বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:৩৮ পি.এম
জেলার প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মধ্যে ইলিশের আমদানি কমে গেছে। তবে স্থানীয় জেলেদের আহোরিত ইলিশের দাম অত্যন্ত চড়া হয়ে উঠেছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। অনেক ক্রেতা দরদাম করেও ইলিশ কিনতে না পেরে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
বর্তমানে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা দরে। দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইলিশের আমদানি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন যে, আমদানি বৃদ্ধির সাথে সাথে দামও কমবে। মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ইলিশের আমদানি কমেনি, তবে গড়ে মাছের সাইজ ছোট হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা শহরের বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে। কিছু সময় ঘাটে অবস্থান করে লক্ষ্য করা গেছে, সড়ক ও নৌ পথে দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইলিশের কোনো আমদানি নেই। বর্তমানে শুধুমাত্র স্থানীয় পদ্মা-মেঘনার ইলিশ আসছে আড়তে, তবে তার সংখ্যা খুবই সীমিত।
সদরের আনন্দ বাজার এলাকার জেলে হাসেম খাঁ বলেছেন, নদীতে নামার পর কিছু ইলিশ মাছ পাওয়া যায়, তবে সংখ্যায় তা খুবই কম। জালে ধরা পড়ে অন্যান্য প্রজাতির মাছ, যা দিয়ে খরচ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। বহরিয়া এলাকার জেলে আজগর ঢালী জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে, এই সময় অন্যান্য বছর ইলিশের আমদানি কিছুটা বেশি ছিল। কিন্তু এবারে তা অনেকটাই কমেছে। বর্তমানে ছোট সাইজের ইলিশের পরিমাণও কমে গেছে এবং জালে ৬শ’ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বেশি পাওয়া যায়।
ইলিশের বাজার দর জানিয়ে হরিণা ফেরিঘাট সংলগ্ন মাছ ঘাটের আড়ৎদার মো. ইব্রাহীম ও আব্দুল মান্নান বলেছেন, ইলিশের সঙ্গে পাঙ্গাশ মাছ ধরা পড়ছে, তবে চাহিদা অনুযায়ী ইলিশের আমদানি কমে গেছে। গত বছরের একই মাসের তুলনায় ইলিশের দাম কেজি প্রতি ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা বেড়েছে।
একই ঘাটের আরেক আড়ৎ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর সৈয়াল জানিয়েছেন, ইলিশের দাম বেশি হওয়ার কারণে অনেক ক্রেতা দরদাম করে চলে যাচ্ছেন। গত বছর এই মাছ ঘাটে ইলিশ আনলেই বিক্রি হয়ে গেছে। বর্তমানে অনেক আড়তের ইলিশ শহরে পাঠানো হচ্ছে। শহরের নতুন বাজার থেকে আসা ক্রেতা আব্দুল বারেক বলেছেন, মাছ ঘাটে এসে দাম দেখে চলে যেতে হচ্ছে। কারণ ১ কেজি ইলিশের দাম দিয়ে ৩ কেজির বেশি গরুর মাংস পাওয়া যায়। ফলে চাঁদপুরে থেকেও ইলিশের স্বাদ গ্রহণ করতে পারছি না।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবে বরাত সরকার বাসসকে জানিয়েছেন, আষাঢ় মাসে ইলিশের আমদানি খুবই কম হয়ে থাকে। জ্যৈষ্ঠ মাসে প্রতিদিন ১ থেকে দেড়শ’ মণ ইলিশ আমদানি হলেও চলতি মাসে গড়ে প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ মণ ইলিশ আড়তে কেনাবেচা হচ্ছে।
তিনি জানিয়েছেন, ১ কেজি ওজনের ইলিশের দাম ২ হাজার ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা। ৭ থেকে ৯শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা এবং ৪শ’ গ্রাম থেকে ৬শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ১ হাজার ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে যদি আমদানি বৃদ্ধি পায়, তাহলে দামও কমবে।
চাঁদপুর সদরের জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বাসসকে বলেছেন, ইলিশের আমদানি সংখ্যা কমেনি। তবে জেলেদের জালে যেসব ইলিশ ধরা পড়ছে, তাদের গড় ওজন ও সাইজ ছোট। এই কারণে উৎপাদনের পরিমাণ কিছুটা হ্রাস পেতে পারে, তবে তা খুব বেশি নয়।
তিনি আরও জানিয়েছেন, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষা করার কারণে গত কয়েক বছরে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে। আগামীতে আরও বাড়বে যদি নদীর প্রবাহ ঠিক থাকে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়, নদীতে ডুবুচর, ইলিশের খাবার সংকটসহ নানা কারণে বর্তমানে পদ্মা-মেঘনায় ইলিশের বিচরণ কমে গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপের মঞ্চে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আবারও আলোচনায় এসেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়কের ভূমিকা পালন করা হ্যারি কেন। মাঠে গোল করে যেভাবে তিনি দলের জন্য ভরসা হয়ে উঠেছেন, তেমনি মাঠের বাইরের দীর্ঘদিনের প্রেমের গল্পও ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
নকআউট পর্বে কঙ্গোর বিরুদ্ধে পিছিয়ে থেকেও কেনের জোড়া গোলে ইংল্যান্ড নিশ্চিত করে শেষ ষোলোতে জায়গা। মাঠের এই নায়কত্বের সাথে সাথে আসছে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও আলোচনা, বিশেষ করে কেটি গুডল্যান্ডের সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পর্ক বিষয়ে।
হ্যারি কেন এবং কেটি গুডল্যান্ডের প্রথম পরিচয় পূর্ব লন্ডনের লার্কসউড প্রাইমারি স্কুলে। ওই সময় কেনের বয়স ছিল ১২ বছর এবং কেটির বয়স ছিল ১১। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে চিংফোর্ড ফাউন্ডেশন স্কুলের সফরে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ডেভিড বেকহ্যাম এই দুই শিক্ষার্থীর সাথে একটি ছবি তোলেন। স্কুলজীবনের বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে আরও গভীর হতে থাকে এবং ২০১২ সালে তারা প্রেমের সম্পর্কে জড়ান।
খ্যাতির চাপ সম্পর্ককে কতটা কঠিন করে তুলতে পারে, সেই ব্যাপারে একাধিকবার খোলামেলা আলোচনা করেছেন হ্যারি কেন। তার মতে, তারকা হয়ে ওঠার পর তিনি বোঝেন কারা স্বার্থের জন্য কাছে আসে এবং কারা সত্যিকারের ভালোবাসার টানে পাশে থাকে, এ বিষয়টা বোঝা কঠিন। তাই ছোটবেলার ভালোবাসাকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়াকে তিনি নিজের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য বলে মনে করেন।
কেন বলেন, "আমি ভাগ্যবান যে আমার ছোটবেলার ভালোবাসাকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়েছি। সে আমার পুরো ক্যারিয়ার খুব কাছ থেকে দেখেছে।"
১৯৯৩ সালের ২১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করা কেটি গুডল্যান্ড লন্ডনের মিডলসেক্স ইউনিভার্সিটি থেকে ২০১৪ সালে স্পোর্টস সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি একজন পেশাদার ফিটনেস কোচ এবং ট্রেনার।
২০১৭ সালে বাহামাসে অবকাশযাপনের সময় এই জুটি বাগদান সম্পন্ন করেন। এরপর ২০১৯ সালের গ্রীষ্মে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের সময় কেটিকে হ্যারি কেন নিজের সেরা বন্ধু এবং সোলমেট বলে অভিহিত করেছিলেন।
বর্তমানে চার সন্তানের বাবা-মা এই দম্পতি। তাদের সন্তানের নাম হলো আইভি জেন, ভিভিয়েন জেন, লুই হ্যারি এবং হেনরি এডওয়ার্ড। কেনের মতে, পরিবার এবং কেটির নিরন্তর সমর্থনই তাকে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সফল হতে এবং খ্যাতির মাঝেও মাটির কাছাকাছি থাকতে সাহায্য করেছে।
লার্কসউড প্রাইমারি স্কুলের বন্ধুত্ব থেকে শুরু হয়ে আজীবনের দাম্পত্যে রূপ নেওয়া হ্যারি কেন ও কেটি গুডল্যান্ডের প্রেমকাহিনী প্রমাণ করে, বিশ্বজোড়া খ্যাতি ও চাপের মধ্যে সত্যিকারের ভালোবাসা টিকে থাকতে পারে। মাঠে শিরোপার লড়াই যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক, ব্যক্তিগত জীবনে ছোটবেলার ভালোবাসাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়া হয়তো হ্যারি কেনের সবচেয়ে বড় অর্জন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের একটি জাতিগত বিদ্বেষের ঘটনা শেয়ার করে ডাবলিনপ্রবাসী ভারতীয় লেখিকা নিবেদিতা শুক্লা বিষয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে এক ক্ষুধার্ত পাকিস্তানি যাত্রীকে শুধু তার দেশের পরিচয়ের কারণে খাবার না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন এই লেখিকা।
গত ২৯ জুন দ্য হিন্দুস্থান টাইমসের একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে এ তথ্য জানা যায়। জানা গেছে, ওই পোস্টে পাকিস্তানি নাগরিকের প্রতি নিজের চরম বৈষম্যমূলক এবং অমানবিক আচরণের কথা প্রকাশ করতেই ইন্টারনেটে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ‘দ্য মোমেন্টোস অব রুনঝ’ বইয়ের এই লেখিকা।
জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে নিজের ১০ ঘণ্টার একটি ট্রানজিটের অভিজ্ঞতার কথা এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে নিয়ে আলোচনা করেন নিবেদিতা। তিনি জানাচ্ছেন, বিমানবন্দরে তিনি এমন একজন ব্যক্তিকে দেখতে পান, যাকে দেখে তার আর্থিকভাবে অসচ্ছল মনে হয়। সহানুভূতিশীল হয়ে তিনি নিজের সঙ্গে থাকা খাবার নিয়ে ওই ব্যক্তির দিকে এগিয়ে যান। কথোপকথনের শুরুতে নিবেদিতা হিন্দিতে জিজ্ঞেস করেন, তিনি ডাবলিন থেকে এসেছেন কিনা। ব্যক্তিটি ইতিবাচক উত্তর দেন। এরপর যখন নিবেদিতা জানতে চান তার গন্তব্য কোথায়, তখন ব্যক্তিটি উত্তর দেন— করাচি, পাকিস্তান। আর এই উত্তর শোনার পরই তিনি খাবার না দিয়েই ঘুরে দাঁড়ান এবং নিজের আসনে ফিরে আসেন বলে দাবি করেন। শুধু তাই নয়, নিজের এক্স পোস্টটি তিনি শেষ করেন ‘যা মর’ (যাও, গিয়ে মরো) নামক একটি চরম আপত্তিকর ও নিষ্ঠুর হিন্দি বাক্যাংশ দিয়ে।
নিবেদিতার এই পোস্টটি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে দ্রুত ভাইরাল হয় এবং প্রায় ১৮ লাখ মানুষ এটি দেখেন। নিজের এমন বর্বর ও বিদ্বেষপূর্ণ আচরণকে কৃতিত্ব হিসেবে প্রচার করায় নেটিজেনদের তোপের মুখে পড়েছেন এই লেখিকা।
রোহিণী সিং নামের একজন লিখেছেন, ভারতীয়রা যদি এমন জঘন্য আচরণ করে এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃতিত্ব হিসেবে শেয়ার করে, তবে মানুষের মনে ভারতীয়দের প্রতি কেন ঘৃণা বাড়ছে, তা নিয়ে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
ইরেনা আকবর নামে অপর একজন লিখেছেন, এই আচরণের মাধ্যমে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন কেন ভারতীয়দের প্রতি ঘ hatred হয়। নিজের আচরণ দিয়েই তিনি নিজেই সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিলেন।
কেউ কেউ বিষয়টিকে মনস্তাত্ত্বিক ‘প্রোজেকশন’ হিসেবে উল্লেখ করে লিখেছেন, আপনার প্রতিটি অভিযোগই আসলে আপনার নিজের চরিত্রের স্বীকারোক্তি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকা থেকে ফুটপাত দখল এবং রাস্তার উপরে পার্কিং করার অপরাধে পুলিশ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে, যাহাতে রাস্তা দখল করে গড়ে ওঠা দোকান এবং রাস্তার পার্কিংয়ের কারণে ১৫ জন দোকানদার এবং অটোরিকশা ড্রাইভারদের আটক করে। তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে জেল এবং জরিমানা প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছেন, এই অভিযানটি এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য যানজট নিরসন করার উদ্দেশ্যে পরিচালনা করা হয়েছে। সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাতের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে। গ্রেপ্তারকৃত ১৪ জনকে বিনাশ্রমের কারাদণ্ড এবং একজনকে সড়ক পরিবহন আইনে জরিমানা করা হয়েছে। এই অভিযানে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ারসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ এবং বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ইউএনও আসিফ আল জিনাত বলেন, উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ফিডার রোডে অবৈধভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে এবং রাস্তার উপর অটোরিকশা পার্কিং বন্ধ করতে বিভিন্ন সময় অভিযান এবং মাইকিং করা হয়। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, ওই এলাকায় অটোরিকশার জন্য আলাদা জায়গা থাকা সত্ত্বেও তারা রাস্তার ওপর পার্কিং করে রাখে। তাদের সচেতন করার জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যান ও বিএনপির নেতাদের মাধ্যমে চেষ্টা করা হয়। তবে তারা আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করছে না। বুধবার (১ জুলাই) তাদের এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে জানালে তাতেও তারা সচেতন হয়নি। ফলে বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং একজনকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। তিনি আরো জানান, আজকের অভিযান একটি সতর্কতামূলক অভিযান। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং পরবর্তী অভিযানে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সোনারগাঁ থানার ওসি গোলাম সারোয়ার জানালেন, মোগরপাড়া চৌরাস্তার দুপাশে নিয়মিত যানজট সৃষ্টি হয়। এই যানজট বন্ধ করার উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালিত হয়েছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থাপূর্বক সাজাপ্রাপ্তদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের আলোচিত টিকটকার আলী হায়দরাবাদী তার স্ত্রী জয়নাব আলীকে তালাক দেওয়ার মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার কারণে ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়েছেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডেইলি পাকিস্তানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে আলীকে তার ভাইদের উপস্থিতিতে জয়নাবকে উদ্দেশ্যে করে বলতে শোনা যায়, আমি আমার ভাইদের সামনে তোমাকে তালাক দিচ্ছি। এরপরেই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিও প্রকাশের পরে জয়নাব আলীও একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। সেখানে তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় দেখা যায়। তিনি পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের কাছে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়ে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের কাছে আমার আবেদন, আমাকে এই দানবের হাত থেকে বাঁচান। অনুগ্রহ করে আমাকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিন। আমার জীবন চরম বিপদের মধ্যে রয়েছে।
জয়নাবের অভিযোগ, তালাক দেওয়ার পাশাপাশি আলী বলেছেন তাকে গুরুতর পরিণতির ভয় দেখিয়েছেন। তার দাবি, আলী বলেছেন যে তার লাখ লাখ অনুসারী এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে, যার প্রভাব খাটিয়ে তার ক্ষতি এমনকি হত্যাও করা হতে পারে।
এসব অভিযোগ সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টিকটকার আলী হায়দরাবাদী। পরে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় হাতে পবিত্র কুরআন নিয়ে তিনি জয়নাবের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।
শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের জবাবে আলী বলেন, তিনি কখনোই জয়নাবের হাত বা আঙুল ভাঙেননি। এছাড়া তালাকের ভিডিও ধারণের বিষয়ে তার দাবি, এটি সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের উদ্দেশ্যে নয়; বরং ভবিষ্যতের প্রয়োজনে প্রমাণ হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছিল।
আলীর ভাষ্য, তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন আগে থেকেই তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। এ কারণেই তিনি তালাকের পুরো প্রক্রিয়া ভিডিওতে ধারণ করেন।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, জয়নাবের পরিবার তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে। এ ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করে আলী বলেন, আমি কখনোই ভাবিনি যে জয়নাব এত নিচে নামতে পারে।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত বা আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ