ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কলকাতায় ৯১৯টি হোটেল বন্ধের নোটিশ জারি করেছে সরকার


কলকাতায় ৯১৯টি হোটেল বন্ধের নোটিশ জারি করেছে সরকার

বীরভূমের তারাপীঠ ও কলকাতার নিউমার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাত বাংলাদেশিসহ মোট ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যজুড়ে কঠোর অভিযান শুরু করেছে। পৌরনিগম (পৌরসভা) কলকাতার ৯১৯টি আবাসিক হোটেল ও গেস্টহাউস বন্ধের নোটিশ জারি করেছে, কারণ যৌথ পরিদর্শনে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থায় ত্রুটি এবং বৈধ লাইসেন্সের অভাব দেখা গেছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পৌর কমিশনার স্মিতা পান্ডে এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পালিত খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহের অংশ হিসেবে পার্ক স্ট্রিট, ট্যাংরা ও বড়বাজারের বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে পচা মাংস এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে ৪০টি খাবারের দোকানের লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে।

স্মিতা পান্ডে আরও বলেন, ‘কলকাতায় প্রায় ৩ হাজার ৭০০ গেস্টহাউস বা লজ রয়েছে। এর মধ্যে ৯৬০টি গেস্টহাউসে পৌরনিগম, ফায়ার সার্ভিস এবং সিইএসসি-র যৌথ দল পরিদর্শন করেছে। ৯৬০টি গেস্ট হাউসের মধ্যে ৯১৯টি গেস্ট হাউসকে বন্ধ করে দেওয়ার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ৪১টি গেস্টহাউস ঠিক আছে।’

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ৩ লাখের বেশি বিদেশির ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র

তিনি উল্লেখ করেন, ‘যেসব গেস্ট হাউসে নোটিশ পাঠানো হয়েছে, সেগুলোর অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থায় ত্রুটি রয়েছে। কিছু হোটেল বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। তবে উৎসবের মৌসুমে পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে শর্তাবলি মেনে এবং অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা ত্রুটিমুক্ত করে আবেদন জানালে পুনরায় হোটেল খোলার অনুমতি দেওয়া হবে।’

এদিকে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর রাজ্যজুড়ে পালিত ‘খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহ’ উপলক্ষে কলকাতা পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বছরে ৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির কারণ অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৩০ এম


বছরে ৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির কারণ অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার

প্রতিদিন প্রায় ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে অটোরিকশা চার্জিংয়ের জন্য। এই বিশাল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে দেশ বছরে ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি জাতীয় সংসদে উল্লেখ করেছেন, সারা দেশে ৩ হাজার ৩০০টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট বিদ্যমান। ঢাকায় এই সংখ্যা ৪৮ হাজারেরও বেশি। এসব পয়েন্টে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।

বর্তমানে দেশে ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার চলাচল করছে। গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ও সড়ক নিরাপত্তার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার চার্জ দেওয়ার জন্য দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ বা তারও বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়া, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক যান চার্জ দেওয়ার ফলে স্থানীয় বিতরণব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। আবাসিক সংযোগের বাণিজ্যিক ব্যবহার এবং ট্রান্সফরমারের ওপর বাড়তি লোড তৈরির কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আবাসিক এলাকার বিদ্যুতের লাইন, গ্যারেজ মালিকের বিদ্যুতের লাইন এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অবৈধভাবে বৈদ্যুতিক লাইন থেকে বিদ্যুৎ চুরি করে চালকরা তা যানগুলোর ব্যাটারি রিচার্জ করতে ব্যবহার করছেন। ঢাকা এবং তার আশপাশে বিভিন্ন এলাকায় এসব গাড়ির চার্জ দেওয়ার জন্য আলাদা ঘর বা দোকান তৈরি করে ব্যবসা শুরু করেছে কিছু অসাধু ব্যক্তি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যানগুলো শুধু বিদ্যুতের অপচয় করছে না, বরং এগুলো পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে। সাধারণত একটি ইজিবাইকের জন্য ৪-৫টি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি প্রয়োজন। প্রতি সেট ব্যাটারি চার্জের জন্য গড়ে ৮০০ থেকে ১১০০ ওয়াট হিসেবে ৫ থেকে ৬ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়, যা দিনে বা রাতে কমপক্ষে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা লাগে। কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন, শহর ও গ্রামে যেহেতু এই যানগুলো জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, তাই অফ পিক আওয়ারে এগুলো চার্জ করার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে এগুলোকে সোলার চার্জিং সিস্টেমের আওতায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুতের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদনব্যবস্থা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, তা লক্ষ্য রাখতে হবে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিভাগীয় ও জেলা প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ভাড়া অন্যান্য যানের তুলনায় কম হওয়ার কারণে মূল শহর এবং তার বাইরের যাত্রীদের কাছে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও রিকশা এখন জনপ্রিয় বাহনে পরিণত হয়েছে। বেশিরভাগ চালকই সামান্য অর্থের বিনিময়ে অবৈধ বৈদ্যুতিক লাইন থেকে গাড়িগুলোতে চার্জ নিচ্ছেন।

বিডি প্রতিদিন/এনইউ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিম্নমানের ইটের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ঠিকাদারকে শোকজ করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৩১ এম


নিম্নমানের ইটের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ঠিকাদারকে শোকজ করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নাজিরহাট পৌরসভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রোড এক্সটেনশন ও নতুন সিসি সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের পর সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর, পৌর কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মাণকাজের সামগ্রিক অবস্থা এবং ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই করেছে।

মান যাচাইয়ের পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ ইটগুলো নির্মাণকাজ থেকে সরিয়ে ঠিকাদারের কাছে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে, নিম্নমানের ইট দিয়ে নির্মিত একটি গাইডওয়াল এবং সংশ্লিষ্ট অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। এই ঘটনায় নাজিরহাট পৌরসভা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নাজিরহাট পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহমত উল্যাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী, উপসহকারী প্রকৌশলী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ইটের মান যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় কিছু ইট নির্ধারিত মানের উপযোগী নয় বলে চিহ্নিত হয়। পরে, ওই ইটগুলো নির্মাণকাজ থেকে সরিয়ে ঠিকাদারের কাছে ফেরত পাঠানো হয়।

এছাড়া, নিম্নমানের ইট ব্যবহার করে ইতোমধ্যে নির্মিত অংশও চিহ্নিত করা হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ওই অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। পরবর্তীতে মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে পুনরায় কাজ করার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত মানের বাইরে কোনো নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

নাজিরহাট পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহমত উল্যাহ বলেন, "নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে পৌরসভা নিয়মিত তদারকি করবে। পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ ইট ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং নিম্নমানের ইট দিয়ে নির্মাণ করা অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনার জন্য সাংবাদিকদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

বিডি প্রতিদিন/এনইউ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাখরাবাদ গ্যাসের অভিযানে ১৫টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৩১ এম


বাখরাবাদ গ্যাসের অভিযানে ১৫টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও জরিমানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি অভিযানে ১৫টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং ৭০০ ফুট অবৈধ প্লাস্টিক পাইপলাইন উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ ছাড়া, অভিযানে মোট ২,৭৪,৯০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

এই অভিযানটি বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার রাধানগর, কৃষ্ণনগর ও বাঞ্ছারামপুর মধ্যপাড়ায় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের এলাকা জুড়ে পরিচালিত হয়েছিল।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রবিউল হাসান ভূঁইয়া। সন্ধ্যায় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের কুমিল্লা কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

অভিযানে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগে ১৩ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়। এ সময় বিজিডিসিএলের ভিজিলেন্স, এরিয়া বিতরণ কার্যালয় (গৌরীপুর), ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস (কুমিল্লা), সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এবং জনসংযোগ ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাসহ কোম্পানির অন্যান্য কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিডি প্রতিদিন/আরকে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বলেশ্বরের বুকে আর শোনা যাবে না স্টিমারের হুইসেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪০ এম


বলেশ্বরের বুকে আর শোনা যাবে না স্টিমারের হুইসেল

একসময় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বড়মাছুয়া ঘাট ছিল স্টিমারের হুইসেল শুনে মুখরিত। বলেশ্বর নদের বুক চিরে স্টিমার আসার শব্দে সেখানে ভিড় জমাতেন অনেকেই। কেউ প্রিয়জনকে বিদায় জানাতে ছুটতেন, আবার কেউ অপেক্ষা করতেন নৌযানে ওঠার জন্য। ঘাটটি যাত্রীদের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।

কিন্তু বর্তমানে সেই ব্যস্ততা আর নেই। বুধবার ( ৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বড়মাছুয়া স্টিমারঘাটের পন্টুন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ঘাটটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দীর্ঘদিনের একটি স্মৃতির অবসান ঘটল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৮৫ সালে বড়মাছুয়া স্টিমারঘাট চালু হয়। এটি একসময় পিরোজপুর, বরগুনা ও পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকার মানুষের জন্য নৌপথে যাতায়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। ঢাকা, বরিশালসহ বিভিন্ন স্থানে যেতে অনেকেই এই ঘাট ব্যবহার করতেন।

ঘাটকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও গড়ে উঠেছিল। স্টিমার আসার সময় ঘাট এলাকায় ব্যস্ততা তৈরি হতো। যাত্রীদের মালামাল ওঠানো-নামানো, স্বজনদের বিদায় জানানো কিংবা দীর্ঘ নৌযাত্রার অপেক্ষা—সব মিলিয়ে ঘাটটি ছিল স্থানীয় মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

২০০৯ সালে নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থায়নে যাত্রীদের নিরাপদে ওঠানামার জন্য ঘাটে পন্টুন ও বেইলি সেতু স্থাপন করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে স্টিমার চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘাটটির আগের ব্যস্ততা হারিয়ে যায়। তবুও দীর্ঘদিন পন্টুনটি সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা এমাদুল হক বলেন, তিনি ছোটবেলা থেকেই এই ঘাটে স্টিমারের আসা-যাওয়া দেখেছেন। তার মতে, ঘাটটি শুধু যাতায়াতের জায়গা ছিল না, এর সঙ্গে স্থানীয় মানুষের আবেগ জড়িয়ে ছিল।

এমাদুল হক বলেন, "ছোটবেলা থেকে দেখেছি এই ঘাটে স্টিমার আসত। কত মানুষ যাতায়াত করত। চোখের সামনে সেই স্মৃতিটুকুও হারিয়ে যাচ্ছে।"

প্রবীণ সাংবাদিক দেবদাস মজুমদার বলেন, বড়মাছুয়া স্টিমারঘাটের সঙ্গে তারও অনেক স্মৃতি রয়েছে। সংবাদ সংগ্রহের কাজে তিনি নিয়মিত এই ঘাটে আসতেন।

দেবদাস মজুমদার বলেন, "এই স্টিমারঘাটকে ঘিরে কত স্মৃতি রয়েছে। নিউজের কাজে আমরা প্রতিনিয়ত এখানে আসতাম। তখন ঘাটটি সব সময় মানুষের আনাগোনায় মুখর থাকত। এখন সেই দৃশ্য নেই।"

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা জানান, স্টিমারে করে অনেকেই চিকিৎসার জন্য বরিশাল বা ঢাকায় যেতেন। ব্যবসায়ীরাও পণ্য নিয়ে যাতায়াত করতেন। এখন পন্টুনটাও চলে গেল। নতুন প্রজন্ম হয়তো জানবেই না, এখানে একসময় কত বড় নৌযান চলাচল করত।

বলেশ্বর নদ বয়ে চলবে, বড়মাছুয়া ঘাটও থাকবে। কিন্তু সেই ঘাটে আর হয়তো শোনা যাবে না স্টিমারের পরিচিত হুইসেল। সময়ের স্রোতে হারিয়ে গেল একটি নৌযুগের দৃশ্যমান শেষ চিহ্ন সেই পন্টুন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%