প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জেলার প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মধ্যে ইলিশের আমদানি কমে গেছে। তবে স্থানীয় জেলেদের আহোরিত ইলিশের দাম অত্যন্ত চড়া হয়ে উঠেছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। অনেক ক্রেতা দরদাম করেও ইলিশ কিনতে না পেরে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
বর্তমানে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা দরে। দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইলিশের আমদানি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন যে, আমদানি বৃদ্ধির সাথে সাথে দামও কমবে। মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ইলিশের আমদানি কমেনি, তবে গড়ে মাছের সাইজ ছোট হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা শহরের বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে। কিছু সময় ঘাটে অবস্থান করে লক্ষ্য করা গেছে, সড়ক ও নৌ পথে দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইলিশের কোনো আমদানি নেই। বর্তমানে শুধুমাত্র স্থানীয় পদ্মা-মেঘনার ইলিশ আসছে আড়তে, তবে তার সংখ্যা খুবই সীমিত।
সদরের আনন্দ বাজার এলাকার জেলে হাসেম খাঁ বলেছেন, নদীতে নামার পর কিছু ইলিশ মাছ পাওয়া যায়, তবে সংখ্যায় তা খুবই কম। জালে ধরা পড়ে অন্যান্য প্রজাতির মাছ, যা দিয়ে খরচ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। বহরিয়া এলাকার জেলে আজগর ঢালী জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে, এই সময় অন্যান্য বছর ইলিশের আমদানি কিছুটা বেশি ছিল। কিন্তু এবারে তা অনেকটাই কমেছে। বর্তমানে ছোট সাইজের ইলিশের পরিমাণও কমে গেছে এবং জালে ৬শ’ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বেশি পাওয়া যায়।
ইলিশের বাজার দর জানিয়ে হরিণা ফেরিঘাট সংলগ্ন মাছ ঘাটের আড়ৎদার মো. ইব্রাহীম ও আব্দুল মান্নান বলেছেন, ইলিশের সঙ্গে পাঙ্গাশ মাছ ধরা পড়ছে, তবে চাহিদা অনুযায়ী ইলিশের আমদানি কমে গেছে। গত বছরের একই মাসের তুলনায় ইলিশের দাম কেজি প্রতি ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা বেড়েছে।
একই ঘাটের আরেক আড়ৎ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর সৈয়াল জানিয়েছেন, ইলিশের দাম বেশি হওয়ার কারণে অনেক ক্রেতা দরদাম করে চলে যাচ্ছেন। গত বছর এই মাছ ঘাটে ইলিশ আনলেই বিক্রি হয়ে গেছে। বর্তমানে অনেক আড়তের ইলিশ শহরে পাঠানো হচ্ছে। শহরের নতুন বাজার থেকে আসা ক্রেতা আব্দুল বারেক বলেছেন, মাছ ঘাটে এসে দাম দেখে চলে যেতে হচ্ছে। কারণ ১ কেজি ইলিশের দাম দিয়ে ৩ কেজির বেশি গরুর মাংস পাওয়া যায়। ফলে চাঁদপুরে থেকেও ইলিশের স্বাদ গ্রহণ করতে পারছি না।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবে বরাত সরকার বাসসকে জানিয়েছেন, আষাঢ় মাসে ইলিশের আমদানি খুবই কম হয়ে থাকে। জ্যৈষ্ঠ মাসে প্রতিদিন ১ থেকে দেড়শ’ মণ ইলিশ আমদানি হলেও চলতি মাসে গড়ে প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ মণ ইলিশ আড়তে কেনাবেচা হচ্ছে।
তিনি জানিয়েছেন, ১ কেজি ওজনের ইলিশের দাম ২ হাজার ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা। ৭ থেকে ৯শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা এবং ৪শ’ গ্রাম থেকে ৬শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ১ হাজার ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে যদি আমদানি বৃদ্ধি পায়, তাহলে দামও কমবে।
চাঁদপুর সদরের জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বাসসকে বলেছেন, ইলিশের আমদানি সংখ্যা কমেনি। তবে জেলেদের জালে যেসব ইলিশ ধরা পড়ছে, তাদের গড় ওজন ও সাইজ ছোট। এই কারণে উৎপাদনের পরিমাণ কিছুটা হ্রাস পেতে পারে, তবে তা খুব বেশি নয়।
তিনি আরও জানিয়েছেন, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষা করার কারণে গত কয়েক বছরে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে। আগামীতে আরও বাড়বে যদি নদীর প্রবাহ ঠিক থাকে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়, নদীতে ডুবুচর, ইলিশের খাবার সংকটসহ নানা কারণে বর্তমানে পদ্মা-মেঘনায় ইলিশের বিচরণ কমে গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন