শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:২৭ পি.এম
রাজধানীর গুলশানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতাকর্মী মিছিল করার চেষ্টা করেছেন। এসময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়ে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সক্ষম হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলে অংশগ্রহণকারী কয়েকশ মানুষ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন। পুলিশ মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করার জন্য রাবার বুলেট ছুড়ছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান-১ এর ভোলা মসজিদের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দাউদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান-১ এর ভোলা মসজিদের সামনে থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করা হয়। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে মিছিলকারীরা দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়ে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও পেন্টাগনে সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আমেরিকার 'সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ'-এর ভয়াবহ মানবীয় ও আর্থিক ক্ষতির চিত্র। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এবং ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ‘কস্ট অব ওয়ার’ প্রজেক্টের গবেষণা অনুযায়ী, গত আড়াই দশকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন একাধিক যুদ্ধ ও সামরিক অভিযানে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ৪৫ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটেছে।
প্রতিবেদনটি জানাচ্ছে, ২০০১ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এই দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অভিযানের ফলে আফগানিস্তান, ইরাক, পাকিস্তান, ইয়েমেন, সোমালিয়া, লিবিয়া ও সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন।
গবেষণার প্রধান তথ্যসমূহ: প্রাণহানি: প্রত্যক্ষ সামরিক হামলায় প্রায় ৯ লাখ ৪০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া যুদ্ধজনিত মহামারি, খাদ্যাভাব ও ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে পরোক্ষভাবে মারা গেছেন আরও ৩৬ থেকে ৩৮ লাখ মানুষ।
আফগানিস্তান: ২০০১ থেকে শুরু হওয়া দুই দশকের যুদ্ধে সরাসরি প্রাণ গেছে অন্তত ১ লাখ ৭৬ হাজার মানুষের। যুদ্ধপরবর্তী সময়ে খাদ্যাভাব বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২ শতাংশে।
ইরাক: ২০০৩ সালে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের অজুহাতে চালানো অভিযানে ৩ লাখ ১৫ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারান।
ড্রোন ও বিমান হামলা: পাকিস্তান, ইয়েমেন, সোমালিয়াসহ বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার বিমান ও ড্রোন হামলায় হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
আর্থিক ক্ষতি: বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি খরচ হয়েছে ৫.৮ ট্রিলিয়ন ডলার। এছাড়া যুদ্ধাহত সৈনিকদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে ভবিষ্যৎ খরচ ধরা হয়েছে ২.২ ট্রিলিয়ন ডলার—যার মোট পরিমাণ ৮ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে শান্তি ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুরু হওয়া এই 'অনন্ত যুদ্ধ' (Forever Wars) মানবজাতির ইতিহাসে অন্যতম বড় সংকট ও চরম মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যমান পশ্চিমা আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম হচ্ছে কি উদীয়মান অর্থনীতির জোট 'ব্রিকস' (BRICS)? এই প্রশ্নটি উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার একটি বিশদ বিশ্লেষণে। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১৭তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিশ্লেষকদের মন্তব্য, পশ্চিমা শাসনব্যবস্থাকে রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব না হলেও, বিশ্বরাজনীতির 'বহুমেরুকরণ' (Multipolarity) বা বহুমুখী করার ক্ষেত্রে জোটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বর্তমানে, ব্রিকস বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক এবং বিশ্ব উৎপাদনের ৪০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। অর্থনীতির বিশাল পরিধি থাকা সত্ত্বেও, নীতিগত অমিল রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, মিসর ও ইথিওপিয়ার মতো দেশগুলোর যোগদান এবং সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার অন্তর্ভুক্তির ফলে এই জোটের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে।
অবশ্য, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকসের অর্থনৈতিক আকার বিশাল হলেও, যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষমতা এখনও তুলনামূলকভাবে দুর্বল। উদাহরণস্বরূপ, ডলারের আধিপত্যের কথা বলা হলেও, ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর অধিকাংশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এখনও মার্কিন ডলারে সম্পন্ন হয়।
এছাড়া, জোটটির গঠিত 'নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক' (NDB) উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য শর্তহীন অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি করলেও, এর পরিধি বিশ্বব্যাংক বা আইএমএফের তুলনায় এখনও অনেক সীমিত।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ব্রিকস কোন পশ্চিমা বা ন্যাটো-বিরোধী সুসংগঠিত সামরিক বা একক ভূরাজনৈতিক জোট নয়। এর মূল উদ্দেশ্য পশ্চিমা আধিপত্যের পতন নয়, বরং বৈশ্বিক সংস্থায় বৈশ্বিক দক্ষিণের (Global South) দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিশ্চিত করা।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ও মার্কিন-ইসরায়েল হামলা ইস্যুতে সদস্য দেশগুলোর বিপরীত অবস্থান ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে স্পষ্ট করেছে। যৌথ বিবৃতি বা একক পরাশক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জোটের মধ্যে বৈচিত্র্যময় ও দ্বান্দ্বিক জাতীয় স্বার্থ বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
কানাডার কার্লটন ইউনিভার্সিটির বিশ্লেষক শেন বার্জেস এবং অন্যান্য ভূরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রিকসের সফলতা এই জায়গায় নয় যে তারা রাতারাতি পশ্চিমাকে প্রতিস্থাপন করতে পারছে, বরং তাদের সফলতা এতে যে তারা পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য নিজেদের একচ্ছত্র প্রভাব খাটানো কঠিন করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থায় অর্থনৈতিক বিকল্প তৈরি এবং বিশ্বরাজনীতিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কণ্ঠস্বর জোরদার করাই এখন পর্যন্ত ব্রিকসের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সূত্র: আল-জাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সম্প্রতি বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ফলে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মাদকের প্রভাব, নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধ, জমিজমা সংক্রান্ত বিবাদ, আর্থিক লেনদেন, পারিবারিক কলহ এবং পরকীয়ার মতো বিভিন্ন কারণে প্রতিহিংসা ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
গত ছয় মাসে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জমিজমাসংক্রান্ত বিবাদের ফলে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ বছরের ৩১ মার্চ রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের লোচনাবাদ গ্রামে জমিজমাসংক্রান্ত পূর্ববিবাদের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় কলেজছাত্র সাইদুল ইসলাম (সজীব) আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
১৫ মে গারুরিয়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামে জমিতে বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে হালিম হাওলাদার নামে একজনের মৃত্যু ঘটে।
হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি, গত কয়েক মাসে জমিজমাসংক্রান্ত বিবাদের কারণে বড় ধরনের জখম ও মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। এর মধ্যে দুধল ইউনিয়নের মধ্য গোমা গ্রামে জমিজমাসংক্রান্ত বিবাদে একই পরিবারের ৪ জন, যার মধ্যে নারীও রয়েছে, কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়।
আগস্টের শেষের দিকে পাদ্রীশিবপুর গ্রামে জমিজমাসংক্রান্ত বিবাদে এক প্রবাসী পরিবারের বৃদ্ধা মহিলা ও তাঁর নাতির ওপর হামলা হয়।
এছাড়া, ২৩ জুন কবাই ইউনিয়নের লক্ষ্মীপাশা গ্রামে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগে দুই সন্তানের জননী রীমা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে, একই ইউনিয়নের সরসী গ্রামের এক মেয়ে, দুই সন্তানের জননী, ঢাকার খিলগাঁওয়ে পরকীয়ার অপবাদে স্বামীর নির্মম আঘাতে মৃত্যুবরণ করেন।
সর্বশেষ ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কবাই ইউনিয়নের কালের কাঠি গ্রামের ফরাজি মার্কেট এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে সোহেল সিকদার নামে এক ভ্যানচালককে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে লাশ ডোবায় ফেলে রাখে।
এদিকে, আশঙ্কাজনক হারে মাদকের বিস্তার ঘটেছে উপজেলার সর্বত্র। হাত বাড়ালেই সহজলভ্য দ্রব্যের মতো মাদক পাওয়া যাচ্ছে, ফলে সামাজিকতার ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।
প্রতিদিনের এই ঘটনাপ্রবাহে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
এহেন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অপরাধী শনাক্ত করে বিভিন্ন মেয়াদে জেল ও জরিমানা করছে।
তবে, একশ্রেণির অপরাধচক্র অপরাধ করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে সাধারণ নিরীহ মানুষের মনে ভীতিপ্রদ পরিবেশ তৈরি করছে।
থানার অফিসার ইনচার্জ আদিল হোসেনের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, "যেকোনো ধরনের অপরাধ দমন ও অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ বাহিনী সবসময় জনগণের পাশে আছে।" তিনি আরও বলেন, "বর্তমানে বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে এগিয়ে যাচ্ছে। অপরাধী যে হোক, তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বরিশালের আবহাওয়া অস্বাভাবিক আচরণ করছে। শরতের আকাশে কখনো সাদা মেঘের ভেলা দেখা যাচ্ছে, আবার কখনো কালো মেঘের সাথে মাঝারি থেকে প্রবল বর্ষণ হচ্ছে। তাপমাত্রা স্বাভাবিকের ২-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রয়েছে।
গত আগস্ট মাসে বরিশাল সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরে ৪টি লঘুচাপ সৃষ্টি হলেও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের ৪.৩% কম ছিল। জুলাই মাসে বরিশালে স্বাভাবিকের চেয়ে ১২.৬% কম বৃষ্টি হয়েছে। চলতি মাসে আবহাওয়া বিভাগ বরিশালে ৩শ থেকে ৩৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে, কিন্তু মাসের প্রথম ১০ দিনে ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ভাদ্রের বড় অমাবস্যার বৃষ্টিপাত নিয়ে বরিশালের কৃষি অঞ্চলের চাষিদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিলেও কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। বরিশাল কৃষি অঞ্চলে কৃষিযোদ্ধারা ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার ৯০ ভাগেরও বেশি আমন রোপণ সম্পন্ন করেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মাসের মধ্যেই রোপণ সম্পন্ন হবে। কৃষি মন্ত্রণালয় চলতি খরিপ-২ মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ৮.৯০ লাখ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
এদিকে, শেষ শ্রাবণের অমাবস্যায় বৃষ্টিপাতের পর মরা কার্তিকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা সুস্পষ্ট লঘুচাপ থেকে নিম্নচাপে পরিণত হয়ে বরিশালের অদূরে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর ফলে এ অঞ্চলের সব নদ-নদীর পানি কয়েক দফা বিপদসীমা অতিক্রম করেছে এবং গত দুদিন ধরে তা বিপদসীমার খুব নিকটে রয়েছে। বর্ষা মৌসুম জুড়ে লাগাতার বৃষ্টি হচ্ছে।
এই বৃষ্টিপাতের কারণে আমন বীজতলাসহ রোপা আমনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি উপ-বিভাগ জানিয়েছে, বরিশালের ১৮টি পয়েন্টের গেজ স্টেশনের মেঘনা, সুরমা, বলেশ্বর, বুড়িশ্বর, কচা, সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও বিষখালী নদ-নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করছে। ফলে কৃষকের দুশ্চিন্তা অব্যাহত রয়েছে।
গত বছর ১ নভেম্বর বরিশাল থেকে বর্ষা বিদায়ের ১২৭ দিন পরে গত ৯ মার্চ প্রথম বৃষ্টির দেখা মিললেও মাসজুড়ে বৃষ্টির ঘাটতি ছিল। এপ্রিলে স্বাভাবিকের বেশি বৃষ্টিপাত হলেও মে ও জুন মাসে বরিশালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের কম ছিল। জুলাই মাসে স্বাভাবিকের ১২.৬% বেশি বৃষ্টি হলেও আবহাওয়ার বিচিত্র আচরণ বোঝা যাচ্ছে না। আবহাওয়া বিভাগ চলতি মাসে স্বাভাবিকের কম বৃষ্টিপাতের খবর দিয়েছে।
বরিশাল অঞ্চলে কালো মেঘের সাথে প্রবল বৃষ্টিপাতের পর আবার শরতের সাদা মেঘের ভেলা ভেসে বেড়ানো সাধারণ মানুষের কাছে উপভোগ্য হলেও কৃষকদের দুশ্চিন্তা ক্রমশ বাড়ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ