ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিলুপ্তির পথে গ্রামবাংলার ‘গরিবের এসি বাড়ি’


বিলুপ্তির পথে গ্রামবাংলার ‘গরিবের এসি বাড়ি’

আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী মাটি ও ছনের ঘর হারিয়ে যাচ্ছে। জায়গা দখল করছে ইট-পাথরের দালান ও টিন। শীত-গ্রীষ্ম সব ঋতুতেই মাটির ও ছনের ঘর বেশ আরামদায়ক। এই ঘরগুলো গ্রাম বাংলার চির ঐতিহ্যের নিদর্শন এবং ছায়া ঘেরা শান্তির নীড় ছিল। এর আগের সময়ে এই ঘরগুলো গ্রামের মানুষের কাছে ‘গরিবের এসি বাড়ি’ নামে পরিচিত ছিল। তবে কালের বিবর্তনে এই ঐতিহ্যের মাটির ঘর হারিয়ে যেতে বসেছে। আধুনিকতার ছোঁয়া মাটির ঘরের জায়গায় এনে দিচ্ছে ইটের বাহারী দালান।

মানুষের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা, প্রযুক্তির উন্নয়ন, রুচিবোধের পরিবর্তন এবং পারিবারিক নিরাপত্তা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে নিজেদের সুরক্ষার কারণে আজকাল আর কেউ মাটি ও ছনের ঘরে থাকতে চান না। সচ্ছলরা ঝুঁকে পড়েছেন পাকা দালানের দিকে। তবুও মানুষ যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাকা দালান কোঠা তৈরি করছেন। এই কারণেই আধুনিকতার ছোঁয়া এবং সময়ের পরিবর্তনে গ্রাম বাংলা থেকে ঐতিহ্যবাহী মাটির তৈরি ঘর আজ বিলুপ্তির পথে।

একদিন হয়তো সেই মাটিও ছনের ঘরের স্থান হবে ইতিহাসে অথবা যাদুঘরে। মানুষের আর্থিক সামর্থ্য এবং রুচির পরিবর্তনের ফলে গ্রাম থেকে হারিয়ে যাচ্ছে মাটি ও ছনের ঘর।

আরও পড়ুন: তেলের দাম কমবে কবে: রুশ উপপ্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন চা বাগানে এখনো কিছু মাটির ঘর দেখা যায়। তবে সেগুলোও বেশিদিন থাকবে না। আধুনিকতার ছোঁয়া পৌঁছে গেছে বাগানগুলোতেও। প্রায় সব বাগানেই দালানকোঠা তৈরি হচ্ছে। যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে এখন অনেকে ইটের ঘর তৈরি করছে, ফলে মাটির ঘর ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। তাদের ছেলে-মেয়েরা যেন মাটির ঘর দেখতে পারে, তাই অনেকে গ্রামে কিছু ঘর রেখে দিয়েছেন। তবে সেটাও বিরল। বর্তমানে মাটিও ছনের ঘরের সংখ্যা কমতে কমতে প্রায় বিলুপ্তির কাছাকাছি। হয়তো খুব দ্রুতই সেদিন আসবে, যেদিন মাটির ঘরের কথা মানুষের মন থেকে হারিয়ে যাবে। আগামী প্রজন্মের কাছে মাটি ও ছনের ঘর রূপকথার গল্পের মতো মনে হবে।

কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ও আলীনগর চা বাগানের বিভিন্ন টিলায় মাটির ঘর এখনও রয়েছে। চা শ্রমিকরা পরিবার পরিজন নিয়ে নিজস্বভাবে বসবাস করছেন। তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা তেমন ভালো নয়, তাই আধুনিকতার ছোঁয়া সেখানে লাগেনি। তবে তারা জানান, আগের তুলনায় এখন মাটির ঘর খুব কম রয়েছে। হয়তো সেটাও থাকে না। হয়ে যাবে দালান কোঠা। পরবর্তী প্রজন্ম তাদের কাছে মাটির ঘরের গল্প, কবিতার ছন্দে বা সাহিত্যর পাতায় দেখা ছাড়া কিছুই থাকবে না। নতুন প্রজন্মের কাছে নাটক, সিনেমা ও গল্প কাহিনী রয়ে যাবে।

মাটির ঘরের কারিগর শাহীন, রুস্তম ও কনা মিয়া বলেন, মাটির ঘর তৈরি করতে কারিগরদের তিন থেকে চার মাসের অধিক সময় লাগতো। মজুরি হিসাবে একটি ঘরের জন্য ৩০-৩৫ হাজার টাকা নিতেন। এখন আর কেউ মাটির ঘর নির্মাণ করে না। তাই আমাদেরও আগের মতো কাজ নেই। এখন অন্য কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে।

আনু মিয়া বলেন, মাটির ঘর বসবাসের জন্য আরামদায়ক হলেও যুগের বিবর্তনে অধিকাংশ মানুষ মাটির ঘর ভেঙে অধিক নিরাপত্তা ও কম জায়গায় অনেক লোকের বসবাসের জন্য ইটের ঘরকে প্রথম পছন্দের তালিকায় নিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, মাটির ঘর শীত গরম উভয় মৌসুমে বেশ আরামদায়ক।

আরও পড়ুন: অরেগনের স্কুলে গুলিতে নিহত ৪, আহত ২; শোকে স্তব্ধ শহর

বেলা নামের একজন জানান, যুগ যুগ ধরে তারা মাটির ঘরে বসবাস করছেন। তাদের তেমন টাকা পয়সা নেই পাকা ঘরে থাকার। আরামের জন্য মাটির ঘরই ভালো। তিনি বলেন, বর্তমানে তাদের বাগানে মাটির ঘরের স্থান দখল করেছে ইট, সিমেন্ট, বালি ও রডের তৈরি পাকা ঘর। মাটির ঘরগুলো বন্যা ও ঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি হয় বলেই মানুষ ইট সিমেন্টের ঘরবাড়ি নির্মাণে আগ্রহী হচ্ছেন। প্রতি বছর মাটির ঘরে খরচ না করে একবারে বেশি খরচ করলেও পাকা ঘরবাড়িই নির্মাণ করছেন। তবে এখন মাটির ঘরের সংখ্যা কমতে কমতে প্রায় বিলুপ্তির কাছাকাছি। সেই দিন খুব বেশি দূরে নয়, যেদিন মাটির ঘরের কথা মানুষের মন থেকে হারিয়ে যাবে। আগামী প্রজন্মের মানুষের কাছে মাটির ঘর রূপকথার গল্পের মতো মনে হবে।

মাটির ঘর কেন কমে যাচ্ছে সে ব্যাপারে জানতে চাইলে কমলগঞ্জের লেখক, গবেষক আহমদ সিরাজ বলেন, মানুষ এখন কর্মমুখী। মানুষের আয়-রোজগার বাড়ার কারণে মানুষ দিন দিন শৌখিন হয়ে উঠছেন। জেলার প্রচুর মানুষ বিভিন্ন দেশে গিয়ে অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হয়েছেন। প্রবাসীরা ও সচ্ছল ব্যক্তিরা তাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে মাটির ঘরে থাকতে চাইছেন না। এ জন্য মাটির ঘর ভেঙে বিভিন্ন ধরনের ডিজাইন করে পাকা দালানকোঠা নির্মাণ করছেন। বর্তমানে মাটির ঘরের সংখ্যা কমতে কমতে প্রায় বিলুপ্তির কাছাকাছি। হয়তো সেদিন খুব বেশি দূরে নয়, যেদিন মাটির ঘরের কথা মানুষের মন থেকে হারিয়ে যাবে। আগামী প্রজন্মের মানুষের কাছে মাটির ঘর রূপকথার গল্পের মতো মনে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শনিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও শপিংমল বন্ধ থাকবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:১২ এম


শনিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও শপিংমল বন্ধ থাকবে

প্রতিদিন মানুষের কিছু না কিছু কেনাকাটার প্রয়োজন হয়। মানুষ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতেও যায়। প্রয়োজনীয় কেনাকাটা কিংবা ঘুরতে গিয়ে যদি দেখেন যে ওই এলাকার মার্কেট বন্ধ, তাহলে মনটাই খারাপ হয়ে যায়। এর সঙ্গে সময়ও নষ্ট হয়।

এই কারণে, বাসা থেকে বের হওয়ার আগে জেনে নেয়া জরুরি যে শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর কোন কোন এলাকার দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ থাকবে।

শহরের বিভিন্ন জায়গার মধ্যে শ্যামবাজার, বাংলাবাজার, চাঁনখারপুল, গুলিস্তানের দক্ষিণ অংশ, জুরাইন, করিমউল্লাহবাগ, ধোলাইখাল, জয়কালী মন্দির, যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ, টিপু সুলতান রোড, ধূপখোলা, গেন্ডারিয়া, নবাবপুর, সদরঘাট, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, দয়াগঞ্জ, ওয়ারী, স্বামীবাগ, আহসান মঞ্জিল, লালবাগ, কোতোয়ালি থানা, পোস্তগোলা, শ্যামপুর, মীরহাজারীবাগ, দোলাইপাড়, বংশাল, পাটুয়াটুলী, ফরাশগঞ্জ, শাঁখারী বাজার।

অন্যদিকে, নিম্নলিখিত মার্কেটগুলোও বন্ধ থাকবে: ইসলামপুর কাপড়ের দোকান, ছোট কাটরা, বড় কাটরা হোলসেল মার্কেট, নয়াবাজার, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, সামাদ সুপার মার্কেট, রহমানিয়া সুপার মার্কেট, ইদ্রিস সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ বাজার, ফরাশগঞ্জ টিম্বার মার্কেট, শ্যামবাজার পাইকারি দোকান, কাপ্তান বাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেট, ধূপখোলা মাঠবাজার, চকবাজার, ফুলবাড়িয়া মার্কেট, সান্দ্রা সুপার মার্কেট, বাবুবাজার, শারিফ ম্যানসন ও আজিমপুর সুপার মার্কেট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের যেসব এলাকায় সকাল থেকে টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:১৫ এম


দেশের যেসব এলাকায় সকাল থেকে টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে

ফিডার স্থানান্তর কাজের জন্য আজ শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল থেকে সুনামগঞ্জের কয়েকটি এলাকায় টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে হাছনরাজা তোরণ পর্যন্ত চার লেনে উন্নীতকরণ কাজের অংশ হিসাবে সড়ক ও জনপদ বিভাগের সামনের ১১ কেভি থানা ও ১১ কেভি আমবাড়ি ফিডার স্থানান্তর করা হবে।

এ জন্য সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত থানা ফিডারের আওতাধীন পিটিআই স্কুল এরিয়া, আমপাড়া, জামতলা, পুরাতন বাস স্ট্যান্ড, সোমপাড়া, আরপিন নগর (আংশিক), মুক্তার পাড়া, পৌরবিপনি, কালীবাড়ী, বালুর মাঠ, উকিলপাড়া, কাজির পয়েন্ট, প্রিয়াঙ্গ মার্কেট এলাকা, এসপি বাংলো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

গ্রাহকের সাময়িক অসুবিধার জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, সুনামগঞ্জ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
প্রেস ব্রিফিংয়ে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার

নাটোরে মন্ত্রী-হুইপের পথসভায় আটক যুবকের পিস্তলটি ছিল প্লাস্টিকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২০ এম


নাটোরে মন্ত্রী-হুইপের পথসভায় আটক যুবকের পিস্তলটি ছিল প্লাস্টিকের

নাটোরের উত্তরা গণভবনের সামনে বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং জাতীয় সংসদের হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর পথসভাস্থল থেকে এক যুবককে পিস্তলসহ আটক করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া পিস্তলটি আসল নয়, এটি প্লাস্টিকের তৈরি।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নাটোর সদর থানার আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইফতেখায়ের আলম এ তথ্য জানালেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আটক যুবকের নাম শামস আলামিন তামিম। তিনি নাটোর শহরের কানাইখালী এলাকার মৃত শামসুল আলমের ছেলে। উত্তরা গণভবন পরিদর্শন শেষে, মন্ত্রী ও হুইপের অংশ নেওয়া পথসভাস্থলে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন তামিম। যখন মঞ্চ থেকে মন্ত্রী ও হুইপ নেমে যাচ্ছিলেন, তখন তাকে তল্লাশি করা হলে উদ্ধার করা হয় একটি পিস্তল।

পুলিশ কার্যক্রমের পর নিশ্চিত হয়, উদ্ধার করা পিস্তলটি কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নয়, বরং এটি প্লাস্টিকের তৈরি। তবে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, তিনি কামনা করছেন যে ওই যুবক কেন প্লাস্টিকের পিস্তল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি ও ভিভিআইপি নিরাপত্তা এলাকার কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

শুক্রবার বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে পিস্তলসহ আটকের পর, শামস আলামিন তামিম জানিয়েছেন, পিস্তলটি তার বাবার লাইসেন্স করা এবং সেটি তার নিজের নিরাপত্তার প্রয়োজন ছিল, বলেও দাবি করেছেন তরুণ। তিনি নিজেকে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অবসরে যাওয়া ৭৫ হাজার শিক্ষকের পাশে প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২২ এম


অবসরে যাওয়া ৭৫ হাজার শিক্ষকের পাশে প্রধানমন্ত্রী

অবসরে যাওয়া ৭৫ হাজার বেসরকারি শিক্ষকের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সকল শিক্ষকের অবসর ও কল্যাণের টাকা পরিশোধের জন্য এককালীন দুই হাজার কোটি টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী অতি দ্রুত এই টাকা ছাড়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১৫ আগস্ট শিক্ষকরা একযোগে পাচ্ছেন অবসর-কল্যাণের টাকা।

বেসরকারি শিক্ষকদের শেষ জীবনের সম্বল বলতে তাঁদের অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের এককালীন টাকা। শিক্ষকরা শেষ জীবনে হজ করা, নিজের চিকিৎসা, মেয়ের বিয়ে বা ছেলেকে ব্যবসা ধরিয়ে দিতে এই টাকার ওপরই ভরসা রাখেন।

কিন্তু ২০২২ সাল থেকে যেসব শিক্ষক অবসরে গেছেন, তাঁরা অবসর-কল্যাণের টাকা না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। এই টাকা পেতে তাঁরা দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। প্রধানমন্ত্রী টাকা পরিশোধের অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন বিএনপি সরকারের মেয়াদ ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই। এটি বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে শিক্ষকসমাজ মনে করছেন।

এই বিষয়ে, গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বৈঠক করেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণের টাকা পরিশোধে এককালীন দুই হাজার কোটি টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেন, ‘শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণের টাকা পরিশোধের ব্যাপারে আমরা খুবই চিন্তিত ছিলাম। কারণ ২০২২ সাল থেকে যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁরা এখনো কোনো টাকা পাননি। শিক্ষকরা প্রতি মাসে নিজেরা চাঁদা দেন এবং সরকার একটি অংশ দেয়। কিন্তু গত ১৭ বছরে সেই জামানতের অনেক টাকাই বেহাত হয়েছে। আবার দুর্বল ব্যাংকেও অনেক টাকা আটকে রয়েছে। আমরা আগে থেকেই এই খাতে অর্থ বরাদ্দের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর চিন্তা-চেতনা বিশাল। শিক্ষকদের জন্য তাঁর ভালোবাসা অন্য যে কারো চেয়ে বেশি এবং প্রধানমন্ত্রী সবাইকে তাঁদের অবসরের টাকা দিতে চান। এ জন্য আমাদের কাজ করার নির্দেশ দেন।’

আবদুল খালেক বলেন, ‘এরপর আমরা বিস্তারিত হিসাব করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাই। কিন্তু যে টাকা প্রয়োজন তা সরকার একবারে দেওয়ার জন্য সম্ভব নয়। তাই একাধিক ধাপে অবসরের টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রথম ধাপে শিক্ষকরা যে টাকা জমা রেখেছিলেন, তা পরিশোধে সম্মতি দেন প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য প্রয়োজন ছিল দুই হাজার ১০০ কোটি টাকা। একবারে প্রধানমন্ত্রী দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। বাকি ১০০ কোটি টাকা অবসর-কল্যাণের ফান্ড থেকে নেওয়া হচ্ছে। ফলে ৭৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী সবাই একবারে পাচ্ছেন পাঁচ থেকে সাত লাখ পর্যন্ত টাকা। আবার ছয় মাস পর বা তার আগেই দ্বিতীয় ধাপের টাকা পরিশোধ করা হবে।’

শিক্ষাসচিব বলেন, ‘এখন অবসর সুবিধা বোর্ডে আবেদন জমা আছে ৭৫ হাজার। আর কল্যাণ ট্রাস্টে আবেদন জমা ৪৪ হাজার। মোট এক লাখ ১৯ হাজার আবেদন জমা। কিন্তু যে শিক্ষক অবসরে আবেদন করেছেন, তাঁর কল্যাণেও আবেদন জমা আছে। ফলে মোট শিক্ষকের সংখ্যা ৭৫ হাজার। তাঁদের সবার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আমাদের হাতে রয়েছে। সবাইকে আগামী ১৫ আগস্ট ইএফটির (ইলেকট্রনিকস ফান্ড ট্রান্সফার) মাধ্যমে একযোগে তাঁদের নিজ নিজ ব্যাংকে টাকা ট্রান্সফার করা হবে। এর আগে আগামী ১৩ আগস্ট সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই মহানুভবতার জন্যই শিক্ষকদের সবচেয়ে বড় সমস্যা সমাধানের দ্বারপ্রান্তে রয়েছি আমরা।’

সূত্র জানায়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতি মাসের মূল বেতন থেকে অবসর বোর্ডে কাটা হয় ৬ শতাংশ টাকা এবং কল্যাণ ট্রাস্টে কাটা হয় ৪ শতাংশ টাকা। বেতন থেকে কাটা অর্থে পেনশনের পুরো টাকা পরিশোধ করা সম্ভব নয়। কিন্তু আগের সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবছর বাজেটে বরাদ্দ না দেওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীর আবেদনের স্তূপ জমা রয়েছে। অবসর বোর্ডে দেওয়া ৬ শতাংশ অর্থে প্রতি মাসে জমা হয় ৭০ কোটি টাকা। আর বোর্ডের এফডিআর থেকে আসে তিন কোটি টাকা। প্রতি মাসে মোট আয় হয় ৭৩ কোটি টাকা। কিন্তু প্রতি মাসে যত সংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী অবসরে যান তাঁদের পেনশনের টাকা পরিশোধ করতে প্রয়োজন হয় ১১৫ কোটি টাকা, ফলে প্রতি মাসে ঘাটতি থাকে ৪২ কোটি টাকা।

অন্যদিকে কল্যাণ ট্রাস্টে জমা দেওয়া ৪ শতাংশ অর্থে ফান্ডে প্রতি মাসে জমা হয় ৫০ কোটি টাকা। আর ট্রাস্টের এফডিআর থেকে মাসে পাওয়া যায় দুই কোটি টাকা। ফলে সব মিলিয়ে মাসে আয় হয় ৫২ কোটি টাকা। অথচ প্রতি মাসে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আবেদন নিষ্পত্তি করতে প্রয়োজন ৬৫ কোটি টাকা। এতে প্রতি মাসে ঘাটতি থেকে যায় ১৩ কোটি টাকা। এরপর আবার দুর্বল ব্যাংকে শিক্ষকরা এসব টাকা রাখার কারণে অনেকটাই বন্ধ হয়ে যায় অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সব শিক্ষকের পাওনা একবারে পরিশোধ করতে সরকারের কাছ থেকে এককালীন সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ প্রয়োজন। কিন্তু অবহেলিত এসব শিক্ষকের পেনশনের টাকা পরিশোধ করতে আগের সরকারের তেমন কোনো আগ্রহ ছিল না। এমপিওভুক্ত এসব শিক্ষকের দুর্দশা ঘোচাতে এবার বিএনপি সরকার বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করল।

শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘অবসরে যাওয়া শিক্ষকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। একই সঙ্গে শিক্ষকদের দ্বিতীয় ধাপে আবার কবে টাকা দেওয়া হবে, সে ব্যাপারে আমরা সুনির্দিষ্ট ঘোষণা চাই। কারণ একবার একটা অংশ দেওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপের টাকা দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অনাগ্রহ সৃষ্টি হতে পারে। যা আমাদের আশঙ্কার কারণ। আমরা চাই শুধু শিক্ষকদের দেওয়া অংশ নয়, সরকারের অংশসহ পুরো টাকাটাই শিক্ষকরা যেন পান। বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন কম। শেষ জীবনে তাঁদের এই টাকাই ভরসা। তাঁরা একবারে একটি বড় অঙ্কের টাকা পেলে তা কাজে লাগিয়ে অবসর জীবনটাকে কাটিয়ে দিতে পারবেন।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%