বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৩৫ পি.এম
দৈনন্দিন জীবনে অনেক অভিজ্ঞতা আমাদের গভীর চিন্তায় ফেলে। বিশেষ করে ক্যাম্পাস বা কর্মক্ষেত্রে কিছু বন্ধু থাকে, যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন না বা দ্বীনের বিধান মেনে চলেন না, কিন্তু তাদের আচরণ ও নৈতিকতা অসাধারণ। তারা সৎ, সত্যবাদী এবং পরোপকারী। যখন এমন বন্ধু সরাসরি প্রশ্ন করে— ‘তুই এত ধর্ম মানিস, বল তো আমি কি জাহান্নামে যাব?’ তখন একটি কঠিন ধর্মসংকট তৈরি হয়। একদিকে সত্যের শিক্ষা, অন্যদিকে স্নেহের সম্পর্ক। সত্য বলতে হবে, আবার বন্ধুত্ব বজায় রেখে ভালোবাসার মাধ্যমে তাকে ইসলামের সুন্দর আদর্শের দিকে আহ্বান করতে হবে। সম্প্রতি এক ইসলামি আলোচনা অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহ এই জটিল ও স্পর্শকাতর প্রশ্নের এক অপূর্ব প্রজ্ঞাপূর্ণ ও যুগোপযোগী সমাধান দিয়েছেন। আলোচনাটি শায়খ আহমাদুল্লাহর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল থেকে তুলে ধরা হলো—
১. ভালো গুণের অকপট স্বীকৃতি: ইসলামের উদার শিক্ষা
কোনো ব্যক্তি দ্বীন পালনে পিছিয়ে থাকলেও বা বেনামাজি হলেও তার মধ্যে সত্যবাদিতা, আমানতদারি ও পরোপকারের মতো মানবিক গুণগুলোর প্রশংসা করার উদারতা আমাদের থাকা উচিত। ইসলাম আমাদের এই ইনসাফ ও সৎসাহস শেখায়। ভালোকে ভালো বলা এবং সত্যের স্বীকৃতি দেওয়া একজন মুমিনের ইমানি দায়িত্ব। ইসলাম পুরোপুরি অনুশীলন না করলেই তার সব ভালো গুণকে অস্বীকার করা বা তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করা দ্বীনের শিক্ষা হতে পারে না।
২. প্রশংসার মধ্য দিয়ে দাওয়াতের পথ উন্মোচন
কাউকে শুধুমাত্র ধমক বা জাহান্নামের ভয় দেখিয়ে দ্বীনের পথে আনা যায় না; বরং তার ভেতরে থাকা ভালো কাজগুলোর স্বীকৃতি দিলে দাওয়াতের পথ সুগম হয়। এমন বন্ধুকে প্রজ্ঞার সঙ্গে বলা যায়— আজকের যুগে শুধু শারীরিক ইবাদত করার চেয়ে ভালো আচরণের অধিকারী হওয়া, লেনদেনে সততা বজায় রাখা এবং খাঁটি মানুষ হওয়া অনেক বেশি কঠিন। সে ক্ষেত্রে তোমার মধ্যে এই বিরল গুণগুলো ইতোমধ্যে বিদ্যমান! জান্নাতে যাওয়ার পথ তো তোমার অনেকটাই এগিয়ে আছে, তবে সামান্য এক নামাজ ও খোদাভীতির অভাবে কেন তুমি পিছিয়ে থাকবে? এভাবে ভালোবাসার সঙ্গে ইতিবাচক উৎসাহ দিলে তার অন্তরে অনুশোচনা ও নামাজের আগ্রহ জাগতে পারে।
৩. জান্নাত-জাহান্নামের চূড়ান্ত ফয়সালা পরম করুণাময়ের হাতে
নিয়মিত নামাজ-রোজা পালনকারীরা কি নিশ্চিত যে তারা জান্নাতে যাবেন? শেষ বিচারে কে জান্নাতে যাবে আর কে জাহান্নামে যাবে, তা দুনিয়াতে বসে নিশ্চিত করে বলা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। নামাজ পড়ার পাশাপাশি কেউ যদি প্রতারণা, মিথ্যাচার, মানুষের হক নষ্ট করা কিংবা অবৈধ উপার্জনে লিপ্ত থাকে, তবে শুধু নামমাত্র নামাজ তাকে জান্নাতের নিশ্চয়তা দেয় না। আবার কোনো মানুষ জীবনের একপর্যায়ে বেনামাজি থাকলেও শেষ মুহূর্তে আন্তরিক তওবা করে আল্লাহর চরম প্রিয় বান্দা হয়ে জান্নাতের অধিকারী হতে পারে। তাই কাউকে সরাসরি জাহান্নামি হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া কোনো মুমিনের কাজ নয়।
৪. সামাজিক আচরণের সৌন্দর্য ও আদর্শের স্বচ্ছতা
আল্লাহর জন্য ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্যই অপ্রিয় ভাবার ইমানি মূলনীতি তার জায়গায় পুরোপুরি অটুট থাকবে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, আমরা অমুসলিম বা পাপী মানুষের সঙ্গে সামাজিক সৌহার্দ্য ও সৌজন্য বজায় রাখব না। সামাজিক আচরণের সৌন্দর্য একজন মুমিনের অন্যতম বড় হাতিয়ার। আমাদের আদর্শ ও বিশ্বাসের জায়গা পরিষ্কার রেখে যখন আমরা আচরণের মাধ্যমে ইসলামের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলব, তখনই মানুষ ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আসার অনুপ্রেরণা পাবে।
৫. কুরআন ও হাদিসের আলোকে ইনসাফ ও শুভ পরিণাম
ইসলাম মানুষের সৎ গুণের মূল্যায়ন এবং পরিণামের অনিশ্চয়তার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা অমুসলিমদের আমানতদারির মতো ভালো গুণেরও ইনসাফপূর্ণ স্বীকৃতি দিয়েছেন, যা থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত—
وَمِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ مَنْ إِن تَأْمَنْهُ بِقِنطَارٍ يُؤَدِّهِ إِلَيْكَ
‘আহলে কিতাবদের (ইহুদি ও খ্রিস্টান) মধ্যে এমন লোকও রয়েছে, যার কাছে তুমি বিপুল ধন-সম্পদ আমানত রাখলেও সে তা তোমার কাছে অবিকল ফেরত দেবে।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ৭৫)
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র হাদিস
মানুষের জীবনের শেষ পরিণাম যে একমাত্র আল্লাহর হাতে এবং বাহ্যিক আমল দেখে কাউকে চূড়ান্ত বিচার করা যে অনুচিত, সে বিষয়ে হজরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—
إِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ الزَّمَنَ الطَّوِيلَ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ، ثُمَّ يُخْتَمُ لَهُ عَمَلُهُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ، وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ الزَّمَنَ الطَّوِيلَ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ، ثُمَّ يُخْتَمُ لَهُ عَمَلُهُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ
‘কোনো ব্যক্তি দীর্ঘকাল জান্নাতিদের মতো আমল করতে থাকে, অতঃপর তার জীবনের সমাপ্তি ঘটে জাহান্নামিদের আমল দিয়ে। আবার কোনো ব্যক্তি দীর্ঘকাল জাহান্নামিদের মতো কাজ করে, অতঃপর তার জীবনের সমাপ্তি ঘটে জান্নাতিদের আমল দিয়ে (এবং সে জান্নাতে প্রবেশ করে)।’ (মুসলিম ২৬৫১)
দ্বীন ইসলাম কোনো কঠোরতা বা অহংকারের নাম নয়, বরং তা পরম প্রজ্ঞা, বিনয় ও ইনসাফের এক অমলিন প্রকাশ। আমাদের বেনামাজি বা দ্বীনহীন বন্ধুদের প্রতি ঘৃণা না ছড়িয়ে তাদের ভালো দিকগুলোর মূল্য দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে নিজেদের ইবাদত নিয়ে অহংকার না করে বিনয়ী হওয়া দরকার। আমাদের সুন্দর আচরণ, দরদি মন ও হেকমতপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে আমরা যেন বন্ধুত্বের সম্পর্কের ফাঁক গলে তাদের অন্তরে ইমান ও নামাজের আলো জ্বালিয়ে দিতে পারি। কারণ প্রজ্ঞাপূর্ণ আচরণ ও আন্তরিক ভালোবাসাই মানুষকে মহান আল্লাহর দরবারে ফিরিয়ে আনার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাগেরহাট ও খুলনা সফর শেষ করে ঢাকায় ফিরেছেন, যা প্রায় আট ঘণ্টা স্থায়ী ছিল। এই দিনব্যাপী সফরে তিনি মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ এবং প্রস্তাবিত বেজা ইকোনমিক জোনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। সফরের সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য বেশ কিছু নির্দেশনা প্রদান করেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে খুলনার দাকোপে যান। সেখান থেকে তিনি নৌপথে মোংলা জেটিতে পৌঁছান। মোংলায় পৌঁছানোর পর তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং প্রস্তাবিত বেজা ইকোনমিক জোন ঘুরে দেখেন। সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্ট এলাকায় প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল এলাকা হেলিকপ্টার থেকে পরিদর্শন করার কথাও জানা গেছে।
দুপুরে মোংলা নৌঘাঁটিতে পৌঁছানোর পর মধ্যাহ্নবিরতি শেষে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। বিকেলে তিনি মোংলা বন্দরের জেটি ও সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি বেজার প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘুরে দেখেন। সফর শেষে সরকারপ্রধান ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছে। তাদের মতে, মোংলা বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন, নিয়মিত ড্রেজিং এবং সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, এসব সমস্যার সমাধান হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বাণিজ্য ও শিল্প কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির মন্তব্য করেছেন যে, ফ্যাসিস্ট শাসনামলসহ সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা সারা দেশে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসবটি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়া নির্বাচিত বিএনপি সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এই মন্তব্যটি করেন।
নাছির উদ্দীন নাছিরের পোস্টটি হুবহু দেয়া হলো-
"ফ্যাসিস্ট শাসনামলসহ সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় এ বছর সারা দেশে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়া নির্বাচিত বিএনপি সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য বড় সাফল্য।"
এই সাফল্যের পেছনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব রয়েছে। তিনি ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ সরেজমিনে পরিদর্শন করে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও সকল সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার প্রতি তার অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।
এছাড়া, উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরলস দায়িত্ব পালন ও সতর্ক নজরদারি প্রশংসার দাবি রাখে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং নোয়াখালীর সদর ও সুবর্ণচরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা থেকে আমার পর্যবেক্ষণ হলো, এবারের দুর্গাপূজা শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
"ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা সবার। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক। সকল ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই গড়ে উঠুক একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও সম্প্রীতিময় বাংলাদেশ। সবার আগে বাংলাদেশ।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার পূর্বধলায় লেখক ও গবেষক আব্দুল মান্নান আলালের লেখা ও সংকলিত ‘ভাটি বাংলার বাউল’ গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্ণবীজ প্রকাশনী, ময়মনসিংহের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকী মামুন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মো. গোলাম মোস্তফা। স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম মন্ডল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাবু সুধাংশু শেখর তালুকদার, মো. আলতাব হোসেন, কালডোয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফসারী বেগম পান্না, মেঘশিমুল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রতন খান এবং পূর্বধলা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. সাজু আহমেদ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে শিক্ষক, লেখক, কবি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, বই মানুষের চিন্তা-চেতনার বিকাশ ঘটায় এবং জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেয়। ভাটি অঞ্চলের বাউল সাধকদের জীবন, দর্শন ও ঐতিহ্য নিয়ে রচিত ‘ভাটি বাংলার বাউল’ গ্রন্থটি এ অঞ্চলের লোকজ সংস্কৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে গ্রন্থটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বাউল সাধকদের জীবনদর্শন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরতে সহায়ক হবে।
“বই মানুষের মনের দরজা খুলে দেয়, আলো জ্বালে অন্তরে”— এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে ভাটি বাংলার বাউল ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরার গুরুত্ব তুলে ধরেন বক্তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ মন্তব্য করেছেন, জুলাইকে অস্বীকার করে রাজনীতি করার সুযোগ নেই। তিনি উল্লেখ করেছেন, আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল। যদি তারা রাজনীতিতে প্রবেশ করতে চায়, তাহলে তাদের আরো কনস্ট্রাক্টিভ ওয়েতে চিন্তাভাবনা করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, জুলাইকে স্বীকার করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্য আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, আওয়ামী লীগকে জুলাইয়ের ব্যাপারে ক্ষমা চাইতে হবে এবং দোষীদের সাজা দিতে হবে। এরপর যদি বাংলাদেশের মানুষ মনে করে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে বা না দেওয়া হবে, সেটি সময়ই বলে দেবে।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ১৫ থেকে ৩৫ বছরের যে জেনারেশন, সেটি প্রায় ৫ কোটি। তারা সরাসরি আওয়ামী লীগের পতন বা আওয়ামী লীগের দেশ ছাড়ার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছে, সরাসরি বা পরোক্ষভাবে। তারা রাজপথে, ফেসবুকে এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে ছিল। এই ৫ কোটি মানুষকে আওয়ামী লীগের ন্যারেটিভ দিয়ে ফেরত আসানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
পতিত সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফিরে আসা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তিনি (শেখ হাসিনা) আসবেন কি আসবেন না, ফিরবেন কি ফিরবেন না, তা সময়ই বলে দেবে। এখনও বাংলাদেশে রাজনৈতিক সেই প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হয়নি যেভাবে তিনি ভাবছেন। আমার ধারণা, বাংলাদেশ ২০২৪-এর যে হত্যা, ট্রমা ও অত্যাচার, সেখান থেকে এখনও মানুষ বের হয়ে আসতে পারেনি। ওই বিষয়টি সাইকোলজিক্যালি মানুষের মনে এখনও রয়েছে।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব পালনের চিত্র তুলে ধরে পার্থ বলেন, সারা দেশে আনন্দ-উৎসবের মধ্যে হিন্দুরা তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করেছে।
আওয়ামী লীগ নতুন ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করছে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ঢোকার কোনো সুযোগই নেই। পালিয়ে যাওয়ার কিছুদিন পর থেকেই শুরু হয়েছিল যে, এখানে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে, ভারতীয় কিছু কিছু মোদি মিডিয়া সেগুলো সম্প্রচার করার চেষ্টা করছে। ওই ন্যারেটিভের ওপর ভিত্তি করেই তারা কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ এখনো নতুন ন্যারেটিভ করছে যে, এখানে গণতন্ত্র নেই। তারা যে ১৭ বছর দেশকে ধ্বংস করে দিয়ে গিয়েছিল, সেখান থেকে ফিরে আসতে আমাদের সময় লাগছে। কিন্তু এখন মানুষ ভোট দিয়েছে, আমরা নির্বাচিত হয়েছি, আমাদের বিরোধী দল আছে। আমার বিশ্বাস এই গণতন্ত্র আস্তে আস্তে আরো উন্নত হবে এবং ভালো জায়গায় পৌঁছাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ