প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পুলিশের কড়া নজরদারি ও বাধাবিপত্তি উপেক্ষা করে বন্দর অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক ও প্রধান স্থাপনা নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটি এবং চিটাগং কন্টেইনার টার্মিনাল সিসিটি বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দীর্ঘ মেয়াদি ইজারা চুক্তিতে ছেড়ে দেওয়ার পাঁয়তারার বিরুদ্ধে বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রামের ডাকে আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন বারিক বিল্ডিং মোড়ে সমাবেশ এবং বন্দর অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।
এতে চট্টগ্রাম বন্দর শ্রমিক কর্মচারী, রাজনৈতিক, সামাজিক, ছাত্র, পেশাজীবি সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, "চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি সিসিটি প্রতিদিন সোনার ডিম পাড়া হাঁস। এই মূল্যবান হাঁসকে গলাটিপে মেরে ফায়দা লুটের জন্য একটি চক্রান্তকারী সিন্ডিকেট উঠেপড়ে লেগেছে। দেশের জনগণ শ্রমিক কর্মচারীদের সাথে নিয়ে একযোগে এসব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে। জনগণের সম্পদ বন্দর সম্পদ রক্ষায় আন্দোলন আরও জোরালো করা হবে।"
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে উক্ত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রাম।
দুপুর নাগাদ চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন নগরীর বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে বন্দর অভিমুখে এ বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিল শুরুর আগে বারিক বিল্ডিং মোড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের জোরালো দাবি জানান।
বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রামের আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদারের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন, সহসম্পাদক ইব্রাহীম ফরাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান, ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, ন্যাপ নেতা মিটুন দাশ, চা বাগান শ্রমিক নেতা প্রদীপ দাশ, বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রহিম, কমিউনিটি সেন্টার ও ডেকোরেশন কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. পারভেজ, ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশ (ইনসাব) নেতা দেলোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, "চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এই বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই দেশের স্বার্থে হতে পারে না। বন্দরের সক্ষমতা ও পরিচালনার সঙ্গে শ্রমিকদের স্বার্থও জড়িত। তাই এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার আগে দেশের স্বার্থ, শ্রমিকদের অধিকার এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।"
তারা আরও বলেন, "চট্টগ্রাম বন্দরের সম্পদ ও অবকাঠামো জনগণের সম্পদ। এসব সম্পদ দীর্ঘমেয়াদি ইজারার মাধ্যমে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে শ্রমিক ও জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।"
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন বলেন, "চট্টগ্রাম বন্দর শুধু একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের অর্থনীতি, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এনসিটি ও সিসিটি পরিচালনার নামে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া হলে ভবিষ্যতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।"
তিনি বলেন, "দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় বন্দর পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। বন্দরের আয় ও সক্ষমতা বৃদ্ধির নামে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়, যাতে শেষ পর্যন্ত দেশের জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে।"
শ্রমিকদলের নেতা সাবেক বন্দর সিবিএ সেক্রেটারি কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, "স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নেওয়া জনস্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সুযোগ নেই। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এই বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল এনসিটি ও সিসিটি বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতে দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়া দেশের জনগণ মেনে নেবে না।"
তিনি আরও বলেন, "বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো, আধুনিকায়ন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার নামে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে দেওয়া কোনো সমাধান হতে পারে না। বরং বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সংযোজন এবং দক্ষ জনবল নিয়োগের মাধ্যমে বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব।"
এনসিটি ও সিসিটি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এসব টার্মিনাল ইজারা দেওয়া হলে রাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে। একই সঙ্গে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মসংস্থান, চাকরির নিরাপত্তা ও অধিকারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারী শ্রমিক জনতা 'গো ব্যাক ডিপি ওয়ার্ল্ড', 'জীবন দেবো বন্দর দেবো না', 'ডিপি ওয়ার্ল্ডের দালালেরা হুশিয়ার সাবধান' ইত্যাদি স্লোগানে বন্দর সংলগ্ন এলাকা ও রাজপথ মুখরিত করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন