ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ক্রীড়া কার্ড ও বিশেষ ভাতায় বরাদ্দ ২০০ কোটি টাকা


ক্রীড়া কার্ড ও বিশেষ ভাতায় বরাদ্দ ২০০ কোটি টাকা

দেশের ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে ‘ক্রীড়া কার্ড’ ও বিশেষ ভাতার আওতায় আনার জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সরকার ক্রীড়াবিদদের জন্য রেলপথ, বিমান এবং সড়কপথসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা প্রদান করবে।

আজ রবিবার যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এক মতবিনিময় সভার উদ্বোধনকালে এসব তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘মোট ৫০০ ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া কার্ড প্রদান করা হবে। এর মধ্যে ৩০০ জন ক্রীড়াবিদ ইতোমধ্যে ‘ক্রীড়া কার্ড’ পেয়েছেন। তবে পারফরম্যান্স পর্যালোচনার ভিত্তিতে ৩১ জনকে ভাতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে এবং নতুন ৯৫ জনকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন: মুশফিক ইনজুরিতে, সিলেট টেস্টে খেলবেন তো?

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার রেল, বিমান, সড়কপথসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবে। এশিয়ান গেমস বা ফুটবলের সামগ্রিক ফলাফল নিয়ে সাময়িক হতাশা থাকলেও, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মূল্যায়ন কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।’

এশিয়ান গেমস বা ফুটবলের ফলাফল নিয়ে খুব বেশি হতাশা প্রকাশ না করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ফল হতাশাজনক হলেও, আমরা ভুল থেকে শিখতে চাই। এনএসসির মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে, রিপোর্ট পেলে সার্বিক বিষয় তুলে ধরব।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেপ্টেম্বরে সড়কে ঝরল ৪২৩ প্রাণ, সর্বোচ্চ মৃত্যু মোটরসাইকেলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৯ পি.এম


সেপ্টেম্বরে সড়কে ঝরল ৪২৩ প্রাণ, সর্বোচ্চ মৃত্যু মোটরসাইকেলে

সেপ্টেম্বর মাসে সারা দেশে ৪৪২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪২৩ জন নিহত এবং ৬৭৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৭৩ জন নারী এবং ৬১ জন শিশু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে, যেখানে ১৫৪টি দুর্ঘটনায় ১৩৯ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ৩২ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

রোববার (৪ অক্টোবর) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সেপ্টেম্বর মাসের সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১০৬ জন ছিলেন পথচারী, যা মোট নিহতের ২৫ দশমিক ০৫ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৩ জন, যা মোট নিহতের ১২ দশমিক ৫২ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৩৯ জন, তিন চাকার যানবাহনের যাত্রী ৮৮ জন, বাসের যাত্রী ২৬ জন, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের আরোহী ২১ জন, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-ট্রলির আরোহী ১৯ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ১৮ জন এবং বাইসাইকেল আরোহী ছয়জন।

আঞ্চলিক সড়কেই বেশি দুর্ঘটনা

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে সবচেয়ে বেশি ১৭৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। জাতীয় মহাসড়কে ১৪৫টি, শহরের সড়কে ৬৩টি এবং গ্রামীণ সড়কে ৫৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে ১৬৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে। ১০৯টি ঘটনায় পথচারী চাপা বা ধাক্কার শিকার হয়েছেন। এছাড়া ৯৮টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৬১টি পেছন থেকে আঘাত এবং ছয়টি অন্যান্য ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে।

ঢাকায় ৫২ দুর্ঘটনায় নিহত ২১

বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ১৩২টি দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছেন। মোট দুর্ঘটনার ২৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং প্রাণহানির ৩১ দশমিক ৬৭ শতাংশই ঢাকা বিভাগে ঘটেছে।

চট্টগ্রাম বিভাগে ১৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ১৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ প্রাণহানি, খুলনা বিভাগে ১৭ দশমিক ৪২ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ১৪ দশমিক ৪২ শতাংশ প্রাণহানি, রাজশাহী বিভাগে ১২ দশমিক ২১ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ প্রাণহানি হয়েছে।

এছাড়া ময়মনসিংহে ৭ দশমিক ২৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ৭ দশমিক ৮০ শতাংশ প্রাণহানি, বরিশালে ৫ দশমিক ২০ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ৬ দশমিক ৬১ শতাংশ প্রাণহানি, রংপুরে ৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ৫ দশমিক ৯১ শতাংশ প্রাণহানি এবং সিলেটে ৪ দশমিক ৫২ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ প্রাণহানি ঘটেছে।

একক জেলা হিসেবে গাজীপুরে সবচেয়ে বেশি ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। আর সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২০টি দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত হয়েছেন।

রাজধানী ঢাকায় সেপ্টেম্বরে ৫২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত এবং ৪৭ জন আহত হয়েছেন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে নিহতদের পেশাগত পরিচয়ও তুলে ধরেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এতে দেখা যায়, নিহতদের মধ্যে ২ জন পুলিশ সদস্য, একজন সেনা সদস্য, ১৩ জন শিক্ষক, তিনজন সাংবাদিক, দুজন চিকিৎসক, চারজন প্রকৌশলী, একজন কাস্টমস কর্মকর্তা, একজন বিদেশি নাগরিক, ব্যাংক-বীমার ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারী, ১৮ জন এনজিও কর্মী এবং ২৪ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী রয়েছেন।

এছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের ২৫ জন ব্যবসায়ী, ওষুধ ও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর ২১ জন বিক্রয় প্রতিনিধি, তিনজন মসজিদের ইমাম বা খাদেম, চারজন মোটর মেকানিক, ছয়জন পোশাক শ্রমিক, একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ১৪ জন দিনমজুর এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভোরে ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ, সকালে ২৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ, দুপুরে ২১ দশমিক ২৬ শতাংশ, বিকেলে ১৭ দশমিক ৪২ শতাংশ, সন্ধ্যায় ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং রাতে ১৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

নৌ ও রেল দুর্ঘটনাও বেড়েছে

সেপ্টেম্বরে ১১টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত, সাতজন আহত এবং চারজন নিখোঁজ হয়েছেন। একই সময়ে ২৩টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানাচ্ছে, সেপ্টেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে অতিরিক্ত গতির কারণে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে। গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি এবং চালকদের মোটিভেশনাল প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

সংস্থাটির মতে, যানবাহনের বেপরোয়া গতি ও পথচারীদের অসচেতনতার কারণে পথচারী নিহতের ঘটনা বাড়ছে। এ জন্য সরকারি উদ্যোগে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জীবনমুখী সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, অনির্দিষ্ট বেতন ও কর্মঘণ্টা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন, বিআরটিএ, বিআরটিসি ও ডিটিসিএর ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কার, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার, রাজধানীতে কোম্পানিভিত্তিক আধুনিক বাস সার্ভিস চালু, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ এবং চালকদের বেতন, কর্মঘণ্টা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

এছাড়া মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য সার্ভিস রোড নির্মাণ, সব রেলক্রসিংয়ে গেটকিপার নিয়োগ, সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে বাজেটে অর্থ বরাদ্দ এবং সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনকে সমন্বিত করে অভিন্ন যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।

সংস্থাটি বলেছে, সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের শিক্ষা ও সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাকারবার্গের চরিত্রে জেরেমি স্ট্রং, ফিরছেন না আইজেনবার্গ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৯ পি.এম


জাকারবার্গের চরিত্রে জেরেমি স্ট্রং, ফিরছেন না আইজেনবার্গ

হলিউডের জনপ্রিয় সিনেমা ‘দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক’-এর সিক্যুয়াল ‘দ্য সোশ্যাল রেকনিং’ নির্মাণ করছেন পরিচালক অ্যারন সোরকিন। তবে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের চরিত্রে পুরনো মুখ জেসি আইজেনবার্গকে দেখা যাবে না। প্রথম ছবিতে এই চরিত্রে অভিনয় করে অস্কার মনোনয়ন পাওয়া আইজেনবার্গ নতুন সিক্যুয়ালে ফিরতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

পরিচালক অ্যারন সোরকিন জানিয়েছেন, চিত্রনাট্য তৈরির সময় তিনি ভাবতেই পারেননি যে আইজেনবার্গ এই চরিত্রে পুনরায় অভিনয় করতে চাইবেন না। চিত্রনাট্য হাতে পাওয়ার পর আইজেনবার্গ যখন প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দেন, তখন পরিচালক তাকে রাজি করানোর জন্য বেশ চেষ্টা করেন।

চরিত্রটির বিভিন্ন দিক এবং অভিনয়ের নতুন সুযোগগুলো পয়েন্ট আকারে সাজিয়ে অভিনেতার কাছে উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি স্টুডিওর পক্ষ থেকেও বিশাল পারিশ্রমিকের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে সোরকিনের মতে, বিপুল অর্থ আইজেনবার্গকে প্রভাবিত করতে পারেনি। তিনি তার সন্তানদের সাধারণ জীবনযাপনের মধ্যে বড় করতে চান, তাই মোটা অঙ্কের অফারও তার সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেনি।

আইজেনবার্গ তার ফিরতে না চাওয়ার ব্যাখ্যায় জানান, ছবিটি কতটা চমৎকার হতে যাচ্ছে তার সঙ্গে তার না করার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি সিক্যুয়েলটির সফলতা নিয়ে নিশ্চিত। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি এখন ক্যারিয়ারের ভিন্ন দিকে মনোনিবেশ করছেন এবং নতুন করে আর জাকারবার্গের চরিত্রের সঙ্গে নিজের পরিচয় যুক্ত রাখতে চান না।

আইজেনবার্গের অসম্মতির পর জাকারবার্গের ভূমিকার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল ‘সাকসেসন’ সিরিজখ্যাত অভিনেতা জেরেমি স্ট্রংকে। নতুন এই ছবিতে আরো অভিনয় করছেন মাইকি ম্যাডিসন, জেরেমি অ্যালেন হোয়াইট ও বিল বার। ২০১০ সালের মূল সিনেমা ‘দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক’ আটটি অস্কার বিভাগে মনোনয়ন পেয়ে তিনটি পুরস্কার জিতে নিয়েছিল। অ্যারন সোরকিনের নতুন সিক্যুয়েল ‘দ্য সোশ্যাল রেকনিং’ আগামী ৯ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে জিম্বাবুয়েতে ফিরেও কাটছে না দুর্ভোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪০ পি.এম


দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে জিম্বাবুয়েতে ফিরেও কাটছে না দুর্ভোগ

দক্ষিণ আফ্রিকার অভিবাসীবিরোধী উত্তেজনার কারণে জিম্বাবুয়েতে ফিরে আসা হাজার হাজার মানুষ বর্তমানে নতুন অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন। দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকার পর দেশে ফিরে আসা অনেকের জন্য কাজ এবং পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়ায় জীবনযাপন কঠিন হয়ে উঠেছে।

৩০ বছর বয়সী সামান্থা চিমবুয়া ২০১৯ সালে ভালো সুযোগের সন্ধানে জিম্বাবুয়ে ছেড়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি কাজ পেয়েছিলেন এবং দুই সন্তানের খাবার ও পড়াশোনার খরচ চালাতে সক্ষম ছিলেন, এমনকি চিকিৎসাসেবা পেতেন। কিন্তু একসময় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় অনিবন্ধিত অভিবাসীদের ৩০ জুনের মধ্যে দেশ ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছিল অভিবাসীবিরোধী কয়েকটি গোষ্ঠী। বাড়িতে বাড়িতে অভিযান ও দেশ ছাড়ার হুমকির কারণে ভয় পেয়ে চিমবুয়া নিজের জিনিসপত্র নিয়ে জিম্বাবুয়েতে ফিরে আসেন।

চিমবুয়া জানান, পরিস্থিতি তখন আর নিরাপদ ছিল না। বাড়িতে অভিযান চালানো হচ্ছিল এবং তাদের চলে যেতে সতর্ক করা হচ্ছিল। এতে তিনি ভীত হয়ে পড়েছিলেন।

অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভের সময় তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়াজুলু-নাটাল এলাকায় ছিলেন। অভিবাসীবিরোধী একটি গোষ্ঠী অভিযোগ করেছিল, অনিবন্ধিত অভিবাসীরা স্থানীয়দের কাজ কেড়ে নিচ্ছেন এবং সরকারি সেবার ওপর চাপ তৈরি করছেন।

তবে ৩০ জুনের সময়সীমা দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার দেয়নি। সরকার ওই দিনকে সাধারণ দিন হিসেবেই উল্লেখ করে এবং ভয় দেখানো ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছিল। এরপরও অস্থিরতার আশঙ্কায় হাজারো অভিবাসী দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়েন।

জিম্বাবুয়ের তথ্য ও প্রচারমন্ত্রী জেমু সোডার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮ জুলাই পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭০ জন জিম্বাবুয়ের নাগরিক দেশে ফিরেছেন। তাদের মধ্যে ৩৬ হাজার ৯৪০ জন সরকারি সহায়তা পেয়েছেন। বাকি ৭৯ হাজার ৭৩০ জন নিজ উদ্যোগে দেশে ফিরেছেন। এ ছাড়া আরও ৩৮ হাজার ৫৭ জন কর্মসংস্থানের জন্য নিবন্ধন করেছেন।

দেশে ফিরেও সংকট

চিমবুয়ার জন্য দেশে ফিরে আসা মানে ছিল সেই অর্থনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হওয়া, যে কারণে তিনি ২০১৯ সালে জিম্বাবুয়ে ছেড়েছিলেন। বর্তমানে তিনি কাজ খুঁজে পাচ্ছেন না এবং পরিবার ও বন্ধুদের সহায়তায় চলছেন। তার স্বামী এখনো দক্ষিণ আফ্রিকায় রয়েছেন এবং তিনিও সেখানে সমস্যার মধ্যে আছেন।

দেশে ফিরে ছোট ব্যবসা শুরু করার জন্য একটি অনুদান পাওয়ার আশা করেছিলেন চিমবুয়া। কিন্তু এখনো সেই অর্থ পাননি বলে জানান তিনি।

জিম্বাবুয়ে খ্রিষ্টান জোটের নির্বাহী পরিচালক উসেনি সিবান্দা বলেন, অনেক দেশে ফেরত আসা মানুষ বছরের পর বছর বিদেশে ছিলেন। দেশে ফেরার সময় তাদের চাকরি বা পর্যাপ্ত সহায়তা নেই। অনেকে বিদেশে থাকার সময় জিম্বাবুয়েতে বাড়ি বা সম্পত্তি তৈরি করেননি। ফলে দেশে ফিরে তাদের হাতে তেমন কিছু থাকছে না।

তিনি বলেন, দেশে এমনিতেই কর্মসংস্থানের সংকট রয়েছে। এর মধ্যে বিদেশ থেকে ফিরে আসা মানুষের জন্য সামাজিক সহায়তার ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়।

তবে জিম্বাবুয়ে সরকার বলছে, তারা দেশে ফেরত আসা মানুষদের সহায়তার চেষ্টা করছে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড্যানিয়েল গারুয়ে জানান, ফেরত আসা মানুষের দক্ষতা ও প্রয়োজন চিহ্নিত করতে তাদের তথ্য যাচাই ও তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে।

ফেরত আসা মানুষদের পুনর্বাসনের জন্য কেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলছে। যোগ্য শিক্ষকদের মধ্যে যারা দেশে ফিরেছেন, তাদের নিয়োগের বিষয়টিও বিবেচনা করছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

এছাড়া দক্ষ দেশে ফেরত আসা মানুষদের চাকরি দিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহীদের সহায়তার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

দক্ষতাই কারও কারও ভরসা

কেউ কেউ দক্ষিণ আফ্রিকায় অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দেশে ফিরে নতুন করে জীবিকা গড়ার চেষ্টা করছেন।

জিম্বাবুয়ের জভিম্বা এলাকার বাসিন্দা সিডনি বুনিয়া অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ২০২০ সালের মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছিলেন। প্রথমে জোহানেসবার্গে বিভিন্ন কাজ করেন। পরে পোর্ট এলিজাবেথে গিয়ে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে পেশাদার কাঠমিস্ত্রিদের সঙ্গে কাজ শুরু করেন।

ধীরে ধীরে কাঠের কাজের দক্ষতা বাড়িয়ে বড় বড় কাজের সুযোগ পান তিনি। বিশেষ করে ছাদের কাঠামো তৈরিতে দক্ষ হয়ে ওঠেন।

কিন্তু ২০২৬ সালে কাজের অনুমতিপত্র দেখানোর দাবিতে বিভিন্ন গোষ্ঠী তার কর্মস্থলে অভিযান চালাতে শুরু করে। তার কাছে শুধু পাসপোর্ট থাকায় হয়রানির ভয়ে নিয়োগদাতারাও তাকে কাজ দিতে অনীহা দেখাতে থাকেন।

শেষ পর্যন্ত কাঠমিস্ত্রির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনে জিম্বাবুয়ে পাঠিয়ে দেন বুনিয়া। এরপর ৩০ জুনের সময়সীমার আগেই দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে দেশে ফিরে আসেন।

নিজের সঞ্চয় দিয়ে দেশে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। বর্তমানে সেই ব্যবসা দিয়ে তার পরিবারের খরচ চলছে এবং আরও পাঁচজন সেখানে কাজ করছেন।

বুনিয়া বলেন, ব্যবসা শুরু করা কঠিন ছিল। তবে এখন তিনি আগের চেয়ে বেশি কাজ পাচ্ছেন।

জিম্বাবুয়ের বিভিন্ন গির্জাও দেশে ফেরত আসা মানুষদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলে কোথাও কোথাও তাদের ঝালাই, কাঠের কাজ ও কম্পিউটার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার দাবি

গির্জাগুলো দেশে ফেরত আসা মানুষদের আশ্রয়, খাবার ও যাতায়াতে সহায়তা করলেও তাদের প্রয়োজন অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন জিম্বাবুয়ের ধর্মতত্ত্ব কলেজের সভাপতি রে মোৎসি।

তিনি দেশে ফিরে আসা মানুষদের জন্য সরকারের আরও কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, শুধু তাদের দেশে ফিরিয়ে আনলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; নতুন করে সমাজ ও অর্থনীতিতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

হারারের মানবাধিকারকর্মী রাশওয়েট মুকুন্দুও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তার মতে, দেশে ফেরত আসা মানুষদের ছোট অনুদান, কৃষি উপকরণ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দেওয়া হলে তারা নিজেদের জীবিকা গড়ে তুলতে পারবেন।

তার মতে, মূল চ্যালেঞ্জ শুধু জিম্বাবুয়ের নাগরিকদের সীমান্ত পার করে দেশে ফিরিয়ে আনা নয়; দেশে ফেরার পর তাদের অর্থনৈতিকভাবে নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করাও জরুরি।

দেশে ফিরে নিজের ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা থাকলেও অর্থের অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন চিমবুয়া।

সূত্র: আল জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লেভান্ডস্কির রেকর্ড: ৩৮ বছর বয়সে নেশনস লিগে হ্যাটট্রিকের কৃতিত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪০ পি.এম


লেভান্ডস্কির রেকর্ড: ৩৮ বছর বয়সে নেশনস লিগে হ্যাটট্রিকের কৃতিত্ব

রোমানিয়ার বিপক্ষে পোল্যান্ডের ৬-০ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক করে ৩৮ বছর ৪২ দিন বয়সে নেশনস লিগের সবচেয়ে বেশি বয়সী হ্যাটট্রিকম্যানের রেকর্ড গড়েছেন রবার্ট লেভান্ডস্কি।

৩৮ বছর বয়সে পৌঁছানোর পরেও গোলের প্রতি তাঁর ক্ষুধা কমেনি। রোমানিয়ার বিপক্ষে পোল্যান্ডের ৬-০ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক করে তিনি নেশনস লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে তিন গোলের নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছেন।

ম্যাচের ২৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে প্রথম গোলটি করেন লেভানদোভস্কি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ৪৭ মিনিটে তিনি ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর ৮৬ মিনিটে তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। পোল্যান্ডের হয়ে এটি তাঁর সপ্তম আন্তর্জাতিক হ্যাটট্রিক; রোমানিয়ার বিপক্ষে তাঁর গোলসংখ্যা এখন ৭।

এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে তিনি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রেকর্ড ভেঙেছেন। ২০১৯ সালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে নেশনস লিগের সেমিফাইনালে ৩৪ বছর ১২০ দিন বয়সে হ্যাটট্রিক করে রোনালদো সবচেয়ে বেশি বয়সী হ্যাটট্রিকম্যানের রেকর্ড গড়েছিলেন। এবার ৩৮ বছর ৪২ দিন বয়সে লেভানদোভস্কি তাঁকে ছাড়িয়ে গেলেন।

রোমানিয়ার বিপক্ষে তিন গোলের পর ১৭০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে লেভান্ডস্কির গোলসংখ্যা ৯২-এ পৌঁছেছে। ৩৮ বছর বয়সেও জাতীয় দলের আক্রমণের কেন্দ্রে থেকে এমন পারফরম্যান্সে পোলিশ তারকা যেন বয়সকে শুধুমাত্র একটি সংখ্যা হিসেবে প্রমাণ করলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%