ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

শ্রমিকবেশে আন্দোলনে নেমেছে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ-দাবি রাশেদ খানের


শ্রমিকবেশে আন্দোলনে নেমেছে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ-দাবি রাশেদ খানের

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান দাবি করেছেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সদস্যরা শ্রমিকবেশে আন্দোলনে নেমেছে।

তিনি বুধবার (৪ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক পেজে একটি গণমাধ্যমের নিউজকার্ড শেয়ার করে এই দাবি করেন।

ক্যাপশানে রাশেদ খান উল্লেখ করেন, ‘হেলমেট পরে শ্রমিক নেমেছে? বডি ফিটনেস, ড্রেসআপ দেখে মনে হয় এরা শ্রমিক? শ্রমিকবেশে আন্দোলনে নেমেছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ।’

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর জোট নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাল, কমিশন জালিয়াতির প্রমাণ পায়নি

এদিকে, রাজধানী মিরপুর ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে পোশাকশ্রমিকরা ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার করার দাবিতে আন্দোলন করছেন। গাজীপুরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনে হামলায় আহত গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের তৌফিক মিয়া (২০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার মৃত্যুর ঘটনায় রাশেদ খান মন্তব্য করেন, কোনো সাধারণ শ্রমিক এমন তাণ্ডব চালাতে পারে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল: ইউক্রেন, ইরানসহ অন্যান্য দেশের জন্য নতুন বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৪ পি.এম


মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল: ইউক্রেন, ইরানসহ অন্যান্য দেশের জন্য নতুন বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা প্রয়োগে নতুন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিবর্তনের প্রভাব দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি থেকে শুরু করে ইরান ও ইউক্রেনের মতো দেশগুলোর প্রতি নেওয়া বৈদেশিক নীতিতে প্রতিফলিত হতে পারে।

আগামী কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে এই নির্বাচনের ফলাফল একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না কোন যুদ্ধে যুক্ত হবে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা কোন দেশকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দেবে। যদিও প্রেসিডেন্টের হাতে অনেক ক্ষমতা রয়েছে, কংগ্রেসের ভূমিকা এসব ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কংগ্রেসের দুটি কক্ষ হলো প্রতিনিধি পরিষদ এবং সিনেট। এই দুই কক্ষ আইন প্রণয়ন, সরকারি ব্যয় নির্ধারণ এবং প্রেসিডেন্ট ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পালন করে। মঙ্গলবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় এসব ক্ষেত্রে তাদের প্রভাব বৃদ্ধি পাবে।

কংগ্রেসের পাস করা কোনো আইনে প্রেসিডেন্ট ভেটো দিতে পারেন। তবে প্রতিনিধি পরিষদ এবং সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য যদি সেই ভেটো সমর্থন করেন, তাহলে তা বাতিল করা সম্ভব। এ ছাড়া কংগ্রেসের কাছে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া চালানোর ক্ষমতাও রয়েছে। মন্ত্রিসভার সদস্য, মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং ফেডারেল বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রেও সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।

২০২৪ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছিলেন। এর ফলে তার সরকার পরিচালনা সহজ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে ট্রাম্পকে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতা করে কাজ করতে হতে পারে। বিশেষত সামরিক ও আর্থিক সহায়তা, যুদ্ধ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক নীতির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলেও ইউক্রেনের জন্য মার্কিন সহায়তা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি নয়। কারণ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইউক্রেনের প্রতি আগের তুলনায় কম সমর্থন দেখাচ্ছে এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী।

২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরু করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ডেমোক্র্যাট জো বাইডেন। সে সময় ইউরোপের দেশগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ায় এবং দেশটিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ, সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র সহায়তা প্রদান করে। তবে ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে আসার পর পরিস্থিতি বদলে যায়।

২০২৫ সালে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হোয়াইট হাউস সফরে গিয়ে ট্রাম্পের কাছ থেকে শীতল আচরণ পান। ট্রাম্প নিজেও প্রকাশ্যে বলেছেন, "জেলেনস্কির চেয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো।"

এ ছাড়া রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে এবং ইউক্রেনের জন্য মার্কিন সামরিক ও আর্থিক সহায়তা কমানো হয়েছে। তবে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার ফলে ডেমোক্র্যাটরা ইউক্রেনের জন্য আরো সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব তুলতে সক্ষম হবেন।

ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্লুমবার্গ গভর্নমেন্টের সম্পাদক ও সাবেক সাংবাদিক ব্র্যান্ডন কনরাডিস মন্তব্য করেন, "ইউক্রেনকে পর্যাপ্ত সহায়তা না দেওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে আসছেন।" তারা ইউক্রেনের জন্য আরো সহায়তা নিশ্চিত করতে নতুন আইনও প্রণয়ন করতে পারেন।

তবে ট্রাম্প যদি সেই আইনে ভেটো দেন, তাহলে তা বাতিল করতে কংগ্রেসের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে। কিছু রিপাবলিকান সদস্যের সমর্থন পেলে ডেমোক্র্যাটরা এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে সক্ষম হতে পারেন। ফলে ইউক্রেনকে সহায়তার বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসে দুই দলের সমর্থনের ওপর নির্ভর করবে।

কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। ডেমোক্র্যাটরা শুরু থেকেই এই যুদ্ধের বিরোধিতা করে আসছেন। কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে তারা যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে একটি প্রস্তাবও পাস করেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন সেই প্রস্তাব উপেক্ষা করেছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের বৈদেশিক নীতিবিষয়ক গবেষণা পরিচালক মাইকেল ও'হ্যানলন বলেন, "এই যুদ্ধে কংগ্রেসের খুব বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই।" তবে কংগ্রেস চাইলে যুদ্ধের জন্য অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে পরিস্থিতি আরো বড় আকার ধারণ করা ঠেকাতে পারে।

মধ্যবর্তী নির্বাচন মার্কিন উন্নয়ন সহায়তাকে যেভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে ইবোলা, এইডস ও ক্ষুধা মোকাবেলায় পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্পে মার্কিন সহায়তা ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেন। এ ছাড়া বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তার দায়িত্বে থাকা মার্কিন সংস্থা ইউএসএআইডি বন্ধ করে দেন তিনি।

ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে সংস্থাটিকে আবার চালু করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে তারা উন্নয়ন সহায়তার বাজেট বাড়ানোর জন্য চাপ দিতে এবং ইউএসএআইডি বন্ধের সিদ্ধান্তের তদন্ত করতে পারবেন।

কনরাডিস বলেন, "কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ডেমোক্র্যাটরা সরকারের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারির ক্ষমতা ব্যবহার করে ইউএসএআইডি বন্ধের বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।"

এ নিয়ে শুনানি হবে এবং যেসব কর্মকর্তাকে দায়ী মনে করা হবে, তাদের কংগ্রেসে জবাবদিহির জন্য তলব করা হবে। তবে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকবেন একজন রিপাবলিকান। তাই মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেও সবকিছু বদলে যাবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান রাসায়নিক অস্ত্র হামলার পরিকল্পনা করছে, দাবি ইসরাইলের; যুক্তরাষ্ট্রে সন্দেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০২ পি.এম


ইরান রাসায়নিক অস্ত্র হামলার পরিকল্পনা করছে, দাবি ইসরাইলের; যুক্তরাষ্ট্রে সন্দেহ

ইসরাইল দাবি করেছে যে, ইরান তেল আবিবসহ অন্যান্য প্রতিপক্ষ দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করেছে ইসরাইল।

তবে, ওয়াশিংটনের কর্মকর্তাদের মধ্যে ইসরাইলের দেওয়া তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গভীর সন্দেহ দেখা দিয়েছে। কিছু মার্কিন কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন যে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কি এই তথ্য ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াতে চাইছেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক আলোচনায় ইসরাইল দাবি করেছে যে, ইরান রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা দ্রুত বাড়াচ্ছে। দেশটি ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে রাসায়নিক অস্ত্র নিক্ষেপ কিংবা গোপনে অন্য দেশে প্রবেশ করিয়ে হামলা চালানোর প্রযুক্তি উন্নয়নের চেষ্টা করছে।

ইসরাইলি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির চেয়ে রাসায়নিক অস্ত্রের সম্ভাব্য হুমকি এখন বেশি জরুরি। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। কিছু কর্মকর্তা ইসরাইলের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন, অন্যদিকে অন্যরা এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

তাদের আশঙ্কা, নেতানিয়াহু প্রশাসন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আবারও ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করতে রাজি করানোর জন্য এই গোয়েন্দা তথ্যকে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

সংশয় উপসাগরীয় দেশগুলোরও

ইসরাইল শুধু যুক্তরাষ্ট্রকেই নয়, উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের কর্মকর্তাদের কাছেও একই ধরনের গোয়েন্দা তথ্য তুলে ধরেছে। কিন্তু এসব দেশের কর্মকর্তারাও ইরানের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এক আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইসরাইল উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচি কার্যকর করার প্রস্তুতির বিষয়ে জানিয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেনি।

ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর সরকার ইসরাইলের দেওয়া এসব গোয়েন্দা তথ্যকে গুরুত্বহীন বলে বিবেচনা করেছে।

ইরানের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক

মার্কিন গোয়েন্দা মহলে ইরানের রাসায়নিক অস্ত্র গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। তবে, দেশটির নেতৃত্ব বাস্তবে এমন অস্ত্র তৈরি করেছে কি না কিংবা থাকলেও এ অস্ত্র ব্যবহার করবে কি না, সেটাই এখন মূল প্রশ্ন।

২০০৩ সালে ইরান স্বীকার করেছিল যে, ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তারা রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সেই কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রতিরক্ষা দফতরের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা ডানা স্ট্রল জানিয়েছেন, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির উপাদান মজুতের বিষয়টি পরিচিত। তবে ইরান এখন পর্যন্ত এসব অস্ত্র ব্যবহার করেনি।

তার মতে, ইরান যদি নিজেকে অস্তিত্বগত হুমকির মুখে মনে করে, তাহলে দেশটির নেতৃত্ব প্রচলিত অস্ত্রের বাইরে গিয়ে সরাসরি রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্তও নিতে পারে। অন্যদিকে, ইরান রাসায়নিক অস্ত্র থাকার অভিযোগ নাকচ করে আসছে। তেহরানের দাবি, এসব অভিযোগ ইসরাইল ও নেতানিয়াহুর মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ।

তথ্যসূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য টাইমস অব ইসরাইল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২৪ ঘণ্টায় ডিএমপির ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ২,১১৬ মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০২ পি.এম


২৪ ঘণ্টায় ডিএমপির ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ২,১১৬ মামলা

ঢাকা, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ : রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে গত ২৪ ঘন্টায় ২,১১৬টি মামলা দায়ের করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।

মঙ্গলবার, রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে এসব মামলা করা হয়।

ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ১১৪টি, ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ১৭৬টি, ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে ৩৮১টি এবং ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ২৭১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এছাড়া, ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ২১৮টি, ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ২১০টি, ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ৩৮৩টি এবং ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ৩৬৩টি মামলা হয়েছে।

অভিযান চলাকালীন ৫৯৪টি গাড়ি ডাম্পিং করা হয়েছে এবং ৪৩৪টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের রেকর্ড সাফল্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৩ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের রেকর্ড সাফল্য

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে একাধিক ঐতিহাসিক অর্জনের সাক্ষী হয়েছে দেশটির রাজনীতি। মুসলিমদের অংশগ্রহণ ও সাফল্য নতুন মাত্রা পেয়েছে, যা প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় ফিলিস্তিনি ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম প্রতিনিধির প্রবেশের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে। পাশাপাশি নারী, কৃষ্ণাঙ্গ, আদিবাসী ও এলজিবিটিকিউ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বেও তৈরি হয়েছে বেশ কয়েকটি নতুন নজির।

মিশিগানে রিপাবলিকান মাইক রজার্সকে পরাজিত করে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট আবদুল আল-সাইয়েদ। এই জয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে তিনি পরিচিতি লাভ করেছেন। নিউ জার্সি থেকে প্রথম মুসলিম কংগ্রেস সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন চিকিৎসক আদম হামাওয়ি। এছাড়া ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের সিনেটে নাবিলা সৈয়দ এবং নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেটে আবের কাওয়াসের জয়ও মুসলিম ও অভিবাসী বংশোদ্ভূত জনগণের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

মুসলিমদের যেসব ঐতিহাসিক অর্জন

১. আবদুল আল-সাইয়েদ—যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর

মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট আবদুল আল-সাইয়েদ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম তার জয় নিশ্চিত করেছে। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটে নির্বাচিত হলেন তিনি।

৪২ বছর বয়সী আল-সাইয়েদ একজন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তিনি মিশিগানের ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক এবং ডেট্রয়েটের স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। নির্বাচনী প্রচারে তিনি সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, করপোরেট প্রভাব নিয়ন্ত্রণ এবং ধনীদের ওপর কর বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা এবং ইসরাইলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবিও তার প্রচারে গুরুত্ব পায়।

তবে প্রচারের সময় তাকে ঘিরে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য ও অভিযোগ সামনে আসে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান শিবিরের কয়েকজন তার মুসলিম পরিচয় নিয়ে আক্রমণ করেন। এসব বিতর্কের মধ্যেই জয় পেলেন তিনি।

২. আদম হামাওয়ি—নিউ জার্সির প্রথম মুসলিম কংগ্রেস সদস্য

নিউ জার্সির ১২তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান গ্রেগ মেলেকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট আদম হামাওয়ি। তার বিজয়ের মধ্য দিয়ে নিউ জার্সি থেকে প্রথম মুসলিম হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত হলেন তিনি।

মিসরীয় বংশোদ্ভূত হামাওয়ি একজন প্লাস্টিক ও পুনর্গঠনমূলক সার্জন এবং সাবেক মার্কিন সেনা চিকিৎসক। তিনি ইরাক যুদ্ধে দায়িত্ব পালনের সময় আহত সেনাদের চিকিৎসা করেছেন। সাবেক মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ট্যামি ডাকওয়ার্থের হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার পর তার জীবন বাঁচাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। বসনিয়া, সুদান, লেবানন ও সিরিয়ায় মানবিক চিকিৎসা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ২০২৪ ও ২০২৫ সালে গাজায় চিকিৎসাসেবা দিতে যান।

নির্বাচনী প্রচারে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, ইসরাইলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধ এবং চিকিৎসা ও শিক্ষাঋণ বাতিলের পক্ষে অবস্থান নেন হামাওয়ি।

৩. নাবিলা সৈয়দ—ইলিনয় সিনেটে মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় প্রতিনিধিত্ব

ইলিনয়ের সিনেটের ২৬তম ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান ডারবি হিলসকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট নাবিলা সৈয়দ। তিনি ৫৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন, বিপরীতে হিলস পেয়েছেন ৪৩ শতাংশ। আসনটি আগে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম নাবিলা ২০২২ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে ইলিনয়ের প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় আসেন। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে থেকে পড়াশোনা করা এই রাজনীতিক ভোক্তা অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা ও ভোটাধিকার নিয়ে কাজ করেছেন। এবার সিনেটে নির্বাচিত হয়ে অঙ্গরাজ্যের আইন প্রণয়নে আরও বড় পরিসরে ভূমিকা রাখার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

৪. আবের কাওয়াস—নিউইয়র্কে প্রথম ফিলিস্তিনি মুসলিম নারী

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেটের ১২তম ডিস্ট্রিক্টে জয় পেয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী আবের কাওয়াস। তার জয়ের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি মুসলিম নারী নির্বাচিত হলেন তিনি। কুইন্সের বাসিন্দা কাওয়াস একজন কমিউনিটি সংগঠক। তার বাবা-মা ফিলিস্তিনি।

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ও ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। আবাসন ও ভাড়াটিয়াদের অধিকার, অভিবাসীদের সুরক্ষা, শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার ছিল তার প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসী ও শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে সংগঠকের কাজ করেছেন কাওয়াস।

৫. রুয়া রোমান—জর্জিয়ায় মুসলিম ও ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিত্বের অগ্রযাত্রা

জর্জিয়ার অঙ্গরাজ্য আইনসভায় মুসলিম ও ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক রুয়া রোমানের প্রতিনিধিত্বও নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২২ সালে তিনি জর্জিয়ার প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম নারী ও প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান হিসেবে ইতিহাস গড়েছিলেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে অঙ্গরাজ্যের সিনেটের ৭ম ডিস্ট্রিক্টে জয় পেয়ে উচ্চকক্ষে যাওয়ার পথ তৈরি করেছেন তিনি। প্রাথমিক ফলে রিপাবলিকান প্রার্থী আইজাজ শেখের বিরুদ্ধে তার বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে। আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট হবে।

৬. ইলহান ওমর—কংগ্রেসে আবারও নির্বাচিত প্রথম মুসলিম নারীদের একজন

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ৫ম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে আবারও কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট ইলহান ওমর। সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিক শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ২০১৮ সালে কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়ে তিনি ইতিহাস গড়েন। রাশিদা তালিবের সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম দুই মুসলিম নারীর একজন। কংগ্রেসে দায়িত্ব পালনকালে অভিবাসীদের অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সরব ছিলেন তিনি। তার পুনর্নির্বাচন মার্কিন কংগ্রেসে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখল।

৭. রাশিদা তালিব—ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মুসলিম কংগ্রেস সদস্যের আরেক জয়

মিশিগানের ১২তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট রাশিদা তালিব। ফিলিস্তিনি অভিবাসী পরিবারের সন্তান তালিব ২০১৮ সালে কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়ে প্রথম মুসলিম নারী সদস্যদের একজন হিসেবে ইতিহাস গড়েন। একই সঙ্গে তিনি কংগ্রেসের প্রথম দুই ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন আইনপ্রণেতার একজন। কংগ্রেসে তিনি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, পরিবেশ ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে কাজ করেছেন। গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচক হিসেবেও পরিচিত তিনি। নতুন মেয়াদে তাঁর জয় কংগ্রেসে ফিলিস্তিনি ও মুসলিম প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী করল।

৮. আন্দ্রে কারসন—কংগ্রেসে দীর্ঘদিনের মুসলিম প্রতিনিধি

ইন্ডিয়ানার ৭ম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে আবারও নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট আন্দ্রে কারসন। ২০০৮ সালে বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে কংগ্রেসে আসেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত দ্বিতীয় মুসলিম সদস্য কারসন। তার আগে মিনেসোটা থেকে কিথ এলিসন প্রথম মুসলিম হিসেবে কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়েছিলেন। কারসন কংগ্রেসের গোয়েন্দাবিষয়ক স্থায়ী কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সন্ত্রাসবাদ, পাল্টা গোয়েন্দা কার্যক্রম ও নিরাপত্তা বিষয়ে কাজ করেছেন। পাশাপাশি নাগরিক অধিকার, অভিবাসন, পরিবহন ও কর্মসংস্থান নিয়েও তার ভূমিকা রয়েছে। এবারের নির্বাচনে জয়ী হয়ে কংগ্রেসে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রেখেছেন তিনি।

মুসলিমদের বাইরেও যেসব ইতিহাস তৈরি হয়েছে

১. ডেব হাল্যান্ড—যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আদিবাসী নারী গভর্নর

নিউ মেক্সিকোর গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান গ্রেগ হালকে হারিয়ে ডেমোক্র্যাট ডেব হাল্যান্ড জয়ী হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যের প্রথম আদিবাসী নারী গভর্নর হলেন তিনি। লেগুনা পুয়েবলো জনগোষ্ঠীর সদস্য হাল্যান্ড এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

২. কেইশা ল্যান্স বটমস—যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর

জর্জিয়ার গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান রিক জ্যাকসনকে হারিয়ে ডেমোক্র্যাট কেইশা ল্যান্স বটমস জয়ী হয়েছেন। তার বিজয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর নির্বাচিত হলেন তিনি। একই সঙ্গে জর্জিয়ার প্রথম নারী গভর্নরও হচ্ছেন আটলান্টার সাবেক মেয়র বটমস। এর আগে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

৩. বায়রন ডোনাল্ডস—ফ্লোরিডার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ রিপাবলিকান গভর্নর

ফ্লোরিডার গভর্নর নির্বাচনে জয় পেয়েছেন রিপাবলিকান বায়রন ডোনাল্ডস। এর মধ্য দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ রিপাবলিকান হিসেবে কোনো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচিত হলেন। তাঁর এই জয় ফ্লোরিডার রাজনীতিতে নতুন নজির তৈরি করেছে।

৪. জুলিয়ানা স্ট্র্যাটন—ইলিনয় থেকে দ্বিতীয় কৃষ্ণাঙ্গ নারী সিনেটর

ইলিনয়ের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান ডন ট্রেসিকে হারিয়ে ডেমোক্র্যাট জুলিয়ানা স্ট্র্যাটন জয়ী হয়েছেন। তিনি বিদায়ী সিনেটর ডিক ডারবিনের স্থলাভিষিক্ত হবেন। এর মধ্য দিয়ে ইলিনয় থেকে নির্বাচিত দ্বিতীয় কৃষ্ণাঙ্গ নারী সিনেটর হলেন তিনি। বর্তমান সিনেটর ট্যামি ডাকওয়ার্থের সঙ্গে স্ট্র্যাটন দায়িত্ব নিলে ইলিনয় হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অঙ্গরাজ্য, যেখান থেকে একই সময়ে দুজন ভিন্ন জাতিগত পরিচয়ের নারী সিনেটর দায়িত্ব পালন করবেন।

৫. ক্রিস পাপাস—প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী পুরুষ সিনেটর

নিউ হ্যাম্পশায়ারের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান সাবেক সিনেটর জন ই. সুনুনুকে হারিয়ে ডেমোক্র্যাট ক্রিস পাপাস জয়ী হয়েছেন। তাঁর বিজয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী পুরুষ হিসেবে নির্বাচিত হলেন তিনি। এর আগে পাপাস ২০১৮ সালে নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে প্রথম প্রকাশ্যে এলজিবিটিকিউ কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

৬. স্টেসি প্লাসকেট—যুক্তরাষ্ট্রের অধিভুক্ত অঞ্চলের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিন আইল্যান্ডসের গভর্নর নির্বাচনে জয় পেয়েছেন স্টেসি প্লাসকেট। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যের নয়, বরং দেশটির অধিভুক্ত অঞ্চলের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন।

যেসব ফল এখনো চূড়ান্ত নয়

আলাস্কায় রিপাবলিকান ড্যান সুলিভানের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডেমোক্র্যাট মেরি পেলটোলা। প্রাথমিক ভোট গণনায় তিনি এগিয়ে থাকলেও সেখানে চূড়ান্ত ফল নির্ধারণে র‍্যাঙ্কড-চয়েস ভোট গণনা পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে। জয়ী হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত দ্বিতীয় আদিবাসী নারী হতে পারেন। তবে মিনেসোটার পেগি ফ্লানাগান ইতোমধ্যে সিনেটে প্রথম আদিবাসী নারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

অন্যদিকে মিনেসোটা রাজ্যের গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট অ্যামি ক্লোবুচার জয়ী হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে রাজ্যটির প্রথম নারী গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

সামগ্রিক চিত্র

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। মুসলিমদের মধ্যে আবদুল আল-সাইয়েদের প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়া, আদম হামাওয়ির নিউ জার্সি থেকে প্রথম মুসলিম কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হওয়া এবং নাবিলা সৈয়দ ও আবের কাওয়াসের মতো নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদের জয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

একই সঙ্গে ডেব হাল্যান্ড, কেইশা ল্যান্স বটমস, বায়রন ডোনাল্ডস, জুলিয়ানা স্ট্র্যাটন ও ক্রিস পাপাসের বিজয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে কম প্রতিনিধিত্ব পাওয়া জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়ার চিত্র তুলে ধরেছে। এসব বিজয় কেবল ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সাফল্য নয়; বরং দেশটির নেতৃত্ব ও প্রতিনিধিত্বের কাঠামোতে পরিবর্তনেরও প্রতিফলন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%