ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে জিম্বাবুয়েতে ফিরেও কাটছে না দুর্ভোগ


দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে জিম্বাবুয়েতে ফিরেও কাটছে না দুর্ভোগ

দক্ষিণ আফ্রিকার অভিবাসীবিরোধী উত্তেজনার কারণে জিম্বাবুয়েতে ফিরে আসা হাজার হাজার মানুষ বর্তমানে নতুন অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন। দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকার পর দেশে ফিরে আসা অনেকের জন্য কাজ এবং পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়ায় জীবনযাপন কঠিন হয়ে উঠেছে।

৩০ বছর বয়সী সামান্থা চিমবুয়া ২০১৯ সালে ভালো সুযোগের সন্ধানে জিম্বাবুয়ে ছেড়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি কাজ পেয়েছিলেন এবং দুই সন্তানের খাবার ও পড়াশোনার খরচ চালাতে সক্ষম ছিলেন, এমনকি চিকিৎসাসেবা পেতেন। কিন্তু একসময় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় অনিবন্ধিত অভিবাসীদের ৩০ জুনের মধ্যে দেশ ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছিল অভিবাসীবিরোধী কয়েকটি গোষ্ঠী। বাড়িতে বাড়িতে অভিযান ও দেশ ছাড়ার হুমকির কারণে ভয় পেয়ে চিমবুয়া নিজের জিনিসপত্র নিয়ে জিম্বাবুয়েতে ফিরে আসেন।

আরও পড়ুন: রাহুল গান্ধীর পদযাত্রা: ভারতের গণবিক্ষোভে যুবদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত

চিমবুয়া জানান, পরিস্থিতি তখন আর নিরাপদ ছিল না। বাড়িতে অভিযান চালানো হচ্ছিল এবং তাদের চলে যেতে সতর্ক করা হচ্ছিল। এতে তিনি ভীত হয়ে পড়েছিলেন।

অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভের সময় তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়াজুলু-নাটাল এলাকায় ছিলেন। অভিবাসীবিরোধী একটি গোষ্ঠী অভিযোগ করেছিল, অনিবন্ধিত অভিবাসীরা স্থানীয়দের কাজ কেড়ে নিচ্ছেন এবং সরকারি সেবার ওপর চাপ তৈরি করছেন।

তবে ৩০ জুনের সময়সীমা দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার দেয়নি। সরকার ওই দিনকে সাধারণ দিন হিসেবেই উল্লেখ করে এবং ভয় দেখানো ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছিল। এরপরও অস্থিরতার আশঙ্কায় হাজারো অভিবাসী দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়েন।

জিম্বাবুয়ের তথ্য ও প্রচারমন্ত্রী জেমু সোডার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮ জুলাই পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭০ জন জিম্বাবুয়ের নাগরিক দেশে ফিরেছেন। তাদের মধ্যে ৩৬ হাজার ৯৪০ জন সরকারি সহায়তা পেয়েছেন। বাকি ৭৯ হাজার ৭৩০ জন নিজ উদ্যোগে দেশে ফিরেছেন। এ ছাড়া আরও ৩৮ হাজার ৫৭ জন কর্মসংস্থানের জন্য নিবন্ধন করেছেন।

আরও পড়ুন: দুর্গোৎসবের মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে শুভেন্দুর চরম অব্যবস্থাপনা নগ্ন হয়ে পড়ল

দেশে ফিরেও সংকট

চিমবুয়ার জন্য দেশে ফিরে আসা মানে ছিল সেই অর্থনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হওয়া, যে কারণে তিনি ২০১৯ সালে জিম্বাবুয়ে ছেড়েছিলেন। বর্তমানে তিনি কাজ খুঁজে পাচ্ছেন না এবং পরিবার ও বন্ধুদের সহায়তায় চলছেন। তার স্বামী এখনো দক্ষিণ আফ্রিকায় রয়েছেন এবং তিনিও সেখানে সমস্যার মধ্যে আছেন।

দেশে ফিরে ছোট ব্যবসা শুরু করার জন্য একটি অনুদান পাওয়ার আশা করেছিলেন চিমবুয়া। কিন্তু এখনো সেই অর্থ পাননি বলে জানান তিনি।

জিম্বাবুয়ে খ্রিষ্টান জোটের নির্বাহী পরিচালক উসেনি সিবান্দা বলেন, অনেক দেশে ফেরত আসা মানুষ বছরের পর বছর বিদেশে ছিলেন। দেশে ফেরার সময় তাদের চাকরি বা পর্যাপ্ত সহায়তা নেই। অনেকে বিদেশে থাকার সময় জিম্বাবুয়েতে বাড়ি বা সম্পত্তি তৈরি করেননি। ফলে দেশে ফিরে তাদের হাতে তেমন কিছু থাকছে না।

আরও পড়ুন: নাইজেরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের স্থলমাইন বিস্ফোরণে ৮ সেনা নিহত

তিনি বলেন, দেশে এমনিতেই কর্মসংস্থানের সংকট রয়েছে। এর মধ্যে বিদেশ থেকে ফিরে আসা মানুষের জন্য সামাজিক সহায়তার ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়।

তবে জিম্বাবুয়ে সরকার বলছে, তারা দেশে ফেরত আসা মানুষদের সহায়তার চেষ্টা করছে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড্যানিয়েল গারুয়ে জানান, ফেরত আসা মানুষের দক্ষতা ও প্রয়োজন চিহ্নিত করতে তাদের তথ্য যাচাই ও তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে।

ফেরত আসা মানুষদের পুনর্বাসনের জন্য কেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলছে। যোগ্য শিক্ষকদের মধ্যে যারা দেশে ফিরেছেন, তাদের নিয়োগের বিষয়টিও বিবেচনা করছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

এছাড়া দক্ষ দেশে ফেরত আসা মানুষদের চাকরি দিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহীদের সহায়তার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

আরও পড়ুন: আঞ্চলিক সংকট সমাধানে পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের আলোচনা

দক্ষতাই কারও কারও ভরসা

কেউ কেউ দক্ষিণ আফ্রিকায় অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দেশে ফিরে নতুন করে জীবিকা গড়ার চেষ্টা করছেন।

জিম্বাবুয়ের জভিম্বা এলাকার বাসিন্দা সিডনি বুনিয়া অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ২০২০ সালের মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছিলেন। প্রথমে জোহানেসবার্গে বিভিন্ন কাজ করেন। পরে পোর্ট এলিজাবেথে গিয়ে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে পেশাদার কাঠমিস্ত্রিদের সঙ্গে কাজ শুরু করেন।

ধীরে ধীরে কাঠের কাজের দক্ষতা বাড়িয়ে বড় বড় কাজের সুযোগ পান তিনি। বিশেষ করে ছাদের কাঠামো তৈরিতে দক্ষ হয়ে ওঠেন।

আরও পড়ুন: জাপান-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া ‘কিন সোর্ড ২৭’ নতুন নজির গড়তে যাচ্ছে

কিন্তু ২০২৬ সালে কাজের অনুমতিপত্র দেখানোর দাবিতে বিভিন্ন গোষ্ঠী তার কর্মস্থলে অভিযান চালাতে শুরু করে। তার কাছে শুধু পাসপোর্ট থাকায় হয়রানির ভয়ে নিয়োগদাতারাও তাকে কাজ দিতে অনীহা দেখাতে থাকেন।

শেষ পর্যন্ত কাঠমিস্ত্রির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনে জিম্বাবুয়ে পাঠিয়ে দেন বুনিয়া। এরপর ৩০ জুনের সময়সীমার আগেই দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে দেশে ফিরে আসেন।

নিজের সঞ্চয় দিয়ে দেশে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। বর্তমানে সেই ব্যবসা দিয়ে তার পরিবারের খরচ চলছে এবং আরও পাঁচজন সেখানে কাজ করছেন।

বুনিয়া বলেন, ব্যবসা শুরু করা কঠিন ছিল। তবে এখন তিনি আগের চেয়ে বেশি কাজ পাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: ভূমধ্যসাগরের উষ্ণতায় কচ্ছপের বংশবিস্তার ঝুঁকিতে, পুরুষ কচ্ছপের অভাবের শঙ্কা

জিম্বাবুয়ের বিভিন্ন গির্জাও দেশে ফেরত আসা মানুষদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলে কোথাও কোথাও তাদের ঝালাই, কাঠের কাজ ও কম্পিউটার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার দাবি

গির্জাগুলো দেশে ফেরত আসা মানুষদের আশ্রয়, খাবার ও যাতায়াতে সহায়তা করলেও তাদের প্রয়োজন অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন জিম্বাবুয়ের ধর্মতত্ত্ব কলেজের সভাপতি রে মোৎসি।

তিনি দেশে ফিরে আসা মানুষদের জন্য সরকারের আরও কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, শুধু তাদের দেশে ফিরিয়ে আনলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; নতুন করে সমাজ ও অর্থনীতিতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

হারারের মানবাধিকারকর্মী রাশওয়েট মুকুন্দুও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তার মতে, দেশে ফেরত আসা মানুষদের ছোট অনুদান, কৃষি উপকরণ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দেওয়া হলে তারা নিজেদের জীবিকা গড়ে তুলতে পারবেন।

তার মতে, মূল চ্যালেঞ্জ শুধু জিম্বাবুয়ের নাগরিকদের সীমান্ত পার করে দেশে ফিরিয়ে আনা নয়; দেশে ফেরার পর তাদের অর্থনৈতিকভাবে নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করাও জরুরি।

দেশে ফিরে নিজের ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা থাকলেও অর্থের অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন চিমবুয়া।

সূত্র: আল জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লেভান্ডস্কির রেকর্ড: ৩৮ বছর বয়সে নেশনস লিগে হ্যাটট্রিকের কৃতিত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪০ পি.এম


লেভান্ডস্কির রেকর্ড: ৩৮ বছর বয়সে নেশনস লিগে হ্যাটট্রিকের কৃতিত্ব

রোমানিয়ার বিপক্ষে পোল্যান্ডের ৬-০ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক করে ৩৮ বছর ৪২ দিন বয়সে নেশনস লিগের সবচেয়ে বেশি বয়সী হ্যাটট্রিকম্যানের রেকর্ড গড়েছেন রবার্ট লেভান্ডস্কি।

৩৮ বছর বয়সে পৌঁছানোর পরেও গোলের প্রতি তাঁর ক্ষুধা কমেনি। রোমানিয়ার বিপক্ষে পোল্যান্ডের ৬-০ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক করে তিনি নেশনস লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে তিন গোলের নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছেন।

ম্যাচের ২৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে প্রথম গোলটি করেন লেভানদোভস্কি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ৪৭ মিনিটে তিনি ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর ৮৬ মিনিটে তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। পোল্যান্ডের হয়ে এটি তাঁর সপ্তম আন্তর্জাতিক হ্যাটট্রিক; রোমানিয়ার বিপক্ষে তাঁর গোলসংখ্যা এখন ৭।

এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে তিনি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রেকর্ড ভেঙেছেন। ২০১৯ সালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে নেশনস লিগের সেমিফাইনালে ৩৪ বছর ১২০ দিন বয়সে হ্যাটট্রিক করে রোনালদো সবচেয়ে বেশি বয়সী হ্যাটট্রিকম্যানের রেকর্ড গড়েছিলেন। এবার ৩৮ বছর ৪২ দিন বয়সে লেভানদোভস্কি তাঁকে ছাড়িয়ে গেলেন।

রোমানিয়ার বিপক্ষে তিন গোলের পর ১৭০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে লেভান্ডস্কির গোলসংখ্যা ৯২-এ পৌঁছেছে। ৩৮ বছর বয়সেও জাতীয় দলের আক্রমণের কেন্দ্রে থেকে এমন পারফরম্যান্সে পোলিশ তারকা যেন বয়সকে শুধুমাত্র একটি সংখ্যা হিসেবে প্রমাণ করলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জিলেট স্টেডিয়ামে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ টি-শার্ট পরে গান গাইলেন জ্যাক ব্রায়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪১ পি.এম


জিলেট স্টেডিয়ামে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ টি-শার্ট পরে গান গাইলেন জ্যাক ব্রায়ান

যুক্তরাষ্ট্রের বস্টনের কাছে জিলেট স্টেডিয়ামে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ লেখা টি-শার্ট পরে গান গেয়েছেন মার্কিন কান্ট্রি সংগীতশিল্পী জ্যাক ব্রায়ান। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে অনুষ্ঠিত কনসার্টে তার এই পোশাকের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। খবর এনবিসির।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ৩০ বছর বয়সী ব্রায়ান কালো রঙের হাতাকাটা টি-শার্ট পরে মঞ্চে গান গাইছেন। ওই টি-শার্টের ওপর সাদা অক্ষরে লেখা ছিল ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ যা তার পরিবেশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়ায়।

ব্রায়ানের এই পরিবেশনা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন জিলেট স্টেডিয়ামের মালিক রবার্ট ক্রাফটকে ঘিরে বিতর্ক চলমান। নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক ক্রাফট ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

গত মাসে র‍্যাপার ম্যাকলমোর অভিযোগ করেন যে, ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে কথা বলার কারণে ক্রাফটের চাপের ফলে এড শিরানের ট্যুর থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়। নিউ জার্সিতে ট্যুরের অনুষ্ঠানগুলোয় ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলার পর এ ঘটনা ঘটে বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ক্রাফট তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি। তবে তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের সমর্থন দমিয়ে দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। বরং শিরানের ট্যুরের জন্য জিলেট স্টেডিয়ামে সবার জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন তিনি।

ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে শিরানের ট্যুর থেকে সরে দাঁড়ান উদ্বোধনী পরিবেশনার শিল্পী অ্যারন রো, লুকাস গ্রাহাম, ফিনিয়াস এবং তাঁর হাউস ব্যান্ড বিওগাও।

ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার খবর প্রকাশের পর নিজের প্রথম কনসার্টে এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন শিরান। তিনি বলেন, ‘আমি কখনোই অ্যাক্টিভিস্ট সংগীতশিল্পী হতে চাইনি। কিন্তু এই ঘটনা আমাকে বাক্‌স্বাধীনতা এবং বিশ্বের সবচেয়ে জটিল রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তীব্র বিতর্কের মাঝখানে এনে দিয়েছে।’

গত সপ্তাহে শরতের জন্য ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন ট্যুর’ ঘোষণা করেছেন ম্যাকলমোর। তবে এ সফরের কোনো আয়োজনে জিলেট স্টেডিয়াম অন্তর্ভুক্ত নেই।

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত কয়েক দশক ধরে সংগীত ও পপ সংস্কৃতির অঙ্গনে বিতর্কের সৃষ্টি করে আসছে। এ সংঘাত ঘিরে মতপার্থক্যের প্রভাব স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে শুরু করে নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্টের কস্টিউম ইনস্টিটিউটের প্রদর্শনীতেও লক্ষ্য করা যায়।

স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার পর যুদ্ধ শুরু হয়। ওই হামলায় ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।

জ্যাক ব্রায়ান ‘সামথিং ইন দ্য অরেঞ্জ’, কেসি মাসগ্রেভসের সঙ্গে গাওয়া ‘আই রিমেম্বার এভরিথিং’ এবং ‘পিঙ্ক স্কাইজ’ গানগুলোর জন্য পরিচিত। গ্র্যামি পুরস্কারজয়ী এই শিল্পী কয়েক বছর মার্কিন নৌবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছেন। সে সময়ও তিনি গান লেখা ও রেকর্ডিং চালিয়ে গেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর জাপানি স্ত্রী ও দুই কন্যার তথ্য প্রকাশিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪২ পি.এম


আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর জাপানি স্ত্রী ও দুই কন্যার তথ্য প্রকাশিত

চট্টগ্রামের শিল্পপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। জাপানি সরকারি নথি, ব্যাংকিং কাগজপত্র, আলোকচিত্র এবং সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৯২ সালে যুক্তরাজ্যে জাপানি নাগরিক মিনাকো কাওয়ারাজাকিকে তিনি বিয়ে করেছিলেন। তাঁদের দুই কন্যাসন্তান রয়েছে বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, গণপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। বাংলাদেশে প্রকাশিত বিভিন্ন জীবনীতে তাঁর স্ত্রী হিসেবে চট্টগ্রামের শিল্পপতি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর কন্যা নূর নাহার জামানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তাঁদের তিন ছেলে ও তিন মেয়ের কথা বলা হলেও জাপানি পরিবারের তথ্য পাওয়া যায়নি।

ডেইলি ওয়াদার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে পর্যালোচনা করা জাপানি নথি অনুযায়ী, ১৯৯২ সালের ২১ আগস্ট যুক্তরাজ্যে আখতারুজ্জামান চৌধুরী ও মিনাকো কাওয়ারাজাকির বিয়ে সম্পন্ন হয়। ২০০৭ সালের ১৫ মার্চ ঢাকায় জাপানি দূতাবাস থেকে দেওয়া একটি বিবাহ সনদে এই তথ্যের উল্লেখ রয়েছে। সনদটি জাপানের কানাগাওয়া প্রিফেকচারের চিগাসাকি শহরের সরকারি পারিবারিক নিবন্ধনের সত্যায়িত কপির ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

জাপানি নথিতে আখতারুজ্জামানের জন্মতারিখ ১৯৪৫ সালের ৩ মে উল্লেখ রয়েছে। তবে বাংলাদেশে প্রকাশিত বিভিন্ন জীবনীতে তাঁর জন্মতারিখ ১ মে ১৯৪৫ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, তাঁর জন্মতারিখ নিয়ে প্রকাশিত নথিতে পার্থক্য রয়েছে।

নথি অনুযায়ী, তাঁদের জ্যেষ্ঠ কন্যা নীনা কাওয়ারাজাকি ১৯৯২ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন। চলতি বছরের ৮ এপ্রিল হংকংয়ে জাপানের কনস্যুলেট-জেনারেল থেকে দেওয়া জন্মসনদে তাঁর বাবা হিসেবে আখতারুজ্জামান চৌধুরী এবং মা হিসেবে মিনাকো কাওয়ারাজাকির নাম উল্লেখ রয়েছে। মিনাকো তাঁদের দুই কন্যাসন্তান থাকার কথা নিশ্চিত করলেও তাঁদের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি।

প্রতিবেদনে প্রকাশিত একটি ছবিতে আখতারুজ্জামানকে মিনাকো ও দুই শিশুর সঙ্গে একটি হোটেলের বাইরে দেখা যায়। ছবিতে থাকা নারীকে মিনাকো হিসেবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে বলে ডেইলি ওয়াদা জানিয়েছে।

সম্প্রতি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের একটি নথির মাধ্যমে এই পরিবারের তথ্য নতুন করে সামনে এসেছে। ২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর নীনা কাওয়ারাজাকি (জামান চৌধুরী) ইউসিবির গুলশান করপোরেট শাখার ব্যবস্থাপকের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে জানান, ২০১২ সাল থেকে তাঁর প্রয়াত বাবা আখতারুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর নামে একটি স্থায়ী আমানত রয়েছে। তিনি ওই আমানত ভাঙিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

বাংলাদেশে না থাকায় তাঁর পক্ষে অর্থ গ্রহণের জন্য মা মিনাকো কাওয়ারাজাকিকে অনুমতি দেওয়ার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করেন নীনা। চিঠিতে ২৩ সেপ্টেম্বর ইউসিবির প্রাপ্তি সিল রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ডেইলি ওয়াদা পর্যালোচনা করা ২০১২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির একটি ইউসিবি স্থায়ী আমানতের রসিদেও আখতারুজ্জামান চৌধুরী ও নীনা কাওয়ারাজাকির নাম রয়েছে। ওই আমানতের পরিমাণ ছিল ১ কোটি টাকা এবং তিন মাস মেয়াদি আমানতের বার্ষিক সুদের হার ছিল ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১২ সালের ওই রসিদের হিসাব নম্বরটি নীনার ২০২৬ সালের আবেদনে উল্লেখ করা হিসাবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে আমানতটির বর্তমান স্থিতি, পরবর্তী সময়ে এটি নিয়মিত নবায়ন করা হয়েছিল কি না, মাঝখানে কোনো অর্থ তোলা হয়েছিল কি না কিংবা নীনার আবেদনের বিষয়ে ইউসিবি কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এসব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

মিনাকো ডেইলি ওয়াদাকে জানান, বাংলাদেশে আখতারুজ্জামানের আরেকটি পরিবার থাকার বিষয়টি তিনি পরে জানতে পারেন। তবে দুই পরিবারের জীবন কখনো একীভূত হয়নি বলেও জানান তিনি। কীভাবে তাঁদের পরিচয় হয়েছিল বা কী পরিস্থিতিতে বিয়ে হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি মিনাকো।

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর ব্যবসায়িক জীবনের সঙ্গে ইউসিবি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল। তবে ব্যাংকটির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক ও আইনি অভিযোগও ওঠে। ডেইলি ওয়াদার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালে তাঁর প্রতিষ্ঠানের নেওয়া ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংক তাঁকে ইউসিবির পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরিয়ে দেয়।

১৯৯৩ সালের এপ্রিলে ইউসিবির পরিচালক হুমায়ুন জহির ঢাকার ধানমন্ডিতে নিজ বাসভবনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ওই হত্যা মামলায় আখতারুজ্জামানসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগকে আদালতের চূড়ান্ত রায় হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

১৯৯৯ সালে ইউসিবির পরিচালনা পর্ষদের একটি সভায় আখতারুজ্জামানের পরিবারের সদস্য ও সশস্ত্র ব্যক্তিদের হামলার অভিযোগ ওঠে। পরিচালকদের পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ওই পর্ষদ ভেঙে দেয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ২০১০ সালে আখতারুজ্জামান আবার ইউসিবির পরিচালনা পর্ষদে ফিরে আসেন।

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ২০১২ সালের ৪ নভেম্বর সিঙ্গাপুরে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর কয়েক মাস আগে করা স্থায়ী আমানতের রসিদে নীনার নাম থাকার বিষয়টি এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

আখতারুজ্জামানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করেন তাঁর ছেলে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ। তিনি চট্টগ্রামের একটি আসনের সংসদ সদস্য এবং পরবর্তীতে ভূমিমন্ত্রী ছিলেন।

সাইফুজ্জামানের বিদেশি সম্পদ নিয়েও বিভিন্ন সময়ে তদন্ত ও অনুসন্ধান হয়েছে। ২০২৪ সালে আল জাজিরার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তাঁর যুক্তরাজ্যসহ বিদেশে বিপুল সম্পদের তথ্য তুলে ধরা হয়। সাইফুজ্জামান এসব সম্পত্তি বৈধ বিদেশি ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থে কেনা হয়েছে বলে দাবি করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বর্ণনা করেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার একটি আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পর সাইফুজ্জামানের যুক্তরাজ্যে থাকা ৫১৮টি সম্পত্তি জব্দের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, এসব সম্পত্তির মূল্য প্রায় ২৭ কোটি ১৮ লাখ ৫২ হাজার ৮৭২ পাউন্ড। বিষয়টি অর্থপাচারের অভিযোগের তদন্তের অংশ। এসব অভিযোগের এখনো বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি।

মিনাকো জানান, আখতারুজ্জামানের বাংলাদেশি পরিবারের সঙ্গে তাঁর কখনো দেখা হয়নি। তাঁর দুই মেয়ের সঙ্গেও ওই পরিবারের কোনো সদস্যের যোগাযোগ ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। জাপানি পরিবারটি সাইফুজ্জামানের কাছ থেকে হুমকি পেয়েছিল—এমন তথ্য কিছু সূত্র ডেইলি ওয়াদাকে দিলেও মিনাকো তা সরাসরি অস্বীকার করেছেন।

আখতারুজ্জামানের মৃত্যুর খবরও তিনি পরিবারের কাছ থেকে নয়, সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছিলেন বলে জানান। তাঁর দুই মেয়ে বাবার সম্পত্তিতে কোনো অংশ পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে মিনাকো বলেন, তাঁরা কিছু পাননি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে রাজি হননি তিনি।

নীনার সাম্প্রতিক ইউসিবি-যোগাযোগের উদ্দেশ্য এবং স্থায়ী আমানতের বিষয়ে মিনাকো মন্তব্য করতে চাননি। একইভাবে আমানতের বর্তমান অবস্থা বা নীনার আবেদনের বিষয়ে ব্যাংকের সিদ্ধান্তও প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা যায়নি। তথ্যসূত্র: ডেইলি ওয়াদা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীতে যুবদল কর্মী রনি হত্যা: পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪২ পি.এম


নোয়াখালীতে যুবদল কর্মী রনি হত্যা: পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি

নোয়াখালীর কবিরহাটে মৎস্য খামারি ও যুবদলের সক্রিয় কর্মী মিজানুর রহমান রনি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী হিসেবে মো.আব্দুল বাছেত হিরন ও এনামুল হক মাসুদের নাম উল্লেখ করে তাদেরসহ জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ফাঁসি দাবি করেছেন তারা।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে জেলা শহর মাইজদীর টাউন হল মোড়ের একটি দৈনিক পত্রিকার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত যুবদল কর্মী মিজানুর রহমান রনির পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন তার মা লাইলী বেগম, স্ত্রী সীমা আক্তার, মামা মোশারেফ হোসেন ও বোন শ্রাবণী আক্তার।

নিহতের পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মিজানুর রহমান রনি কবিরহাট উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের কালিরহাট বাজার এলাকার মৃত মো. শহিদ উল্যার ছেলে। তিনি মাছের প্রজেক্ট ও মুরগির খামারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন যুবদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানো, ফসলি জমির মাটি বিক্রি ও জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে স্থানীয় কিছু  রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে আওয়ামী সরকার পতনের পর তার বিরোধ দেখা দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক কারণে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং তিনি কারাগারে ছিলেন। ৫ আগস্টের পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি এলাকায় ফিরে আসেন। ওই সময় কবিরহাট উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মো.আব্দুল বাছেত হিরন ও নরোত্তমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মাসুদসহ কয়েকজন বিএনপির নাম ব্যবহার করে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাটি কাটা ও সালিশ-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন।

পরিবারের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতেন মিজানুর রহমান রনি। এমনকি স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়েও কথিত ‘হাইব্রিড বিএনপি’র বিরুদ্ধে তিনি বক্তব্য দেন। এ কারণে হিরন ও মাসুদসহ একটি পক্ষ তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১০ জানুয়ারি জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রনির শ্বশুর ও শ্যালক আরাফাত হোসেন ওরফে জামালের সঙ্গে একই এলাকার নূর মোহাম্মদ ওরফে বাচ্ছুর বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে বিরোধ মীমাংসার কথা বলে তাদের ডেকে নিয়ে মারধর করা হলে তারা গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় রনির সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধ আরও বেড়ে যায়।

তারা আরও জানান, ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টার দিকে অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তি মাছের প্রজেক্টের কাজের কথা বলে রনিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। ওই দিন রাত ৯টা ৫৯ মিনিটের দিকে রনির ভায়রা আবু তাহেরকে ফোন করে মাসুদ হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়। রনিকে কোনো ধরনের বাধা দিতে নিষেধ না করলে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, রনির মাছের প্রজেক্টের স্ট্যাম্প এনামুল হক মাসুদের কাছে ছিল। ওই স্ট্যাম্প ফেরত চাওয়া এবং তা ফেরত না দিলে বিনিয়োগ করা ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি করাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় ‘আলেম’ নামের এক ব্যক্তি রনিকক মারধর করেন।

পরিবারের দাবি, মারধরের পর প্রাণ বাঁচাতে রনি কালিরহাট বাজারের পেছনের উত্তর পাশের সড়কের দিকে দৌড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে হিরন ও মাসুদের যোগসাজশে একটি পক্ষ তার মাথা ও মুখমণ্ডলে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে ঘটনাটিকে গণপিটুনি হিসেবে প্রচার করা হয়। তাদের আরও দাবি, রনির মাথা ও মুখমণ্ডল ছাড়া শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। এমনকি তার পরনের শার্টের বোতামও ছেঁড়া ছিল না।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সীমা আক্তার বাদী হয়ে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি কবিরহাট থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবারের সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে আব্দুল বাচেত হিরন ও এনামুল হক মাসুদসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং আদালতের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

অভিযোগ অস্বীকার করে নরোত্তমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মাসুদ বলেন, ‘ভুক্তভোগী পরিবারের আইনি আশ্রয় নেওয়ার অধিকার আছে। তবে আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ মিথ্যা।’

কবিরহাট উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মো. আব্দুল বাছেত হিরন বলেন, ‘এ ঘটনায় আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমি চেয়ারম্যান প্রার্থী। একটি পক্ষ রাজনৈতিক ফায়দা নিতে এসব মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করাচ্ছে।’

এ বিষয়ে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া বলেন, মামলাটি বর্তমানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে তারা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%