দিয়েছিলাম। ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে কর্মসংস্থান করার কথা বলেিছলেন, কিন্তু সেটা কি হয়েছে? হয় নাই। বিদ্যূত সংকট, গ্যাস সংকট, সার সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ চালানোর পায়তারা করছেন। আমরা বারবার জুলাইয়ে জনগণের রায় বাস্তবায়নের কথা বলেছি। কিন্তু বিএনপি নানা অজুহাতে তা করছে না। সংসদে প্রতিবাদ ও রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি তুলে ধরার পরও যদি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হয়, তাহলে রাজপথে কর্মসূচি দেয়ার বিকল্প থাকে না। সেই ধারাবাহিকতায় ১১ দলীয় জোটসহ আমরা রাস্তায় নেমেছি। জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আমরা ঢাকা-রংপুর লংমার্চ পালন করছি। আমরা শান্তিপূর্ণ লংমার্চ পালন করছি। লংমার্চে বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করলে জনগণ দাঁতভাঙা জবাব দেবে।

লংমার্চের দিন সকাল সাড়ে আটটা থেকেই সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন ইউনিট থেকে মিছিল সহকারে মহাসড়কে এসে অবস্থান নেন। দুপুর ১২টার মধ্যে জনসভায় কানায় কানায় পূর্ণতা পায়। প্রচণ্ড তাপদাহের মধ্যে পাঁকা মহাসড়কের ওপর লাখো মানুষ অপেক্ষা করতে থাকে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য শোনার জন্য। দুপুর ২টা ১০ মিনিটের সময় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষ করে রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভৈরবে রেললাইনের জয়েন্টের নাটবল্টু চুরি, ১৪টি নাট উদ্ধার স্থানীয়দের হাতে যুবক আটক, রেলপথের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাহিন আলম, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৪২ পি.এম


ভৈরবে রেললাইনের জয়েন্টের নাটবল্টু চুরি, ১৪টি নাট উদ্ধার স্থানীয়দের হাতে যুবক আটক, রেলপথের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার রেলওয়ে জংশন এলাকায় রেললাইনের জয়েন্টের নাট খুলে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের হাতে আশিক মিয়া (৩০) নামে এক যুবক আটক হয়েছেন। পরে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার হেফাজত থেকে রেললাইনের জয়েন্টের ১৪টি নাট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভৈরব বাজার রেলওয়ে জংশন এলাকার রেললাইনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ থেকে নাট খুলে নিয়ে যাওয়ার সময় আশিক মিয়াকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে ১৪টি নাট উদ্ধার করা হয়।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের মতে, রেললাইনের জয়েন্টে ব্যবহৃত নাট-বল্টু লাইনের সংযোগ ও স্থিতিশীলতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব যন্ত্রাংশ খুলে ফেলা বা চুরি হলে রেলপথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ভৈরব বাজার রেলওয়ে জংশন দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেল যোগাযোগকেন্দ্রগুলোর একটি। এ জংশন দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন রুটের যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করে। ফলে রেললাইনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রেললাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থেকে যন্ত্রাংশ খুলে নেওয়ার ঘটনা রোধে নিয়মিত নজরদারি ও পরিদর্শন বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া নাটগুলো রেললাইনের কোন অংশ থেকে খোলা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আশিক মিয়ার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্ত করে চুরির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বীরগঞ্জের শ্রমজীবীদের ভরসা পুরনো কাপড়ের হাট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৯ পি.এম


বীরগঞ্জের শ্রমজীবীদের ভরসা পুরনো কাপড়ের হাট

হাটের এক কোণে পুরনো কাপড়ের স্তূপ দেখা যাচ্ছে। সেখানে ঝলমলে আলোকসজ্জা কিংবা নতুন পোশাকের বাহারি প্রদর্শনী নেই। তবুও ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্যণীয়। কেউ মাঠে কাজ করার জন্য একটি শার্ট খুঁজছেন, আবার কেউ গ্যারেজে ব্যবহারের জন্য একটি প্যান্ট খুঁজছেন।

কাপড়গুলো নতুন নয়, বরং ব্যবহৃত। তবে শ্রমজীবী মানুষের কাছে এগুলোই কাজের সময় ব্যবহারের জন্য উপযোগী পোশাক হিসেবে বিবেচিত।

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পৌর হাটে প্রতি বুধবার ও রবিবার এই দৃশ্য চোখে পড়ে। পুরনো কাপড়ের দোকানগুলো ঘিরে কৃষক, শ্রমিক ও ওয়ার্কশপ কর্মীদের ভিড় জমে। স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে সাশ্রয়ী দামে প্রয়োজনীয় কাজের পোশাক কেনার সুযোগ থাকায় এসব কাপড়ের চাহিদাও যথেষ্ট।

সম্প্রতি বীরগঞ্জ পৌরহাটে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি পুরনো শার্ট, টি-শার্ট, ফুলপ্যান্টসহ বিভিন্ন পোশাক সাজানো হয়েছে। ক্রেতারা ধৈর্য সহকারে কাপড় ঘেঁটে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী পোশাক বেছে নিচ্ছেন। কেউ দামদর করছেন, আবার কেউ পছন্দের কাপড় পেয়ে হাসিমুখে ফিরে যাচ্ছেন।

হাটে কাপড় কিনতে আসা কৃষিশ্রমিক হরেনের হাতে একটি পুরনো শার্ট রয়েছে। তিনি মাত্র ৩০ টাকা দিয়ে এটি কিনেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা মাঠে কাজ করি। ধানকাটা, ঘাস পরিষ্কার- জমিতে কাজ করতে গিয়ে কাপড় তাড়াতাড়ি নোংরা হয়ে যায়। নতুন কাপড় পরে কাজ করলে কয়েক দিনের মধ্যেই আর আগের মতো থাকে না। তাই কাজের জন্য পুরনো কাপড় কিনি।’

একই কথা বলেন স্থানীয় একটি গ্যারেজের কর্মী দীপু। তিনি জানান, ‘ভেপু গ্যারেজে সারাদিন তেল, গ্রিজ আর কালির মধ্যে কাজ করতে হয়। পোশাকে কালি ধরে নোংরা হয়, নতুন কাপড় পরে কাজ করা যায় না। তাই কাজের জন্য কম দামের পুরনো কাপড়ে সুবিধা হয়।’

পুরনো কাপড় বিক্রেতা মো. রবিউল ইসলাম জানান, তিনি সৈয়দপুর থেকে মানভেদে প্রতিপিস শার্ট ১৫ থেকে ২৫ টাকা এবং প্যান্ট প্রতি পিস ২০ থেকে ৩০ টাকায় সংগ্রহ করেন। এরপর বীরগঞ্জসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটে তিনি তা বিক্রি করেন। তার দোকানে শার্ট ৩০ থেকে ৫০ টাকা এবং ফুলপ্যান্ট ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়।

রবিউল বলেন, আমার বেশিরভাগ ক্রেতাই শ্রমজীবী মানুষ। অনেকেই শুধুমাত্র কাজের জন্য আলাদা কাপড় কিনে থাকেন। নতুন কাপড় নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে না বলে পুরনো কাপড়ের প্রতি তাদের আগ্রহ বেশি। এছাড়া একেবারে নিম্ন আয়ের মানুষও- যাদের নতুন কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই- এখান থেকে কম দামে কাপড় কিনে থাকেন।

স্থানীয়দের মতে, বীরগঞ্জের বিভিন্ন হাটে বহু বছর ধরে পুরনো নিলামি কাপড়ের ব্যবসা চলে আসছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যবসা শুধু টিকে থাকেনি, বরং শ্রমজীবী মানুষের চাহিদার কারণে আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ ছাড়া নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ কম দামে পুরনো কাপড় কিনে পোশাকের প্রয়োজন মেটাচ্ছেন। কেউ কর্মক্ষেত্রে আবার কেউ দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য এসব পোশাক বেছে নিচ্ছেন। ফলে পুরনো কাপড়ের বাজার সীমিত আয়ের মানুষের জন্য একটি ব্যবহারিক ও সাশ্রয়ী বিকল্প হয়ে উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%