কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:০৭ পি.এম
উৎসবমুখর পরিবেশে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলার ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) উপজেলা পরিষদ চত্বরের খেলার মাঠ দিনব্যাপী আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
সকালে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অ.দা.) এ কে এম রায়হানুর রহমান।
প্রতিযোগিতায় উপজেলার ১৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সাঁতার, দাবা, কাবাডি ও হ্যান্ডবলসহ বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নেয়। প্রতিটি ইভেন্টে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও জয়ের প্রত্যয় ছিল চোখে পড়ার মতো। শিক্ষক ও সহপাঠীদের উৎসাহে পুরো মাঠজুড়ে ছিল প্রাণচাঞ্চল্য।
বিকেলে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই। খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা গড়ে তোলে। পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের নিয়মিত খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে হবে। ক্রীড়াচর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হয় এবং তারা আত্মবিশ্বাসী নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আশরাফুর রহমানসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান শহীদ মীর কাসেম আলীর জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের কথা স্মরণ করে বলেছেন, "শহীদ মীর কাসেম আলীর জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম যুগ-যুগ ধরে অব্যাহত থাকবে।"বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সাবেক সদস্য, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মীর কাসেম আলীর অবদানের কথা স্মরণ করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বিবৃতি দিয়েছেন।তিনি বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, মীর কাসেম আলী আজীবন বাংলাদেশকে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও ইসলামী জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। ইসলামী ব্যাংক-বীমা, বহু মসজিদ-মাদ্রাসা এবং নানাবিধ ইসলামী ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় তার অগ্রণী ভূমিকা ছিল। বিশেষত দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তার উদ্যোগ ছিল যুগান্তকারী, যার সুফল আজও মানুষ পাচ্ছে। বাংলাদেশের জনগণ এজন্য কৃতজ্ঞচিত্তে তাঁর অবদান স্মরণ রাখবে।ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করে এবং মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদী সরকার তার বিরুদ্ধে আনা কোনো অভিযোগই ক্যাঙ্গারু আদালতে প্রমাণ করতে পারেনি। যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। কিন্তু তারপরও সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে তাকে বিচারিক হত্যাকাণ্ডের নীলনকশা অনুযায়ী ২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টায় তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।জামায়াত আমির বলেন, তিনি দাঈ ইলাল্লাহ হিসেবে বাংলাদেশের জমিনে যে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের সূচনা করেছিলেন, তা ইনশাআল্লাহ সুদীর্ঘকাল অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলনের এই নিবেদিত দায়িত্বশীল তার কর্মের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। আমরা মহান আল্লাহর নিকট দোয়া করি, তিনি যেন মীর কাসেম আলীর শাহাদাত কবুল করেন এবং তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন।তিনি বলেন, মীর কাসেম আলীর রেখে যাওয়া কাজগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংগঠনের সর্বস্তরের জনশক্তি ও দেশবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং সাবেক চেয়ারপারসন ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে চট্টগ্রামে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
আজ (বুধবার) বাদ আছর নগরীর নাসিমন ভবনস্থ বিএনপির দলীয় কার্যালয় জামে মসজিদে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে এই দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
দোয়া মাহফিলে মহান মুক্তিযুদ্ধ, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে শহীদ সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। একইসঙ্গে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, সাবেক চেয়ারপারসন ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের নেতাকর্মী এবং দেশবাসীর সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এবং সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান। এছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য আলহাজ্ব শামসুল আলম, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ আজম উদ্দিন, কাজী বেলাল উদ্দিন, আর ইউ চৌধুরী শাহিন, শওকত আলম খাজা, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, শিহাব উদ্দিন মুবিন, সদস্য মো. মহসিন, কামরুল ইসলাম, সৈয়দ শিহাব উদ্দীন আলম, আনোয়ার হোসেন লিপু, মো. জাফর আহম্মদ, নুর উদ্দিন হোসেন নুরু, মোহাম্মদ আজম, মো. আশ্রাফুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইউছুপ, যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ সহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : নতুন নীতি গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এ, বি ও সি-শ্রেণির সরকারি বাসা বা বাড়ি বরাদ্দে। সরকারি আবাসন পরিদপ্তর এখন থেকে এসব শ্রেণির বাসা সরাসরি বরাদ্দ না করে সংশ্লিষ্ট কোটা সমন্বয়ের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়ার সুপারিশ করেছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সরকারি আবাসন পরিদপ্তর গত ১ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে একটি পত্র জারি করেছে। পত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ অ্যালোকেশন রুলস, ১৯৮২-এর রুল-৬ অনুযায়ী, এ, বি ও সি-শ্রেণির সরকারি বাসা বরাদ্দের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ওপর ন্যস্ত রয়েছে। তবে, তিন মাসের বেশি সময় ধরে খালি থাকা বাসাগুলো সরকারি রাজস্ব আদায় ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে অগ্রাধিকারভুক্ত কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে, সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের বাসা বরাদ্দ কমিটির গত ৩০ জুনের সভায় এ, বি ও সি-শ্রেণির বাসা বরাদ্দের নতুন সুপারিশ করা হয়।
কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, বাংলাদেশ অ্যালোকেশন রুলস, ১৯৮২-এর রুল-৬ অনুসারে এ, বি ও সি-শ্রেণির সরকারি বাসা বা বাড়ি সরাসরি বরাদ্দ না দিয়ে যথাযথভাবে কোটা সমন্বয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর ফলে, দীর্ঘদিন খালি থাকা এসব শ্রেণির সরকারি বাসা সরাসরি আবাসন পরিদপ্তরের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট কোটা ও বিধিবিধান অনুসরণ করে উপযুক্ত কর্মচারীদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়ার প্রক্রিয়া চালু হবে বলে জানা গেছে।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত পত্রে এ সিদ্ধান্তের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী যথাযথভাবে গণমাধ্যমে প্রচার না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি একই সঙ্গে দাবি করেছেন যে, জেনারেল ওসমানীর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা উচিত এবং পাঠ্যপুস্তকে তার জীবন ও অবদান অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।বুধবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘কালকে মুক্তিযুদ্ধের সেনানায়ক—মরহুম জেনারেল ওসমানীর—১০৮তম জন্মদিবস গেছে। ঘটনাক্রমে সেখানে উপস্থিত হয়ে কিছু লক্ষ্য করলাম। মনে হলো, এই দেশে জেনারেল ওসমানী নামে কোনো লোকের জন্ম হয়নি।’
তিনি জানান, বিষয়টি জানার চেষ্টা করার পর টেলিভিশন ও পত্রিকায় খোঁজ নিয়েছেন। কিন্তু কোথাও জেনারেল ওসমানীর জন্মবার্ষিকী নিয়ে সংবাদ দেখতে পাননি। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে নানা ধরনের টকশো হলেও এ বিষয়ে কেউ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে লজ্জা পেয়েছি। আমি ভাবলাম, আমরা কি কিছুই করতে পারলাম না?’—এভাবে তিনি তার হতাশা ব্যক্ত করেন।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, জেনারেল ওসমানীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গণমাধ্যমের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবেও যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল। এ বিষয়ে স্পিকারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জেনারেল ওসমানীর মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অন্তত তার অবদানের জন্য এই দেশের মানুষের—যারা সংশ্লিষ্ট—তাকে স্মরণ রাখা উচিত। মুক্তিযুদ্ধে তিনি কী করেছেন, এটা নিয়ে বলতে গেলে ঘণ্টা লাগবে।’
তিনি অভিযোগ করেন যে, পাঠ্যপুস্তকে জেনারেল ওসমানীর জীবন ও অবদান যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। তিনি বলেন, নিজের সংগ্রহ করা শিশুদের বই ও স্কুলের বিভিন্ন বইয়ে খুঁজেও জেনারেল ওসমানীর বিষয়ে তেমন কোনো আলোচনা পাননি।জেনারেল ওসমানীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘নির্মোহ, নিরহংকার, সৎ ও সাহসী কোনো লোক যদি বাংলাদেশে জন্ম হয়ে থাকে, জেনারেল ওসমানী তাদের একজন।বক্তব্যের শেষ দিকে জেনারেল ওসমানীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তিনি বলেন, তাঁর জন্মবার্ষিকী ও মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের বিষয়ে সংসদ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে জাতীয় কর্মসূচির আওতায় তাঁর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালন এবং পাঠ্যপুস্তকে তার জীবন ও অবদান অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ