ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিশ্ব বিনিয়োগকারীদের কানাডায় বিনিয়োগের আহ্বান কার্নির


বিশ্ব বিনিয়োগকারীদের কানাডায় বিনিয়োগের আহ্বান কার্নির

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : মঙ্গলবার কানাডাকে বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, যা বিশ্বজুড়ে শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের এক সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয়।

তবে তিনি এও স্বীকার করেছেন যে, বাণিজ্যযুদ্ধ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে, তবুও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

আরও পড়ুন: পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে তালেবানের হামলায় ১ নিহত, ৫ আহত

কানাডার অর্থনীতিকে বহুমুখী করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে কার্নি কানাডা ইনভেস্টমেন্ট সামিটের আয়োজন করেন। তিনি দাবি করেন যে, ক্রমবর্ধমান সংরক্ষণবাদী নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কানাডার অর্থনীতির অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হয়েছে।

সম্মেলনটি টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌম সম্পদ তহবিল, ইউরোপের বিভিন্ন ব্যাংক, চায়না ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন এবং আফ্রিকার শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ও নাইজেরিয়ার ব্যবসায়ী আলিকো ডাঙ্গোটে-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা অংশগ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরাও এতে উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে কার্নি বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে কানাডায় ১ ট্রিলিয়ন কানাডীয় ডলার (৭২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগ আকৃষ্ট করাই আমাদের লক্ষ্য।’ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে করছাড় এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

কার্নি আরও বলেন, বিশ্বের প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত কানাডার রয়েছে। তিনি এসব খাতকে ‘কৌশলগত স্বনির্ভরতার’ মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি একটি নতুন পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেল কম-নিঃসরণকারী আলবার্টার তেল এশিয়ার বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন: দুর্লভ ডাইনোসর ‘জোডি’ ৪৭.৩ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি, বিজ্ঞানীদের অসন্তোষ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি পরাশক্তি হিসেবে আমরা কানাডার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাচ্ছি।’

তিনি জানান, কানাডার চারটি বৃহত্তম বিমানবন্দরে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে। আগের সরকারগুলো এই বিতর্কিত পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করলেও কার্নির দাবি, এর মাধ্যমে সরকারের আয় কয়েক বিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকরকের প্রধান নির্বাহী ল্যারি ফিঙ্ক সম্মেলনে বলেন, ‘কানাডা সরকার আজ যে পরিকল্পনাগুলো উপস্থাপন করেছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করলে আমি বিশ্বাস করি আন্তর্জাতিক পুঁজি এসব সুযোগের দিকে আসবে।’

কানাডার কিছু পণ্যের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন শুল্ক আরোপের কয়েক ঘণ্টা পর দেওয়া উদ্বোধনী বক্তব্যে কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদী থাকার কথা জানান।

আরও পড়ুন: মার্কিন নির্বাচনে নাগরিকত্ব ছাড়াই ভোট দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে মামলা

তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় প্রতিবেশী থাকব এবং গুরুত্বপূর্ণ অনেক ক্ষেত্রে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে থাকবে।’

দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

কার্নি বলেন, পরিস্থিতি অনুকূল হলে কানাডা আবারও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্ব জোরদার করবে। তবে সেটি হবে আরও ‘শক্তিশালী’ ও ‘স্বাধীন’ অবস্থান থেকে।

আরও পড়ুন: ১২৪ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে হামে আরও একজনের মৃত্যু, বাড়ছে প্রাদুর্ভাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০২ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে হামে আরও একজনের মৃত্যু, বাড়ছে প্রাদুর্ভাব

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য পেনসিলভানিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামজনিত জটিলতার কারণে চতুর্থ ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে। বর্তমানে, যুক্তরাষ্ট্র টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য এই রোগের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের সম্মুখীন হয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে কেউই টিকা গ্রহণ করেননি।

পেনসিলভানিয়ার স্বাস্থ্যসচিব ডেবরা বোগেন মন্তব্য করেন, ‘এই অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসে প্রিয়জন হারানোর জন্য দুটি পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা। পেনসিলভানিয়া তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি।’

স্থানীয় চিকিৎসা পরীক্ষকদের তথ্য অনুসারে, সর্বশেষ মারা যাওয়া ব্যক্তির বয়স ১৮ বছর। এর আগে মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি—এমন দুই শিশু এবং ৪০ বছর বয়সী একজন ব্যক্তি ছিলেন।

বর্তমান প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর গত বছর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হামের সঙ্গে সম্পর্কিত আরও তিনটি মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে দুটি ছিল শিশু।

পেনসিলভানিয়ায় মৃত্যুর ঘটনাগুলো নিয়ে অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট গভর্নর জশ শ্যাপিরো এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টিকা নিয়ে সংশয়বাদী স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রের মধ্যে একটি উত্তপ্ত বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শ্যাপিরো একটি পোস্টে লেখেন, ‘জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে আরএফকে জুনিয়রের (কেনেডি) এই ধরনের কর্মকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, কেনেডির ‘টিকা নিয়ে সংশয় ও ভুল তথ্য ছড়ানো বন্ধ করার সময় অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে।’

শ্যাপিরো জানান, বর্তমানে পেনসিলভানিয়ায় ৬৯৩টি হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। ২০২৬ সালের শুরু থেকে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে ৩ হাজার ২৯০টিরও বেশি হামের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

গভর্নর আরও অভিযোগ করেন, কেনেডি রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)-এর কর্মকর্তাদের পেনসিলভানিয়ায় হামে মৃত্যুর ঘটনা ‘প্রকাশ না করার নির্দেশ দিয়েছেন’। তাঁর ধারণা, এসব তথ্য কেনেডির বক্তব্য বা অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেই এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে এক্সে দেওয়া জবাবে কেনেডি এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি শ্যাপিরোর বিরুদ্ধে প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সমন্বিত জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে বিষয়টিকে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করার অভিযোগ করেন।

কেনেডি বলেন, আমি বারবার বলেছি, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এমএমআর টিকা। এমএমআর টিকা হাম, মাম্পস ও রুবেলা প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়।

হাম হলে জ্বর, শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন উপসর্গ ও শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। এ রোগের কারণে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহজনিত ক্ষতি এবং এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

টিকাদানের কারণে ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হাম নির্মূল হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিকা নেওয়ার হার কমে যাওয়ায় এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রতি মানুষের অবিশ্বাস বেড়ে যাওয়ায় রোগটি আবারও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।

কোভিড-১৯ মহামারীর পর থেকে টিকা গ্রহণে চিকিৎসাগত কারণ ছাড়া অব্যাহতির সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে আমেরিকানরা ধর্মীয় বিশ্বাস বা অন্যান্য দার্শনিক কারণে অনেক মার্কিন নাগরিক টিকা নেওয়া এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

১৯৬০-এর দশকের শুরুর দিকে হামের টিকা আবিষ্কারের আগে যুক্তরাষ্ট্রে এই রোগে প্রতি বছর শত শত শিশু মারা যেত। বিশ্বজুড়েও হাম এখনো প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে থাকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সব মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতিবিরোধী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০২ পি.এম


সব মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতিবিরোধী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

সরকারি সেবা এবং প্রশাসনে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে দুর্নীতিবিরোধী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বর্তমান সরকারের প্রথম সচিব সভায় এই সিদ্ধান্তের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভাটি বিকেল সাড়ে ৪টায় সচিবালয়ে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে শেষ হয়। বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অন্তত ৬১ জন সচিব উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব প্রস্তাবটি গ্রহণ করে দুদককে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দুদক সূত্র জানায়, শিগগিরই এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে একটি চিঠি পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে কমিটি গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করা হবে। দুদকের পক্ষ থেকে কমিটিগুলোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও প্রদান করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদ্যুতের সুইচ ভারতের হাতে, যে কোনো সময় বন্ধ করতে পারে: রিজভী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০২ পি.এম


বিদ্যুতের সুইচ ভারতের হাতে, যে কোনো সময় বন্ধ করতে পারে: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ না পাওয়া এবং ভারতের আদানি পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের শঙ্কার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের সুইচ রয়েছে, যা তারা যে কোনো সময় বন্ধ করে দিতে পারে।

তিনি বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল ‘পতিত স্বৈরাচারী খুনি হাসিনা ভারতের ইন্ধনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত’- এর প্রতিবাদে।

রিজভী বলেন, ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংকট, ব্যাংক লোপাট ও গুম-হত্যার অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়ে ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু দেশীয় বিরোধী দল ও পার্শ্ববর্তী একটি বিশেষ গোষ্ঠী সরকারকে প্রতিনিয়ত সমালোচনা ও চক্রান্তে লিপ্ত রেখেছে।

পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সংবর্ধনা জানানো হলেও সেখানে সাইডলাইনে বসানোর পরিকল্পনা ছিল। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং বিমসটেকের প্রধান হিসেবে তাকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। তারেক রহমান দেশের মর্যাদা রক্ষা করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের চরম সমালোচনা করে রিজভী অভিযোগ করেন, ‘যেদিন প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন, তার পরদিনই প্রচার করা হলো আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ইউনিট নষ্ট হয়ে গেছে। এই পাওয়ার প্ল্যান্টের ১৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসে। অথচ এর সুইচ রয়েছে ভারতের ঝাড়খণ্ডে। তারা যে কোনো সময় তা বন্ধ ও চালু করতে পারে।’

তিনি প্রশ্ন করেন, ‘এ ধরনের পরিস্থিতির পেছনের রাজনৈতিক সমীকরণ বুঝতে কি পিএইচডি ডিগ্রির প্রয়োজন হয়?’

শেখ হাসিনাসহ ১৪০০ ছাত্র-জনতার ওপর নির্যাতন ও হত্যাকারীদের ভারতে আশ্রয় দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, বহু অপরাধী ভারতে পালিয়ে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বে একটি ঘটনায় সাবেক এক সেনা কর্মকর্তাকে শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেওয়া হলেও এখন ১৪০০ মানুষকে হত্যা করা খুনিদের কেন ফেরত দেওয়া হচ্ছে না—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে চরম প্রশ্ন জেগেছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে রিজভী দাবি করেন, এই সংকট বর্তমান সরকারের তৈরি নয়; এটি বৈশ্বিক পরিস্থিতির ফল। তিনি জানান, সরকার বিকল্প হিসেবে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও মিয়ানমার থেকে গ্যাস আনার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি চলমান সংকটের মধ্যেও দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শেখ হাসিনার আমলের চেয়ে আড়াই থেকে তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও সংলগ্ন এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনার ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, একটি পক্ষ ১৯৭১ সালের পরাভূত শক্তির প্রতিশোধ নিতে চাচ্ছে এবং মধুর ক্যান্টিনকে ‘বিশ্রাম মঞ্জিল’ বানাতে চাইছে। তিনি তাদের হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, এই দেশের মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ জনগণ যে কোনো চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষা করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৈষম্য মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্যানেল গঠনে সরকারগুলোর প্রতি সাবেক বিশ্বনেতাদের আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০৩ পি.এম


বৈষম্য মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্যানেল গঠনে সরকারগুলোর প্রতি সাবেক বিশ্বনেতাদের আহ্বান

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সম্পদের চরম বৈষম্য মোকাবিলার লক্ষ্যে একটি নতুন আন্তর্জাতিক প্যানেল গঠনের উদ্যোগকে সমর্থন করার জন্য বর্তমান বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ৩৭ জন সাবেক রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান।

বুধবার প্রকাশিত একটি খোলা চিঠির মাধ্যমে সাবেক এই বিশ্বনেতারা এ আহ্বান জানান। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

এই নেতাদের মধ্যে সাবেক জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলৎস এবং সাবেক ফরাসি প্রধানমন্ত্রী জ্যঁ-পিয়ের রাফার্যাঁ অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

তারা উল্লেখ করেন, বৈষম্যের যে ‘সংকট’ বিশ্বজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে, তা মোকাবিলায় জরুরি নীতিগত পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে।

এএফপির কাছে প্রাপ্ত চিঠিতে সাবেক নেতারা বলেন, ‘বিশ্বের একের পর এক দেশে বৈষম্যের সংকট রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছে যাওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন।’

তারা আরও জানান, ২০০০ সাল থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির প্রতি এক ডলারের মধ্যে মাত্র এক সেন্ট পেয়েছে মানবজাতির দরিদ্রতম অর্ধেক মানুষ। বিপরীতে, সবচেয়ে ধনী এক শতাংশ মানুষ পেয়েছে ৪১ সেন্ট।

সাবেক নেতারা আরও উল্লেখ করেন, চলতি বছরে প্রথমবারের মতো একজন ট্রিলিয়নিয়ারের আবির্ভাব ঘটেছে। অথচ একই সময়ে বিশ্বের প্রতি চারজন মানুষের একজন খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে।

তারা বলেন, ‘সবচেয়ে ধনী ও সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের মধ্যকার ব্যবধান যে অনেক বেশি বেড়ে গেছে, তা নিয়ে কোনো ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নেই।’

সাবেক বিশ্বনেতারা তাদের উত্তরসূরিদের ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ইনইকুয়ালিটি (আইপিআই) বা আন্তর্জাতিক বৈষম্যবিষয়ক প্যানেল গঠনের উদ্যোগে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি, আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এ বিষয়ে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্যও আহ্বান জানান তারা।

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তঃসরকার প্যানেল (আইপিসিসি)-এর আদলে এই নতুন সংস্থা গঠনের সুপারিশ করেছিলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগলিৎজ। তিনি একটি জি-২০ প্রতিবেদনে এ সুপারিশটি করেন।

ওই প্রতিবেদনে বৈশ্বিক ‘বৈষম্যজনিত জরুরি পরিস্থিতি’ মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এতে সতর্ক করে বলা হয়েছিল, ক্রমবর্ধমান বৈষম্য গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি—দুটোকেই দুর্বল করছে।

বুধবারের খোলা চিঠিতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সাবেক নেতারা স্বাক্ষর করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন মালাউইয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট জয়েস বান্দা, পর্তুগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট আনিবাল কাভাকো সিলভা এবং সেশেলসের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেমস মিশেল।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বাড়তে থাকা বৈষম্য গণতান্ত্রিক স্বাধীনতাকে ক্ষয় করছে এবং সমাজের প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্যকে দুর্বল করছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, গবেষণায় দেখা গেছে, তুলনামূলকভাবে সমতাভিত্তিক দেশের চেয়ে সবচেয়ে বেশি বৈষম্যপূর্ণ দেশগুলোতে গণতান্ত্রিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি সাত গুণ বেশি।

স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে সেনেগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আমিনাতা তুরে, নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হেলেন ক্লার্ক, পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সিসকো সাগাস্তি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান সেউং-সু-সহ আরও কয়েকজন সাবেক সরকার প্রধান রয়েছেন।

তারা বর্তমান বিশ্বের নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা আপনাদের সামনে থাকা জটিল চ্যালেঞ্জগুলোর গুরুত্ব ও চাপ সম্পর্কে অবগত।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আমরা এটাও জানি যে চরম বৈষম্য এসব হুমকিকে আরও তীব্র করে তুলছে এবং আপনাদের অর্থনীতি ও গণতন্ত্রের ওপর গভীর চাপ সৃষ্টি করছে।’

সাবেক নেতারা বলেন, আইপিআই গঠন করা হলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা তৈরি হবে। আইপিসিসির মতো এই প্যানেল বৈষম্যের প্রবণতা, এর প্রভাব ও কারণগুলো পর্যবেক্ষণ করতে এবং নীতিনির্ধারণে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন প্রমাণ ও গবেষণা মূল্যায়ন করতে সক্ষম হবে।

চিঠিতে বলা হয়, আইপিআই-এর মাধ্যমে ‘শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞরা বৈষম্যসংক্রান্ত তথ্যের ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখতে পারবেন। এতদিন এই তথ্যের ঘাটতির কারণে বৈষম্য সংকট মোকাবিলার উদ্যোগগুলো কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পারেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%