বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:২০ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন ২০৩০ সালের জাতীয় আদমশুমারি বা সেনসাস থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বাদ দেওয়ার প্রস্তাবটি ট্রাম্প প্রশাসন উত্থাপন করেছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সেনসাস ব্যুরোর তরফ থেকে প্রকাশিত এই নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ভবিষ্যতে আদমশুমারিতে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ নাগরিক এবং স্থায়ী বাসিন্দাদের (Permanent Residents) গণনা করা হবে।
এর ফলে, যারা অবৈধভাবে দেশটিতে বসবাস করছেন বা বৈধ উপায়ে সাময়িকভাবে অবস্থান করছেন, তারা এই গণনার আওতার বাইরে থাকবেন। তাছাড়া, ১৭৯০ সাল থেকে আদমশুমারিতে অন্তর্ভুক্ত জাতি বা বর্ণ (Race or Ethnicity) সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের অংশটিও বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এই প্রস্তাবের বাস্তবায়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং কেন্দ্রীয় তহবিল বরাদ্দে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, প্রতিটি রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে কংগ্রেসের প্রতিনিধি সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। যদি বিপুল সংখ্যক অভিবাসীকে গণনার বাইরে রাখা হয়, তবে অভিবাসী-অধ্যুষিত শহর ও অঙ্গরাজ্যগুলো তাদের ন্যায্য রাজনৈতিক আসন এবং কেন্দ্রীয় অনুদান থেকে বঞ্চিত হবে।
ডেমোগ্রাফি বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক অধিকারকর্মীরা সতর্ক করেছেন যে, এই পদক্ষেপটি চরম বৈষম্যমূলক এবং এর ফলে দেশের একটি ভুল চিত্র তৈরি হবে। সিভিল অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের লিডারশিপ কনফারেন্সের জ্যেষ্ঠ পরিচালক মিতা আনন্দ জানিয়েছেন, "ত্রুটিপূর্ণ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নীতি নির্ধারণ করা হলে তা দীর্ঘ মেয়াদে দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে।"
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই আদমশুমারিতে অবৈধ অভিবাসীদের অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করে আসছেন। তার প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালের আদমশুমারিতে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রশ্ন যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট আটকে দেয়।
গত ২ সেপ্টেম্বর মার্কিন বিচার বিভাগও এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, যেসব অঙ্গরাজ্য তাদের অঞ্চলে অবস্থানরত অবৈধ অভিবাসীদের তথ্য ঠিকমতো রিপোর্ট করবে না, তারা কেন্দ্রীয় সরকারের বিলিয়ন ডলারের কল্যাণ তহবিল থেকে বঞ্চিত হতে পারে। বর্তমানে এই নতুন আদমশুমারি প্রস্তাবটি ৩০ দিনের জন্য জনসাধারণের মতামতের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও ডেঙ্গুর প্রকোপে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঝিনাইদহে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে ২ জন এবং খুলনা জেলায় ডেঙ্গুতে ২ জন মারা গেছেন।
একই সময়ে ১০ জেলায় হাম ও ডেঙ্গু মিলিয়ে নতুন করে আরও ৩৭৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দফতর থেকে প্রকাশিত পৃথক দুটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
উল্লিখিত তথ্য নিশ্চিত করে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন বাসসকে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ২৮৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ২৬০ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ২৪ জন।
সর্বোচ্চ ভর্তি দেখা গেছে খুলনা জেলায় ৯৫ জন এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৮ জন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভাগে মোট ৮ হাজার ১৯৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ২৭ জন। বর্তমানে ৯৩০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে ৯০ জন নতুন সন্দেহজনক হামের রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে খুলনা জেলায় সর্বোচ্চ ২১ জন ভর্তি হন। এই সময়ে ঝিনাইদহে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ থেকে অদ্যাবধি বিভাগে মোট ১০ হাজার ৯৮৮ জন সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং মোট ৪০ জন মারা গেছেন।
একই দিনে ৪ জনের মৃত্যু ও ৩৭৪ জন নতুন আক্রান্তের ঘটনায় বিভাগের ১০ জেলায় ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে সতর্কতা এবং স্বাস্থ্যবিধি মানার পরামর্শ দিয়েছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁয় ধান ও চালের মজুদ নিশ্চিতকরণ এবং বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় অবৈধ মজুদ বা সিন্ডিকেট তৈরি করে বাজারে কৃত্রিম অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি প্রদান করা হয়েছে। একই সময়ে মিল মালিক প্রতিনিধিরা আগামী তিন মাসের জন্য কোনো ধরনের চালের দাম বৃদ্ধি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে নওগাঁ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ফরহাদ খন্দকার, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক রুবেল হোসেন, জেলা মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদারসহ সংশ্লিষ্টরা।
সভায় চলতি মৌসুমে আউশ ধানের দাম কমে যাওয়ার কারণ এবং তা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ মৌসুমে জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ৬৪ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ ধান উৎপাদিত হয়েছে। জেলায় প্রতিদিন ৭০ হাজার মেট্রিক টন চালের চাহিদা রয়েছে। সভায় অটো ও হাস্কিং মিল মালিকদের সতর্ক করে তিনি উল্লেখ করেন, অতিরিক্ত ধান-চাল মজুদ করে বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আলোচনায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ফরহাদ খন্দকার ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণে কিছু বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, সরকারি উদ্যোগে জিটুজি (G2G) পদ্ধতিতে সরাসরি কৃষকের ধান রপ্তানির ব্যবস্থা করা গেলে কৃষকরা ধানের অধিক মূল্য পাবেন। এছাড়া ধান, গম, ভুট্টার মতো কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ ফসল প্রক্রিয়াজাত করে বায়োফুয়েল (ইথানল ও মিথানল) এবং বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান উৎপাদনের লক্ষ্যে 'রাইস প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজ' গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন তিনি। একই সঙ্গে সুগন্ধি চাল বিক্রির ক্ষেত্রে মিলার ও ব্যবসায়ীদের কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে মিল মালিকদের পক্ষে জেলা মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বাজারে ধানের দাম কম থাকার কারণ হিসেবে মোকামে কেনাবেচা না থাকার কথা উল্লেখ করেন। তবে বাজারে স্বস্তি ফেরাতে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, আগামী তিন মাস কোনো প্রকার চালের দাম বৃদ্ধির সুযোগ নেই। যদি এই সময়ের মধ্যে কোনো ব্যবসায়ী অসাধু উপায়ে চালের দাম বাড়ায়, তবে প্রশাসন যে শাস্তি দেবে তা তারা মাথা পেতে নেবেন।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নওগাঁর উপপরিচালক মো. মনজুর রহমান, জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রুবেল আহমেদ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের মিল মালিক এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেটের দুই শিশু শিক্ষার্থীদের উপর বলাৎকারের অভিযোগে একটি মাদরাসার শিক্ষককে পুলিশ আটক করেছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরের শাহপরান (রহ.) থানার পুলিশ তাকে আটক করে। এরপর মামলার প্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ফয়জুল হক সিলেট সদর উপজেলার পীরের বাজার এলাকার একটি মাদরাসার শিক্ষক। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ওই মাদরাসার হিফজ শাখার দুই শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকার করেছেন।
শিশুদের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার ফয়জুলকে জৈন্তাপুর থেকে গ্রেপ্তার করে শাহপরান থানার পুলিশ। পুলিশ জানায়, ফয়জুল মাদরাসা ছেড়ে পালিয়ে জৈন্তাপুরে চলে যান, যখন থানায় নির্যাতনের শিকার শিশুদের পরিবার অভিযোগ জানান। ফয়জুল হকের বাড়িও জৈন্তাপুরে অবস্থিত।
শাহপারান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস আহমদ বলেন, ৮ থেকে ১০ বছরের দুটি শিশুর উপর বলাৎকারের অভিযোগ রয়েছে ওই মাদরাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে।
ওসি জানান, শিশুরা সম্প্রতি মাদরাসা থেকে বাড়ি ফিরে এসেছে এবং মাদরাসায় যেতে আপত্তি জানায়। অভিভাবকরা তাদের মারধর করেও মাদরাসায় পাঠাতে পারেননি। এক পর্যায়ে শিশুরা অভিভাবকদের জানায়, প্রতি রাতে হুজুরের ঘরে যেতে হয়। না গেলে মারধর করা হয়। আর ঘরে গেলে খারাপ কাজ করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফয়জুল হক বলাৎকারের কথা স্বীকার করেছেন। ওসি বলেন, "বোলাৎকারের কথা উনি স্বীকার করেছেন। আমরা জিজ্ঞেস করেছিলাম, শিশুদের সঙ্গে এসব খারাপ কাজ না করে আরেকটি বিয়ে করেন না কেন, জবাবে ফয়জুল বলেছেন, ‘মেয়েদের আমার ভালো লাগে না’।"
ওসি আরও জানান, মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ফয়জুল হককে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। শিশু দুটিকে মেডিকেল পরীক্ষা করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের ধরলা নদীতে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে উৎসবের পরিবেশ বিরাজমান। ফুলবাড়ী ধরলা সেতুর উত্তরে আয়োজিত এই নৌকা বাইচ দেখতে হাজারো দর্শনার্থী দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন।
স্থানীয়দের উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল এই নৌকা বাইচের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন গত ২৬ আগস্ট তারিখে করা হয়। সেই দিন থেকে স্থানীয় এবং দূর-দূরান্তের মোট ১২টি বড় বড় নৌকাসহ বাইচালরা অংশগ্রহণ করছে। এরপর থেকে নির্ধারিত সময়ে ধরলা নদীতে নৌকা বাইচের প্রতিযোগিতা জমে উঠেছে।
নারী, পুরুষ, শিশু ও কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের উপস্থিতিতে নদীর পাড় মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। কেউ নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে, কেউ নৌকায় কিংবা আশপাশের উঁচু স্থানে অবস্থান নিয়ে প্রতিযোগিতা উপভোগ করছেন।
বিশেষ করে নৌকা বাইচ শুরু হলে দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাসে পুরো ধরলা পাড় মুখর হয়ে ওঠে। প্রতিযোগী নৌকাগুলো ঢেউ কেটে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের করতালি, চিৎকার এবং উৎসাহে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা জানান, নৌকা বাইচ গ্রামবাংলার বহু পুরোনো ঐতিহ্য। একসময় নদীমাতৃক বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হলেও বর্তমানে এমন আয়োজন তুলনামূলকভাবে কমে গেছে। তাই ধরলা নদীতে এই আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
আয়োজকরা বলেন, গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং মানুষের মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়াই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। তারা ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
নৌকা বাইচকে ঘিরে ধরলার পাড়ে ছোট-বড় নানা ধরনের দোকানপাট বসেছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বাড়তি বেচাকেনার সুযোগ পাচ্ছেন। সব মিলিয়ে নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে ফুলবাড়ীর ধরলা পাড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
নৌকা বাইচ দেখতে আসা দর্শনার্থী অসীম কুমার রায়, ববিতা খাতুন ও রুবিন খাতুন জানান, তারা প্রত্যেকে খেলার দিন করে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূর থেকে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ দেখতে এসেছেন। সড়ক থেকে ধরলা সেতু পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দর্শনার্থীদের ঢল নামে। উপচে পড়া ভিড় ও নানা ভোগান্তি উপেক্ষা করেও তারা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই মনোমুগ্ধকর খেলা উপভোগ করছেন।
নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হানিফ সরকার বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই খেলাটি সত্যিই আনন্দদায়ক। খেলা দেখতে হাজার হাজার দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড় দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। নদীর ঢেউয়ের মতো এই খেলা মানুষের মনকে নির্মল আনন্দের স্রোতে ভাসিয়ে দেয়। আমাদের লোকজ সংস্কৃতির এই ঐতিহ্যবাহী খেলাটি ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য আয়োজকদের অনেক ধন্যবাদ জানাই।
নৌকা বাইচ কমিটির উপদেষ্টা ও খেলা পরিচালনাকারী শিমুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল আলম সোহেল এবং সাবেক ছাত্রনেতা ও উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা সামচুজ্জামান হাসু জানান, নৌকা বাইচ গ্রামবাংলার একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী খেলা। সময়ের পরিক্রমায় খেলাটি অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। নৌকা বাইচ আয়োজনের মাধ্যমে একদিকে যেমন আমাদের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরে আসছে, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের কাছেও এই ঐতিহ্যবাহী খেলার পরিচিতি বাড়ছে।
তারা আরও বলেন, নৌকা বাইচসহ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো যদি প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে। যেহেতু সেমিফাইনাল শেষ, আগামী দুই এক দিনের মধ্যে ভালো দিন দেখে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে। এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে প্রতি বছর ধরলা নদীর তীরে নিয়মিত নৌকা বাইচ আয়োজন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ