ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

মার্কিন জনগণ যুদ্ধের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে: গালিবাফ


মার্কিন জনগণ যুদ্ধের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে: গালিবাফ

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়কে যুদ্ধের বিরুদ্ধে মার্কিন জনগণের অবস্থান হিসেবে দেখছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তাঁর মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিবেকের তাড়নায় মার্কিন ভোটাররা যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, যদি জনগণের মতামত উপেক্ষা করে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে ওয়াশিংটনকে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে গালিবাফ এসব মন্তব্য করেন।

তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘বিবেকের তাড়নায় হোক কিংবা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে, আমেরিকানরা যুদ্ধের বিরুদ্ধে না বলেছে। আমরা তাদের এই অবস্থানকে সমর্থন করি।’

আরও পড়ুন: অপপ্রচার ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুদৃঢ় অবস্থান গড়ছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মার্কিন সরকারকে সতর্ক করে বলেন, জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে আন্তর্জাতিক অর্থদাতা ও ব্ল্যাকমেইলারদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করলে যুক্তরাষ্ট্রকে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তাঁর ভাষায়, ইরানের ‘না’ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ায় ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের পাশাপাশি জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে ওঠে। নির্বাচনের ফলকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসনের ইরাননীতি নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গালিবাফের এ বক্তব্যকে তেহরানের রাজনৈতিক অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: রাহুল গান্ধী মোদির সঙ্গে প্রকাশ্যে বিতর্কের আহ্বান জানালেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রমিকবেশে আন্দোলনে নেমেছে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ-দাবি রাশেদ খানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৩ পি.এম


শ্রমিকবেশে আন্দোলনে নেমেছে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ-দাবি রাশেদ খানের

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান দাবি করেছেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সদস্যরা শ্রমিকবেশে আন্দোলনে নেমেছে।

তিনি বুধবার (৪ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক পেজে একটি গণমাধ্যমের নিউজকার্ড শেয়ার করে এই দাবি করেন।

ক্যাপশানে রাশেদ খান উল্লেখ করেন, ‘হেলমেট পরে শ্রমিক নেমেছে? বডি ফিটনেস, ড্রেসআপ দেখে মনে হয় এরা শ্রমিক? শ্রমিকবেশে আন্দোলনে নেমেছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ।’

এদিকে, রাজধানী মিরপুর ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে পোশাকশ্রমিকরা ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার করার দাবিতে আন্দোলন করছেন। গাজীপুরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনে হামলায় আহত গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের তৌফিক মিয়া (২০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার মৃত্যুর ঘটনায় রাশেদ খান মন্তব্য করেন, কোনো সাধারণ শ্রমিক এমন তাণ্ডব চালাতে পারে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল: ইউক্রেন, ইরানসহ অন্যান্য দেশের জন্য নতুন বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৪ পি.এম


মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল: ইউক্রেন, ইরানসহ অন্যান্য দেশের জন্য নতুন বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা প্রয়োগে নতুন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিবর্তনের প্রভাব দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি থেকে শুরু করে ইরান ও ইউক্রেনের মতো দেশগুলোর প্রতি নেওয়া বৈদেশিক নীতিতে প্রতিফলিত হতে পারে।

আগামী কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে এই নির্বাচনের ফলাফল একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না কোন যুদ্ধে যুক্ত হবে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা কোন দেশকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দেবে। যদিও প্রেসিডেন্টের হাতে অনেক ক্ষমতা রয়েছে, কংগ্রেসের ভূমিকা এসব ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কংগ্রেসের দুটি কক্ষ হলো প্রতিনিধি পরিষদ এবং সিনেট। এই দুই কক্ষ আইন প্রণয়ন, সরকারি ব্যয় নির্ধারণ এবং প্রেসিডেন্ট ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পালন করে। মঙ্গলবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় এসব ক্ষেত্রে তাদের প্রভাব বৃদ্ধি পাবে।

কংগ্রেসের পাস করা কোনো আইনে প্রেসিডেন্ট ভেটো দিতে পারেন। তবে প্রতিনিধি পরিষদ এবং সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য যদি সেই ভেটো সমর্থন করেন, তাহলে তা বাতিল করা সম্ভব। এ ছাড়া কংগ্রেসের কাছে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া চালানোর ক্ষমতাও রয়েছে। মন্ত্রিসভার সদস্য, মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং ফেডারেল বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রেও সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।

২০২৪ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছিলেন। এর ফলে তার সরকার পরিচালনা সহজ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে ট্রাম্পকে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতা করে কাজ করতে হতে পারে। বিশেষত সামরিক ও আর্থিক সহায়তা, যুদ্ধ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক নীতির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলেও ইউক্রেনের জন্য মার্কিন সহায়তা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি নয়। কারণ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইউক্রেনের প্রতি আগের তুলনায় কম সমর্থন দেখাচ্ছে এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী।

২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরু করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ডেমোক্র্যাট জো বাইডেন। সে সময় ইউরোপের দেশগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ায় এবং দেশটিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ, সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র সহায়তা প্রদান করে। তবে ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে আসার পর পরিস্থিতি বদলে যায়।

২০২৫ সালে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হোয়াইট হাউস সফরে গিয়ে ট্রাম্পের কাছ থেকে শীতল আচরণ পান। ট্রাম্প নিজেও প্রকাশ্যে বলেছেন, "জেলেনস্কির চেয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো।"

এ ছাড়া রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে এবং ইউক্রেনের জন্য মার্কিন সামরিক ও আর্থিক সহায়তা কমানো হয়েছে। তবে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার ফলে ডেমোক্র্যাটরা ইউক্রেনের জন্য আরো সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব তুলতে সক্ষম হবেন।

ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্লুমবার্গ গভর্নমেন্টের সম্পাদক ও সাবেক সাংবাদিক ব্র্যান্ডন কনরাডিস মন্তব্য করেন, "ইউক্রেনকে পর্যাপ্ত সহায়তা না দেওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে আসছেন।" তারা ইউক্রেনের জন্য আরো সহায়তা নিশ্চিত করতে নতুন আইনও প্রণয়ন করতে পারেন।

তবে ট্রাম্প যদি সেই আইনে ভেটো দেন, তাহলে তা বাতিল করতে কংগ্রেসের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে। কিছু রিপাবলিকান সদস্যের সমর্থন পেলে ডেমোক্র্যাটরা এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে সক্ষম হতে পারেন। ফলে ইউক্রেনকে সহায়তার বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসে দুই দলের সমর্থনের ওপর নির্ভর করবে।

কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। ডেমোক্র্যাটরা শুরু থেকেই এই যুদ্ধের বিরোধিতা করে আসছেন। কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে তারা যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে একটি প্রস্তাবও পাস করেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন সেই প্রস্তাব উপেক্ষা করেছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের বৈদেশিক নীতিবিষয়ক গবেষণা পরিচালক মাইকেল ও'হ্যানলন বলেন, "এই যুদ্ধে কংগ্রেসের খুব বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই।" তবে কংগ্রেস চাইলে যুদ্ধের জন্য অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে পরিস্থিতি আরো বড় আকার ধারণ করা ঠেকাতে পারে।

মধ্যবর্তী নির্বাচন মার্কিন উন্নয়ন সহায়তাকে যেভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে ইবোলা, এইডস ও ক্ষুধা মোকাবেলায় পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্পে মার্কিন সহায়তা ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেন। এ ছাড়া বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তার দায়িত্বে থাকা মার্কিন সংস্থা ইউএসএআইডি বন্ধ করে দেন তিনি।

ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে সংস্থাটিকে আবার চালু করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে তারা উন্নয়ন সহায়তার বাজেট বাড়ানোর জন্য চাপ দিতে এবং ইউএসএআইডি বন্ধের সিদ্ধান্তের তদন্ত করতে পারবেন।

কনরাডিস বলেন, "কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ডেমোক্র্যাটরা সরকারের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারির ক্ষমতা ব্যবহার করে ইউএসএআইডি বন্ধের বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।"

এ নিয়ে শুনানি হবে এবং যেসব কর্মকর্তাকে দায়ী মনে করা হবে, তাদের কংগ্রেসে জবাবদিহির জন্য তলব করা হবে। তবে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকবেন একজন রিপাবলিকান। তাই মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেও সবকিছু বদলে যাবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান রাসায়নিক অস্ত্র হামলার পরিকল্পনা করছে, দাবি ইসরাইলের; যুক্তরাষ্ট্রে সন্দেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০২ পি.এম


ইরান রাসায়নিক অস্ত্র হামলার পরিকল্পনা করছে, দাবি ইসরাইলের; যুক্তরাষ্ট্রে সন্দেহ

ইসরাইল দাবি করেছে যে, ইরান তেল আবিবসহ অন্যান্য প্রতিপক্ষ দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করেছে ইসরাইল।

তবে, ওয়াশিংটনের কর্মকর্তাদের মধ্যে ইসরাইলের দেওয়া তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গভীর সন্দেহ দেখা দিয়েছে। কিছু মার্কিন কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন যে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কি এই তথ্য ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াতে চাইছেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক আলোচনায় ইসরাইল দাবি করেছে যে, ইরান রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা দ্রুত বাড়াচ্ছে। দেশটি ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে রাসায়নিক অস্ত্র নিক্ষেপ কিংবা গোপনে অন্য দেশে প্রবেশ করিয়ে হামলা চালানোর প্রযুক্তি উন্নয়নের চেষ্টা করছে।

ইসরাইলি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির চেয়ে রাসায়নিক অস্ত্রের সম্ভাব্য হুমকি এখন বেশি জরুরি। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। কিছু কর্মকর্তা ইসরাইলের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন, অন্যদিকে অন্যরা এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

তাদের আশঙ্কা, নেতানিয়াহু প্রশাসন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আবারও ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করতে রাজি করানোর জন্য এই গোয়েন্দা তথ্যকে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

সংশয় উপসাগরীয় দেশগুলোরও

ইসরাইল শুধু যুক্তরাষ্ট্রকেই নয়, উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের কর্মকর্তাদের কাছেও একই ধরনের গোয়েন্দা তথ্য তুলে ধরেছে। কিন্তু এসব দেশের কর্মকর্তারাও ইরানের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এক আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইসরাইল উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচি কার্যকর করার প্রস্তুতির বিষয়ে জানিয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেনি।

ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর সরকার ইসরাইলের দেওয়া এসব গোয়েন্দা তথ্যকে গুরুত্বহীন বলে বিবেচনা করেছে।

ইরানের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক

মার্কিন গোয়েন্দা মহলে ইরানের রাসায়নিক অস্ত্র গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। তবে, দেশটির নেতৃত্ব বাস্তবে এমন অস্ত্র তৈরি করেছে কি না কিংবা থাকলেও এ অস্ত্র ব্যবহার করবে কি না, সেটাই এখন মূল প্রশ্ন।

২০০৩ সালে ইরান স্বীকার করেছিল যে, ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তারা রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সেই কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রতিরক্ষা দফতরের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা ডানা স্ট্রল জানিয়েছেন, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির উপাদান মজুতের বিষয়টি পরিচিত। তবে ইরান এখন পর্যন্ত এসব অস্ত্র ব্যবহার করেনি।

তার মতে, ইরান যদি নিজেকে অস্তিত্বগত হুমকির মুখে মনে করে, তাহলে দেশটির নেতৃত্ব প্রচলিত অস্ত্রের বাইরে গিয়ে সরাসরি রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্তও নিতে পারে। অন্যদিকে, ইরান রাসায়নিক অস্ত্র থাকার অভিযোগ নাকচ করে আসছে। তেহরানের দাবি, এসব অভিযোগ ইসরাইল ও নেতানিয়াহুর মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ।

তথ্যসূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য টাইমস অব ইসরাইল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২৪ ঘণ্টায় ডিএমপির ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ২,১১৬ মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০২ পি.এম


২৪ ঘণ্টায় ডিএমপির ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ২,১১৬ মামলা

ঢাকা, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ : রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে গত ২৪ ঘন্টায় ২,১১৬টি মামলা দায়ের করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।

মঙ্গলবার, রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে এসব মামলা করা হয়।

ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ১১৪টি, ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ১৭৬টি, ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে ৩৮১টি এবং ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ২৭১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এছাড়া, ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ২১৮টি, ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ২১০টি, ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ৩৮৩টি এবং ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ৩৬৩টি মামলা হয়েছে।

অভিযান চলাকালীন ৫৯৪টি গাড়ি ডাম্পিং করা হয়েছে এবং ৪৩৪টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%