সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৪৯ পি.এম
বিশ্বব্যাপী পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে জ্বালানি অপচয় ও কার্বন নির্গমন কমানোর ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। তারা অশোধিত খনিজ তেল (Crude Oil) পরিশোধনের জন্য একটি নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, যা প্রচলিত ডিসটিলেশন বা পাতন প্রক্রিয়ার তুলনায় প্রায় ৯০ থেকে ৯১ শতাংশ পর্যন্ত শক্তি সাশ্রয় করবে।
নতুন প্রযুক্তির উন্নয়ন করেছেন চীনের ডালিয়ান ইনস্টিটিউট অফ কেমিক্যাল ফিজিক্স (DICP)-এর গবেষক দল। তাদের এই গবেষণার প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ন্যাশনাল সাইন্স রিভিউ-তে প্রকাশিত হয়েছে।
মলিকুলার রিফাইনিং বা আণবিক ছাঁকন কী?
অপরিশোধিত তেল থেকে পেট্রোল, ডিজেল, প্লাস্টিক বা কেমিক্যাল তৈরির জন্য সাধারণত উচ্চ তাপমাত্রায় উত্তপ্ত ও ঘনীভূত করার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। এই 'ডিসটিলেশন' প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণে জ্বালানি খরচ হয়।
চীনা বিজ্ঞানীরা তাপভিত্তিক পদ্ধতির পরিবর্তে "মলিকুলার রিফাইনিং" বা আণবিক স্তরে কার্যকর ছাঁকন পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন।
মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক (MOF) মেমব্রেন: বিশেষ ধরনের মেটাল-অর্গানিক ফিল্টার ব্যবহার করে অণুর আকার ও উপাদানের ভিত্তিতে উপাদানগুলো আলাদা করা হয়।
ক্যাসকেড মেমব্রেন সেপারেশন: প্রথম ধাপে ০.১ নানামিটারের পার্থক্যে বড় অণুগুলো পৃথক করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে ০.০১ নানামিটারের সূক্ষ্ম পার্থক্যে প্লাস্টিক, রজন বা ফাইবারের কাঁচামাল এবং গ্যাসোলিনের উপাদানগুলো আলাদা করে নেওয়া সম্ভব হয়।
ট্যানিক এসিডের ব্যবহার: ছাঁকন প্রক্রিয়ায় মেমব্রেনের ছিদ্রগুলো নিখুঁত রাখার জন্য ট্যানিক এসিড দিয়ে অতিসূক্ষ্ম খোদাই (micro-etching) করা হয়েছে।
প্রযুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব
পরীক্ষাগারে ১৫টি উপাদানের মিশ্রণ ব্যবহার করে পরিচালিত পরীক্ষায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধ উপাদান পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। যদি শিল্প কারখানায় বৃহৎ পরিসরে এই প্রযুক্তি কার্যকর করা যায়, তবে তা বিশ্বজুড়ে পেট্রোকেমিক্যাল কারখানার পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে এবং ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুর সদর উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে সুমি আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকালে উত্তর ঝিকরহাটি গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর স্বামী আকবর হাওলাদারসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ নিহতের স্বজনদের।
নিহত সুমি আক্তার ডাসার উপজেলার পূর্ব দর্শনা এলাকার চান্দু মোল্লার মেয়ে। প্রায় আড়াই বছর আগে উত্তর ঝিকরহাটি গ্রামের ইরান হাওলাদারের ছেলে আকবর হাওলাদারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সুমির সঙ্গে স্বামীর পরিবারের কলহ চলছিল। সম্প্রতি দুই লাখ টাকা যৌতুকের জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রায়ই তাঁকে মারধর করা হতো বলেও অভিযোগ পরিবারের।
স্বজনদের দাবি, রোববার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার একপর্যায়ে সুমিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে আকবরসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডোপ টেস্টে বেনজোডায়াজেপিনস এবং অ্যামফিটামিন/মেথঅ্যামফিটামিন পজিটিভ আসার কারণে পুলিশ সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার (টিআর) আ ফ ম নিজাম উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী কর্তৃক স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়। উল্লেখ্য, গত ১০ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপনটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, পুলিশ সুপার আ ফ ম নিজাম উদ্দিন বর্তমানে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত আছেন। চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি তিনি মিরপুর সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত ডিএসসিএসসি-২০২৬ কোর্সে অংশগ্রহণের জন্য পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বের হন।
কোর্স চলাকালে, ৭ জুন অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার অংশ হিসেবে তার ডোপ টেস্ট করা হয়। পরীক্ষায় Urine Benzo Diazepines (BZO) এবং Amphetamine/Methamphetamine Positive পাওয়া যায়।
আদেশে বলা হয়েছে, ডোপ টেস্টের ফলাফল ডিএসসিএসসি কোর্সের শৃঙ্খলার পরিপন্থি। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী এটি অসদাচরণ হিসেবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এই কারণে, একই বিধিমালার বিধি অনুযায়ী ৩১ আগস্ট থেকে পুলিশ সুপার আ ফ ম নিজাম উদ্দিনকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্তকালে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্পর্কে মুসলিমদের সতর্ক করেছেন, জানিয়ে বলেছেন যে, জ্ঞানহীনতার কারণে মুসলিমরা পিছিয়ে পড়তে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, এআই সম্পর্কে অপর্যাপ্ত জ্ঞান মুসলিম সমাজকে ‘পরাধীন’ করে ফেলতে পারে এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে না চললে বাইরের শক্তির প্রভাবে দুর্বল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আনোয়ার ইব্রাহিম একই সঙ্গে প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষার গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালার কোঝিকোড়ে অনুষ্ঠিত এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন। আনাদোলুর খবর অনুযায়ী, মুসলিম ও আলেম সমাজের উদ্দেশ্যে আনোয়ার বলেন, “জ্ঞান ছাড়া আমরা ব্যর্থ হব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে না জানলে আমরা পরাধীন হয়ে পড়ব।”
অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী প্রথম ‘এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করেন, যা কারান্থুরের মারকাজু সাকাফাথি সুন্নিয়ায় শেখ আবুবকর ফাউন্ডেশন দ্বারা প্রদান করা হয়। তিনি ধর্মীয় আলেমদের বর্তমান সময়ের ‘নতুন বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ’ বুঝতে হবে বলেও উল্লেখ করেন। আধুনিক প্রযুক্তি, নতুন বিজ্ঞান, ডিজিটাল রূপান্তর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে।
তবে আনোয়ার ইব্রাহিম মন্তব্য করেন যে, প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। তিনি বলেন, “আমাদের জ্ঞান দরকার। আমাদের দক্ষতা দরকার।” মুসলিম সমাজকে নিশ্চিত করতে হবে যে প্রযুক্তির উন্নয়ন তাদের ‘ধর্মীয় বিশ্বাস ও নৈতিক মূল্যবোধ’ রক্ষা করে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে কিছু মূল্যবোধ মুসলিম সমাজে ঢুকে পড়তে পারে, যা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও নৈতিকতাকে দুর্বল করে দিতে পারে। বিশেষ করে যদি প্রযুক্তি সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান না থাকে এবং সেগুলো কীভাবে তৈরি ও পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে নিজেদের ভূমিকা না থাকে, তাহলে এই ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।
আনোয়ার ইব্রাহিম আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা এর ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করলেও মুসলিম আলেম ও সমাজগুলো এআইয়ের চ্যালেঞ্জের দিকে যথেষ্ট মনোযোগ দিচ্ছে না।
এসময় তিনি প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এআই নিয়ে আরও বেশি কাজ করার আহ্বান জানান। তবে তিনি আবারও বলেন, প্রযুক্তির এই অগ্রগতি যেন জ্ঞান, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে যায়।
প্রসঙ্গত, নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেয়ার পর রোববার কেরালা সফরে যান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভারতের গ্র্যান্ড মুফতি ও বিশিষ্ট সুন্নি আলেম কান্থাপুরম এপি আবুবকর মুসলিয়ার আনোয়ার ইব্রাহিমের হাতে ‘এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস পেয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। তারা মনে করছেন, সরকারের পক্ষ থেকে পাঁচটি ভাসমান এবং একটি স্থায়ী স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের মতো ইতিবাচক পদক্ষেপগুলো তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতের স্থবিরতা দূর করবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রথম সারির ২১টি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্ব এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সাথে একটি বৈঠকে মিলিত হন। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে ব্যবসায়ীরা তাদের সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল। ফলে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা বজায় রাখা এবং সময়মতো রপ্তানি অর্ডার সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি তাদের কথা শুনেছেন এবং দ্রুত সমাধানসহ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পথরেখা তুলে ধরেছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার সাময়িক সমাধানের দিকে নজর না দিয়ে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত চাহিদা পূরণের জন্য অবকাঠামো তৈরির যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করবে। পুঞ্জীভূত সমস্যা সমাধানে সরকারের স্পষ্ট ও দূরদর্শী অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শিল্পমালিকেরা।
বৈঠকে শিল্প উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে নীতিগত সব ধরনের সহায়তার পাশাপাশি জ্বালানি সংকট কাটাতে ধাপে ধাপে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই আশ্বাসে দেশের অর্থনীতি ও শিল্প খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন দেশের তরুণ ও প্রবীণ উদ্যোক্তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ