সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:০৬ পি.এম
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দুই দফায় ৮ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি তেজগাঁও জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক (নি.) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। দ্বিতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ড শেষে এই আবেদন করা হয়।
আসামিপক্ষে আইনজীবী মাহবুবুল ইসলাম জামিনের জন্য শুনানি করেন, কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে, ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নং ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরে বাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন। মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর, ২১ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুলের চার দিন ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের এক দিন রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর মাকসুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকেও কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুল ইসলামকে ফের ৪ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।
গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
এই ঘটনার পর, ২২ জুলাই সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় দলটির গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয় এবং নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি অবগত করা হয়।
ভিডিও ভাইরালের পর অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদে এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ২১ জুলাই গাড়ি চালক ও মৃত মরিয়ম খাতুনের মামা ওবায়দুর রহমান বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। এই মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম হাইকোর্ট থেকে ১০ আগস্ট ৮ সপ্তাহের জামিন পান। সেই মামলার বাদী ওবায়দুরকে এবার মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় আসামি করা হয়।
মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, গত জুনে গাজী নজরুলের সাথে ভিক্টিমের ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। সংসদ সদস্য হওয়ায় ভিকটিম মরিয়ম ও তার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলামসহ শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকার সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের ৫ নং বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় তারা বসবাস করতেন। আসামি ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুলের সঙ্গে ভিকটিম মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী ভিকটিম মরিয়মকে বিভিন্ন বিষয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন বলে বিভিন্ন সময় মোবাইলের মাধ্যমে তার পরিবারকে জানানো হয়।
এর ধারাবাহিকতায়, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল অনুমান সাড়ে ৫টায় গাজী নজরুল ভিক্টিমের বাবাকে মোবাইল ফোনে দ্রুত তাদের বাসায় যেতে বলেন। বাসায় এসে তিনি দেখতে পান অনেক লোকজন সেখানে উপস্থিত। তখন তিনি জানতে পারেন বাসার ভেতরের রুমে ভিকটিম মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে। শেরেবাংলা নগর পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তার মেয়ের দেহ ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে দেখতে পান। এসময় বিছানার উপরে তার লেখা একটি সুইসাইড নোট পান। আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং আসামিদের প্ররোচনায় তার মেয়ে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইবি থানার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলখোলা গ্রামের বেশ কিছু বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা ১২ দিন ধরে চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষকদল নেতা আবদুর রহমানের নেতৃত্বে গ্রামে ত্রাসের রাজত্ব শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগীদের মতে, পুলিশের সহযোগিতায় এই তাণ্ডবলীলা পরিচালিত হচ্ছে।
নলখোলা গ্রামের মৃত সেলিম আহমেদের স্ত্রী, ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা নুর জাহান বেগম, কয়েকদিন আগে আদালতে মামলা করেন হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায়। এরপর রোববার সকাল ৭টার দিকে পুলিশ এসে বৃদ্ধাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়।
পুলিশের দাবি, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাকে আটক করা হয়েছে।
একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের সামাজিক বিরোধ সংঘাতের রূপ নিয়েছে। এই সামাজিক দ্বন্দ্বকে রাজনৈতিক রং দিয়ে একটি পক্ষ প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা চালাচ্ছে। হামলার পাশাপাশি বিভিন্ন বাড়িতে চাঁদা দাবি এবং মালামাল লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।
সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে নলকোলা বাজারে অবস্থিত ইউনিয়ন কৃষকদলের আহবায়ক আবদুর রহমানের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ হামলার জন্য ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি রুহুলকে দায়ী করেন কৃষক দলের নেতারা। ঘটনার পরপরই রুহুলের বাড়িসহ বেশ কিছু বাড়ি, দোকান এবং পাট-পেঁয়াজের গুদামে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেয় আবদুর রহমানের সমর্থকরা। গত ১২ দিনে আবদুর রহমানের নেতৃত্বে ২১ বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। লুটপাট করা হয়েছে বাড়ির বিভিন্ন মালামাল।
রোববার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙচুর করা বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ নেই। বাড়ির মহিলারা কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন। একাধিক বাড়িতে ভাঙচুরের চিহ্ন দেখা গেছে। নলখোলা গ্রামের স্টিল ব্রীজ এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের চিহ্ন রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা কখনো দলবদ্ধ হয়ে, আবার কখনো রাতের আঁধারে বিভিন্ন বাড়িতে প্রবেশ করছে। বাড়িঘরে ভাঙচুরের পাশাপাশি লুটপাট ও আগুন দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। মামলার খরচ হিসেবে পরিবার প্রতি এক হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন কৃষকদলের আহবায়ক আবদুর রহমানের নেতৃত্বে এসব হামলা ও তাণ্ডব চালানো হচ্ছে। তার লোকজন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালাচ্ছে।
তারা জানান, কৃষকদলের আহবায়ক আবদুর রহমান ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে কোনো সময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। হঠাৎ বিএনপি সেঁজে কৃষকদলের আহবায়কের পদ পেয়ে যান। নেতা হয়ে আওয়ামী লীগের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে তৈরি করেন নিজস্ব বাহিনী। শুরু করেন এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব। বর্তমানে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল মুন্সি, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম লাল্টু ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য জুলফিকার আলী পল্টু কৃষকদলের আহবায়ক আবদুর রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
আওয়ামী লীগের এসব নেতাদের নিয়ে বিশাল বাহিনী গড়ে তুলে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে কৃষকদলের এই নেতা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কৃষকদল নেতা আবদুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের পালিয়ে থাকা নেতারা এলাকায় ফিরে নানা তৎপরতা চালাচ্ছে। কয়েকদিন আগে তার অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। তারাই তার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। একটি দলের পক্ষ নিয়ে অপর পক্ষের মামলার বাদী বৃদ্ধা নুর জাহান বেগমকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেছে পুলিশ।
মামলার বাদী হওয়ায় থানার ওসি তার সঙ্গে কথা বলবেন জানিয়ে পুলিশের একটি দল তাকে নিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। তবে এ ব্যাপারে পুলিশ কোনো তথ্য দিতে পারেনি।
নুর জাহানের মেয়ে সেলিনা আক্তার জানান, সপ্তাহ দুয়েক আগে সামাজিক ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাদের বাড়িতে ও গুদামে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে এলাকার একদল লোক। পরে কৃষক দলের স্থানীয় কার্যালয় ভাঙচুর করে এলাকার আরও কয়েকজনের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়। এ ঘটনায় বিএনপির পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কিছু লোক জড়িত। তার মা নুর জাহান বেগম এ ঘটনায় বাদী হয়ে ২১ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়ার আদালতে একটি মামলা করেন। মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সেলিনা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘মামলা করার পর থেকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। রোববার সকালে মা বাড়িতে কাজ করছিলেন। সাড়ে ৭টার দিকে দুটি গাড়িতে করে পুলিশের একটি দল আসে। বাড়ির ভেতর তিনজন নারী পুলিশ সদস্যসহ পুরুষ পুলিশ প্রবেশ করেন। তারা মাকে বলেন, ‘আপনি মামলার বাদী, ওসি স্যার কথা বলবেন, গাড়িতে ওঠেন।’ এরপর তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।
এ বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ওসি এস এম মামুনুর রশীদ বলেন, ‘আমি ব্যস্ত, বাইরে আছি। একটি হত্যা মামলা নিয়ে অভিযানে আছি। থানায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে পরে বলতে পারব।’
তবে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাকে আটক করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ছবিতে পরিবর্তন আনার জন্য এখন আর জটিল ফটো এডিটিং সফটওয়্যার শেখার প্রয়োজন নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক বিভিন্ন টুলের মাধ্যমে কিছু নির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করলেই ছবির পোশাক, পটভূমি, আলো কিংবা সম্পূর্ণ পরিবেশ পরিবর্তন করা সম্ভব।
তবে এআই দিয়ে ছবি সম্পাদনার সময় একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়—ছবির অন্য অংশ পরিবর্তন করতে গিয়ে ব্যক্তির আসল চেহারাতেও পরিবর্তন হয়ে যায়। মুখের গড়ন, চোখ, নাক, ঠোঁট কিংবা ত্বকের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বদলে গিয়ে ছবিটি কৃত্রিম মনে হতে পারে। কিছু বিষয় মাথায় রেখে প্রম্পট লিখলে এ ধরনের সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ভালো মানের ছবি ব্যবহার করুন
এআই দিয়ে ছবি এডিট করার পূর্বে পরিষ্কার ও উচ্চমানের ছবি নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুখ যত স্পষ্ট থাকবে, এআই টুলও তত ভালোভাবে মুখের বৈশিষ্ট্য শনাক্ত ও সংরক্ষণ করতে পারবে।
অন্যদিকে, কম রেজল্যুশনের, ঝাপসা বা অতিরিক্ত অন্ধকার ছবি ব্যবহার করলে এডিটের সময় মুখের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসতে পারে।
কী পরিবর্তন চান, তা নির্দিষ্ট করুন
এআই টুলকে যদি শুধু ‘ছবিটি সুন্দর করে দিন’ ধরনের সাধারণ নির্দেশনা দেওয়া হয়, তবে টুল নিজের মতো করে মুখের বিভিন্ন অংশ পরিবর্তন করতে পারে। তাই কোন অংশ পরিবর্তন করতে হবে এবং কোন অংশ অপরিবর্তিত রাখতে হবে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা ভালো।
যেমন, আপনি লিখতে পারেন—‘ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তন করুন, কিন্তু ব্যক্তির মুখের গড়ন, চোখ, নাক, ঠোঁট ও ত্বকের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য অপরিবর্তিত রাখুন।’
এভাবে নির্দেশ দিলে এআই বুঝতে পারে ছবির কোন অংশে কাজ করতে হবে এবং কোন অংশে পরিবর্তন করা যাবে না।
মুখ ও পরিচয় সংরক্ষণের নির্দেশ দিন
অনেক এআই এডিটিং টুলে ‘preserve facial identity’ বা ‘keep face unchanged’-এর মতো নির্দেশনা ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রয়োজনে প্রম্পটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে পারেন যে ব্যক্তির পরিচয়, মুখের গঠন ও স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য যেন কোনোভাবেই পরিবর্তন না করা হয়।
এর পাশাপাশি বয়স, চুলের ধরন, মুখের আকৃতি এবং অভিব্যক্তি অপরিবর্তিত রাখার নির্দেশও দেওয়া যেতে পারে।
একসঙ্গে অনেক পরিবর্তন করবেন না
একবারে পোশাক, ব্যাকগ্রাউন্ড, চুল, আলো এবং অন্যান্য উপাদান পরিবর্তনের নির্দেশ দিলে এআইয়ের ভুল করার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। তাই ধাপে ধাপে এডিট করা তুলনামূলকভাবে কার্যকর।
প্রথমে শুধু ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তন করে দেখুন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী আলো, পোশাক বা পরিবেশে পরিবর্তন আনুন। এতে মূল চেহারা ঠিক রাখা সহজ হয়।
এডিট করা ছবি ভালোভাবে পরীক্ষা করুন
এআই দিয়ে ছবি তৈরি হওয়ার পর সেটি ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে চোখ, নাক, ঠোঁট, ত্বকের দাগ ও মুখের অন্যান্য স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য আগের মতো আছে কি না, তা জুম করে দেখুন।
এ ছাড়া হাত, আঙুল, শরীরের গঠন ও অনুপাতেও কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন এসেছে কি না, সেটিও খেয়াল করা দরকার।
মনে রাখতে হবে, এআই প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক না কেন, সব সময় মূল ছবির প্রতিটি বৈশিষ্ট্য নিখুঁতভাবে ধরে রাখতে পারে না। তাই ব্যক্তিগত ছবি এডিট করার ক্ষেত্রে কোন প্ল্যাটফর্মে ছবি আপলোড করছেন এবং সেই সেবা আপনার ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে ব্যবহার করে, সে বিষয়েও সচেতন থাকা জরুরি।
ব্যবহার করতে পারেন এসব প্রম্পট-
রয়্যাল ব্ল্যাক লুক:
“Create a royal luxury portrait with a dark premium studio background. Keep my original face and identity exactly the same. Dress me in an elegant black outfit. Add warm golden rim lighting and cinematic shadows. Do not change my facial structure or identity.”
প্রফেশনাল প্রোফাইল ছবি:
“Create a clean professional headshot. Preserve my original face, identity, facial proportions, and natural appearance. Use a simple background, balanced lighting, and formal clothing. Avoid beauty filters, face reshaping, or artificial facial changes.”
বিচ ভ্যাকেশন লুক:
“Edit this image into a realistic luxury beach vacation photograph. Keep my original face and facial identity unchanged. Place me on a beautiful tropical beach during golden hour. Add stylish vacation clothing, natural sunlight, and professional travel photography.
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেছেন যে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতের কাছ থেকে ১০০ কোটি টাকা নিয়ে জাতীয় নির্বাচন করেছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াত এনসিপিকে আর অর্থ দেবে না বলে ‘শোনা যাচ্ছে’।
রাশেদ খাঁন সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টে এ বিষয়গুলি তুলে ধরেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতের কাছ থেকে নেওয়া ওই টাকা পরিশোধের জন্য এনসিপিকে এখন ‘গণভিক্ষা কর্মসূচি’ চালু করতে হচ্ছে। তিনি আবারও বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াত এনসিপিকে আর অর্থ দেবে না বলে ‘শোনা যাচ্ছে’।
অতিরিক্ত অভিযোগ করে রাশেদ খাঁন বলেন, অতীতে বন্যার টাকা আত্মসাতের অভিযোগের কারণে দীর্ঘদিন গণভিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনের তহবিল সংগ্রহের জন্য এনসিপি আবার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গণভিক্ষা কার্যক্রমে জোর দেবে।
তিনি আরও বলেন, এনসিপি যদি এককভাবে স্থানীয় নির্বাচন করে, তাহলে তিনি তাদের গণভিক্ষা তহবিলে ১ লাখ টাকা অনুদান সংগ্রহ করে দেবেন।
পোস্টে এনসিপির নেতাদের নিয়েও বিভিন্ন মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। তিনি লেখেন, বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানা একসময় হাসনাত আব্দুল্লাহকে ‘ফকিন্নির বাচ্চা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। এখন এনসিপির নেতারা ১৮ মাসে ‘লাগামহীন দুর্নীতি’ করে জমিদারের বাচ্চা বনে গেছেন কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এনসিপির নেতাদের আলিশান কার্যালয় ও ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়া এবং ‘জমিদারি ভাবসাব’ নিয়ে চলাফেরার অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ। তার মতে, একটি গণঅভ্যুত্থান এনসিপির ‘এক ডজন নেতার জীবন পরিবর্তন করে দিয়েছে’ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিএনপির আন্দোলন ও এনসিপির রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খাঁন। তিনি লেখেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা ১৭ বছর ধরে আন্দোলন করলেও সেই সময়ে হাসনাত আব্দুল্লাহদের কী ভূমিকা ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে নাহিদ ইসলামদের ওপর জনগণের আস্থা থাকলে তারা কেন ক্ষমতায় আসতে পারেননি, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
জামায়াত ও এনসিপির প্রধান বিরোধী দল হওয়ার প্রতিযোগিতা নিয়েও মন্তব্য করেন রাশেদ। তার দাবি, বিএনপি এনসিপিকে জাতীয় পার্টির মতো বিরোধী দল বানাতে রাজি না হওয়ায় এনসিপি জামায়াতের জোটে গেছে। এতে জামায়াত উপকৃত হয়েছে এবং ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’-এর তকমা থেকে গণতন্ত্র রেহাই পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন, ক্ষমতার জন্য এনসিপি অল্প বয়সেই ‘ধান্ধাবাজ দলে’ পরিণত হয়েছে। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকার আরও কয়েক বছর ক্ষমতায় থাকলে এনসিপির নেতারা দুর্নীতি ও অর্থ পাচারে আওয়ামী লীগকেও ছাড়িয়ে যেতেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ আমাদের সকলের, আপনার এবং আমার। "রাষ্ট্রের নাগরিক হিসাবে আমরা যদি দায়িত্বশীল আচরণ না করি, তবে সরকারের একার পক্ষে কখনোই দেশকে উন্নত বা কার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব নয়। দেশকে সঠিক পথে চালাতে আমাদের সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করতে হবে।"
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দেশব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান’ এর অংশ হিসেবে উপজেলা প্রশাসন ও দুর্গাপুর পৌরসভার যৌথ আয়োজনে খাল পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এসব কথা বলেন।
এই কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বিডি ক্লিন’-এর শতাধিক কর্মী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন, যা দেশের ডেঙ্গুর প্রকোপ কমানো এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত। দুর্গাপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ সাদাত এই কার্যক্রমের সভাপতিত্ব করেন।
কর্মসূচির উদ্বোধনের পূর্বে পরিচ্ছন্ন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবকদের শপথ বাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শপথ শেষে স্বেচ্ছাসেবকরা লাইফ জ্যাকেট, গ্লাভস ও সরঞ্জাম নিয়ে সরাসরি খালে নেমে জমে থাকা কচুরিপানা ও প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণের কার্যক্রম শুরু করেন।
ডেপুটি স্পিকার বক্তব্যের শুরুতেই পরিচ্ছন্নতার সামাজিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "ইসলাম ধর্মের মূল্যবোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা হলো ঈমানের অঙ্গ। শুধু ইসলাম নয়, প্রত্যেকটি ধর্মেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সামাজিকভাবে স্বীকৃত, প্রতিষ্ঠিত এবং এটি সবারই কাম্য। দুর্ভাগ্যবশত, কেবল অসচেতনতার অভাবেই আমরা এই জরুরি কাজটি থেকে বিরত থাকি।"
বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবকদের উদ্যোগের প্রশংসা করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, "বিডি ক্লিনের বন্ধুরা আজ যে খালটি পরিষ্কার করতে এসেছেন, এটি গত প্রায় দুই দশক ধরে এমন বেহাল অবস্থার মধ্যে ছিল। এমন চমৎকার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আমি উপজেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসক এবং বিডি ক্লিনের সকল স্বেচ্ছাসেবক বন্ধুদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।"
সারাদেশে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "দুর্গাপুর, কলমাকান্দাসহ সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় আজ ডেঙ্গুর প্রকোপ ও নানা ধরনের ছোঁয়াচে বা আবর্জনাজনিত রোগ বাড়ছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের শিশুরাই এসবের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। আমাদের আজকের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমটি মূলত আগামী প্রজন্মের জন্য, আমাদের শিশুরা যেন সুস্থ থাকে এবং ভালোভাবে বাঁচতে পারে, এরই অংশ হিসেবে আজকের এই আয়োজন।"
অনুষ্ঠানে বিডি ক্লিনের পক্ষ থেকে উপস্থিত সবাইকে শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। এ প্রসঙ্গে ডেপুটি স্পিকার বলেন, "বিডি ক্লিন আজ আমাদের যে শপথ পড়িয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে- মানবিক এবং কার্যকর রাষ্ট্র গঠনের জন্য আমরা সবাই কাজ করব। আমি নিজেও শপথটি পড়েছি এবং সবাইকে এটি অন্তরে ধারণ করার অনুরোধ জানিয়েছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে আমাদের দায়িত্বশীল হতে হবে।"
অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, "আমি সকলের প্রতি অনুরোধ জানাব, অতীতকে ভুলে গিয়ে বা অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান এবং আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলি। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই আগামী প্রজন্ম সুখী ও সুন্দর দেশ পাবে।"
এসময় উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মী, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিক, উপজেলা ও পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ