শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:০৬ এম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের কাছে অতি পরিচিত একটি শব্দ ‘ঝুপড়ি’। কখনো কলার ঝুপড়ি, কখনো সমাজবিজ্ঞান ঝুপড়ি, কখনোবা লেডিস ঝুপড়ি। এসব ঝুপড়ি মূলত ক্যাম্পাসের চা-নাস্তা ও খাবারের ছোট ছোট দোকানের সমাহার। তবে শিক্ষার্থীদের কাছে এগুলো শুধু খাবারের দোকান নয়। ক্লাসের ফাঁকে কিংবা ক্লাস শেষে ঝুপড়িগুলো হয়ে ওঠে তাদের আড্ডার ঠিকানা। চায়ের চুমুকে চলে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, আবার কখনো জমে ওঠে দলবদ্ধ পড়াশোনা, গিটারের সুর কিংবা কাহন ও টেবিল চাপড়ে গানের আসর।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুম, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, শাটল ট্রেন, প্রশাসনিক ভবন কিংবা আবাসিক হলের মতো শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসজীবনের স্মৃতিকাতর অংশের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে এসব ঝুপড়ি। ক্লাস থাকুক বা না থাকুক, প্রতিদিনই কোনো না কোনো ঝুপড়িতে জমে আড্ডা।
চবিতে সবচেয়ে পরিচিত ঝুপড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে সমাজবিজ্ঞান ঝুপড়ি, কলার ঝুপড়ি ও লেডিস ঝুপড়ি। সমাজবিজ্ঞান ও কলা অনুষদের পার্শ্ববর্তী ঝুপড়িগুলোর নামকরণ হয়েছে সংশ্লিষ্ট অনুষদের নাম অনুসারে। আর মেয়েদের হলের কাছাকাছি হওয়ায় একটি ঝুপড়ির নাম হয়েছে লেডিস ঝুপড়ি।
তবে নাম শুনে এটি শুধু মেয়েদের জন্য—এমন ধারণা হওয়ার সুযোগ থাকলেও বাস্তবে লেডিস ঝুপড়ি সবার জন্যই উন্মুক্ত। বরং সন্ধ্যার পর সবচেয়ে বেশি জমে ওঠে এই ঝুপড়ি। সমাজবিজ্ঞান ও কলার ঝুপড়িতেও ক্লাসের ফাঁকে চলে আড্ডা ও গান। কখনো খেলাধুলা কিংবা রাজনৈতিক তর্কে এসব জায়গা হয়ে ওঠে যেন টকশোর মঞ্চ।
এসব ঝুপড়ির অনেক দোকানি কয়েক যুগ ধরে ব্যবসা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা ঘটনাপ্রবাহেরও সাক্ষী তারা। এমনই একজন মো. আলমগীর। তিনি সমাজবিজ্ঞান ঝুপড়িতে ২৮ বছর ধরে ব্যবসা করছেন।
আলমগীর জানান, দীর্ঘ সময়ে তার দোকানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীর স্মৃতি জড়িয়ে গেছে। বহু সাবেক শিক্ষার্থী এখনও ক্যাম্পাসে এলে ঝুপড়িতে তার সঙ্গে দেখা করতে আসেন।
লেডিস ঝুপড়ি যেন ছোট্ট এক ভ্রাম্যমাণ বাজার। এখানে মেয়েদের পোশাক, চুড়ি, স্যান্ডেল ও প্রসাধনসামগ্রীর পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন খাবারের দোকানও।
ছাত্রী হলগুলোর আশপাশে খাবারের দোকান তুলনামূলক কম থাকায় হলের খাবারের পর অনেক শিক্ষার্থীর ভরসা হয়ে ওঠে লেডিস ঝুপড়ি। এখানে পাওয়া যায় নানা ধরনের খাবার ও নাশতা।
অন্যদিকে কলার ঝুপড়ির ভর্তা-ভাতের জন্য পরিচিত মোজাম্মেলের দোকান। মোজাম্মেল বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কই তাকে এখানে ধরে রেখেছে। স্বল্প দামে খাবার বিক্রির পাশাপাশি অনেক শিক্ষার্থী খাবার খেয়ে পরে টাকা দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে জানান তিনি।
বিশেষ দিবসগুলোতে ঝুপড়িগুলো ধারণ করে অন্যরকম রূপ। পয়লা বৈশাখ, স্বাধীনতা দিবস কিংবা বিজয় দিবসে এসব এলাকায় থাকে উৎসবমুখর পরিবেশ। শিক্ষার্থীদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
সম্প্রতি চারুকলা ইনস্টিটিউট শহর থেকে মূল ক্যাম্পাসে ফিরে আসার পর কলার ঝুপড়ির আশপাশ আরও প্রাণবন্ত হয়েছে। রঙতুলির আঁচড়ে ঝুপড়ির দেয়াল, আঙিনা আর চায়ের টেবিলও যেন হয়ে উঠেছে শিল্পের অংশ।
এই তুলির আঁচড়ে যাদের হাত, তাদের একজন চারুকলার শিক্ষার্থী তানজিনা প্রমি। তিনি বলেন, ক্লাস শেষে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে প্রতিদিন এখানে আসা হয়। বিশেষ বিশেষ দিবস কিংবা উপলক্ষেও আঁকাআঁকি তো আছেই। অনেক স্মৃতিও জড়িয়ে আছে এই জায়গাটার সঙ্গে।
অর্থনীতির সাবেক শিক্ষার্থী তন্ময়ও একসময় ঝুপড়িতে গান-বাজনা করতেন। ঝুপড়ির কথা উঠতেই তিনিও স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। শিক্ষাজীবনের নানা আড্ডা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এসব জায়গার সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন তিনি।
ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে ওঠা ঝুপড়ির দোকানগুলো যুগের পর যুগ শিক্ষার্থীদের আড্ডা, খাবার ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মিটিয়ে আসছে। একই সঙ্গে এসব ঝুপড়িকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বহু মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ। ফলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে ঝুপড়ি শুধু চা-নাস্তার দোকান নয়, বরং ক্যাম্পাসজীবনের স্মৃতি ও সংস্কৃতিরও একটি অংশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যে অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এই পূর্বাভাস প্রদান করা হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে বাতাস ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে প্রবাহিত হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে।
সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৩ শতাংশ। বৃহস্পতিবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল এবং আজ শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস। প্রতিবছর এই দিবসটি পালিত হয়, যাতে ফার্মাসিস্টদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরা হয়, যা ওষুধের নিরাপদ ব্যবহার, রোগ প্রতিরোধ, চিকিৎসাসেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহায়ক।
এবারের বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবসের প্রতিপাদ্য হল— ‘সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য ফার্মাসিস্টদের ক্ষমতায়ন’। এবারের দিবসে ফার্মাসিস্টদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা, স্বীকৃতি এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থায় যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা পরিবর্তিত স্বাস্থ্য চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলবে।
বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা জনসংখ্যার পরিবর্তন, অসংক্রামক রোগের বিস্তার, প্রযুক্তির পরিবর্তন এবং জলবায়ুজনিত নানা চ্যালেঞ্জের কারণে বদলে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশন ফার্মাসিস্টদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।
ফার্মাসিস্টরা শুধুমাত্র ওষুধ সরবরাহের কাজ করেন না। তারা ওষুধের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে পরামর্শ প্রদান, রোগ প্রতিরোধে সহায়তা, রোগীদের স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য প্রদান, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং নতুন ওষুধ নিয়ে গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজেও জড়িত।
আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশনের সভাপতি পল সিনক্লেয়ার বলেছেন, "পরিবর্তিত স্বাস্থ্য চাহিদা মোকাবিলায় ফার্মাসিস্টদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা, স্বীকৃতি ও কাজের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।" তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ দেওয়া হলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও সহজলভ্য, কার্যকর ও টেকসই হতে পারে।
এবারের দিবসে সরকার, নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্বাস্থ্যবীমা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের কাছে ফার্মাসিস্টদের জন্য সহায়ক নীতি তৈরির পাশাপাশি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থায় তাদের আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যেভাবে শুরু বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস
বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠার দিনকে স্মরণ করে পালিত হয়। ১৯১২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশনের পরিষদ ২৫ সেপ্টেম্বরকে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।
২০২০ সাল থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ফার্মেসি সপ্তাহও পালন করা হচ্ছে। এই সপ্তাহের মাধ্যমে ফার্মাসিস্ট ছাড়াও ওষুধবিজ্ঞানী, ফার্মেসি প্রযুক্তিবিদসহ ফার্মেসি খাতের বিভিন্ন পেশাজীবীর অবদান তুলে ধরা হয়।
স্বাস্থ্যসেবায় ফার্মাসিস্টদের ভূমিকা
ফার্মাসিস্টরা মানুষের প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ওষুধের নিরাপদ ও সঠিক ব্যবহারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তারা রোগীদের ওষুধ ব্যবহারের নিয়ম বোঝানো, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ দেওয়া এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করেন।
এছাড়া, অ্যান্টিবায়োটিকের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ এবং জনস্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন কর্মসূচিতে ফার্মাসিস্টরা কাজ করেন।
বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস তাই শুধুমাত্র একটি পেশাকে সম্মান জানানোর দিন নয়। এটি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ফার্মাসিস্টদের অবদান আরও দৃশ্যমান করার এবং ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য চাহিদা মোকাবিলায় তাদের দক্ষতা ও ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।
সূত্র: আন্তর্জাতিক ঔষধ ফেডারেশন (এফআইপি), পেস হসপিটাল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এক সপ্তাহ ধরে চলা ওঠানামার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা এবং হুথি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবে হামলার বিষয়টি তেলের বাজারে প্রভাব ফেলেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) রাত ১২টা ৩২ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭৪ সেন্ট বা দশমিক ৬৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৮৫ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৮১ সেন্ট বা দশমিক ৮৬ শতাংশ কমে ৯৩ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার তেলের বাজারে উল্লেখযোগ্য অস্থিরতা দেখা দেয়। ওই দিন দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। দিনের শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
ব্রেন্টের দাম ১৫ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে লেনদেন শেষ করেছে। অন্যদিকে, আগের ছয় কার্যদিবসে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১৩ শতাংশ কমে গেছে। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ কমেছে, তবে একই সময়ে ব্রেন্টের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ০৯ শতাংশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুমার দিন, যা সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে পরিচিত, উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য একটি সাপ্তাহিক ঈদ এবং অফুরন্ত বরকতের দিন। কুরআন ও হাদিসে এ দিনের অসীম ফজিলত ও মর্যাদা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, সময়ের পরিবর্তন এবং যান্ত্রিক ব্যস্ততার কারণে, আজকের দিনে অনেকের কাছে জুমার দিনটি শুধুমাত্র দু’রাকাত ফরজ নামাজ আদায় ও গোসলের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। অথচ, রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দিনটিকে কেন্দ্র করে কিছু বিশেষ আমল ও সুন্নতের নির্দেশনা দিয়েছেন, যা আজ প্রায় ভুলে যাওয়া হয়েছে। নিচে দলিলের আলোকে জুমার সেই উপেক্ষিত ও গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতগুলো তুলে ধরা হলো—
১. ফজরের নামাজে বিশেষ দুটি সুরা তেলাওয়াত
জুমার দিনের শুরু হয় ফজরের নামাজ দিয়ে। এ দিনের ফজরের জামাতে দুটি বিশেষ সুরা তেলাওয়াত করা সুন্নত, যা বর্তমানে অনেক স্থানে অনুপস্থিত। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত—
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقْرَأُ فِي فَجْرِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ الم تَنْزِيلُ (السَّجْدَةَ) وَهَلْ أَتَى عَلَى الإِنْسَانِ
‘রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনে ফজরের নামাজে ‘সুরা আস-সাজদা’ এবং ‘সুরা আল-ইনসান’ তেলাওয়াত করতেন। (আবু দাউদ ১০৭৪)
২. আগেভাগে মসজিদে যাওয়া
খুতবা শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে মসজিদে পৌঁছানো বর্তমান সময়ের একটি সাধারণ অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অথচ, জুমার দিন যত আগে মসজিদে যাওয়া যায়, এর সওয়াব তত বেশি। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
مَن اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ غُسْلَ الْجَنَابَةِ ثُمَّ رَاحَ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَدَنَةً...
‘জুমার দিন মসজিদের দরজায় ফেরেশতারা অবস্থান করেন এবং ক্রমানুসারে আগে আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকেন। যে সবার আগে আসে সে ওই ব্যক্তির মতো, যে একটি মোটাতাজা উট কুরবানি করে। এরপর যে আসে সে ওই ব্যক্তি, যে একটি গাভী কুরবানি করে। অতঃপর মেষ কুরবানি করার ন্যায়। এরপর আগমনকারী ব্যক্তি মুরগি দানকারীর ন্যায়। তারপর আগমনকারী ব্যক্তি একটি ডিম দানকারীর ন্যায়। এরপর ইমাম যখন বের হন, তখন ফেরেশতাগণ তাদের লেখা বন্ধ করে দেন এবং মনোযোগ সহকারে খুতবা শুনতে থাকেন।’ (বুখারি ৯২৯)
৩. পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া
যানবাহনের সহজলভ্যতার যুগে পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়ার অভ্যাস প্রায় উঠে গেছে। অথচ, সুযোগ থাকলে পায়ে হেঁটে জুমার নামাজে যাওয়ার রয়েছে বিশেষ পুরস্কার। হজরত আউস ইবনে আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি—
مَنْ غَسَّلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَاغْتَسَلَ ثُمَّ بَكَّرَ وَابْتَكَرَ وَمَشَى وَلَمْ يَرْكَبْ...
‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে পায়ে হেঁটে মসজিদে আসবে, ইমামের কাছাকাছি বসবে, এরপর মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনবে এবং খুতবার সময় কোনো অনর্থক কথা বলবে না, সে মসজিদে আসার প্রতি কদমে এক বছর রোজা ও এক বছর রাতের ইবাদতের সওয়াব পাবে।’ (আবু দাউদ ৩৪৫)
৪. মিসওয়াক ও সুগন্ধি ব্যবহার
আজকাল সাবান বা টুথপেস্ট ব্যবহার করা হলেও ‘মিসওয়াক’ একটি স্বতন্ত্র ও অত্যন্ত গুরুত্ববহ সুন্নত, যা অনেকে অবহেলা করেন। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
غُسْلُ يَوْمِ الْجُمُعَةِ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ وَسِسَاكٌ وَيَمَسُّ مِنْ الطِّيبِ مَا قَدَرَ عَلَيْهِ
‘জুমার দিন প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির গোসল ও মিসওয়াক করা কর্তব্য এবং সামর্থ্য থাকলে সে যেন সুগন্ধি ব্যবহার করে।’ (মুসলিম ৮৪৬)
৫. বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা
জুমার দিনে প্রিয়নবি (সা.)-এর ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করা একটি বিশেষ সুন্নত আমল, যা ব্যস্ততার কারণে অনেকে ভুলে যান। হজরত আউস ইবনে আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ... فَأَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنَ الصَّلَاةِ فِيهِ
‘জুমার দিন তোমরা আমার ওপর বেশি করে দরুদ পড়ো। কারণ, তোমাদের দরুদগুলো আমার কাছে পেশ করা হয়।’ সাহাবিরা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের দরুদ কীভাবে আপনার কাছে উপস্থাপন করা হবে, অথচ আপনার দেহ তো মাটির সাথে মিশে যাবে? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা নবীদের দেহ ভক্ষণ করা মাটির জন্য হারাম করে দিয়েছেন।’ (আবু দাউদ ১০৪৭)
৬. সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা
জুমার দিনের অন্যতম বরকতময় আমল হলো সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
مَنْ قَرَأَ سُورَةَ الْكَهْفِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَضَاءَ لَهُ مِنَ النَّوْرِ مَا بَيْنَ الْجُمُعَتَيْنِ
‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় নূরে আলোকিত হয়ে থাকবে।’ (বাইহাকি ৫৭৯৩)
৭. খুতবার সময় সম্পূর্ণ নীরব থাকা
খুতবার সময় সম্পূর্ণ চুপ থাকা ওয়াজিব। কেবল নিজে চুপ থাকাই যথেষ্ট নয়, পাশের কাউকে চুপ করতে বলাও এই আদবের পরিপন্থি। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
إِذَا قُلْتَ لِصَاحِبِكَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَنْصِتْ وَالْامامُ يَخْطُبُ فَقَدْ لَغَوْتَ
‘জুমার দিন ইমাম যখন খুতবা দেবেন, তখন তুমি যদি তোমার পাশের সঙ্গীকে বলো 'চুপ করো', তবে তুমি একটি অনর্থক বা লঘু কাজ করলে।’ (বুখারি ৯৩৪)
এমনকি খুতবার সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, ফিসফিস করে কথা বলা ও অমনোযোগী থাকাও এই সুন্নতের সম্পূর্ণ পরিপন্থি।
৮. দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত অনুসন্ধান করা
জুমার দিনে এমন একটি অমূল্য মুহূর্ত রয়েছে, যে সময়ে বান্দা আল্লাহর কাছে যা চায়, তা-ই কবুল করা হয়। এ মহামূল্যবান সময়ের বিষয়ে অধিকাংশ মানুষ উদাসীন থাকে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
ذَكَرَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَقَالَ فِيهِ سَاعَةٌ لَا يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي يَسْأَلُ اللَّهَ شَيْئًا إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ
‘জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, কোনো মুসলিম বান্দা যদি সেই সময়ে নামাজরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে কিছু চায়, তবে তিনি তাকে অবশ্যই তা দান করেন।’ (বুখারি ৯৩৫)
ইসলামিক স্কলারদের মতে, এ মুহূর্তটি প্রধানত আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নিহিত থাকে।
জুমার দিনটি কেবল একটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন বা গতানুগতিক আনুষ্ঠানিকতার নাম নয়; এটি ইবাদত, তাওবা, জিকির ও আত্মশুদ্ধির এক সুবর্ণ সুযোগ। আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া এই বরকতময় সুন্নতগুলো পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে আমরা যেমন প্রচুর সওয়াব অর্জন করতে পারি, তেমনি প্রিয় নবীজি (সা.)-এর পবিত্র আদর্শকে জীবন্ত রাখতে পারি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জুমার দিনের প্রতিটি সুন্নতের ওপর আমল করার এবং এর পূর্ণ বরকত লাভ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ