০৭:২৫ পি.এম
ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোডে কারওয়ান বাজার রেলগেটের মতো মাদক বিক্রির স্পট, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চায় এলাকাবাসী
বরিশাল নগরীর ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোডের একটি আবাসিক এলাকায় মাদক ব্যবসার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, একসময় শান্তিপূর্ণ আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত এই সড়কের আশপাশে বর্তমানে মাদক বিক্রির একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। দিন-রাত বিভিন্ন এলাকা থেকে অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা বাড়ছে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর দাবি, মানিক মিয়ার গ্যারেজের সামনে থেকে সোজা চলে যাওয়া একটি রাস্তা আশেদ আলী সড়কের ড্রেনের কাছে গিয়ে মিলেছে। এই ড্রেনের ওপর ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচার একটি স্পট গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজধানীর কারওয়ান বাজার রেলগেট এলাকায় যেভাবে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে, তেমনি ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোডের এই এলাকাতেও মাদক বিক্রির একটি কেন্দ্র তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভিডিও কন্টেন তৈরীর আড়ালে চাঁদাবাজী, ব্লাকমেইল, পর্নোগ্রাফি মামলায় আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেফতার ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোডের আবাসিক এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন কৌশলে তাঁদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। মাদক বিক্রির পর তা আশপাশের বাড়িতে গচ্ছিত রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মাদক সরবরাহের জন্য একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক কাজ করছে বলেও দাবি তাঁদের।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, বরিশাল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ও অভিজাত আবাসিক এলাকাগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় মাদক ব্যবসার বিস্তার তাঁদের জন্য উদ্বেগজনক। দিনের পাশাপাশি রাতেও অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সময়ে নগরীর সড়কে তল্লাশি ও মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করলেও মাদক বিক্রির মূল স্পটগুলোতে কার্যকর অভিযান হচ্ছে না।
আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে সড়ক অবরোধের চেষ্টা, ৫ জন গ্রেপ্তার
তাঁদের দাবি, নগরীর রসুলপুর, পলাশপুর, রাজ্জাক সিটি কলোনি, স্টেডিয়াম কলোনি, কালুশা সড়ক, রিফিউজি কলোনি ও কাজীপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। এসব এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গাঁজা বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে পরিচিত রফিক নামের এক ব্যক্তি কিছুদিন কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও মাদক ব্যবসায় জড়িয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অর্থ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: শিবগঞ্জে পুলিশের অভিযান: ৩০০ গ্রাম হেরোইনসহ দুইজন গ্রেপ্তার
ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোড এলাকার বাসিন্দারা মাদক ব্যবসার বিস্তার বন্ধে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁদের দাবি, শুধু সড়কে তল্লাশি নয়, মাদক ব্যবসার প্রকৃত উৎস ও নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, মাদকবিরোধী অভিযানগুলো যদি প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, তাহলে নগরীর মাদক ব্যবসার বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
তাঁরা আরও বলেন, আবাসিক এলাকার পরিবেশ রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে বাঁচাতে মাদক ব্যবসার শিকড় উপড়ে ফেলা জরুরি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চান তাঁরা।
আরও পড়ুন: যশোরে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ গেল মোটরসাইকেলচালক আব্দুল্লাহ আল আপন
এ বিষয় নানীবাড়ি ফাঁড়ির এসএআই মাহাবুবকে একাধিকবার তার মুঠোফোনে ফোন করা হলো তিনি ফোন রিসিভ করেনি পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে তাহলেও হোয়াটসঅ্যাপের কল রিসিভ করেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন