ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি ইরানের বিপ্লবী গার্ডের


বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি ইরানের বিপ্লবী গার্ডের

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মঙ্গলবার তথ্য প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে।

এই হামলার ফলে বাহরাইন সরকারের তরফ থেকে দেশটির নাগরিকদের উদ্দেশ্যে সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আবেদন করা হয়। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন জায়গায় সাইরেন বাজানো শুরু করা হয়।

এ ব্যাপারে খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি প্রদান করেছে।

আরও পড়ুন: ঢামেকে ভুয়া চিকিৎসক মো. রাকিব আটক, থানায় হস্তান্তর

এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি জানিয়েছে যে, ইরানের আইআরজিসি গার্ডদের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, ‘বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত একাধিক অস্ত্র সহায়তা গুদাম, একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র এবং মার্কিন সেনাদের আবাসিক ভবনকে লক্ষ্যবস্তু করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অবৈধ অবস্থানকারীদের দুঃসংবাদ দিল সৌদি আরব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১১ এম


অবৈধ অবস্থানকারীদের দুঃসংবাদ দিল সৌদি আরব

সৌদি আরবের সরকার অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। দেশটিতে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করলে বড় অঙ্কের জরিমানা, কারাদণ্ড ও নির্বাসনের মুখোমুখি হতে হবে।

সোমবার গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা একটি গুরুতর অপরাধ। এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা করা হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ১৬ লাখ টাকারও বেশি।

জরিমানার পাশাপাশি অপরাধীকে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে তাকে সৌদি আরব থেকে নির্বাসন দেওয়া হবে এবং এরপর তাকে সৌদি আরবে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।

সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আবাসন ও শ্রমবিষয়ক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো প্রবেশ ভিসার অপব্যবহার রোধ করা এবং দর্শনার্থীরা যাতে অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন অবস্থান না করেন, সেটা নিশ্চিত করা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটির নাগরিক ও বাসিন্দাদের প্রতি একটি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে। আবাসন, শ্রম এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা সন্দেহজনক মনে হলে তা কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য বলা হয়েছে।

এই তথ্য জানানোর জন্য একটি হটলাইন ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে। মক্কা, মদিনা, রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের বাসিন্দারা ৯১১ নম্বরে ফোন করে তথ্য দিতে পারবেন। দেশের অন্য সব অঞ্চলের জন্য ৯৯৯ নম্বরে ফোন করতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, শ্রমবাজার রক্ষা করা এবং আইন লঙ্ঘনের ঘটনা কমিয়ে আনতেই এই কঠোর পদক্ষেপ কার্যকর করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ বর্তমানে আবাসন, শ্রম এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে। এই অভিযানের মধ্যেই নতুন এই নির্দেশনা জারি করা হলো।

সূত্র: গালফ নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫৩ হাজারের বেশি বিদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৪ এম


৫৩ হাজারের বেশি বিদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা

দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার জানিয়েছে, ‘অভিবাসন ব্যবস্থাপনা’ অভিযানটি পাঁচ সপ্তাহ আগে শুরু হয়েছে, এবং এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ৫৩ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো বা নির্বাসিত করা হয়েছে।

কর্মকর্তাদের মতে, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ মালাউই, জিম্বাবুয়ে ও মোজাম্বিকের নাগরিক।

অভিযান চলমান থাকায় এই সংখ্যাটি আরো বাড়তে পারে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভের পর সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন ও লুটপাটের ঘটনার প্রেক্ষিতে, দক্ষিণ আফ্রিকা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এই বছরের অন্যতম বৃহৎ অভিযান পরিচালনা করছে।

বিক্ষোভকারীরা গোল বাঁধাচ্ছে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে কঠোরতা এবং গণ নির্বাসনের দাবি তুলছে, এবং অভিবাসীদের উচ্চ বেকারত্ব, ক্রমবর্ধমান অপরাধের হার ও সরকারি পরিষেবাগুলোর পতনের জন্য দায়ী করছে।

অপরদিকে, জাতিসংঘ সক্রিয়ভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার জনগণের কাছে আহ্বান জানাচ্ছে যে, অভিবাসীদের দায়ী না করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে যে, অভিবাসীদের বলির পাঁঠা বানানো পরিস্থিতি জটিল হয়ে যেতে পারে। অভিবাসনবিরোধী আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন এমন ঘোষণা দিয়েছেন। এতে নতুন করে সহিংসতার সম্ভাবনা উজ্জীবিত হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা ৩০ জুনকে নির্ধারিত অনানুষ্ঠানিক সময়সীমা হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যাতে সকল নথিপত্রহীন অভিবাসী দেশ ত্যাগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে, সহিংসতা ও ভীতি এড়াতে অনেক বিদেশি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফিরে নিজ দেশে চলে গেছেন। ঘানা, নাইজেরিয়া, উগান্ডা ও কেনিয়াসহ কিছু দেশ সম্প্রতি তাদের নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিচার ও সাংবিধানিক উন্নয়নমন্ত্রী মামোলোকো কুবাইয়ি জানান, বর্তমানে ৫৩ হাজার ৪৯৯ জন বিদেশি নাগরিককে নির্বাসন বা দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নাগরিক মালাউইয়ের। এছাড়াও জিম্বাবুয়ে ও মোজাম্বিকের নাগরিকরাও রয়েছেন।

রবিবার প্রিটোরিয়ায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে, কুবাইয়ি বলেন, সরকার একটি সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে, যা জনগণের উদ্বেগ বিবেচনায় নেবে এবং নাগরিকত্ব বা অভিবাসন অবস্থার ওপর নির্ভর করে মানবাধিকার ও মর্যাদাকে নিশ্চিত করবে।

তিনি আরো জানান, অভিযান পরিচালনার সময় কয়েকজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ ছিল। তিনি আরও বলেন, কর্তৃপক্ষ অভিবাসন আইন প্রয়োগ অব্যাহত রাখতে আগ্রহী। তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, বিক্ষোভকারীরা যেনো অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়া বাড়ি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অননুমোদিত তল্লাশি না চালায়।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা অভিবাসনের বিষয়টিতে জনগণের উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করেছেন, তবে অভিবাসীদের ওপর হামলার নিন্দা জানান এবং নাগরিকদের আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য সতর্ক করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে ধনী দেশ হিসেবে দীর্ঘকাল ধরে উন্নত অর্থনৈতিক সুযোগের সন্ধানে আসা অভিবাসীদের আকর্ষণ করে আসছে, এবং তাদের মধ্যে কিছু ব্যক্তি অবৈধভাবে প্রবেশ করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মহিলা কলেজে চাকরির জেরে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারিকে অব্যাহতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৯ এম


মহিলা কলেজে চাকরির জেরে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারিকে অব্যাহতি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া জেলা শাখার সেক্রেটারি সুজাউদ্দিন জোয়ার্দারকে মহিলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকার কারণে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক নির্দেশনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সুজাউদ্দিন জোয়ার্দারের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কুষ্টিয়া শহর জামায়াতের আমির এনামুল হক দায়িত্ব পেয়েছেন।

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মহসিন সোমবার (১৩ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জেলা জামায়াতের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো পুরুষ সদস্য নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে তিনি জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য হন। এই নীতিমালার আলোকে সুজাউদ্দিন জোয়ার্দারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং সর্বসম্মতিক্রমে এনামুল হককে নতুন জেলা সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত জেলা কর্মপরিষদের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ বিষয়ে সুজাউদ্দিন জোয়ার্দার জানান, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরা রুকন বা দায়িত্বশীল পদে থাকতে পারেন না। কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত সারাদেশের জন্য প্রযোজ্য হওয়ায় তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তে তার কোনো ক্ষোভ বা অসন্তোষ নেই বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, জেলা সেক্রেটারি হওয়ার আগে তিনি দৌলতপুর উপজেলার বাগোয়ান ড. ফজলুল হক গার্লস কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছিলেন। সে সময়ে গঠনতন্ত্রের এ বিধান শিথিল থাকায় দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা ছিল না। তিনি আশা করেন, ভবিষ্যতে চাকরি ছেড়ে দিলে পুনরায় দায়িত্বে বহাল হওয়ার সুযোগ থাকবে।

নবনিযুক্ত জেলা সেক্রেটারি এনামুল হক বলেন, দলের সিদ্ধান্তে তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তিনি দলের অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের অঙ্গীকার করেছেন। জেলা আমির অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মহসিন জানান, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারাদেশে নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমন সাতজন দায়িত্বশীল নেতাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কুষ্টিয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সর্বসম্মতিক্রমে নতুন জেলা সেক্রেটারি হিসেবে এনামুল হককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেত্রকোনায় সাত মাসে বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল ১৩ জনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২৭ এম


নেত্রকোনায় সাত মাসে বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল ১৩ জনের

 

বর্ষার সময় এলেই নেত্রকোনা অঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলজুড়ে বজ্রপাতের আতঙ্ক নেমে আসে। ভয়ে দিন পার করে এই অঞ্চলটির প্রান্তিক জনপদের মানুষ।

গত ৭ মাসে এই অঞ্চলটিতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৩ জন।

এছাড়া গত সাড়ে পাঁচ বছরে বজ্রপাতের কারণে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬০ জন। জেলা পর্যায়ের তথ্যে দেখা যায়, ২০২১ সালে বজ্রপাতে ১৫ জন, ২০২২ সালে ৩ জন, ২০২৩ সালে ১২ জন, ২০২৪ সালে ৫ জন, ২০২৫ সালে ১২ জন এবং চলতি ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু ঘটেছে।

বজ্রাঘাতে নিহতদের বেশির ভাগই কৃষক, জেলে এবং নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ। জীবিকার প্রয়োজনে প্রতিদিনই তাদের বাধ্য হয়ে বজ্রপাত আতঙ্ক মাথায় নিয়েই নামতে হয় খোলা মাঠ, বিল ও হাওরের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে। ফলে বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের সবচেয়ে বড় শিকার তারাই হয়ে যান। জেলার খালিয়াজুরী, মদন, মোহনগঞ্জ, কেন্দুয়া, পূর্বধলা ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল বজ্রপাতের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরের বৃষ্টিতে বাড়ির পাশের জমিতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন মদন উপজেলার জয়পাশা গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক রাজিব মিয়া (২৪)। পরিবারের জন্য মাছ নিয়ে ফিরবেন এমন আশা ছিল তার। কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হয়নি। হঠাৎ আকাশ চিরে নেমে আসা বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। ১৮ জুন একই দিনে কেন্দুয়া উপজেলার মোড়াইল বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান শামসুল হুদা (৫৫) এবং সান্দিকোনা এলাকায় প্রাণ হারান আশরাফুল ইসলাম (২৫)। এক দিনে তিনজনের মৃত্যুতে শোক নেমে আসে পরিবারগুলোতে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে এলাকা।

খালিয়াজুরীর মেন্দিপুর গ্রামের কৃষক সামছুল হক বলেন, ‘হাওরে কাজ করতে গেলে আকাশের অবস্থা সব সময় বোঝা যায় না। অনেক সময় হঠাৎ মেঘ করে বজ্রপাত শুরু হয়। আশপাশে কোনো ঘর বা নিরাপদ জায়গা না থাকায় আতঙ্কের মধ্যেই থাকতে হয়।’

এছাড়া জেলেদেরও একই অভিজ্ঞতা রয়েছে। মাছ ধরার সময় বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে নৌকা নিয়েই ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হয় তাদের।

নেত্রকোনা কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ মো. মামুন জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ছে। এর ফলে বায়ুমণ্ডলে অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে এবং বজ্রমেঘ সৃষ্টির প্রবণতা বাড়ছে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিস্থিতির পরিবর্তনের ওপর প্রভাব রয়েছে। বজ্রপাত মূলত ‘কিউমুলোনিম্বাস’ বা সিবি মেঘ থেকে সৃষ্টি হয়। এখন নির্বিচারে গাছ কাটার কারণে প্রাকৃতিক সুরক্ষা কমে গেছে। তাই হাওর এলাকায় তালগাছসহ উঁচু গাছ লাগানোর উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন।

জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানান, হাওরের বিশাল এলাকায় শুধু বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন করে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন। খোলা মাঠে কৃষক ও জেলেদের জন্য বিশেষ শেল্টার জোন বা নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র প্রয়োজন যেখানে আকস্মিক দুর্যোগের সময় কৃষক ও জেলেরা দ্রুত নিরাপদে যেতে পারবেন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবগত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আশ্রয়কেন্দ্রে বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা ছাড়াও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এর কারিগরি দিক ও স্থান নির্বাচন করতে মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ দল সরেজমিন পরিদর্শন করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%