০৬:৫৪ এম
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের লাইব্রেরি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসনিক শুদ্ধি অভিযানের সূচনা হয়েছে। নয়াদিল্লি কর্তৃক সরাসরি শাসিত এই অঞ্চলে 'রাষ্ট্রবিরোধী' বা 'সন্ত্রাসবাদে মদদ জোগায়' এমন অভিযোগে সমস্ত সরকারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরি থেকে বই এবং ডিজিটাল আর্কাইভ জব্দের নির্দেশ স্থানীয় প্রশাসন দিয়েছে। এ কঠোর পদক্ষেপের কারণে শিক্ষাঙ্গন তথা বুদ্ধিজীবী মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পণ্ডিত ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কাশ্মীরের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা এবং ঐতিহাসিক সত্যকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাইব্রেরি ও শিক্ষাসংস্থাগুলোর বিষয়বস্তু নিয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়। নির্দেশনায় লাইব্রেরি ও লার্নিং রিসোর্স সেন্টারগুলোতে থাকা বই, জার্নাল, সাময়িকী এবং অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রীর ওপর বহুমুখী নিরীক্ষার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যে সমস্ত প্রকাশনায় চরমপন্থা, সহিংসতা, বিচ্ছিন্নতাবাদ বা ভারতবিরোধী আদর্শ প্রচার করা হয়, তা লাইব্রেরি থেকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে, যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার পরিপন্থী।
এই শুদ্ধি অভিযানের শুরু হয় ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কিছু নেতার আপত্তির পর। তারা 'সমগ্র শিক্ষা' প্রকল্পের আওতায় নির্ধারিত দুটি বইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তি তোলে। বইগুলো হচ্ছে হিলাল আহমেদ ও সন্তোষ মিনা রচিত 'পারসোনালিটিস অ্যান্ড লিজেন্ডস অব জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর' এবং ড. সুশান্ত গিরি রচিত 'গ্রেট পারসোনালিটিস অব জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর'। বিরোধী দলনেতা সুনীল শর্মা জানান, বইগুলোতে 'ভারত-অধ্যুষিত কাশ্মীর' শব্দগুচ্ছ ব্যবহৃত হয়েছে, যা ভারতের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। তারা তরুণদের মনে বিচ্ছিন্নতাবাদী ধারণার বীজ বপনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: পাকিস্তান সফলভাবে প্রথম নিজেদের তৈরি মিসাইল ছুড়ল
তীব্র প্রতিবাদের মুখে জম্মু ও কাশ্মীরের প্রশাসনিক প্রধান মনোজ সিনহা স্কুল শিক্ষা দপ্তরের আট কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। এছাড়া তিনি সংশ্লিষ্ট লেখক ও প্রকাশকদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দেন। ইতোমধ্যে ওই দুটি প্রকাশনা সংস্থাকেও কালোতালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং তাদের পূর্বে প্রকাশিত অন্যান্য উপাদানও প্রচলন থেকে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং ২০১৯ সালে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের পর কাশ্মীর উপত্যকায় ইতিহাস ও চিন্তা নিয়ন্ত্রণের একটি চলমান প্রসেসের অংশ। এর আগে গত বছরে বেশ কিছু প্রথিতযশা লেখকের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক গ্রন্থ ও গবেষণা প্রবন্ধ নিষিদ্ধ হয়েছিল। নতুন এই দমনপীড়নের কারণে সাধারণ মানুষ ও গবেষকদের মনে এক ধরনের ভীতি কাজ করছে, যার ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে রাজনৈতিক ইতিহাস এবং ইসলামি সাহিত্য বিষয়ক বই সরিয়ে ফেলতে শুরু করেছেন।
সূত্র: মিডলইস্ট আই
আরও পড়ুন: এনআইডি সংশোধন জালিয়াতি রোধে নতুন পদক্ষেপ ইসির
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন