প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে সাত বছরের শিশু মাহিদা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জাহিদুল ইসলামকে (২০) কোনো ধরনের আইনি সহায়তা প্রদান না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি। আইনজীবী সমিতির এই সিদ্ধান্ত মাহিদার পরিবারের অনুরোধের প্রেক্ষিতে গৃহীত হয়েছে।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বাবুল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অতীতে ঘটে যাওয়া ন্যক্কারজনক ঘটনার আসামিদের জন্য আইনজীবীরা কখনোই দাঁড়াননি। শিশু মাহিদাকে ধর্ষণ করে হত্যার মতো নির্মম ঘটনায়ও কোনো আইনজীবী আসামি জাহিদুল ইসলামের পক্ষে আইনি সহায়তা দেবেন না। বরং মাহিদার ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য আইনজীবীরা কাজ করবেন।
এর আগে, মৃত শিশু মাহিদার মা মনিরা আক্তারসহ পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসী আইনজীবী সমিতিতে গিয়ে ঘাতক জাহিদুলের পক্ষে মামলা পরিচালনা না করার জন্য লিখিত আবেদন করেন। পরে মাহিদার স্বজন ও বিক্ষোভকারীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালত চত্বরের বিভিন্ন স্থানে আসামি জাহিদুলের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন।
এদিকে, মাহিদাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জাহিদুল ইসলাম ১৬৪ ধারায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৫ম আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। ঘাতক জাহিদুল স্বীকার করেন যে, মাহিদাকে ধর্ষণের পর বালিশ চাপা দিয়ে ও গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের কোর্ট পরিদর্শক মো. হাবিবুল্লাহ সরকার জানান, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান শেষে জাহিদুল ইসলামকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করেছেন।
শুক্রবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে সাত বছরের এক কন্যা শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। উপজেলার তালশহর পশ্চিম ইউনিয়নের আন্দিদিল গ্রামে এই ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা ঘাতক জাহিদুল ইসলামকে (২০) বেদম পিটিয়ে পুলিশে দেয় এবং তার বাড়িতে হামলা করে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার সাত বছরের শিশু মাহিদা ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসী মোজাম্মেল হকের মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করতেন। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার রাতে শিশু মাহিদার লাশ দাফন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, শিশু মাহিদা ও অভিযুক্ত জাহিদুল সম্পর্কে চাচা-ভাতিজি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন