শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৩৮ এম
জুমার দিন, যা সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে পরিচিত, উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য একটি সাপ্তাহিক ঈদ এবং অফুরন্ত বরকতের দিন। কুরআন ও হাদিসে এ দিনের অসীম ফজিলত ও মর্যাদা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, সময়ের পরিবর্তন এবং যান্ত্রিক ব্যস্ততার কারণে, আজকের দিনে অনেকের কাছে জুমার দিনটি শুধুমাত্র দু’রাকাত ফরজ নামাজ আদায় ও গোসলের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। অথচ, রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দিনটিকে কেন্দ্র করে কিছু বিশেষ আমল ও সুন্নতের নির্দেশনা দিয়েছেন, যা আজ প্রায় ভুলে যাওয়া হয়েছে। নিচে দলিলের আলোকে জুমার সেই উপেক্ষিত ও গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতগুলো তুলে ধরা হলো—
১. ফজরের নামাজে বিশেষ দুটি সুরা তেলাওয়াত
জুমার দিনের শুরু হয় ফজরের নামাজ দিয়ে। এ দিনের ফজরের জামাতে দুটি বিশেষ সুরা তেলাওয়াত করা সুন্নত, যা বর্তমানে অনেক স্থানে অনুপস্থিত। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত—
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقْرَأُ فِي فَجْرِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ الم تَنْزِيلُ (السَّجْدَةَ) وَهَلْ أَتَى عَلَى الإِنْسَانِ
‘রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনে ফজরের নামাজে ‘সুরা আস-সাজদা’ এবং ‘সুরা আল-ইনসান’ তেলাওয়াত করতেন। (আবু দাউদ ১০৭৪)
২. আগেভাগে মসজিদে যাওয়া
খুতবা শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে মসজিদে পৌঁছানো বর্তমান সময়ের একটি সাধারণ অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অথচ, জুমার দিন যত আগে মসজিদে যাওয়া যায়, এর সওয়াব তত বেশি। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
مَن اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ غُسْلَ الْجَنَابَةِ ثُمَّ رَاحَ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَدَنَةً...
‘জুমার দিন মসজিদের দরজায় ফেরেশতারা অবস্থান করেন এবং ক্রমানুসারে আগে আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকেন। যে সবার আগে আসে সে ওই ব্যক্তির মতো, যে একটি মোটাতাজা উট কুরবানি করে। এরপর যে আসে সে ওই ব্যক্তি, যে একটি গাভী কুরবানি করে। অতঃপর মেষ কুরবানি করার ন্যায়। এরপর আগমনকারী ব্যক্তি মুরগি দানকারীর ন্যায়। তারপর আগমনকারী ব্যক্তি একটি ডিম দানকারীর ন্যায়। এরপর ইমাম যখন বের হন, তখন ফেরেশতাগণ তাদের লেখা বন্ধ করে দেন এবং মনোযোগ সহকারে খুতবা শুনতে থাকেন।’ (বুখারি ৯২৯)
৩. পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া
যানবাহনের সহজলভ্যতার যুগে পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়ার অভ্যাস প্রায় উঠে গেছে। অথচ, সুযোগ থাকলে পায়ে হেঁটে জুমার নামাজে যাওয়ার রয়েছে বিশেষ পুরস্কার। হজরত আউস ইবনে আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি—
مَنْ غَسَّلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَاغْتَسَلَ ثُمَّ بَكَّرَ وَابْتَكَرَ وَمَشَى وَلَمْ يَرْكَبْ...
‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে পায়ে হেঁটে মসজিদে আসবে, ইমামের কাছাকাছি বসবে, এরপর মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনবে এবং খুতবার সময় কোনো অনর্থক কথা বলবে না, সে মসজিদে আসার প্রতি কদমে এক বছর রোজা ও এক বছর রাতের ইবাদতের সওয়াব পাবে।’ (আবু দাউদ ৩৪৫)
৪. মিসওয়াক ও সুগন্ধি ব্যবহার
আজকাল সাবান বা টুথপেস্ট ব্যবহার করা হলেও ‘মিসওয়াক’ একটি স্বতন্ত্র ও অত্যন্ত গুরুত্ববহ সুন্নত, যা অনেকে অবহেলা করেন। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
غُسْلُ يَوْمِ الْجُمُعَةِ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ وَسِسَاكٌ وَيَمَسُّ مِنْ الطِّيبِ مَا قَدَرَ عَلَيْهِ
‘জুমার দিন প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির গোসল ও মিসওয়াক করা কর্তব্য এবং সামর্থ্য থাকলে সে যেন সুগন্ধি ব্যবহার করে।’ (মুসলিম ৮৪৬)
৫. বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা
জুমার দিনে প্রিয়নবি (সা.)-এর ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করা একটি বিশেষ সুন্নত আমল, যা ব্যস্ততার কারণে অনেকে ভুলে যান। হজরত আউস ইবনে আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ... فَأَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنَ الصَّلَاةِ فِيهِ
‘জুমার দিন তোমরা আমার ওপর বেশি করে দরুদ পড়ো। কারণ, তোমাদের দরুদগুলো আমার কাছে পেশ করা হয়।’ সাহাবিরা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের দরুদ কীভাবে আপনার কাছে উপস্থাপন করা হবে, অথচ আপনার দেহ তো মাটির সাথে মিশে যাবে? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা নবীদের দেহ ভক্ষণ করা মাটির জন্য হারাম করে দিয়েছেন।’ (আবু দাউদ ১০৪৭)
৬. সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা
জুমার দিনের অন্যতম বরকতময় আমল হলো সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
مَنْ قَرَأَ سُورَةَ الْكَهْفِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَضَاءَ لَهُ مِنَ النَّوْرِ مَا بَيْنَ الْجُمُعَتَيْنِ
‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় নূরে আলোকিত হয়ে থাকবে।’ (বাইহাকি ৫৭৯৩)
৭. খুতবার সময় সম্পূর্ণ নীরব থাকা
খুতবার সময় সম্পূর্ণ চুপ থাকা ওয়াজিব। কেবল নিজে চুপ থাকাই যথেষ্ট নয়, পাশের কাউকে চুপ করতে বলাও এই আদবের পরিপন্থি। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
إِذَا قُلْتَ لِصَاحِبِكَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَنْصِتْ وَالْامامُ يَخْطُبُ فَقَدْ لَغَوْتَ
‘জুমার দিন ইমাম যখন খুতবা দেবেন, তখন তুমি যদি তোমার পাশের সঙ্গীকে বলো 'চুপ করো', তবে তুমি একটি অনর্থক বা লঘু কাজ করলে।’ (বুখারি ৯৩৪)
এমনকি খুতবার সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, ফিসফিস করে কথা বলা ও অমনোযোগী থাকাও এই সুন্নতের সম্পূর্ণ পরিপন্থি।
৮. দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত অনুসন্ধান করা
জুমার দিনে এমন একটি অমূল্য মুহূর্ত রয়েছে, যে সময়ে বান্দা আল্লাহর কাছে যা চায়, তা-ই কবুল করা হয়। এ মহামূল্যবান সময়ের বিষয়ে অধিকাংশ মানুষ উদাসীন থাকে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
ذَكَرَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَقَالَ فِيهِ سَاعَةٌ لَا يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي يَسْأَلُ اللَّهَ شَيْئًا إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ
‘জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, কোনো মুসলিম বান্দা যদি সেই সময়ে নামাজরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে কিছু চায়, তবে তিনি তাকে অবশ্যই তা দান করেন।’ (বুখারি ৯৩৫)
ইসলামিক স্কলারদের মতে, এ মুহূর্তটি প্রধানত আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নিহিত থাকে।
জুমার দিনটি কেবল একটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন বা গতানুগতিক আনুষ্ঠানিকতার নাম নয়; এটি ইবাদত, তাওবা, জিকির ও আত্মশুদ্ধির এক সুবর্ণ সুযোগ। আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া এই বরকতময় সুন্নতগুলো পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে আমরা যেমন প্রচুর সওয়াব অর্জন করতে পারি, তেমনি প্রিয় নবীজি (সা.)-এর পবিত্র আদর্শকে জীবন্ত রাখতে পারি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জুমার দিনের প্রতিটি সুন্নতের ওপর আমল করার এবং এর পূর্ণ বরকত লাভ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এতে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। সেদিন সকাল ১০টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। আজ শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নির্ধারিত ওই দামেই বিক্রি হবে স্বর্ণ।
নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা।
বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী, মজুরি প্রযোজ্য হবে। তবে স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।
বাজুস আরও জানিয়েছে, পুরোনো অলংকার এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে ১২ শতাংশ এবং পুরোনো অলংকার পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শীর্ষ নেতা, বিজ্ঞানী ও সামরিক কমান্ডারদের ‘হত্যার’ পরও ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যেই আলোচনা ও সমঝোতা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যা আমাদের ন্যায্য অধিকার, আমরা সেটিই চাই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা কখনো এর চেয়ে বেশি কিছু চাইনি। এই ভিত্তির ওপরই আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাই, যদি অপর পক্ষও এতে সম্মত হয়।’
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের কোনো সমস্যা নেই। আমরা আপনাদের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছিলাম।’ এ সময় তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা উল্লেখ করেন।
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং তার ভিত্তিতেই আমরা এগিয়ে যেতে চেয়েছিলাম, এখনো চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘চুক্তির কাঠামো নিয়ে সমঝোতা হয়েছিল। আমরা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করিনি; এটি খোলা ছিল। এটি বন্ধ করার পক্ষে কোনো আইনি ভিত্তি বা কাঠামোও ছিল না।’
নিজ দেশের ওপর সামরিক হামলার সমালোচনা করে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘তারা আমাদের ওপর হামলা করেছে। তারা আমাদের সম্মানিত সর্বোচ্চ নেতা, বিজ্ঞানী, সামরিক কমান্ডার ও সরকারি কর্মকর্তাদের হত্যা করেছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। খবর আনাদোলু এজেন্সির
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইডলাইনে ‘পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো’ নিয়ে মতবিনিময় করেন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দুই নেতা। একইসঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেন তারা।
বৈঠক শেষে এ বিষয়ে একটি বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়েছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন তারেক রহমান ও শেহবাজ শরিফ। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দুই নেতা।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে পাকিস্তানের ‘দৃঢ় অঙ্গীকার’ পুনর্ব্যক্ত করেন শেহবাজ শরিফ।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, শেহবাজ শরিফ দুই দেশের সম্পর্কের ইতিবাচক গতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও জোরদারে তার সরকারের আগ্রহের কথা জানান। এ সময় বাংলাদেশের সরকারপ্রধান তারেক রহমানও একই ধরনের মনোভাব প্রকাশ করেন।
এছাড়া, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও দুই নেতা মতবিনিময় করেন। বিশেষ করে জাতিসংঘসহ বহুপক্ষীয় বিভিন্ন ফোরামে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় অব্যাহত রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন তারা।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে বৈশ্বিক এই সংস্থাটির লক্ষ্য এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের উদ্যোগের প্রতি পাকিস্তানের সমর্থনের কথাও জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামে শুক্রবার বা জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতময়। সপ্তাহের অন্য দিনগুলোর তুলনায় এ দিনের রয়েছে বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও ফজিলত। এ দিনে নামাজ, দোয়া ও বিভিন্ন ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ রয়েছে।
আরবিতে শুক্রবারকে বলা হয় ‘ইয়াওমুল জুমুআহ’। পবিত্র কোরআনেও এ দিনের নাম ‘জুমুআহ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিসে জুমার দিনের মর্যাদা ও বিশেষ কিছু আমলের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য বিশেষ দিন
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, পূর্ববর্তী উম্মতদের জন্যও বিশেষ দিন ছিল। ইহুদিদের জন্য শনিবার এবং খ্রিস্টানদের জন্য রবিবার নির্ধারিত ছিল। আর উম্মতে মুহাম্মদীকে আল্লাহ জুমার দিনের মাধ্যমে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন।
— সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৮৩
জুমার দিনে মৃত্যুর বিশেষ ফজিলত
হাদিসে জুমার দিন বা রাতে কোনো মুসলমানের মৃত্যু হলে তার জন্য বিশেষ ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত, জুমার দিন বা রাতে কোনো মুসলিম মৃত্যুবরণ করলে আল্লাহ তাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করেন।
— জামে তিরমিজি, হাদিস: ১০৭৪
দুই জুমার মধ্যবর্তী গুনাহ মাফ
নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও জুমার নামাজ আদায় এবং কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার মাধ্যমে দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের সগিরা গুনাহ মাফের ফজিলত লাভ করা যায়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা এবং এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান—মাঝের সময়ের গুনাহের কাফফারা হয়, যদি বড় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা হয়।
— সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৩৩
জুমার দিনের পাঁচ বিশেষ বৈশিষ্ট্য
রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের কয়েকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছেন। হাদিস অনুযায়ী—
১. এ দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে।
২. এ দিনেই তাঁকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে।
৩. এ দিনেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
৪. এ দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে বৈধ কিছু চাইলে তিনি তা দান করেন।
৫. এ দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।
— সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৮৪
জুমার দিনে সুরা কাহফ পাঠ
জুমার দিনের অন্যতম আমল হিসেবে সুরা কাহফ তিলাওয়াতের কথা বর্ণিত হয়েছে। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় নূর দ্বারা আলোকিত থাকবে।
— শুআবুল ঈমান, হাদিস: ৫৯৯৬
বেশি বেশি দোয়া ও ইবাদত
জুমার দিনে দোয়া কবুলের একটি বিশেষ সময় রয়েছে। তাই এ দিনে বেশি বেশি দোয়া করা, আল্লাহকে স্মরণ করা এবং নফল ইবাদতে সময় দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
জুমার নামাজের পাশাপাশি সুরা কাহফ তিলাওয়াত, দোয়া ও অন্যান্য নেক আমলের মাধ্যমে একজন মুসলমান এই বরকতময় দিনকে অর্থবহ করে তুলতে পারেন।
জুমার দিনের মর্যাদা ও ফজিলত সম্পর্কে সচেতন হয়ে প্রত্যেক মুসলমানের উচিত সামর্থ্য অনুযায়ী এ দিনে বেশি বেশি ইবাদত করা এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ