বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:১৭ পি.এম
রাজধানীর শাহবাগে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা ছয় আসামিকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসেন মোহাম্মদ জোনাইদ এ আদেশটি প্রদান করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জুয়েল মৃধা (৩৮), মো. রমিজ তালুকদার (৪৬), জসিম তালুকদার ওরফে রিয়াজ (৪৬), মো. রহমান হাওলাদার (৫৬), মো. বিল্লাল (৫২) এবং মো. মারুফ (৩৮)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক মো. আনোয়ার হোসেন আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
অভিযোগের মধ্যে বলা হয়েছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় অভিযান পরিচালনার সময় ডিবির মিরপুর বিভাগের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, কয়েকজন দুষ্কৃতকারী শাহবাগ থানাধীন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের বিপরীত পাশের ফুটপাতে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরে ডিবির দল সেখানে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করে। পুলিশ উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করছিল।
তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি খেলনা পিস্তল, একটি খালি খেলনা ম্যাগাজিন, একটি কালো রঙের খেলনা ওয়াকিটকি, একটি হ্যান্ডকাফ এবং ‘ডিবি’ লেখা তিনটি জ্যাকেট। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে ডিবি সদস্য পরিচয়ে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ও পোশাক ব্যবহার করে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি ও ছিনতাই করে আসছিল। রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চক্রটির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটন এবং পলাতক সহযোগীদের গ্রেপ্তারের জন্য আসামিদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দপ্তরখানায় অভিযান; ২৪ অ্যাম্পুল জি-মরফিন ও ২১ অ্যাম্পুল ইজিয়াম ইনজেকশন উদ্ধারের দাবি ডিএনসির
বরিশাল নগরীর দপ্তরখানা এলাকার আলীর গলিতে অভিযান চালিয়ে ২৪ অ্যাম্পুল জি-মরফিন ও ২১ অ্যাম্পুল ইজিয়াম ইনজেকশনসহ ইসরাত জাহান স্মৃতি (২৭) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়, বরিশাল।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দপ্তরখানা আলীর গলিতে মো. বশিরের বাসার সামনে সড়কে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বরিশাল বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় ওই স্থানে তল্লাশি চালিয়ে ইসরাত জাহান স্মৃতির কাছ থেকে ২৪ অ্যাম্পুল জি-মরফিন ও ২১ অ্যাম্পুল ইজিয়াম ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ইসরাত জাহান স্মৃতি দপ্তরখানা আলীর গলি এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম মৃত হারুন আর রশিদ এবং মায়ের নাম শিল্পী বেগম।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। মামলায় ওই আইনের ৫৬ ধারার প্রয়োগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
তবে উদ্ধার হওয়া ইনজেকশনগুলো এবং আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক অণুজীব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আমেরিকান সোসাইটি ফর মাইক্রোবায়োলজি স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘অণুজীব জানুন, নিরাপদ থাকুন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক স্থানীয় মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন শ্রীরামপুরের তমালতলা এলাকায় স্থানীয় জনগণের কাছে সচেতনতা তুলে ধরার মাধ্যমে এই কর্মসূচি পালন করেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।
কর্মসূচির শুরুতে সংগঠনের সেক্রেটারি অভিনন্দন পাল সীমান্ত অণুজীবের পরিচয়, দৈনন্দিন জীবনে এর ভূমিকা ও গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। পরবর্তীতে ভাইস প্রেসিডেন্ট হাফসা বিজ্ঞানভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত সঠিক তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে এলাকার ব্যক্তি ফজলুল হক গ্রামাঞ্চলের স্যানিটেশন ব্যবস্থার পরিবর্তন সম্পর্কে বক্তব্য দেন। সংগঠনটির বরাত তিনি বলেন, “প্রায় ১০ বছর আগে আমাদের এই নিশ্চিতপুর গ্রামের মানুষ কাঁচা পায়খানা ব্যবহার করতেন। কিন্তু এখন অনেকের বাড়িঘর অনুন্নত হলেও প্রত্যেক ঘরে বাথরুম রয়েছে।”
পরে সংগঠনের প্রেসিডেন্ট খন্দকার মেহেদী হাসান অণুজীব সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মসূচির পরবর্তী পর্বে অর্গানাইজিং সেক্রেটারি মুরশিদা পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ক্ষতিকর অণুজীব, সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে আলোচনা করেন। সহজ ও বোধগম্য ভাষায় উপস্থাপিত এ আলোচনার মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের মধ্যে অণুজীব ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করা হয়।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অভিনন্দন পাল সীমান্ত গণমাধ্যমকে জানান, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের অর্জিত বৈজ্ঞানিক জ্ঞান কমিউনিটি পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি, স্যানিটেশন ও নিরাপদ জীবনযাপন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা। শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণ কর্মসূচিটিকে একটি অর্থবহ জনসচেতনতামূলক উদ্যোগে পরিণত করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দলিলমূলে মালিকানা দাবি ফোরকানের, প্রভাবশালী মহিউদ্দিন মন্টুর বিরুদ্ধে দখল ও বাধা দেওয়ার অভিযোগ
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি বাজারে দলিলমূলে জমির মালিকানা থাকা সত্ত্বেও ভোগদখলে বাধা এবং আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বিরোধীয় জমিতে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী মহিউদ্দিন মন্টুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২২ সালে স্থানীয় লোকমান হোসেন গংয়ের কাছ থেকে সৈয়দ মাহবুব আলম ফোরকান ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ জমি সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেন। জমিটি ৩৮২৪/২৫ দাগের মোট ৩৯ শতাংশ জমির অংশ বলে জানা গেছে। ক্রয়ের পর ওই জমি তার নামে রেকর্ডও করা হয়েছে বলে দাবি করেন ফোরকান।
ফোরকানের অভিযোগ, জমি কেনার পর থেকেই মহিউদ্দিন মন্টু বিভিন্নভাবে তাকে জমিতে প্রবেশ ও ভোগদখলে বাধা দিয়ে আসছেন। এমনকি ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে একাধিক মামলা ও স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশ-বৈঠক হলেও বিরোধের কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে জানান ফোরকান।
পরবর্তীতে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। ফোরকানের দাবি, আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বিরোধীয় জমিতে টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরাও এবং পাকা স্থাপনা নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন মহিউদ্দিন মন্টু।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দলিলপত্র অনুযায়ী তারা সৈয়দ মাহবুব আলম ফোরকানকেই ওই ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ জমির মালিক হিসেবে জানেন। তবে জমির দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
অভিযোগের বিষয়ে মহিউদ্দিন মন্টু বলেন, “৩০-৪০ বছর ধরে আমার স্বজনরা ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন।” তবে একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, জমিটি সরকারি সম্পত্তি। সরকারি সম্পত্তি হয়ে থাকলে সেখানে তার নির্মাণকাজের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এদিকে বাকেরগঞ্জ থানার এসআই সোহেল জানান, আদালতের নির্দেশনার কাগজ তারা পেয়েছেন। তিনি বলেন, “বিরোধীয় জমিতে মহিউদ্দিন মন্টু যাতে কোনো ধরনের কাজ করতে না পারেন, সে বিষয়ে তাকে নোটিশ দিয়ে আসব।”
এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—দলিল, রেকর্ড ও আদালতের নির্দেশনা থাকার পরও বিরোধীয় জমিতে নির্মাণকাজ চলতে থাকলে এর পেছনে কার প্রভাব কাজ করছে? বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগতভাবে নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ