রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:১১ পি.এম
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জানিয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার কারণে অনেককে বঞ্চিত করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এই কথা বলেন।
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, যদি কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বা অপরাধে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকে, তাহলে তাকে সরকারি চাকরির জন্য অনুপযুক্ত বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে, প্রার্থী বা তার পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা যাচাই করে নিয়োগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক বা নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্রার্থী ও তাদের পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই করার প্রথা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও ছিল। মেধার অধিকারকে কেন্দ্র করে যে গণ-অভ্যুত্থান ঘটেছিল, তার পর গঠিত সরকারের সময়েও রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার কারণে মেধাবীদের বঞ্চিত করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, মেধায় যারা উত্তীর্ণ হয়েছেন তাদের নিয়োগপত্র প্রদান করতে হবে।
সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যাচাইয়ের প্রচলিত রীতির সমালোচনা করে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বলেন, এই ব্যবস্থা ব্রিটিশ আমলের ধারাবাহিকতা। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন দমন করতে তখন চাকরিপ্রার্থীদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হতো।
স্বাধীনতার পরও এই চর্চা অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, দলীয় সরকারগুলো সাধারণত গোয়েন্দা সংস্থার যাচাইয়ের মাধ্যমে বিরোধী দল ও মতের অনুসারী এবং তাদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত করে। একই প্রক্রিয়ায় নিজেদের লোকদের নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়। জনপ্রশাসনের দলীয়করণেও এই যাচাই প্রক্রিয়া ভূমিকা রাখে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গাজী আতাউর রহমান সতর্ক করে বলেন, বিএনপি সরকারও যদি আগের সরকারগুলোর মতো একই ধারাবাহিকতা অনুসরণ করে, তাহলে নতুন করে আন্দোলনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে মেধার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ সকল প্রার্থীর নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে নারীরা বর্তমানে বোঝা নয়, বরং সম্পদে পরিণত হয়েছে, এমন মন্তব্য করেছেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, "আমরা লক্ষ্য করে দেখেছি, আজকে বাংলাদেশে সকল ক্ষেত্রে মেয়েরা এখন আর বোঝা নয়। মেয়েরা একটা সম্পদে পরিণত হয়েছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "আপনারা দেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পাশের হার মেয়েদের বেশি। মেডিকেল কলেজে পাশের হার বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও পাশের হার বেশি। কারণ আজকালকার ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা অগ্রগামী বেশি।"
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের দালাল বাজার ফাতেমা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মেয়েদের প্রতি অবহেলা না করার আহ্বান জানিয়ে খায়ের ভূঁইয়া বলেন, "আমাদের নবী করীম (সা.) ফাতেমা (রা.)-কে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। মেয়েদেরকে মানুষ ঘৃণার পাত্র না, অবহেলার পাত্র না।"
তিনি আরও বলেন, "বিগত সরকারের তো জিপিএ-৫, গোল্ডেন-৫-এর অভাব ছিল না। কিন্তু এটা কোনো কাজে আসেনি।"
দালাল বাজার ফাতেমা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি হাছান আলী মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা (পশ্চিম) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মহি উদ্দিন পাটোয়ারী বিটু, দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু ছায়েদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অমিতাভ বচ্চন পরিবারকে আগে থেকে না জানিয়ে জয়া বচ্চনকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সম্প্রতি ‘কৌন বানেগা ক্রোড়পতি’র (কেবিসি) ১৮তম মৌসুমে তিনি কীভাবে হঠাৎ করে তাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেই বিষয়টি জানান।
অনুষ্ঠানে কলকাতার প্রতিযোগী অহেলি রায় অমিতাভকে প্রশ্ন করেন, জয়ার পরিবারকে বিয়ের জন্য কীভাবে রাজি করিয়েছিলেন তিনি। অমিতাভের জবাব ছিল, বিয়ের জন্য কোনো দীর্ঘ পরিকল্পনা বা পরিবারের সঙ্গে বড় কোনো আলোচনা হয়নি।
তিনি বলেন, একদিন সরাসরি জয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। জয়া এতে সম্মতি জানান। এরপর দুজনেই সিদ্ধান্ত নেন, বিয়ের বিষয়টি আগে থেকে পরিবারকে জানাবেন না।
পরে জয়া তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানান এবং পরিবারের সম্মতিও পাওয়া যায়। তবে জয়া তার বাবা-মাকে কীভাবে রাজি করিয়েছিলেন, তা অমিতাভ নিজেও জানেন না বলে জানান।
অমিতাভের ভাষায়, তাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছিল খুব দ্রুত। একদিন বিয়ের কথা ঠিক করার পরের দিনই তারা বিয়ে করেন। সেখানে ছিল না দীর্ঘ আয়োজন বা বড় কোনো পরিকল্পনা। বিয়েটি ছিল একেবারেই ব্যক্তিগত ও সাদামাটা।
১৯৭৩ সালের ৩ জুন বিয়ে করেন অমিতাভ ও জয়া। ‘জঞ্জির’ সিনেমার সাফল্যের পর তাদের সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হয় এবং এরপরই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তারা। তাদের দুই সন্তান হলো—শ্বেতা বচ্চন নন্দা ও অভিষেক বচ্চন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে সাত বছরের শিশু মাহিদা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জাহিদুল ইসলামকে (২০) কোনো ধরনের আইনি সহায়তা প্রদান না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি। আইনজীবী সমিতির এই সিদ্ধান্ত মাহিদার পরিবারের অনুরোধের প্রেক্ষিতে গৃহীত হয়েছে।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বাবুল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অতীতে ঘটে যাওয়া ন্যক্কারজনক ঘটনার আসামিদের জন্য আইনজীবীরা কখনোই দাঁড়াননি। শিশু মাহিদাকে ধর্ষণ করে হত্যার মতো নির্মম ঘটনায়ও কোনো আইনজীবী আসামি জাহিদুল ইসলামের পক্ষে আইনি সহায়তা দেবেন না। বরং মাহিদার ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য আইনজীবীরা কাজ করবেন।
এর আগে, মৃত শিশু মাহিদার মা মনিরা আক্তারসহ পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসী আইনজীবী সমিতিতে গিয়ে ঘাতক জাহিদুলের পক্ষে মামলা পরিচালনা না করার জন্য লিখিত আবেদন করেন। পরে মাহিদার স্বজন ও বিক্ষোভকারীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালত চত্বরের বিভিন্ন স্থানে আসামি জাহিদুলের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন।
এদিকে, মাহিদাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জাহিদুল ইসলাম ১৬৪ ধারায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৫ম আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। ঘাতক জাহিদুল স্বীকার করেন যে, মাহিদাকে ধর্ষণের পর বালিশ চাপা দিয়ে ও গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের কোর্ট পরিদর্শক মো. হাবিবুল্লাহ সরকার জানান, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান শেষে জাহিদুল ইসলামকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করেছেন।
শুক্রবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে সাত বছরের এক কন্যা শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। উপজেলার তালশহর পশ্চিম ইউনিয়নের আন্দিদিল গ্রামে এই ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা ঘাতক জাহিদুল ইসলামকে (২০) বেদম পিটিয়ে পুলিশে দেয় এবং তার বাড়িতে হামলা করে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার সাত বছরের শিশু মাহিদা ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসী মোজাম্মেল হকের মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করতেন। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার রাতে শিশু মাহিদার লাশ দাফন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, শিশু মাহিদা ও অভিযুক্ত জাহিদুল সম্পর্কে চাচা-ভাতিজি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের আচমত আলী খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগে দেশীয় অস্ত্রসহ তাহসিন সিকদার নামে এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক তাহসিন মাদারীপুর পৌর শহরের কলেজ রোড এলাকার আজিজুল সিকদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি শেষে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিনহাজের সঙ্গে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুর আলমের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে শিক্ষকরা হস্তক্ষেপ করে বিষয়টি মীমাংসা করেন।
তবে রোববার স্কুল ছুটির পর পূর্বের বিরোধের জেরে নুর আলম বহিরাগত কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে মিনহাজের ওপর দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় মিনহাজের চিৎকারে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সরে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাহসিন সিকদার নামে এক বহিরাগতকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, স্কুল ও কলেজের ভেতরে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হামলার ঘটনায় একজনকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং-সংক্রান্ত মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ