বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৩০ এম
প্রতিদিন প্রায় ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে অটোরিকশা চার্জিংয়ের জন্য। এই বিশাল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে দেশ বছরে ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি জাতীয় সংসদে উল্লেখ করেছেন, সারা দেশে ৩ হাজার ৩০০টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট বিদ্যমান। ঢাকায় এই সংখ্যা ৪৮ হাজারেরও বেশি। এসব পয়েন্টে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।
বর্তমানে দেশে ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার চলাচল করছে। গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ও সড়ক নিরাপত্তার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার চার্জ দেওয়ার জন্য দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ বা তারও বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়া, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক যান চার্জ দেওয়ার ফলে স্থানীয় বিতরণব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। আবাসিক সংযোগের বাণিজ্যিক ব্যবহার এবং ট্রান্সফরমারের ওপর বাড়তি লোড তৈরির কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আবাসিক এলাকার বিদ্যুতের লাইন, গ্যারেজ মালিকের বিদ্যুতের লাইন এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অবৈধভাবে বৈদ্যুতিক লাইন থেকে বিদ্যুৎ চুরি করে চালকরা তা যানগুলোর ব্যাটারি রিচার্জ করতে ব্যবহার করছেন। ঢাকা এবং তার আশপাশে বিভিন্ন এলাকায় এসব গাড়ির চার্জ দেওয়ার জন্য আলাদা ঘর বা দোকান তৈরি করে ব্যবসা শুরু করেছে কিছু অসাধু ব্যক্তি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যানগুলো শুধু বিদ্যুতের অপচয় করছে না, বরং এগুলো পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে। সাধারণত একটি ইজিবাইকের জন্য ৪-৫টি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি প্রয়োজন। প্রতি সেট ব্যাটারি চার্জের জন্য গড়ে ৮০০ থেকে ১১০০ ওয়াট হিসেবে ৫ থেকে ৬ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়, যা দিনে বা রাতে কমপক্ষে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা লাগে। কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন, শহর ও গ্রামে যেহেতু এই যানগুলো জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, তাই অফ পিক আওয়ারে এগুলো চার্জ করার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে এগুলোকে সোলার চার্জিং সিস্টেমের আওতায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুতের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদনব্যবস্থা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, তা লক্ষ্য রাখতে হবে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিভাগীয় ও জেলা প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ভাড়া অন্যান্য যানের তুলনায় কম হওয়ার কারণে মূল শহর এবং তার বাইরের যাত্রীদের কাছে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও রিকশা এখন জনপ্রিয় বাহনে পরিণত হয়েছে। বেশিরভাগ চালকই সামান্য অর্থের বিনিময়ে অবৈধ বৈদ্যুতিক লাইন থেকে গাড়িগুলোতে চার্জ নিচ্ছেন।
বিডি প্রতিদিন/এনইউ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নাজিরহাট পৌরসভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রোড এক্সটেনশন ও নতুন সিসি সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের পর সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর, পৌর কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মাণকাজের সামগ্রিক অবস্থা এবং ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই করেছে।
মান যাচাইয়ের পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ ইটগুলো নির্মাণকাজ থেকে সরিয়ে ঠিকাদারের কাছে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে, নিম্নমানের ইট দিয়ে নির্মিত একটি গাইডওয়াল এবং সংশ্লিষ্ট অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। এই ঘটনায় নাজিরহাট পৌরসভা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নাজিরহাট পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহমত উল্যাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী, উপসহকারী প্রকৌশলী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ইটের মান যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় কিছু ইট নির্ধারিত মানের উপযোগী নয় বলে চিহ্নিত হয়। পরে, ওই ইটগুলো নির্মাণকাজ থেকে সরিয়ে ঠিকাদারের কাছে ফেরত পাঠানো হয়।
এছাড়া, নিম্নমানের ইট ব্যবহার করে ইতোমধ্যে নির্মিত অংশও চিহ্নিত করা হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ওই অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। পরবর্তীতে মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে পুনরায় কাজ করার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত মানের বাইরে কোনো নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
নাজিরহাট পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহমত উল্যাহ বলেন, "নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে পৌরসভা নিয়মিত তদারকি করবে। পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ ইট ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং নিম্নমানের ইট দিয়ে নির্মাণ করা অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনার জন্য সাংবাদিকদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
বিডি প্রতিদিন/এনইউ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি অভিযানে ১৫টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং ৭০০ ফুট অবৈধ প্লাস্টিক পাইপলাইন উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ ছাড়া, অভিযানে মোট ২,৭৪,৯০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
এই অভিযানটি বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার রাধানগর, কৃষ্ণনগর ও বাঞ্ছারামপুর মধ্যপাড়ায় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের এলাকা জুড়ে পরিচালিত হয়েছিল।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রবিউল হাসান ভূঁইয়া। সন্ধ্যায় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের কুমিল্লা কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
অভিযানে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগে ১৩ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়। এ সময় বিজিডিসিএলের ভিজিলেন্স, এরিয়া বিতরণ কার্যালয় (গৌরীপুর), ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস (কুমিল্লা), সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এবং জনসংযোগ ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাসহ কোম্পানির অন্যান্য কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিডি প্রতিদিন/আরকে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একসময় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বড়মাছুয়া ঘাট ছিল স্টিমারের হুইসেল শুনে মুখরিত। বলেশ্বর নদের বুক চিরে স্টিমার আসার শব্দে সেখানে ভিড় জমাতেন অনেকেই। কেউ প্রিয়জনকে বিদায় জানাতে ছুটতেন, আবার কেউ অপেক্ষা করতেন নৌযানে ওঠার জন্য। ঘাটটি যাত্রীদের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।
কিন্তু বর্তমানে সেই ব্যস্ততা আর নেই। বুধবার ( ৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বড়মাছুয়া স্টিমারঘাটের পন্টুন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ঘাটটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দীর্ঘদিনের একটি স্মৃতির অবসান ঘটল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৮৫ সালে বড়মাছুয়া স্টিমারঘাট চালু হয়। এটি একসময় পিরোজপুর, বরগুনা ও পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকার মানুষের জন্য নৌপথে যাতায়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। ঢাকা, বরিশালসহ বিভিন্ন স্থানে যেতে অনেকেই এই ঘাট ব্যবহার করতেন।
ঘাটকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও গড়ে উঠেছিল। স্টিমার আসার সময় ঘাট এলাকায় ব্যস্ততা তৈরি হতো। যাত্রীদের মালামাল ওঠানো-নামানো, স্বজনদের বিদায় জানানো কিংবা দীর্ঘ নৌযাত্রার অপেক্ষা—সব মিলিয়ে ঘাটটি ছিল স্থানীয় মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
২০০৯ সালে নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থায়নে যাত্রীদের নিরাপদে ওঠানামার জন্য ঘাটে পন্টুন ও বেইলি সেতু স্থাপন করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে স্টিমার চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘাটটির আগের ব্যস্ততা হারিয়ে যায়। তবুও দীর্ঘদিন পন্টুনটি সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা এমাদুল হক বলেন, তিনি ছোটবেলা থেকেই এই ঘাটে স্টিমারের আসা-যাওয়া দেখেছেন। তার মতে, ঘাটটি শুধু যাতায়াতের জায়গা ছিল না, এর সঙ্গে স্থানীয় মানুষের আবেগ জড়িয়ে ছিল।
এমাদুল হক বলেন, "ছোটবেলা থেকে দেখেছি এই ঘাটে স্টিমার আসত। কত মানুষ যাতায়াত করত। চোখের সামনে সেই স্মৃতিটুকুও হারিয়ে যাচ্ছে।"
প্রবীণ সাংবাদিক দেবদাস মজুমদার বলেন, বড়মাছুয়া স্টিমারঘাটের সঙ্গে তারও অনেক স্মৃতি রয়েছে। সংবাদ সংগ্রহের কাজে তিনি নিয়মিত এই ঘাটে আসতেন।
দেবদাস মজুমদার বলেন, "এই স্টিমারঘাটকে ঘিরে কত স্মৃতি রয়েছে। নিউজের কাজে আমরা প্রতিনিয়ত এখানে আসতাম। তখন ঘাটটি সব সময় মানুষের আনাগোনায় মুখর থাকত। এখন সেই দৃশ্য নেই।"
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা জানান, স্টিমারে করে অনেকেই চিকিৎসার জন্য বরিশাল বা ঢাকায় যেতেন। ব্যবসায়ীরাও পণ্য নিয়ে যাতায়াত করতেন। এখন পন্টুনটাও চলে গেল। নতুন প্রজন্ম হয়তো জানবেই না, এখানে একসময় কত বড় নৌযান চলাচল করত।
বলেশ্বর নদ বয়ে চলবে, বড়মাছুয়া ঘাটও থাকবে। কিন্তু সেই ঘাটে আর হয়তো শোনা যাবে না স্টিমারের পরিচিত হুইসেল। সময়ের স্রোতে হারিয়ে গেল একটি নৌযুগের দৃশ্যমান শেষ চিহ্ন সেই পন্টুন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন হচ্ছে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত অধিকার। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা, যাতে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক জীবন, খাবার, আবাসন, পড়াশোনা এবং রাজনৈতিক অধিকার—এসব বিষয় নিশ্চিত করার উপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) কীর্তনখোলা হলে জাতীয় ছাত্রশক্তি, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে ‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারুণ্যের রাজনৈতিক ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ‘জুলাই-৩৬ কুইজ প্রতিযোগিতা’র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি কোটা ইস্যুকে কেন্দ্র করে শেখ হাসিনা বর্তমানে দিল্লিতে আছেন। ভাইবা ইস্যুতে, জনগণ আপনাদের কোথায় পাঠাবে তা আপনারা বুঝতে পারবেন না। তাই এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন না।
ভাইভা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, নেক্কারজনকভাবে আমরা গত দুই দিন আগে দেখতে পেলাম, সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ভাইভার নম্বর ৫০ শতাংশ বাড়ানোর একটি প্রস্তাব এসেছে। অথচ তাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, ভাইভা হচ্ছে দলীয় নিয়োগ দেওয়ার একটি সুযোগ। যখন তারা সরকারে এসে উল্টো পথে যাচ্ছে, তখন আমরা তাদের সতর্ক করে দিতে চাই—আপনারা এই কাজটি ভুলেও করবেন না।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, যদি কোনো সরকার মনে করে পুরোনো পদ্ধতিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, তাহলে সেই সরকার বাংলাদেশে তার মেয়াদ শেষ করতে পারবে না।
তিনি বলেন, গত দুই বছরে গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির পাশাপাশি হতাশাও তৈরি হয়েছে। বর্তমানে নির্বাচিত সরকার রয়েছে এবং তারা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এসব প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন হচ্ছে, তা জনগণকে বিচার করতে হবে।
তরুণদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল তরুণরা রাজপথে নামবে না। অথচ গণঅভ্যুত্থানে সেই তরুণরাই রাজপথে জীবন দিয়েছেন। কিন্তু এখন তাদের জন্য কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার পরিবর্তে ভাইভায় দলীয় নিয়োগের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, শুধু গ্র্যাজুয়েট তৈরি করে তাদের বেকার ও হতাশাগ্রস্ত করে রাখলে কোনো লাভ নেই। শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের মাধ্যমে চাকরি, কর্মসংস্থান ও তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা প্রয়োজন। কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কী ধরনের গ্র্যাজুয়েট ও গবেষক তৈরি করা হবে, তা নির্ধারণ করতে হবে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বরিশাল অঞ্চলের নেতৃত্ব দেওয়া, আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলা এবং জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে এই অঞ্চলের প্রধান জ্ঞানকেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে পুনর্গঠন ও পুনর্বিন্যাস করা উচিত। এটা ছাড়া যদি আমরা ১০টি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় করতে পারি, যেখানে রাষ্ট্রের সত্যিকারের পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ থাকবে, তাহলে দেশের অনেক বেশি উপকার হবে। কিন্তু যদি আমরা ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিশ্ববিদ্যালয় করি, তাহলে সেটি আমাদের কাঙ্ক্ষিত সুফল দেবে না।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সব মত ও চিন্তার মানুষের কথা বলার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারের পক্ষের কর্মসূচি থাকলে শিক্ষার্থীদেরও নিজেদের মত প্রকাশ ও কর্মসূচি পালনের সুযোগ থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ছাত্রশক্তির বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মো. বেলাল হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সার্জিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু, মহিউদ্দিন রনিসহ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বরিশাল জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ