ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

প্রধানমন্ত্রীর উৎসাহেই ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট পেয়েছি: উদ্ভাবক ড. জাভেদ হোসেন খান


প্রধানমন্ত্রীর উৎসাহেই ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট পেয়েছি: উদ্ভাবক ড. জাভেদ হোসেন খান

যশোর,  ৪ নভেম্বর ২০২৬ : বাংলাদেশের বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খানের উদ্ভাবিত ন্যানো ইউরিয়া কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় সাশ্রয় এবং সারের অপচয় হ্রাসের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সাধারণ ইউরিয়া সারের ব্যবহার কমানোর লক্ষ্যে এই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে।

দীর্ঘ গবেষণা ও পেটেন্ট পেতে বারবার চেষ্টা করার পর অবশেষে তার উদ্ভাবন মেধাস্বত্বের স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উৎসাহ এবং সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ এ স্বীকৃতি অর্জনের পথ সুগম করেছে।

জাপানে ন্যানো প্রযুক্তি ও কৃষিতে এর প্রয়োগ নিয়ে পড়াশোনার সময় অধ্যাপক জাভেদ হোসেন খানের মনে হয়েছিল, এই প্রযুক্তি কৃষিতে বড় পরিবর্তন আনতে সক্ষম। সেই ভাবনা থেকেই দেশে ফিরে ২০১৩ সালে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের প্রথম ন্যানো ল্যাব প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে গবেষণার ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালে উদ্ভাবন করেন ন্যানো ইউরিয়া।

আরও পড়ুন: আলমগীর হোসেনকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ বায়োজেনের

সম্প্রতি বাসসের যশোর জেলা সংবাদদাতা সাইফুল ইসলামের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর গবেষণা, উদ্ভাবনের বৈশিষ্ট্য, কৃষিতে এর সম্ভাব্য সুফল এবং বাণিজ্যিক উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।

বাসস : সাধারণ ইউরিয়া সার থাকতে ন্যানো ইউরিয়া নিয়ে কাজ করার অনুপ্রেরণা পেলেন কোথা থেকে?

ড. জাভেদ : সাধারণ ইউরিয়া সারের বড় সমস্যা হলো, প্রয়োগ করা সারের একটি বড় অংশ গাছ গ্রহণ করতে পারে না। এই অংশের কিছু মাটিতে জমে থাকে, কিছু বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে যায়, আর কিছু বাতাসে মিশে যায়। ন্যানো প্রযুক্তির মাধ্যমে সারের কণার আকার এত ছোট করা যায় যে অল্প পরিমাণ প্রয়োগ করেই গাছকে এর প্রায় পুরোটাই গ্রহণ করার সুযোগ দেওয়া সম্ভব। এই চিন্তা থেকেই ২০১৮ সালে ন্যানো ইউরিয়া নিয়ে কাজ শুরু করি।

বাসস : গবেষণা শুরু থেকে পেটেন্ট পাওয়া পর্যন্ত দীর্ঘ পাঁচ বছরের যাত্রা কেমন ছিল?

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ে একনেক সভা শুরু

ড. জাভেদ : ২০১৮ সালে গবেষণা শুরু করি এবং ২০১৯ সালে পেটেন্টের জন্য প্রথম আবেদন করি। ২০২১ সালের শুরুতে সেই আবেদন বাতিল হয়ে যায়। এরপরও আমি হাল ছাড়িনি। আবার আবেদন করি। এরপর পাঁচ বছরেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। তিন-চার মাস আগে পেটেন্টের জন্য সরকারের কাছে আবার আবেদন করি। তখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের (জিআইইউ) প্রধান মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ স্যার আমাকে ডেকে জানতে চান, ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট হচ্ছে না কেন, এটি বাজারে আসছে না কেন এবং কী কী সমস্যা রয়েছে।

তার উৎসাহেই গত ১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে অংশ নিই। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা ন্যানো ইউরিয়া নিয়ে কাজ করছেন, তা আমি জানি। এটি চমৎকার কাজ করে, খরচ কম হয় এবং কৃষকের সাশ্রয় হবে।’

এরপর তিনি বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ স্যারকে দেন। প্রধানমন্ত্রীর উৎসাহেই আমি পেটেন্ট পেয়েছি। আমাদের মেধাস্বত্বের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য বিএনপি সরকারের প্রতি আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।

বাসস : প্রচলিত ইউরিয়া সারের তুলনায় ন্যানো ইউরিয়া প্রযুক্তির মূল কারিগরি পার্থক্য ও সুবিধাগুলো কী?

আরও পড়ুন: নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রযুক্তিনির্ভর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা গড়ার ঘোষণা রাষ্ট্রমন্ত্রীর

ড. জাভেদ : সাধারণ ইউরিয়া দানাদার, আর আমাদের ন্যানো ইউরিয়া তরল; এর কণার আকার অত্যন্ত ছোট। কণা ছোট হওয়ায় অল্প পরিমাণ প্রয়োগে গাছ বেশি কার্যকরভাবে নাইট্রোজেন গ্রহণ করতে পারে। এতে সারের অপচয় কমে। আমাদের ফর্মুলেশনের আরেকটি বড় সুবিধা হলো এর স্থিতিশীলতা। এটি প্রায় দুই বছর পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকে। ন্যানো ইউরিয়া উৎপাদনে আমরা কোনো বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করি না।

বাসস : দেশের ফসলি জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটির যে ক্ষতি হয়, তা রোধে ন্যানো ইউরিয়া কীভাবে ভূমিকা রাখবে?

ড. জাভেদ : অতিরিক্ত ইউরিয়া মাটির অম্লতা বাড়ায়, উপকারী অণুজীবের সংখ্যা কমায় এবং ভূগর্ভস্থ পানিতে নাইট্রেট ছড়িয়ে দেয়। ন্যানো ইউরিয়া ব্যবহারে প্রতি বিঘা জমিতে মাত্র ৫০০ মিলিলিটার সার লাগে। এর বিপরীতে সাধারণ ইউরিয়া লাগে ৫০ কেজি। তাই মাটি ও পানির ওপর রাসায়নিকের চাপ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে মাটির স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে জানতে আমরা আরও মাঠপর্যায়ে গবেষণা চালিয়ে যাব।

বাসস : ন্যানো ইউরিয়া ব্যবহারে ফসলের গুণগত মান বা পুষ্টিমানে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসে কি?

আরও পড়ুন: নির্বাচনের আগে বেকারত্বে রেকর্ড চাপের মুখে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

ড. জাভেদ : আমাদের পরীক্ষামূলক প্রয়োগে সাধারণ দানাদার ইউরিয়ার তুলনায় প্রায় সমান ফলন পাওয়া গেছে। কিছু ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ধানের ফলন দুই থেকে আট শতাংশ বেশি পেয়েছি। বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে দেখেছি, পুষ্টিমান ও ক্লোরোফিলের পরিমাণে কোনো অবনতি হয়নি। অর্থাৎ কম খরচে একই মানের ফসল পাওয়া সম্ভব।

বাসস : আপনার গবেষণায় দেখা গেছে, এই সার ব্যবহারে খরচ প্রায় ৮২ শতাংশ কমবে। সাধারণ কৃষকের জন্য এটি কতটা সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হবে?

ড. জাভেদ : ধান চাষে এক বিঘা জমিতে কৃষক সাধারণত ৫০ কেজি ইউরিয়া ব্যবহার করেন, যার দাম ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে, ন্যানো ইউরিয়া লাগে মাত্র ৫০০ মিলিলিটার, যার দাম ২৩০ টাকা। অর্থাৎ ধান চাষে সারের খরচ ৮০ শতাংশেরও বেশি কমে যায়। তরল সার হওয়ায় এটি পরিবহন ও সংরক্ষণ করাও সহজ। তবে এই হিসাব ধান চাষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; অন্য ফসলের ক্ষেত্রে পরীক্ষার ফল অনুযায়ী খরচের হিসাব ভিন্ন হতে পারে।

বাসস : সার আমদানিতে সরকারের বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এই উদ্ভাবন জাতীয় অর্থনীতিতে কীভাবে অবদান রাখতে পারে?

আরও পড়ুন: পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তরায় সতর্ক পুলিশ

ড. জাভেদ : সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সার আমদানিতে সরকারের প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। দেশে সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে ন্যানো ইউরিয়া উৎপাদন করা হলে এবং এটি দানাদার ইউরিয়ার একটি বড় অংশের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা গেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতে পারে। তবে সাশ্রয়ের প্রকৃত পরিমাণ নির্ভর করবে উৎপাদন খরচ ও প্রচলিত ইউরিয়ার কতটা প্রতিস্থাপন করা সম্ভব, তার ওপর।

বাসস : কৃষকেরা জমিতে এই সার কীভাবে প্রয়োগ করবেন? সাধারণ সারের মতো ছিটিয়ে, নাকি তরল হিসেবে স্প্রে করতে হবে? এ জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন আছে কি?

ড. জাভেদ : এটি তরল সার, তাই সাধারণত পাতায় স্প্রে করে প্রয়োগ করতে হয়। কৃষকেরা পরিচিত স্প্রে পদ্ধতিতেই এটি ব্যবহার করতে পারবেন। বিশেষ কোনো জটিল প্রশিক্ষণের প্রয়োজন নেই। তবে সঠিক মাত্রা ও প্রয়োগের সময় সম্পর্কে ধারণা দিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত নির্দেশনা দেওয়া হলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

বাসস : মানবদেহ, ফসল বা মাটির অণুজীবের জন্য ন্যানো পার্টিকলের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি?

আরও পড়ুন: পোশাক শ্রমিকদের বেতন সমন্বয়ে মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা শুরু

ড. জাভেদ : আমাদের ফর্মুলেশনে কোনো বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়নি। আমরা নিজেদের পরীক্ষাগারে নিয়মিত পরীক্ষা করি। বিসিএসআইআরের পরীক্ষাতেও কোনো বিষাক্ততা পাওয়া যায়নি। তবে ন্যানো পদার্থের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়েই গবেষণা চলছে। তাই ব্যাপক ব্যবহারের আগে ও পরে আমরাও নিয়মিত পরীক্ষা চালিয়ে যাব।

বাসস : এ বিষয়ে কোনো বিষাক্ততা পরীক্ষা (টক্সিসিটি টেস্ট) বা পরীক্ষাগারভিত্তিক পরীক্ষা করা হয়েছে কি?

ড. জাভেদ : হ্যাঁ। আমরা নিয়মিত বিষাক্ততা পরীক্ষা করি। আমাদের কাছে বিসিএসআইআরের বিস্তারিত পরীক্ষার প্রতিবেদন রয়েছে, সেখানে কোনো বিষাক্ততা পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া নিজেদের পরীক্ষাগারেও নিয়মিত পরীক্ষা করি এবং কোনো ক্ষতিকর উপাদান পাইনি।

বাসস : মাঠপর্যায়ে এই সার ব্যবহারের পর কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন কি?

ড. জাভেদ : হ্যাঁ, কৃষকেরা সন্তুষ্ট। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে অনেক কৃষক ন্যানো ইউরিয়া ব্যবহারের অভিজ্ঞতা ও মতামত জানিয়েছেন। বর্তমানে সারের সংকটের সময়ে কৃষকেরা বিকল্প খুঁজছেন। ন্যানো ইউরিয়া কবে বাজারে আসবে, সে বিষয়েও তাঁদের আগ্রহ রয়েছে।

বাসস : বাণিজ্যিকভাবে বড় পরিসরে উৎপাদনের জন্য ন্যানো ইউরিয়া কি প্রস্তুত?

ড. জাভেদ : আমাদের একটি ছোট পাইলট প্ল্যান্ট ইতিমধ্যে রয়েছে। বাণিজ্যিক প্ল্যান্টের পূর্ণাঙ্গ নকশাও তৈরি করেছি। কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান আগ্রহী হলে আমরা উৎপাদন কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রস্তুত।

বাসস : দেশের শিল্প খাত বা বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সঙ্গে বড় পরিসরে উৎপাদনের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি?

ড. জাভেদ : শিল্প মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমরা কয়েকবার আলোচনা করেছি। আমরা প্রস্তাব দিয়েছি, বিসিআইসি তাদের বিদ্যমান কারখানা ও সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করেই ন্যানো ইউরিয়া উৎপাদন করতে পারে। তাদের একটি দল আমাদের ল্যাব পরিদর্শন করেছে এবং প্রস্তাব চেয়েছে। আমরা বিস্তারিত প্রস্তাব পাঠিয়েছি। এখনো তাদের সাড়ার অপেক্ষায় আছি।

এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে আমরা আন্তরিকভাবে আগ্রহী।

বাসস : ভারতের ইফকো (আইএফএফসিও) ইতিমধ্যে তরল ন্যানো ইউরিয়া বাজারজাত করেছে। আপনার উদ্ভাবিত ন্যানো ইউরিয়ার সঙ্গে তাদের পণ্যের কোনো প্রযুক্তিগত পার্থক্য রয়েছে কি?

ড. জাভেদ : আমরা ২০১৮ সালে কাজ শুরু করি এবং ২০১৯ সালে পেটেন্টের জন্য প্রথম আবেদন জমা দিই। ভারত ২০২১ সালে তাদের পণ্য বাজারে আনে। আমাদের ফর্মুলেশনে কণার আকার অত্যন্ত ছোট, এর স্থিতিশীলতা প্রায় দুই বছর এবং উৎপাদনে কোনো বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না। এসব বৈশিষ্ট্য আমাদের পেটেন্টে বর্ণিত হয়েছে। আমরা স্বাধীনভাবে ও মৌলিক উপায়ে এই কাজ করেছি। ২০১৯ সালের আবেদনই তার দলিল।

বাসস : এই উদ্ভাবনের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে—যেমন বিশ্ব মেধাস্বত্ব সংস্থা (ডব্লিউআইপিও) বা অন্য কোনো দেশে—পেটেন্ট নেওয়ার পরিকল্পনা আছে কি?

ড. জাভেদ : আন্তর্জাতিক পেটেন্টের বিষয়টি আমরা বিবেচনা করছি। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যয় ও সময় বড় বিষয়। প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে আমরা এগিয়ে যাব।

বাসস : দেশের চাহিদা মেটানোর পর ভবিষ্যতে এই ন্যানো ইউরিয়া বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা দেখছেন কি?

ড. জাভেদ : প্রথমে দেশের চাহিদা মেটানোই আমাদের লক্ষ্য। এরপর গুণমান নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়া গেলে কৃষিপ্রধান এশীয় ও আফ্রিকান দেশগুলোতে রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এটি এখনো সম্ভাবনার পর্যায়ে, নিশ্চিত কোনো পরিকল্পনা নয়।

বাসস : দীর্ঘ গবেষণা ও পেটেন্ট প্রাপ্তির প্রক্রিয়ায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) এবং সরকারের কাছ থেকে কেমন সহযোগিতা পেয়েছেন?

ড. জাভেদ : যবিপ্রবি আমাকে পরীক্ষাগার ও গবেষণার পরিবেশ দিয়েছে। পেটেন্ট পাওয়ার দীর্ঘ অপেক্ষার সময়ে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের প্রধান মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর উদ্যোগ ও সহযোগিতা বড় ভূমিকা রেখেছে। আমি তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ।

বাসস : যবিপ্রবির ন্যানো টেকনোলজি গবেষণাগার থেকে ন্যানো প্রযুক্তি নিয়ে আর কী কী নতুন উদ্ভাবনের কাজ চলছে?

ড. জাভেদ : আমরা বিশ্বব্যাংক-ইউজিসির প্রকল্পের আওতায় ন্যানো পেস্টিসাইড নিয়ে কাজ করছি। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কাছ থেকেও ন্যানো প্রযুক্তিভিত্তিক সড়ক নির্মাণ নিয়ে কাজের একটি প্রস্তাব পেয়েছি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কৃষি প্রযুক্তিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করাই আমাদের লক্ষ্য।

বাসস : বাংলাদেশের তরুণ বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা, যাঁরা পরীক্ষাগারের সুযোগ-সুবিধা বা অর্থায়নের অভাবে পিছিয়ে পড়ছেন, তাঁদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

ড. জাভেদ : আমি তাঁদের ধৈর্য ধরতে বলব। আমার প্রথম আবেদন বাতিল হয়েছিল, তবু আমি থেমে যাইনি। পরীক্ষাগার ও অর্থায়নের অভাবে হতাশ না হয়ে প্রথমে সমস্যাটি চিহ্নিত করতে হবে। ছোট পরিসর থেকেই কাজ শুরু করতে হবে। গবেষণার তারিখ, উপাত্ত ও প্রয়োজনীয় দলিলপত্র যত্ন করে সংরক্ষণ করতে হবে। পেটেন্টের ক্ষেত্রে এগুলো খুবই জরুরি। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদার খুঁজে নিতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘তারা ভালো কাজ করেছে’- ডেমোক্র্যাটদের অভিনন্দন জানালেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩৫ পি.এম


‘তারা ভালো কাজ করেছে’- ডেমোক্র্যাটদের অভিনন্দন জানালেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা ‘ভালো কাজ করেছে’।

তিনি রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে বিপর্যয়ের ফলাফল নিয়ে ফক্স নিউজের উপস্থাপক ব্রেট বেয়ারের কাছে নিজের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন।

ট্রাম্প বলেন, বাতাসে একটি ‘চাপা উত্তেজনা’ ছিল এবং এই ফলাফলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমাদের অসাধারণ সমাবেশ হয়েছিল’।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি একটু অবাক হয়েছি’।

সমঝোতার সুরে তিনি জানান, কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে তিনি ‘অনেক, অনেক বিষয়ে’ একসঙ্গে কাজ করতে পারবেন।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের কারণে তার মন্ত্রিসভায় কোনো পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা তিনি নাকচ করে দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিউইয়র্কের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী হিসেবে নির্বাচিত আবের কাওয়াস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩৬ পি.এম


নিউইয়র্কের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী হিসেবে নির্বাচিত আবের কাওয়াস

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভা নির্বাচনে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক আবের কাওয়াস নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তিনি অঙ্গরাজ্যটির আইনসভার প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। একইসঙ্গে, তিনি হিজাব পরিহিত প্রথম নারী হিসেবেও আইনসভায় প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন।

কাওয়াস নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেটের ১২ নম্বর নির্বাচনী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় লাভ করেছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনে ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে তিনি মোট ভোটের ৭৫ শতাংশ অর্জন করেছেন।

বিজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কাওয়াস তাঁর প্রতিক্রিয়ায় লেখেন, ‘আমরা ইতিহাস গড়েছি।’

নির্বাচনী প্রচারে তিনি ‘মর্যাদায় বিনিয়োগ, ধ্বংসের বিরুদ্ধে লড়াই’ স্লোগান ব্যবহার করেছেন। তাঁর প্রচারের মূল বিষয়গুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য নিশ্চিত করা, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন এবং সাশ্রয়ী আবাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি ছিল। এছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা এবং যুদ্ধে অর্থায়ন বন্ধের পক্ষে অবস্থানও নেন তিনি।

কাওয়াস ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার (ডিএসএ) সদস্য। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেসওম্যান রাশিদা তালিবসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনীতিকেরা তাঁকে সমর্থন দিয়েছেন।

রাজনীতিতে আসার আগে, কাওয়াস ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে শ্রমিকদের অধিকার, অভিবাসী সম্প্রদায় এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারায়ণগঞ্জে সড়ক অবরোধের চেষ্টা, ৫ জন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩৭ পি.এম


নারায়ণগঞ্জে সড়ক অবরোধের চেষ্টা, ৫ জন গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) তৃতীয় দিনের সকাল থেকে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যা টানা দুদিনের সড়ক অবরোধের পর সৃষ্টি হয়েছে। সকালে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এই ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার সকাল ৯টা থেকে ফতুল্লার শিবু মার্কেট ও কাঠেরপুল এলাকায় পোশাক শ্রমিকরা পুনরায় আন্দোলনের চেষ্টা শুরু করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জের শিবু মার্কেট ও কাঠেরপুল এলাকায় পাঁচটি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। বুধবার সকালে এসব কারখানার শ্রমিকরা কাজের উদ্দেশ্যে কারখানায় আসেন। যদিও নিয়ম অনুযায়ী শ্রমিকদের কাজ করতে থাকার কথা ছিল, পরে তারা কাজ ছেড়ে সড়কে অবরোধ করার চেষ্টা করেন।

এক পর্যায়ে কাঠেরপুল এলাকার মেট্রো গার্মেন্ট শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ভূমিকা গ্রহণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সড়ক সচল রাখতে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ফলে শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নিতে পারেননি।

নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, সড়ক ও মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আমরা আগে থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছি। শ্রমিকরা যাতে সড়কে নেমে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য আমরা কোথাও তাদের জড়ো হতে দিইনি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ নিয়ে ডেসকোর জরুরি নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৩৭ পি.এম


প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ নিয়ে ডেসকোর জরুরি নির্দেশনা

ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) জানিয়েছে যে, প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের রিচার্জ সেবা সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। এ কারণে, বিদ্যুৎ সেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে পাওয়ার জন্য মিটারে যথেষ্ট টাকা রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

ডেসকো বুধবার (৪ নভেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রি পেইড সিস্টেমের আপগ্রেডেশন বা আধুনিকায়ন কাজের জন্য ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে ৬ নভেম্বর (শুক্রবার) রাত ১০টা পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টা প্রি-পেইড রিচার্জ সেবা সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। এই বিঘ্নের আওতায় থাকবে সেই সকল মিটার, যাদের মিটার নম্বর ৩ দিয়ে শুরু হয়।

বিদ্যুৎ সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রি-পেইড মিটারে যথেষ্ট টাকা রিচার্জ করার জন্য ব্যবহারকারীদের অনুরোধ করা হয়েছে। যেকোনো প্রয়োজনে ১৬১২০ বা ১৬৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে ডেসকো কর্তৃপক্ষ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%