ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পরোয়ানা হাতে পেলেই গ্রেপ্তার নয়, সত্যতা যাচাই করতে হবে


পরোয়ানা হাতে পেলেই গ্রেপ্তার নয়, সত্যতা যাচাই করতে হবে

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা হাতে পেলেই কোনো নাগরিককে গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা যাবে না, এমন নির্দেশনা এসেছে। বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম এবং বিচারপতি মুরাদ-এ-মওলা সোহেলের নেতৃত্বে হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তারা এই রায় দেন, যা ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মাধ্যমে নাগরিকদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধে করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার পূর্বে পুলিশের কেন্দ্রীয় ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থেকে এর সত্যতা যাচাই করা আবশ্যক। একই সঙ্গে, নালিশি মামলা দায়েরের সময় বাদী ও আইনজীবীর পরিচয় নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালতের এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য বিষয়টি পরিপত্র আকারে জারি করে তা সব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠাতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, যেকোনো নালিশি মামলা দায়েরের সময় বাদী ও আইনজীবীর পরিচয় নিশ্চিত করতে বাদীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) অনুলিপি এবং আইনজীবীর পরিচয়পত্র মামলার সঙ্গে সংযুক্ত রাখা নিশ্চিত করতে জেলা জজ, মহানগর জজ, সিজিএম ও সিএমএমসহ সব নিম্ন আদালতের বিচারকদের কাছে নির্দেশনা পাঠাতে হবে।

আরও পড়ুন: বিএনপি জুলাইকে ধারণ করছে, জনগণের সমর্থন নিয়ে চলছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

আদালত উল্লেখ করেছে, যেকোনো নাগরিককে গ্রেপ্তার করতে হলে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান অনুসরণ করা আবশ্যক, অন্যথায় আইনের ব্যত্যয় ঘটবে। রায়ে বলা হয়েছে, মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত প্রয়োজন, যাতে আদালতের মাধ্যমে মানুষ হয়রানির শিকার না হয়। কারণ, এতে নাগরিকের যে ক্ষতি হয়, তা পূরণ করা সম্ভব নয়।

ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে গ্রেপ্তার ও হয়রানির বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে রিট আবেদনটি করেন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জে আর খান রবিন।

রায়ের পর মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, কোনো পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আগে কেন্দ্রীয় ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থেকে এর সত্যতা যাচাই করবেন। যাচাইয়ের পরেই গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এ নির্দেশনা উল্লেখ করে সার্কুলার জারি করে সব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠাতে আইজিপিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে দেশের সব নিম্ন আদালতের বিচারকের কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠাতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের দ্রুত শুনানির আবেদন আপিল বিভাগে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হবিগঞ্জের সোনাই নদীতে অবৈধ বালু তোলা অব্যাহত, প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৪ পি.এম


হবিগঞ্জের সোনাই নদীতে অবৈধ বালু তোলা অব্যাহত, প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব

হবিগঞ্জের মাধবপুরের সোনাই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এর ফলে কৃষিজমিতে সেচের জন্য আট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাবার বাঁধের ক্ষতি হতে পারে।

এলাকাবাসীরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘকাল ধরে সিলিকা বালু অবৈধভাবে তুলে বিক্রি করা হচ্ছে, কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তাদের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের, রাবার বাঁধ পরিচালনা কমিটির কিছু সদস্য এবং স্থানীয় প্রশাসনের অসৎ কর্মচারীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সিন্ডিকেট সোনাই নদীর মূল্যবান সিলিকা বালু লুটের কাজে লিপ্ত রয়েছে।

সরকারি কোষাগারের রাজস্বের পরিবর্তে এই সিন্ডিকেট নিজেদের পকেট ভারি করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সোনাই নদীর দুই পাশে বোরহানপুর, ভবানীপুর, দুর্লভপুর, আফজলপুর ও বহরা; চৌমুহনী কোয়ারির কাশিমপুর, অলিপুর, আলাবক্সপুর, মনোহরপুর, মঙ্গলপুর, গাজীপুর ও আশ্রবপুর থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। এসব বালু ট্রাক ও ট্রাক্টরে করে বিক্রি করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক কর্মকর্তারা অবৈধ বালু তোলার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে গেলে সেই খবর আগেভাগে সিন্ডিকেটের কাছে পৌঁছে যায়। খবর পেয়ে অভিযুক্তরা বড় বড় স্তূপ ও নষ্ট মেশিনগুলো রেখে ভালো ড্রেজার মেশিন ও বালু পরিবহনের গাড়ি নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে সোনাই নদী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই সময় বেশ কয়েকটি মেশিন ও পাইপ ধ্বংস করা হয়। তবে অভিযানের পর রাত থেকেই নদীর দুইপারে রাখা লাখ লাখ ঘনফুট বালু পুনরায় বিক্রি শুরু হয়।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, ‘সুযোগ পেলেই অবৈধভাবে বালু তোলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করি। এসিল্যান্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদসহ লোকবল কম থাকায় পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।’

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ বলেছেন, সিলিকা বালুর বিষয়ে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। বিষয়টি খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক কাজী জিয়াউল বাসেত জানিয়েছেন, আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট যাবেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সহযোগিতায় অবৈধভাবে বালু তোলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার নতুন প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৫ পি.এম


ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার নতুন প্রস্তাব

ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ফ্রান্স সরকার ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য নতুন একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সোমবার এ তথ্য জানান, যখন দেশটির সর্বোচ্চ সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ পূর্ববর্তী প্রস্তাবটি বাতিল করে।

আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে ফ্রান্সের সাংবিধানিক পরিষদ পূর্বের আইনটি বাতিল করেছে। পরিষদ জানায়, আইনটির একটি অংশ ব্যক্তিদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ করছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি প্যারিস থেকে এ খবরটি প্রকাশ করেছে।

মাখোঁ সোমবার এক্স-এ লিখেছেন, ‘কঠোর কৌশলগত কাজের পর সরকার আজ নতুন খসড়াটি ইউরোপীয় কমিশনকে অবহিত করছে।’

এই অবহিতকরণটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যে, প্রস্তাবিত আইনটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন অনুযায়ী কি না।

শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা মাখোঁর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি চান, আগামী বছর তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হোক।

তিনি একই ধরনের আইন পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নে চালুর জন্যও আহ্বান জানিয়েছেন।

ইইউর প্রধান উরসুলা ফন ডার লিয়েন চলতি সপ্তাহে ব্রাসেলসে শিশুদের জন্য পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য দেবেন।

বিশ্বের আরও অনেক দেশ শিশুদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সতর্কতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে শিশুদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদাবাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জনগণকে সাথে নিয়ে কাজ করতে হবে: জি কে গউছ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৫ পি.এম


চাঁদাবাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জনগণকে সাথে নিয়ে কাজ করতে হবে: জি কে গউছ

সুনামগঞ্জ, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সুনামগঞ্জ জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা, উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে আজ একটি সভা আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব জি কে গউছ।

তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি উন্নয়নমূলক কাজে সহযোগিতা করতে হলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। সকল প্রকার চাঁদাবাজি বন্ধে, মাদক, চুরি, চোরাচালান দমনে প্রয়োজনে জনগণকে সাথে নিয়ে দাঁড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কৃষি, সমাজসেবা, বন বিভাগ, মৎস্য অধিদপ্তরসহ সকল সরকারি অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য আহ্বান জানান। জেলা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

আসন্ন দূর্গাপুজাকে যেন কেউ ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, সে দিকে নজর দিতেও তিনি পরামর্শ দেন।

সোমবার দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। সভাটি সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুনজিত কুমার চন্দ।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ -৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ, সুনামগঞ্জ -৪ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ -৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, সুনামগঞ্জ -১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন, পিপিএম, ২৮ বর্ডার গার্ড সুনামগঞ্জ এর অধিনায়ক এ কে এম জাকারিয়া কাদির, স্থানীয় সরকার সুনামগঞ্জের উপ-পরিচালক অসীম চন্দ্র বনিক, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আলী আশরাফ সোহাগ, সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ, পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. মল্লিক মঈন উদ্দিন সুহেল, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. শাহাদত হোসেন প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে বিক্ষোভ মিছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৬ পি.এম


পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে বিক্ষোভ মিছিল

পুলিশের কড়া নজরদারি ও বাধাবিপত্তি উপেক্ষা করে বন্দর অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক ও প্রধান স্থাপনা নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটি এবং চিটাগং কন্টেইনার টার্মিনাল সিসিটি বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দীর্ঘ মেয়াদি ইজারা চুক্তিতে ছেড়ে দেওয়ার পাঁয়তারার বিরুদ্ধে বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রামের ডাকে আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন বারিক বিল্ডিং মোড়ে সমাবেশ এবং বন্দর অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।

এতে চট্টগ্রাম বন্দর শ্রমিক কর্মচারী, রাজনৈতিক, সামাজিক, ছাত্র, পেশাজীবি সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, "চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি সিসিটি প্রতিদিন সোনার ডিম পাড়া হাঁস। এই মূল্যবান হাঁসকে গলাটিপে মেরে ফায়দা লুটের জন্য একটি চক্রান্তকারী সিন্ডিকেট উঠেপড়ে লেগেছে। দেশের জনগণ শ্রমিক কর্মচারীদের সাথে নিয়ে একযোগে এসব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে। জনগণের সম্পদ বন্দর সম্পদ রক্ষায় আন্দোলন আরও জোরালো করা হবে।"

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে উক্ত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রাম।

দুপুর নাগাদ চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন নগরীর বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে বন্দর অভিমুখে এ বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিল শুরুর আগে বারিক বিল্ডিং মোড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের জোরালো দাবি জানান।

বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রামের আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদারের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন, সহসম্পাদক ইব্রাহীম ফরাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান, ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, ন্যাপ নেতা মিটুন দাশ, চা বাগান শ্রমিক নেতা প্রদীপ দাশ, বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রহিম, কমিউনিটি সেন্টার ও ডেকোরেশন কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. পারভেজ, ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশ (ইনসাব) নেতা দেলোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, "চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এই বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই দেশের স্বার্থে হতে পারে না। বন্দরের সক্ষমতা ও পরিচালনার সঙ্গে শ্রমিকদের স্বার্থও জড়িত। তাই এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার আগে দেশের স্বার্থ, শ্রমিকদের অধিকার এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।"

তারা আরও বলেন, "চট্টগ্রাম বন্দরের সম্পদ ও অবকাঠামো জনগণের সম্পদ। এসব সম্পদ দীর্ঘমেয়াদি ইজারার মাধ্যমে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে শ্রমিক ও জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।"

জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন বলেন, "চট্টগ্রাম বন্দর শুধু একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের অর্থনীতি, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এনসিটি ও সিসিটি পরিচালনার নামে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া হলে ভবিষ্যতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।"

তিনি বলেন, "দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় বন্দর পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। বন্দরের আয় ও সক্ষমতা বৃদ্ধির নামে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়, যাতে শেষ পর্যন্ত দেশের জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে।"

শ্রমিকদলের নেতা সাবেক বন্দর সিবিএ সেক্রেটারি কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, "স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নেওয়া জনস্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সুযোগ নেই। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এই বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল এনসিটি ও সিসিটি বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতে দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়া দেশের জনগণ মেনে নেবে না।"

তিনি আরও বলেন, "বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো, আধুনিকায়ন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার নামে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে দেওয়া কোনো সমাধান হতে পারে না। বরং বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সংযোজন এবং দক্ষ জনবল নিয়োগের মাধ্যমে বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব।"

এনসিটি ও সিসিটি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এসব টার্মিনাল ইজারা দেওয়া হলে রাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে। একই সঙ্গে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মসংস্থান, চাকরির নিরাপত্তা ও অধিকারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।

সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারী শ্রমিক জনতা 'গো ব্যাক ডিপি ওয়ার্ল্ড', 'জীবন দেবো বন্দর দেবো না', 'ডিপি ওয়ার্ল্ডের দালালেরা হুশিয়ার সাবধান' ইত্যাদি স্লোগানে বন্দর সংলগ্ন এলাকা ও রাজপথ মুখরিত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%