প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
১১ দলীয় ঐক্যের ৭ দফা দাবির সমর্থনে ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশ্যে লংমার্চের অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, বিএনপি যদি আজকের আট দফা দাবি মেনে না নেয়, তাহলে এই আন্দোলন এক দফায় পরিণত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, "চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বিএনপি জনগণের সাথে বেইমানি করেছে। জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করছে।"
তিনি আরও বলেন, সারাদেশে দখলদারি, চাঁদাবাজি, লুটপাট ও সন্ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। জুলাই মাসে দাবি ছিল দেশের সংস্কার, গণহত্যার বিচার এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন। কিন্তু বিএনপি জুলাই চেতনা পদদলিত করে একচেটিয়া দলীয় করণ করেছে। তিনি সতর্ক করেন যে, "ফ্যাসিবাদের পথেই হাটছে। যা চলতে দেয়া যায় না। জনগণের গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আপনাদের বাধ্য করা হবে।"
গতকাল শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল গোল চত্ত্বর এলাকায় প্রচণ্ড তাপদাহ উপেক্ষা করে লংমার্চের জনসভায় হাজারো মানুষের ঢল নামে। সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা শাহিনুর আলম-এর সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্ণেল অলি আহমেদ বীর বিক্রম, এনসিপির আহবায়ক ও সংসদে বিরোধী দলের চীপ হুইপ নাহিদ ইসলাম, খেলাফত মজলিসের চেয়ারম্যান আল্লামা মামুনুল হক, এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, ঢাকা দক্ষিণ জামায়াতের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বিরোধী দলের হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার, জামায়াতের নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবারপার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মূখ্য সচিব সারজিস আলম সহ জাতীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে লংমার্চ শুরু করে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান পথসভা করতে করতে দুপুর দুইটায় সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলের জনসভায় পৌঁছান। মঞ্চে উঠেই তিনি জনতার উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে বলেন, "কাঠফাটা রোদের মধ্যে আপনাদের দাঁড়িয়ে থাকাই প্রমাণ করে আট দফা দাবি আদায়ে আপনারা প্রস্তুত আছেন। এটা দেখে আমাদের আস্থা বেড়ে গেলো। আট দফা দাবি না মানলে এক দফার জন্য আপনারা প্রস্তুত হোন। দেখা হবে রাজপথে ইনশাআল্লাহ।" গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ৭ দফা দাবিতে ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর এই কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের দাবির প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
জামায়াত নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম মন্তব্য করেন, "জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান দেখানো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান শর্ত। জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব রয়েছে।" বিএনপি সেই দায়িত্ব পালন করছে না বলে অভিযোগ করেন অলি আহমেদ বীর বিক্রম।
এনসিপি আহবায়ক ও সংসদে বিরোধী দলের চীপ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা ৭০ ভাগ মানুষ গণভোটের রায় দিয়েছিলাম। ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে কর্মসংস্থান করার কথা বলেিছলেন, কিন্তু সেটা কি হয়েছে? হয় নাই। বিদ্যূত সংকট, গ্যাস সংকট, সার সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ চালানোর পায়তারা করছেন। আমরা বারবার জুলাইয়ে জনগণের রায় বাস্তবায়নের কথা বলেছি। কিন্তু বিএনপি নানা অজুহাতে তা করছে না। সংসদে প্রতিবাদ ও রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি তুলে ধরার পরও যদি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হয়, তাহলে রাজপথে কর্মসূচি দেয়ার বিকল্প থাকে না। সেই ধারাবাহিকতায় ১১ দলীয় জোটসহ আমরা রাস্তায় নেমেছি। জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আমরা ঢাকা-রংপুর লংমার্চ পালন করছি। আমরা শান্তিপূর্ণ লংমার্চ পালন করছি। লংমার্চে বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করলে জনগণ দাঁতভাঙা জবাব দেবে।
লংমার্চের দিন সকাল সাড়ে আটটা থেকেই সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন ইউনিট থেকে মিছিল সহকারে মহাসড়কে এসে অবস্থান নেন। দুপুর ১২টার মধ্যে জনসভায় কানায় কানায় পূর্ণতা পায়। প্রচণ্ড তাপদাহের মধ্যে পাঁকা মহাসড়কের ওপর লাখো মানুষ অপেক্ষা করতে থাকে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য শোনার জন্য। দুপুর ২টা ১০ মিনিটের সময় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষ করে রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন