ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

একের পর এক বিজ্ঞানীর পদত্যাগ, লাগাম টানছে ইসরো


একের পর এক বিজ্ঞানীর পদত্যাগ, লাগাম টানছে ইসরো

ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো থেকে বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের দলে দলে চাকরি ছাড়ার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটির মহাকাশ বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব স্পেস) কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সম্প্রতি জারি করা এক নির্দেশনায় ইউ আর রাও স্যাটেলাইট সেন্টার (ইউআরএসসি), বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টারসহ (ভিএসএসসি) ইসরোর প্রধান গবেষণা কেন্দ্রগুলোকে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, মহাকাশযান ও মানব মহাকাশ অভিযানসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মিশনের সঙ্গে যুক্ত গ্রুপ-এ বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছা অবসর বা পদত্যাগের আবেদন নিয়মিতভাবে গ্রহণ করা যাবে না।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, সম্প্রতি ইসরোর গ্রুপ-এ বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি কর্মকর্তাদের, বিশেষ করে গগনযান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের স্বেচ্ছা অবসর ও পদত্যাগের আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। এতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ চুরি করলে ৩ বছরের কারাদণ্ড

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, এর ফলে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছা অবসর ও পদত্যাগের আবেদন এখন থেকে আর নিয়মিতভাবে গ্রহণ করা হবে না।

বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যদি এ ধরনের আবেদন আসে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের পরিচালকের সুস্পষ্ট সুপারিশসহ তা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য মহাকাশ বিভাগে পাঠানোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ২০২০ সালে গৃহীত প্রশাসনিক পরিবর্তন কার্যত বাতিল করা হয়েছে। ওই পরিবর্তনের ফলে ইসরোর বিভিন্ন কেন্দ্রের পরিচালকরা বিজ্ঞানী/প্রকৌশলী-এসজি পদমর্যাদা পর্যন্ত গ্রুপ-এ বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি কর্মকর্তাদের পদত্যাগ ও স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন অনুমোদনের ক্ষমতা পেয়েছিলেন।

নতুন নির্দেশনাটি সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার, লিকুইড প্রপালশন সিস্টেমস সেন্টার, স্পেস অ্যাপ্লিকেশনস সেন্টার, ন্যাশনাল রিমোট সেন্সিং সেন্টার, ইসরো টেলিমেট্রি, ট্র্যাকিং অ্যান্ড কমান্ড নেটওয়ার্ক এবং মাস্টার কন্ট্রোল ফ্যাসিলিটিসহ একাধিক কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানাতে অস্বীকৃতি: ট্রাম্পের বিপরীত অবস্থানে জেডি ভ্যান্স

ইসরো ছেড়ে কোথায় যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি ১০০ জনের বেশি কর্মী ইসরো ছেড়েছেন। এর মধ্যে বেঙ্গালুরুর ইউআরএসসি ও তিরুবনন্তপুরমের ভিএসএসসিতে সবচেয়ে বেশি পদত্যাগের ঘটনা দেখা গেছে। তাদের মধ্যে ভিক্টর জোসেফ টি নামে একজন জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী বর্তমান। তিনি ভিএসএসসিতে জিওসিঙ্ক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল এমকে-থ্রি প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গগনযান অভিযানে ব্যবহৃত হতে যাওয়া এলভিএম-৩ উৎক্ষেপণযানের প্রকল্পপ্রধান হিসেবে প্রায় ১৩ মাস দায়িত্ব পালনের পর তিনি গত ফেব্রুয়ারিতে পদত্যাগ করেন।

ধারণা করা হচ্ছে, ইসরো ছেড়ে যাওয়া অনেক বিজ্ঞানী বর্তমানে বেসরকারি মহাকাশ স্টার্টআপে যোগ দিচ্ছেন। পদত্যাগ করা কয়েকজন বিজ্ঞানী ২০২০ সালে বেসরকারি খাতের জন্য মহাকাশ খাত উন্মুক্ত করার পর গড়ে ওঠা বিভিন্ন মহাকাশ স্টার্টআপে যোগ দিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২০২৩ সালে ভারতের মহাকাশ নীতি চালুর পর এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বর্তমানে ভারতে নিবন্ধিত মহাকাশ স্টার্টআপের সংখ্যা ৪০০ এর বেশি। এসব প্রতিষ্ঠান মোট ৫০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে, যার মধ্যে ২০২৫ সালের মধ্যে এসেছে প্রায় ১৫ কোটি ডলার। পিক্সেল, ধ্রুবা স্পেস, স্কাইরুট অ্যারোস্পেস, অগ্নিকুল কসমস এবং বেলাট্রিক্স অ্যারোস্পেসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এই খাতের শীর্ষে রয়েছে।

আরও পড়ুন: মুসলিম পরিচয় নিয়ে হেনস্তার চেষ্টা, কড়া জবাব আব্দুল এল-সায়েদের

একাধিক ধাক্কা ও চ্যালেঞ্জ

এদিকে বিজ্ঞানীদের পদত্যাগের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক মহাকাশ অভিযানে ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছে ইসরো। সংস্থাটির নির্ভরযোগ্য উৎক্ষেপণযান হিসেবে পরিচিত পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (পিএসএলভি) এক বছরের মধ্যে টানা দুটি উৎক্ষেপণে ব্যর্থ হয়েছে।

তবে এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে গগনযান, চন্দ্রযান-৪, ভারতীয় মহাকাশ স্টেশন (বিএএস) এবং মঙ্গলযান-২ এর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে মনোযোগ ধরে রেখেছে ইসরো।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে পিএসএলভি-সি৬২ উৎক্ষেপণের সময় তৃতীয় ধাপের শেষে ত্রুটির কারণে রকেটটি নির্ধারিত পথ থেকে বিচ্যুত হয়। এর আগে গত বছরের মে মাসে পিএসএলভি-সি৬১/ইওএস-০৯ (রিস্যাট-১বি) মিশনও ব্যর্থ হয়। তৃতীয় ধাপে চেম্বারের চাপ হঠাৎ কমে যাওয়ার কারণে রকেটটি নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছাতে পারেনি এবং রাডার স্যাটেলাইটটি হারিয়ে যায়।

আরও পড়ুন: আরএসএস-এর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখলেন ইসরায়েলি কনসাল জেনারেল

এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ইসরো আগামী কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে মহাকাশযান, যার মাধ্যমে ভারত নিজস্ব প্রযুক্তিতে মানুষকে মহাকাশে পাঠানোর জন্য চতুর্থ দেশ হতে চায়।

এছাড়া চন্দ্রযান-৪, যার লক্ষ্য চাঁদ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা এবং পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা; ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন (বিএএস) নির্মাণ এবং মঙ্গলযান-২ মিশনের প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে পাঁচ ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩১ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে পাঁচ ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত পাঁচ ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূত ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকটি গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-চার্লে, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিসটিয়াগা, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক, ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ) বাইবা জারিনা এবং জার্মানির চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ) আনজা কারস্টেন অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের সময় বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় অংশীদারদের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের ওপর ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

আলোচনা চলাকালে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, প্রতিরক্ষা, বেসামরিক বিমান চলাচল (এভিয়েশন) এবং আরও বিভিন্ন পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতে সহযোগিতা আরো গভীর ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ককে পারস্পরিক আস্থা এবং অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বাংলাদেশে তাদের নিজ নিজ দেশের বহুমাত্রিক অংশীদারিত্ব আরও সম্প্রসারণের আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর হামলা হলে বাব-এল-মান্দেব বন্ধ করবে হুতিরা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩২ পি.এম


ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর হামলা হলে বাব-এল-মান্দেব বন্ধ করবে হুতিরা!

ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর উপর যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা চালায়, তাহলে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব-এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করার জন্য ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিকে প্রস্তুত থাকতে বলেছে তেহরান। এ সংক্রান্ত তথ্য বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যা তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের দুইজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং একটি আঞ্চলিক সূত্রে জানা গেছে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে এ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে হুতিদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্প্রতি হুতিদের কাছে তেহরানের এ অনুরোধ পৌঁছানো হয়েছে। তবে কীভাবে বার্তাটি প্রদান করা হয়েছে বা মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দেয়ার আগে নাকি পরে এটি পৌঁছেছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা হুতি গোষ্ঠীর কোনো মুখপাত্র প্রতিক্রিয়া জানাননি।

হুতিদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ইয়েমেনের হোদেইদা ও এডেন উপসাগরসংলগ্ন উঁচু এলাকায়, বাব এল-মান্দেব প্রণালির কাছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোতায়েন করে জাহাজে হামলার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে হুতিরা। তারা এখন হামলা শুরুর নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে।

রয়টার্স বলছে, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সংকট আরও তীব্র হতে পারে। কারণ, ইতোমধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল রফতানি পথগুলোর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

হুতিদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, ইয়েমেনে অবস্থানরত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর প্রতিনিধিরাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন কখন বাব এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করা হবে।

এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি না দেয়ার জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি তেহরান কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনী বলেছে, যদি কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ভূখণ্ড বা সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলার সুযোগ দেয়, তবে সেই পদক্ষেপের কঠোর জবাব দেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ইরানের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'আমাদের প্রতিবেশীদের জানা উচিত, যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়া এবং ইরানের ভূখণ্ডে হামলার সুযোগ করে দেয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটির যথাযথ জবাব দেয়া হবে।'

একইসঙ্গে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অবকাঠামোর ওপর হামলা চালায়, তাহলে পুরো অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে আরও ভয়াবহ ও ব্যাপক হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।

সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, ইরান শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে এবং এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হস্তক্ষেপ প্রতিহত করবে।

তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার একমাত্র উপায় হলো জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়ন করা এবং প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিষয়ে ইরানের নির্ধারিত বিধিনিষেধ মেনে চলা।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিএনসিসির ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৪,৫২৭.৭৪ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩২ পি.এম


ডিএনসিসির ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৪,৫২৭.৭৪ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ৫২৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ডিএনসিসির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বাজেট ঘোষণা করেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

ডিএনসিসির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মোট বাজেট ছিল ৬ হাজার ৬৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের মোট বাজেট ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৫২৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা; যা গত বছরের তুলনায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা কম।

প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বাজেটের আয়-ব্যয়ের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, ‘নতুন অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেট ৪ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রারম্ভিক স্থিতি জমা ৬৬০ কোটি টাকা, রাজস্ব আয় ২ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা, আবর্তক খাতে সাহায্য ও মঞ্জুরি ২১৫ কোটি টাকা, সরকারি উন্নয়ন অনুদান ১৫০ কোটি টাকা, সরকারি ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প থেকে আয় ৯৬৫ কোটি টাকা।’

‘ব্যয়ের মধ্যে আছে- রাজস্ব ব্যয় ১ হাজার ৭৭ কোটি টাকা, নিজস্ব উৎস থেকে উন্নয়ন ব্যয় ১ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা, সরকারি উন্নয়ন সহায়তায় উন্নয়ন ব্যয় ৮৩ কোটি টাকা, সরকারি ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্পে উন্নয়ন ব্যয় ৯৬৫ কোটি টাকা, অন্যান্য ব্যয় ৭ কোটি টাকা এবং সমাপনী স্থিতি ৪২৭ কোটি টাকা।’

নতুন বাজেটে রাজস্ব আয় ২ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা ও নিজস্ব উৎস থেকে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা বলেও তথ্য দেন প্রশাসক।

প্রশাসক বলেন, চলতি অর্থবছরে নগরবাসীর উন্নয়ন, রাজস্ব আহরণ এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতার বিষয় বিবেচনায় রেখে একটি যুগোপযোগী, বাস্তবমুখী ও উন্নয়নমুখী বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, চার মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণের পর যথাযথ সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় সীমিত বাজেট নিয়েও ডিএনসিসি নগর উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ, সফলভাবে হামের টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন, কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ, আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।

তিনি আরও বলেন, বাসাবাড়ির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ ফুটপাত দখলমুক্ত করা, খাল উদ্ধার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার, ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ কর্মসূচির আওতায় বৃক্ষরোপণ এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রশাসক জানান, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ স্লোগানকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সাজানো হয়েছে। এ বাজেটে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ, জলাবদ্ধতা প্রতিরোধ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার, ড্রেন ও ম্যানহোল ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়ন, আধুনিক সড়কবাতি স্থাপন, বাজার ও মার্কেট আধুনিকায়ন, হকারদের জন্য বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা, বস্তিবাসীর উন্নয়ন, কোরবানির হাট আধুনিকায়ন, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনালের উন্নয়ন এবং খাল সংস্কারের মাধ্যমে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, একটি উন্নত, পরিকল্পিত ও আধুনিক বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতেই এ বাস্তবমুখী বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রশাসক বলেন, ঢাকা নগরীর সব কার্যক্রম সিটি কর্পোরেশনের একক আওতায় নয়; রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ঢাকা ওয়াসা এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর (পিডব্লিউডি) এ কাজে সম্পৃক্ত। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে জলাবদ্ধতামুক্ত ঢাকা উত্তর গড়ে তুলতে কাজ করছে ডিএনসিসি।

তিনি বলেন, নাগরিকদের সহযোগিতা ও সচেতনতা ছাড়া পরিচ্ছন্ন, ডেঙ্গুমুক্ত ও জলাবদ্ধতামুক্ত নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। নগরবাসী সচেতন হলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে। ডিএনসিসি ২৪ ঘণ্টাই নগরবাসীর সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলাপাড়ায় আন্দারমানিক নদের বেরিবাঁধসহ স্লুইস ধসে পড়ায় পানিবন্দি ৭ গ্রামের হাজারো মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩৫ পি.এম


কলাপাড়ায় আন্দারমানিক নদের বেরিবাঁধসহ স্লুইস ধসে পড়ায় পানিবন্দি ৭ গ্রামের হাজারো মানুষ

পটুয়াখালীর কলাপড়ায় আন্দারমানিক নদীর পানির প্রবল স্রতে সদরপুর স্লুইস বেরিবাঁধ ভেঙে পড়ায় চরম দুর্ভোগে ভুগছেন কয়েক হাজার মানুষ। স্লুইসটি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কারণে প্রায় সাতশ একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সাত গ্রামের প্রায় চার হাজার পরিবার।

গত বছর থেকেই স্লুইসে ভাঙনের লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। তখন প্রয়োজনীয় মেরামত করা হলে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। কয়েকদিন ধরে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন, তবে অভিযোগ রয়েছে যে স্লুইস দিয়ে পানি নামানোর কার্যকর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় যে, ওই এলাকায় সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। হাজীপুর এলাকায় সোনাতলা ও আন্ধারমানিক নদীর সংযোগস্থল এবং সাগর মোহনা ঘেঁষা জনপদের মানুষকে জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করার জন্য হাজীপুর সেতু থেকে জালালপুর পর্যন্ত নির্মাণ করা হয় বেড়িবাঁধ। ওই বেড়িবাঁধের অভ্যন্তরের পানি নিষ্কাশনের জন্য সদরপুর তিন ভেন্টের স্লুইস নির্মাণ করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় সংস্কার না হওয়ায় এবার পানির তীব্র চাপে স্লুইসটি বেরিবাঁধসহ ভেঙে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, স্লুইসটি ভেঙে যাওয়ার পর পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সোনাতলা নদীর জোয়ারের পানি ঢুকে আশপাশের সাতটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে গেছে। বসতঘর, রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকের পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। এদিকে, পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে পরিবারগুলো।

স্থানীয় সোনাতলা গ্রামের জলিল মিয়া বলেন, “স্লুইসটি ভেঙে যাওয়ার কারণে পানি নামতে পারছে না। ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে, ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”

সদরপুর গ্রামের বাসিন্দা জাবেদ হাওলাদার জানান, “গত বছর থেকেই স্লুইসটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তখন সংস্কার করলে আজ আমাদের এমন সমস্যায় পড়তে হতোনা।”

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস সূত্রে জানা যায়, কলাপাড়ার অনেক স্লুইস ও জলকপাট দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সদরপুর স্লুইসসহ উপজেলার ১২৯টি স্লুইস নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য প্রস্তবনা পাঠানো হয়েছে।

কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শাহ আলম বলেন, “ভেঙে যাওয়া স্লুইস ও জলকপাটগুলো পুনর্র্নিমাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%