১০:৩৯ এম
বলিভিয়াজুড়ে এল নিনো আবহাওয়াজনিত প্রাকৃতিক ঘটনার প্রভাব মোকাবিলার জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন্যা ও খরার প্রভাব মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করার উদ্দেশ্যে। একই সঙ্গে, দুর্যোগে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দলের সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত শনিবার, জরুরি অবস্থার ঘোষণা দিয়ে একটি ডিক্রিতে সই করেন বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ। তিনি উল্লেখ করেন, এল নিনোর কারণে খরা ও বন্যার ‘খুব ভয়াবহ প্রভাব’ পড়তে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সকল প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা প্রয়োজন।
সরকারের চলতি সপ্তাহের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বলিভিয়ার ৯টি বিভাগের মধ্যে ৬টিতে খরার প্রভাব পড়েছে। এতে ৭৮ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খরার কারণে দেশটিতে ৭৫ হাজারের বেশি গবাদিপশু মারা গেছে।
আরও পড়ুন: মদিনায় হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি সৌদি জোটের
বলিভিয়ায় বন্যার ঝুঁকিও রয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দেশটির সান্তা ক্রুজ অঞ্চলে বন্যায় অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
এদিকে প্রতিবেশী চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে এ বছরের অক্টোবরে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। অন্যদিকে, গত মাসে পেরুতে দাবানলে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এল নিনো একটি বৈশ্বিক জলবায়ুর প্রাকৃতিক ঘটনা। সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর এটি ঘটে। এই সময় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসে। ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
এল নিনোর তীব্রতা সব সময় এক রকম থাকে না। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী এর প্রভাবও ভিন্ন হয়। তবে চলতি চক্রটি ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের শেষ দিকে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি হওয়ার কথা। তবে এর প্রভাব ২০২৭ সালজুড়েও অব্যাহত থাকতে পারে।
আরও পড়ুন: নবনির্বাচিত সেনেটর এল-সায়েদ মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত চান
বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এল নিনোর কারণে বিশ্বজুড়ে ৪ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে দরিদ্র দেশগুলোর।
এর আগে, গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছিল, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এল নিনোর প্রভাব অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ।
এএম
আরও পড়ুন: ককরোচ পার্টির নতুন বিক্ষোভের ডাক ৭ নভেম্বর কোচিতে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন