বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৩২ এম
রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার মধ্যে যোগাযোগ ও বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত সেতু এবং সীমান্ত পথ খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হবে, এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রী আন্দ্রেই নিকিতিন।
রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের শহর ভ্লাদিভোস্তকে আয়োজিত ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরামের (ইইএফ) ফাঁকে রুশ সংবাদ সংস্থা তাস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন।
মন্ত্রী জানান, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সীমান্তবর্তী হাসান সড়ক সীমান্ত পারাপার কেন্দ্র এবং নবনির্মিত সড়ক সেতুটি সর্বসাধারণ ও পণ্য পরিবহনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই অবকাঠামো চালু হওয়ার ফলে দুই দেশের মধ্যে প্রথমবারের মতো সরাসরি সড়ক পথ দিয়ে যান চলাচল শুরু হবে। দীর্ঘদিন ধরে এই দুই দেশের মধ্যে সীমিত পরিসরে কেবল রেল যোগাযোগ ছিল, কিন্তু সরাসরি সড়ক সংযোগ না থাকায় পণ্য পরিবহনে যে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছিল, এই উদ্যোগের ফলে তা চিরতরে অবসান ঘটবে।
আন্দ্রেই নিকিতিন তার বক্তব্যে নতুন এই সংযোগের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশদভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হলে দুই অঞ্চলের লজিস্টিকস খাত অভূতপূর্ব অগ্রগতি লাভ করবে। এর ফলে পরিবহন সংক্রান্ত বিলম্ব দূর হবে, ব্যবসায়ীদের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে গড়ে ওঠা কৌশলগত ও কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতার প্রেক্ষাপটে এই সড়ক সংযোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: তাস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনের অন্তত ১ হাজার ৩৩০ জন সেনা নিহত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রুশ সেনাদের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে ফ্রন্টলাইনের বিভিন্ন এলাকায় এই বিপুল প্রাণহানি ঘটেছে।
ব্যাটেলগ্রুপ সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় সবচেয়ে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, যেখানে ৪১০ জনের বেশি সেনার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও, ব্যাটেলগ্রুপ ইস্ট ও নর্থের হামলায় আরও অনেক সেনা প্রাণ হারিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
মস্কো জানিয়েছে, সেনা ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি তারা ইউক্রেনের জ্বালানি, পরিবহন এবং সামরিক অবকাঠামোগুলোতে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে। রুশ বিমান বাহিনী, ড্রোন ইউনিট এবং ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর যৌথ হামলায় ইউক্রেনের সামরিক এয়ারফিল্ড, লজিস্টিক কেন্দ্র এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পসহ মোট ১৫২টি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কয়েকটি অঞ্চলে বিমান হামলা পরিচালনা করতে গেটেবল ড্রোন ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ করে কিয়েভ অঞ্চলের ভিশনেভোয়ে শহরের কাছে ‘স্টেলার জেট’ নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক সেন্টারে রাশিয়ার হেরান-৪ সিকার ড্রোন সফল আঘাত হানে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সামরিক অগ্রগতি এবং ভূখণ্ড দখলের বিষয়ে মস্কো দাবি করেছে যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক এলাকা এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লড়াইয়ের মুখে খারকিভ অঞ্চলের কাজাচ্যা লোপান এবং দোনেৎস্ক এলাকার পবিত্র শহর স্বিয়াতোগর্স্ক সম্পূর্ণ মুক্ত করেছে রাশিয়ার ব্যাটেলগ্রুপ। বর্তমানে স্বিয়াতোগর্স্কের বিভিন্ন ভবনে তল্লাশি চালিয়ে পলায়নরত বা লুকিয়ে থাকা সেনাদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন এই অঞ্চলের সাম্প্রতিক সাফল্য তুলে ধরে জানান যে, গেল এক মাসের ব্যবধানে তারা অন্তত ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ নিজেদের দখলে নিয়েছেন।
সূত্র: তাস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরে গত কয়েকদিন ধরে ইলিশের আমদানি কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও, ক্রেতাদের জন্য আশানুরূপ দাম কমেনি, যা তাদের হতাশ করেছে। বিক্রেতাদের দাবি, অন্যান্য বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ মাছও ঘাটে আমদানি হচ্ছে না, ফলে তাদের লোকসান হচ্ছে।
বুধবার মাছঘাট পরিদর্শন করে দেখা গেছে, স্থানীয় জেলেদের জালে ইলিশের পরিমাণ কম হলেও, সাগর অঞ্চল থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩শ’ থেকে ৪শ’ মণ ইলিশ আমদানি হচ্ছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, যদিও ইলিশের আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে, তবুও দাম কমেনি। বিক্রেতাদের মতে, অন্যান্য বছরের তুলনায় ইলিশের আমদানি অনেক কম, যার কারণে দাম বেশি হচ্ছে।
ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন জানান, ইলিশের মৌসুম শেষের দিকে। অন্যান্য বছর এই সময় হাতিয়া, সন্দীপ, চর আলেকজান্ডার, পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় অঞ্চল থেকে প্রচুর ইলিশ চাঁদপুর বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে আসতো। গত বছর থেকে সেই পরিমাণে ইলিশ আসা একেবারে কমে গেছে। বর্তমানে যে পরিমাণ ইলিশ আমদানি হচ্ছে, তার দাম অনেক বেশি। এর ফলে ব্যবসায়ীদের লোকসান হচ্ছে। এক মাস পর মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান শুরু হবে, তখন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে বেচা-বিক্রি বন্ধ থাকবে। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।
ক্রেতা কুদ্দুছ মুন্সী ও শাহজাহান সিদ্দিকী বলেন, ইলিশের আমদানি বৃদ্ধি পেলেও দাম না কমায় তারা হতাশ। ইলিশের মৌসুম হওয়ায় ঢাকা, কুমিল্লা, নোয়াখালি, লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মাছ কিনতে চাঁদপুর ঘাটে আসছে। তবে, বাজারে মাছের দাম কমেনি, এবং চাঁদপুরের বাজারে বিক্রেতারা ইলিশের দাম কিছুটা বেশি হাঁকছেন।
বর্তমানে পাইকারি বাজারে ১ কেজি থেকে ১২০০ গ্রামের ইলিশের দাম ৩ হাজার থেকে ৩১০০ টাকা, ১ কেজি ওজনের ২৬০০ থেকে ২৮০০ টাকা, ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রামের ইলিশ ২৩০০ থেকে ২৫০০ টাকা, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ১৮০০ থেকে ২২০০ টাকা এবং ছোট ১ হালি ৯০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাই দুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজ থেকে ৮০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের মোট ওজন প্রায় ৯.৩৩ কেজি। এই স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ কামরুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি একটি গণমাধ্যমকে জানান, বুধবার রাত ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে এসব স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তবে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
কাস্টমস হাউসের সূত্র থেকে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা কাস্টমস হাউসের একটি দল গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সদস্যদের নিয়ে ফ্লাই দুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে অভিযান চালায়। এ সময় ফ্লাইটের একটি সিটের নিচে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ৮০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।
কাস্টমস হাউসের সূত্র জানায়, এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা এবং স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, পশ্চিমারা নিজেদের উদ্যোগে দেয়াল তুলে সম্পর্ক ছেদ করলেও রাশিয়া কখনোই ইউরোপের পিছু ছুটবে না এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য আকুতি জানাবে না। তিনি এই মন্তব্যটি রাশিয়ার ভ্লাদিভোস্তক শহরে অনুষ্ঠিত 'ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরাম' (ইইএফ)-এর একটি বিশেষ বক্তৃতায় করেন।
ল্যাভরভ বলেন, রাশিয়া কখনোই ইউরোপ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়নি এবং পারস্পরিক সম্পর্কের মাঝে দেয়াল তোলেনি। বরং, ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এই দূরত্ব তৈরি হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো মনে করেছিল যে, গত বছরের পারস্পরিক সহযোগিতা রাশিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তাই নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর মস্কো ক্ষমা চেয়ে তাদের কাছে ফিরে যাবে। তবে, তিনি এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল বলে উল্লেখ করেন এবং জোর দিয়ে বলেন, এমন কিছু কখনো ঘটবে না।
সের্গেই ল্যাভরভ আরও উল্লেখ করেন যে, রাশিয়ার নিজস্ব জাতীয় মর্যাদা ও আত্মসম্মানবোধ রয়েছে এবং রাশিয়া কারো অনুকম্পার ওপর নির্ভরশীল নয়। তিনি বলেন, মস্কো ইউরোপের সদিচ্ছার ওপর বিন্দুমাত্র নির্ভরশীল নয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়ার পর্যাপ্ত বন্ধু ও অংশীদার রয়েছে যারা সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বর্তমানে রাশিয়ার সাথে সৎ ও সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সূত্র: তাস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ