বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৪৩ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাগেরহাট ও খুলনা সফর শেষ করে ঢাকায় ফিরেছেন, যা প্রায় আট ঘণ্টা স্থায়ী ছিল। এই দিনব্যাপী সফরে তিনি মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ এবং প্রস্তাবিত বেজা ইকোনমিক জোনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। সফরের সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য বেশ কিছু নির্দেশনা প্রদান করেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে খুলনার দাকোপে যান। সেখান থেকে তিনি নৌপথে মোংলা জেটিতে পৌঁছান। মোংলায় পৌঁছানোর পর তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং প্রস্তাবিত বেজা ইকোনমিক জোন ঘুরে দেখেন। সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্ট এলাকায় প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল এলাকা হেলিকপ্টার থেকে পরিদর্শন করার কথাও জানা গেছে।
দুপুরে মোংলা নৌঘাঁটিতে পৌঁছানোর পর মধ্যাহ্নবিরতি শেষে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। বিকেলে তিনি মোংলা বন্দরের জেটি ও সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি বেজার প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘুরে দেখেন। সফর শেষে সরকারপ্রধান ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছে। তাদের মতে, মোংলা বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন, নিয়মিত ড্রেজিং এবং সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, এসব সমস্যার সমাধান হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বাণিজ্য ও শিল্প কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির মন্তব্য করেছেন যে, ফ্যাসিস্ট শাসনামলসহ সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা সারা দেশে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসবটি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়া নির্বাচিত বিএনপি সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এই মন্তব্যটি করেন।
নাছির উদ্দীন নাছিরের পোস্টটি হুবহু দেয়া হলো-
"ফ্যাসিস্ট শাসনামলসহ সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় এ বছর সারা দেশে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়া নির্বাচিত বিএনপি সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য বড় সাফল্য।"
এই সাফল্যের পেছনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব রয়েছে। তিনি ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ সরেজমিনে পরিদর্শন করে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও সকল সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার প্রতি তার অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।
এছাড়া, উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরলস দায়িত্ব পালন ও সতর্ক নজরদারি প্রশংসার দাবি রাখে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং নোয়াখালীর সদর ও সুবর্ণচরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা থেকে আমার পর্যবেক্ষণ হলো, এবারের দুর্গাপূজা শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
"ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা সবার। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক। সকল ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই গড়ে উঠুক একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও সম্প্রীতিময় বাংলাদেশ। সবার আগে বাংলাদেশ।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার পূর্বধলায় লেখক ও গবেষক আব্দুল মান্নান আলালের লেখা ও সংকলিত ‘ভাটি বাংলার বাউল’ গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্ণবীজ প্রকাশনী, ময়মনসিংহের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকী মামুন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মো. গোলাম মোস্তফা। স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম মন্ডল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাবু সুধাংশু শেখর তালুকদার, মো. আলতাব হোসেন, কালডোয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফসারী বেগম পান্না, মেঘশিমুল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রতন খান এবং পূর্বধলা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. সাজু আহমেদ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে শিক্ষক, লেখক, কবি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, বই মানুষের চিন্তা-চেতনার বিকাশ ঘটায় এবং জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেয়। ভাটি অঞ্চলের বাউল সাধকদের জীবন, দর্শন ও ঐতিহ্য নিয়ে রচিত ‘ভাটি বাংলার বাউল’ গ্রন্থটি এ অঞ্চলের লোকজ সংস্কৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে গ্রন্থটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বাউল সাধকদের জীবনদর্শন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরতে সহায়ক হবে।
“বই মানুষের মনের দরজা খুলে দেয়, আলো জ্বালে অন্তরে”— এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে ভাটি বাংলার বাউল ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরার গুরুত্ব তুলে ধরেন বক্তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ মন্তব্য করেছেন, জুলাইকে অস্বীকার করে রাজনীতি করার সুযোগ নেই। তিনি উল্লেখ করেছেন, আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল। যদি তারা রাজনীতিতে প্রবেশ করতে চায়, তাহলে তাদের আরো কনস্ট্রাক্টিভ ওয়েতে চিন্তাভাবনা করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, জুলাইকে স্বীকার করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্য আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, আওয়ামী লীগকে জুলাইয়ের ব্যাপারে ক্ষমা চাইতে হবে এবং দোষীদের সাজা দিতে হবে। এরপর যদি বাংলাদেশের মানুষ মনে করে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে বা না দেওয়া হবে, সেটি সময়ই বলে দেবে।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ১৫ থেকে ৩৫ বছরের যে জেনারেশন, সেটি প্রায় ৫ কোটি। তারা সরাসরি আওয়ামী লীগের পতন বা আওয়ামী লীগের দেশ ছাড়ার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছে, সরাসরি বা পরোক্ষভাবে। তারা রাজপথে, ফেসবুকে এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে ছিল। এই ৫ কোটি মানুষকে আওয়ামী লীগের ন্যারেটিভ দিয়ে ফেরত আসানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
পতিত সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফিরে আসা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তিনি (শেখ হাসিনা) আসবেন কি আসবেন না, ফিরবেন কি ফিরবেন না, তা সময়ই বলে দেবে। এখনও বাংলাদেশে রাজনৈতিক সেই প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হয়নি যেভাবে তিনি ভাবছেন। আমার ধারণা, বাংলাদেশ ২০২৪-এর যে হত্যা, ট্রমা ও অত্যাচার, সেখান থেকে এখনও মানুষ বের হয়ে আসতে পারেনি। ওই বিষয়টি সাইকোলজিক্যালি মানুষের মনে এখনও রয়েছে।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব পালনের চিত্র তুলে ধরে পার্থ বলেন, সারা দেশে আনন্দ-উৎসবের মধ্যে হিন্দুরা তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করেছে।
আওয়ামী লীগ নতুন ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করছে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ঢোকার কোনো সুযোগই নেই। পালিয়ে যাওয়ার কিছুদিন পর থেকেই শুরু হয়েছিল যে, এখানে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে, ভারতীয় কিছু কিছু মোদি মিডিয়া সেগুলো সম্প্রচার করার চেষ্টা করছে। ওই ন্যারেটিভের ওপর ভিত্তি করেই তারা কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ এখনো নতুন ন্যারেটিভ করছে যে, এখানে গণতন্ত্র নেই। তারা যে ১৭ বছর দেশকে ধ্বংস করে দিয়ে গিয়েছিল, সেখান থেকে ফিরে আসতে আমাদের সময় লাগছে। কিন্তু এখন মানুষ ভোট দিয়েছে, আমরা নির্বাচিত হয়েছি, আমাদের বিরোধী দল আছে। আমার বিশ্বাস এই গণতন্ত্র আস্তে আস্তে আরো উন্নত হবে এবং ভালো জায়গায় পৌঁছাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সারা দেশে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নভেম্বরের শুরুতে টানা তিন দিনের ছুটির সুবিধা পেতে পারেন। সরকারি ও বেসরকারি স্কুল-কলেজগুলো ৬ থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস এবং শ্যামাপূজা উপলক্ষে এই ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় এ সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন এবং ২০২৬ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ৭ নভেম্বর শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত হবে। পরের দিন ৮ নভেম্বর রোববার হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব শ্যামাপূজা পালিত হবে।
এ কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য শুক্র, শনি ও রোববার মিলিয়ে টানা তিন দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও একইভাবে ছুটির সুযোগ রয়েছে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছুটির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ছুটির তালিকা এবং কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। অন্যদিকে, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত ছুটির তালিকায় শ্যামাপূজার জন্য ছুটির উল্লেখ নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ